ভারতের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা Air India Express আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের বহরে ২০ থেকে ২৪টি নতুন বিমান যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অলোক সিংহ (Aloke Singh) জানিয়েছেন, এই সংযোজনের মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে তাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক স্বল্প দূরত্বের রুটগুলিতেও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। বর্তমানে সংস্থার বহরে রয়েছে প্রায় ১১০টি বিমান, যার মধ্যে Boeing 737, 737 MAX ও Airbus A320/321 অন্তর্ভুক্ত। নতুন বিমান যুক্ত হলে Air India Express আরও নতুন রুট চালু করতে পারবে—বিশেষ করে ভারতের টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলির সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য। অলোক সিংহ জানিয়েছেন, “আমরা আগামী বছরে অন্তত ২০ থেকে ২৪টি নতুন বিমান আনার দিকে কাজ করছি। তবে এটি নির্ভর করবে বিমান নির্মাতাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষমতার উপর।” বর্তমানে সংস্থার অপারেশনের প্রায় ৫০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ও ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক রুটে ভাগ হয়ে আছে, যা আগে ছিল ৬০-৪০ অনুপাতে। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে ভারতীয় যাত্রীদের দেশীয় ভ্রমণের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিমান বাজারে বর্তমানে Indigo, Akasa Air, SpiceJet ও Air India-র মতো বড় সংস্থাগুলির মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতা চলছে। এই পরিস্থিতিতে Air India Express তার “Low-Cost, High-Connectivity” নীতি বজায় রেখে দ্রুত সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে। নতুন বিমান সংযোজনের মাধ্যমে সংস্থার ফ্লাইট সংখ্যা ও যাত্রী বহন ক্ষমতা ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট ভাড়া আরও সাশ্রয়ী হতে পারে এবং Tier-2 শহরগুলির সঙ্গে সংযোগ বাড়বে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ভারতীয় বিমান পরিবহন খাতের বিকাশে একটি বড় মাইলফলক হবে। টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন Air India Express, ভবিষ্যতে Air India ও Vistara-র সঙ্গে একত্রে ভারতের বিমান পরিবহনে নতুন দিগন্ত তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, Air India Express-এর এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ভারতের আকাশপথে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, যেখানে সাশ্রয়ী ভাড়া ও উন্নত সংযোগই হবে যাত্রীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ।
ভারতের স্বল্পমূল্যের বিমানসংস্থা Air India Express আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের বহরে ২০ থেকে ২৪টি নতুন বিমান যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অলোক সিংহ (Aloke Singh) জানিয়েছেন, কোম্পানি পরবর্তী ক্যালেন্ডার বছরে এই নতুন বিমানের সংযোজনের দিকে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায় এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংক্ষিপ্ত দূরত্বের রুটেও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চায়।
অলোক সিংহ বলেন, “আমরা আগামী বছরে অন্তত ২০ থেকে ২৪টি নতুন বিমান বহরে আনতে চাইছি। এর মাধ্যমে আমাদের সার্ভিস ক্যাপাসিটি অনেকটাই বাড়বে। তবে এটি নির্ভর করছে বিমান নির্মাতাদের সরবরাহ ক্ষমতা ও উৎপাদন শৃঙ্খলার উপর।” বর্তমানে সংস্থার বহরে প্রায় ১১০টি বিমান রয়েছে — যার মধ্যে Boeing 737, 737 MAX ও Airbus A320/321 অন্তর্ভুক্ত।
এই নতুন বিমানের মাধ্যমে Air India Express তার বিমানসংযোগ আরও বাড়াতে পারবে, বিশেষত মেট্রো শহর থেকে টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলিতে। সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো ভারতের আভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও দ্রুত করা, পাশাপাশি বিদেশগামী স্বল্প দূরত্বের রুটগুলিতেও সংযোগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা।
Air India Express দীর্ঘদিন ধরে মূলত আন্তর্জাতিক সংক্ষিপ্ত রুট যেমন দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর ইত্যাদি অঞ্চলে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। আগে সংস্থার মোট অপারেশনের প্রায় ৬০ শতাংশ আন্তর্জাতিক এবং ৪০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ রুটে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বছরে পরিস্থিতি বদলেছে — এখন দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য প্রায় ৫০-৫০।
এর পেছনে কারণ হিসেবে সংস্থার কর্ণধাররা বলছেন, দেশীয় রুটে যাত্রীসংখ্যা ও ভ্রমণ-চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলিতে বিমান চলাচলের সুযোগ বাড়ায় Air India Express নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারছে।
ভারতের বিমান পরিবহন খাতে বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। Indigo, Akasa Air, SpiceJet, Vistara, এবং নতুনভাবে পুনর্গঠিত Air India—সবাই বাজার দখলের লড়াইয়ে। এই পরিস্থিতিতে Air India Express নিজেকে শক্ত অবস্থানে রাখতে “low-cost, high-connectivity” নীতিতে কাজ করছে।
অলোক সিংহ বলেন, “আমরা চাই যাত্রীরা যেন কম খরচে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে দ্রুত পৌঁছাতে পারেন। এজন্য আমাদের ফ্লাইট নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।”
সংস্থার লক্ষ্য আগামী ২-৩ বছরে ভারতের শীর্ষ তিনটি স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থার মধ্যে জায়গা করে নেওয়া। এজন্য তারা আধুনিকীকরণ, রুট অপ্টিমাইজেশন ও পরিষেবা মানোন্নয়নে বড় বিনিয়োগ করছে।
যদিও পরিকল্পনা উচ্চাকাঙ্ক্ষী, বাস্তবায়নে কিছু বাধাও রয়েছে। বিমানের সরবরাহ ও উৎপাদন শৃঙ্খলার সংকট বিশ্বব্যাপী বিমানসংস্থাগুলির জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। Boeing ও Airbus—দুই সংস্থাই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রচুর অর্ডার সামলাচ্ছে। ফলে ডেলিভারিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Air India Express কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে নির্মাতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে যাতে সময়মতো বিমান পাওয়া যায়। নতুন বিমান সংযোজনের পর সংস্থার সামগ্রিক বহর ক্ষমতা ২০-২৫ শতাংশ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজলভ্য ও কম খরচের হতে পারে। নতুন বিমান মানে নতুন রুট, বেশি ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি এবং সাশ্রয়ী ভাড়া। ফলে Tier-2 ও Tier-3 শহরের মানুষও নিয়মিত আকাশপথে ভ্রমণ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা। বাজারে সম্প্রসারণ মানে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা। বর্তমান আর্থিক বছরে Air India Express ইতিমধ্যেই লাভজনক ফলাফল দেখিয়েছে, যা এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলে।
Air India Express বর্তমানে Air India গ্রুপের অংশ, যা টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন। টাটারা পুরো গ্রুপকে একত্রে এনে ভারতের বিমান পরিবহন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। Vistara ও Air India-র সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় ঘটিয়ে Air India Express এক বৃহত্তর সংযোগব্যবস্থার অংশ হতে চলেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পনা সফল হলে ভারতের বিমান চলাচল শিল্পে Air India Express এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে — যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে