আরবাজ় খান জানিয়েছেন, ‘দবং ৪’-এর শুটিং শুরুর তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তবে ছবিটি তৈরি নিয়ে সলমন খানের সঙ্গে তাঁদের একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
বলিউডে যখনই খান পরিবার বা ‘দবং’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে কোনও ইঙ্গিত ছড়ায়, তখনই পুরো ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে ভক্তমহলে ঝড় ওঠে। বহু দিন ধরেই ‘দবং ৪’ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। মাঝে এমনও খবর উঠে এসেছিল যে ছবিটি নাকি আটকে আছে, গল্পের কাজ থমকে, বা সলমনের ব্যস্ততার কারণে প্রকল্পটি সামনে এগোচ্ছে না। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি আরবাজ় খান এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল বলিউডে। তাঁর একটি মাত্র মন্তব্যই যেন ‘দবং’ সিরিজের অনুরাগীদের চোখেমুখে ফের আশার আলো জ্বালিয়ে দিল। আরবাজ় জানান, ‘দবং ৪ তৈরি হবে’। এই তিনটি শব্দেই বদলে গেল পরিবেশ—সোশ্যাল মিডিয়া জেগে উঠল, সংবাদমাধ্যম নতুন করে গল্প খুঁজে পেল, আর সলমন ভক্তরা যেন উদযাপন শুরু করে দিল আগেভাগেই।
যদিও আরবাজ় একই শ্বাসে এটিও বলেছেন যে ছবির শুটিং কবে শুরু হবে বা ছবিটি কবে মুক্তি পাবে, সেই সম্পর্কে এখনই কোনও নিশ্চিত খবর নেই। তিনি খোলাখুলিই জানিয়েছেন যে সলমনের সঙ্গে তাঁদের কয়েক দফা কথা হয়েছে, গল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে, কিন্তু সময়সূচি বা পরবর্তী ধাপ ঠিক হয়নি। তাঁর কথায়, “ছবি বানানোর বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তবে শুটিংয়ের দিনক্ষণ ঘোষণার মতো জায়গায় আমরা এখনই নেই।” অর্থাৎ প্রকল্পটি তৈরি হবে—এটাই আপাতত নিশ্চিত, কিন্তু কবে কীভাবে এগোবে তা নিয়ে এখনও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সলমনের অনুরাগীরা উচ্ছ্বসিত। ‘দবং’ চরিত্রের চুলবুল পাণ্ডে তাঁদের কাছে শুধু এক পর্দার পুলিশ-হিরো নন; একধরনের আবেগ, দশকের পরিচিতি, এবং সলমনের ক্যারিয়ারের অন্যতম আইকনিক অধ্যায়। ২০১০ সালে যখন প্রথম ‘দবং’ মুক্তি পায়, ভারতীয় সিনেমায় এক নতুন স্টাইল, নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছিল। চুলবুলের swagger, সংলাপ, অ্যাকশন, রোমান্স—সব কিছু মিলিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল। সেই জায়গা থেকেই ‘দবং’-এর প্রতি দর্শকদের আবেগ আজও একই রকম অটুট। তাই ‘দবং ৪’ আসছে—এই খবরের পর ফ্যানদের মধ্যে উল্লাস ধরা স্বাভাবিক।
কিন্তু এই আনন্দ টিকে রইল কতক্ষণ? খুব বেশি নয়। কারণ সুখবর ছড়াতে না ছড়াতেই, সোশ্যাল মিডিয়ার দেয়ালে-দেয়ালে ভেসে উঠল আরেকটি খবর—একেবারেই মনখারাপ করা। আর এ খবরের কেন্দ্রবিন্দুতেও সলমন খান।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে জ্যোতিষী সুশীল কুমার সিংহ জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল সলমনের জীবনে মোটেই শুভ নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী বছর সলমনের কোনও নতুন ছবির শুটিং করা বা মুক্তি আনা একেবারেই উচিত হবে না। তাঁর কথায়, “২০২৬ সলমন খানের জন্য অত্যন্ত অশুভ সময়। নতুন প্রকল্প নিলে ফল ভালো হবে না। বরং নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে—পেশাগত ও ব্যক্তিগত, দু’দিকেই।”
এর আগে জ্যোতিষী গীতাঞ্জলি সাক্সেনাও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সলমনের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ আসতে পারে নতুন বছরে। কিন্তু সুশীল কুমারের বক্তব্য অনেক বেশি স্পষ্ট, প্রকাশ্য এবং কিছুটা কঠোর স্বরেই বলা বলা হয়েছে। তিনি শুধু অশুভ সময়ের কথা বলেননি, বরং সতর্ক করেছেন যে সলমনের শারীরিক অবস্থাও নাকি ২০২৬-এ খুব ভাল নাও থাকতে পারে।
এই ভবিষ্যদ্বাণী সামনে আসতেই ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ সলমন খানের স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইতিহাস নতুন নয়। আগেও তাঁর নার্ভ ডিসঅর্ডারের কথা প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল বিদেশেও। ফলে স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কবার্তা শুনলে তাঁর অনুরাগীরা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাছাড়া, বলিউডে তাঁর অবস্থান, জনপ্রিয়তা এবং ক্রমাগত পরিশ্রমসাধ্য কাজের চাপ তাঁকে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে।
অন্যদিকে, একই পডকাস্টে সুশীল কুমার সিংহ শাহরুখ খান সম্পর্কে উল্টো মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ২০২৬ সাল শাহরুখ খানের জীবনে আরও উন্নতি এনে দেবে। তিনি বলেছেন, শাহরুখ নাকি “ঈশ্বরের বরপুত্র”, ফলে তাঁর জীবন, ক্যারিয়ার, স্বাস্থ্য—সব কিছুই আগামী বছরে আরও সমৃদ্ধির দিকে এগোবে। এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে, বিশেষ করে সালমান-শাহরুখের ফ্যানবেসের দুই পক্ষেই নানা প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে।
২০২৫ এখন শেষের পথে, আর মাত্র দেড় মাস পরেই ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা থাকবে ২০২৬। নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন পরিকল্পনা, নতুন গন্তব্য। শুধু সাধারণ মানুষ নন, তারকারাও জানতে চান তাঁদের সামনে কী অপেক্ষা করছে। এই আগ্রহ থেকেই জ্যোতিষশাস্ত্র বহু মানুষের কাছে এখনও জনপ্রিয়। সিনেমা, রাজনীতি, খেলা—সব ক্ষেত্রেই তারকারা ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মতামত শোনেন, অনেক সময় অনুসরণও করেন। তাই পডকাস্টটির মন্তব্যগুলি মুহূর্তে ভাইরাল হওয়াটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বলিউডের দুনিয়া আবার অন্য রকম। এখানে ভাগ্য বদলাতে সময় লাগে না। একটি ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতা, একটি বিতর্ক, কিংবা একটি লাইভ সাক্ষাৎকার—যেকোনও মুহূর্তেই পরিস্থিতি ঘুরে যেতে পারে। সলমন খানের ক্ষেত্রে তো এই কথাটা আরও বেশি সত্যি। তাঁর জীবন, ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা—সব কিছুই নাটকীয়তায় ভরপুর। বন্ধুত্ব, শত্রুতা, বিতর্ক, লাভ-হেট রিলেশনশিপ—এখনও পর্যন্ত তাঁর যাত্রা কখনই সরলরেখা নয়।
এমন পরিস্থিতিতে ‘দবং ৪’-এর ঘোষণা এবং একই সময়ে অশুভ সময়ের ভবিষ্যদ্বাণী—এই দুইয়ের মিলনে আলোচনার নতুন বৃত্ত তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এখনই কি প্রকল্প শুরু করা ঠিক হবে? সলমন কি জ্যোতিষীদের কথা মানবেন? নাকি বলিউডের সবচেয়ে বড় ‘মসকুলার স্টার’ নিজের মতোই এগিয়ে যাবেন?
অনেকেই বলছেন, সলমন খান কোনওদিনই ভবিষ্যদ্বাণীর উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁর কাজ, তাঁর অভিজ্ঞতা, তাঁর প্যাশন—এগুলোই তাঁকে চালিত করে। তাঁর ক্যারিয়ারে যত ওঠানামাই আসুক, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একা হাতে ভরসার স্তম্ভ হয়ে থেকেছেন বলিউডে। ‘সুলতান’, ‘বজরঙ্গী ভাইজান’, ‘টাইগার’ সিরিজ, ‘ব্লকবাস্টার ইদ রিলিজ’—সব মিলিয়ে তাঁর নামই যেন এক আলাদা ব্র্যান্ড।
কিন্তু ভক্তদের উদ্বেগ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ ২০২৩ থেকে ২০২৫—এই কয়েক বছরে সলমনের সামনে নানা ধরনের পেশাগত অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ বা ‘টাইগার ৩’ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এ সময়ে সলমন একটু ধীরেসুস্থে কাজ নেওয়ার পথেই হেঁটেছেন। এমন অবস্থায় ‘অশুভ সময়’-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনেকেই সিরিয়াসলি নিচ্ছেন।
অবশ্য একই সঙ্গে দাঁড় করিয়ে দেখতে হবে একাধিক বাস্তব দিকও—
‘দবং ৪’ একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড।
সলমন ও আরবাজ়ের জুটি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রাণ।
চুলবুল পাণ্ডে চরিত্রটি পুনরায় ফিরলে বক্স অফিসে বড় প্রভাব ফেলবে।
দর্শকের আবেগ এখনও তীব্র—যা বলিউডে বিরল সম্পদ।
এত কিছুর মাঝে সবচেয়ে চর্চিত প্রশ্ন—সলমন কি ২০২৬-এ নতুন ছবির শুটিং শুরু করবেন?
তার উত্তর শুধু তিনিই জানেন।
সলমন সবসময়ই নিজে সিদ্ধান্ত নেন, এবং সাধারণত কারও মতামত তাঁকে খুব বেশি প্রভাবিত করে না। তিনি নিজের শরীর, নিজের সীমাবদ্ধতা, নিজের শক্তি—সবকিছু খুব ভালভাবে জানেন। তাই ২০২৬ তাঁর জন্য অশুভ কিনা, তা নিয়ে চর্চা চললেও তিনি কতটা গুরুত্ব দেবেন, সেকথা সন্দেহের।
তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত—‘দবং ৪’ এর দিকে এখন সবাই তাকিয়ে আছে। ফ্যানরা চাইছেন দ্রুত আপডেট; ইন্ডাস্ট্রি অপেক্ষায়; প্রযোজনা সংস্থা প্রস্তুত; আলোচনা চলছে; গল্প লেখা হয়ে যাচ্ছে; শুধু দরকার—সলমনের চূড়ান্ত ‘হ্যাঁ’।
একদিকে ভবিষ্যদ্বাণীর অশনি সঙ্কেত, অন্যদিকে দর্শকের প্রবল চাহিদা। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলিউডের সবচেয়ে স্টাইলিশ পুলিশ চুলবুল পাণ্ডে—যিনি ফিরলেই পর্দা কাঁপবে, একথা নিশ্চিত।
পরিশেষে বলাই যায়—
‘দবং ৪’ শুধু একটি ছবি নয়; এটি একটি আবেগ, একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক, এবং সলমন খানের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সম্ভাব্য দরজা। ২০২৬ শুভ হোক বা অশুভ—চুলবুলের ফিরে আসার খবরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা বলে দিচ্ছে যে সলমনের ‘স্টার পাওয়ার’ এখনও অটুট, এখনও ভরপুর, এখনও অপ্রতিরোধ্য। চুলবুল পাণ্ডের প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা শুধু ফ্যানদের নস্ট্যালজিয়াই বাড়াচ্ছে না, বরং বলিউড বাজারকেও নতুন করে চাঙ্গা করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিনেমা হলের মন্দা কাটাতে এমন জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি সবসময়ই বড় ভূমিকা রাখে। তাই ‘দবং ৪’-এর সামান্য ইঙ্গিতও আজ ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় আশার আলো।