Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ময়নাতদন্ত ২ সুয়ারেজের পেটে কনুইয়ের গুঁতো ডি পলের হাতে নখের আঁচড় মেসির নিরাপত্তারক্ষীরা আর কোনও ঝুঁকি নেননি

শনিবারের সেই কুখ্যাত ভিড়ে মেসিকে ঘিরে ধরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে যুবভারতীতে সেই ভিড়ই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে ভিড়ের ঠেলাঠেলি নিরাপত্তার ফাঁক গার্ডদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আরও নানা অজানা তথ্য সামনে আসছে এই ময়নাতদন্ত ২ প্রতিবেদনে

শনিবার যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল তা সারা বিশ্বের চোখে ধরা পড়েছে
গ্যালারির ক্রোধ ঠেলাঠেলি আর ভাঙচুরের ছবি ছড়িয়ে পড়লেও মাঠের ভিতরের অনেক ঘটনা শুরুতে সামনে আসেনি
সময় গড়াতেই জানা যাচ্ছে সমস্যার বড় অংশ ছিল ভিআইপি ভিড় ও ভিতরের অব্যবস্থাপনা

মেসির চারপাশে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল সেখানে সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি ছিলেন উদ্যোক্তা ফোটোগ্রাফার নেতা মন্ত্রী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা বহু পরিচিত অচেনা লোক
মেসি মাঠে নামার মুহূর্তেই মানুষজন একসঙ্গে ঘিরে ধরেন
অনেকে ছবি তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠেন
ফলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়
ভিড়ের মধ্যে চাপ বাড়তে থাকে
এই চাপ শুধু অস্বস্তি নয় নিরাপত্তার প্রশ্নও তুলে দেয়

মাঠে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী মেসির গাড়ি ট্র্যাকের সামনে এসে থামার পর খুব দ্রুত মানুষজন জড়ো হয়ে যান
মেসি গাড়ি থেকে নামতেই ভিড় তাঁর গায়ে লেগে যায়
কেউ কেউ সামনে এসে দাঁড়ায়
কেউ পিছন থেকে ঠেলে দেয়
কেউ আবার হাত বাড়িয়ে সেলফি তুলতে চেষ্টা করে
ভিড়ের এই চাপের মধ্যে এক পর্যায়ে সুয়ারেজের পেটে কনুইয়ের গুঁতো লাগার কথাও শোনা যাচ্ছে
আর ডি পলের হাতে নখের আঁচড় পড়ার কথাও উঠে আসছে
এ সবই ভিড়ের বেপরোয়া আচরণের ছবি

মেসি বাইরে থেকে হাসিমুখ রাখার চেষ্টা করলেও ভিতরে অস্বস্তি বাড়ছিল
তিনি হেঁটে যাওয়ার মতো জায়গা পাচ্ছিলেন না
কোথাও থামার সুযোগ ছিল না
গ্যালারির দিকে তাকিয়ে দর্শকদের দিকে ইঙ্গিত করার মতো স্বাভাবিক মুহূর্ত তৈরি হয়নি
সব মিলিয়ে মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়
ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরাও বুঝে যান ঝুঁকি বাড়ছে
তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন
আর বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে মেসিদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান

এই হঠাৎ চলে যাওয়ার বিষয়টি অনেকের চোখে প্রশ্ন তৈরি করে
কারণ তখন গ্যালারিতে বড় গোলমাল প্রকাশ্যে শুরু হয়নি
তাই প্রশ্ন ওঠে কেন মেসি দর্শকদের সামনে এলেন না
কেন আগেই বেরিয়ে গেলেন
উত্তর খুঁজতে গিয়ে মাঠে থাকা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বললে দেখা যায় মূল সমস্যা ছিল ভিতরের অশৃঙ্খলা
মেসির চারপাশে দায়িত্বশীল শৃঙ্খলাবদ্ধ করিডর তৈরি হয়নি
যা সাধারণত বড় তারকার সফরে কঠোরভাবে মানা হয়

স্থানীয় প্রাক্তন ফুটবলারদের কয়েকজনও দূর থেকে এই অস্বস্তির ছবি দেখেছেন
তাঁদের মতে মেসি সুয়ারেজ ডি পলদের কাছে অতি কাছে চলে যাচ্ছিলেন অনেক মানুষ
ঘাড়ের কাছে হাত চলে আসছিল
হাঁটার পথ আটকে যাচ্ছিল
এমন অবস্থায় কয়েক মিনিট পর্যবেক্ষণ করেই মেসি মাঠ ছাড়েন
কারও মতে তিনি পেনাল্টি মারার জায়গার দিকেও এগোচ্ছিলেন
কিন্তু মুহূর্তে আবার তাঁকে ভিড়ের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
যে দৃশ্য দেখে বোঝা যায় মাঠের ভিতরে নিয়ন্ত্রণ ছিল খুব দুর্বল

এই ধরনের বড় আয়োজন সফল করতে সাধারণত আগে থেকে খুব নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে
প্রতি মিনিটে কী হবে কে কোথায় দাঁড়াবে কোন পথে হাঁটবে কখন কার সঙ্গে দেখা হবে নিরাপত্তা করিডর কোথায় থাকবে
এসব বিষয়কে পেশাদারভাবে সাজাতে হয়
কিন্তু এখানে সেই কাঠামো স্পষ্ট ছিল না
অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রবাহ অনেকেরই জানা ছিল না
যাদের হাতে দায়িত্ব থাকার কথা তাদের মধ্যেও সমন্বয় ছিল দুর্বল
ফলে ঘটনাস্থলে সিদ্ধান্ত বদলাতে থাকে
আর সেখানেই তৈরি হয় বিভ্রান্তি

শোনা যাচ্ছে আয়োজনের বিভিন্ন অংশে দায়িত্ব ভাগ করা হলেও অনেকে শুধু অল্প কিছু কাজের কথা জানতেন
কেউ বলছেন তাঁদের কাছে বসার আসবাব আর সাউন্ডের কাজ ছাড়া আর দায়িত্ব আসেনি
কেউ বলছেন তাঁদের দায়িত্ব ছিল মূলত সংবাদমাধ্যমের যোগাযোগ আমন্ত্রণপত্র বিতরণ
কিন্তু মাঠে তারকাদের চলাচল দর্শক মোকাবিলা নিরাপত্তা করিডর এসব নিয়ে বড় ছবি কারও হাতে ছিল না
ফলে এক জায়গায় নেতৃত্বের অভাব তৈরি হয়
এমনও অভিযোগ উঠছে যে অনুষ্ঠান সূচি নিয়ে আলোচনা করার জন্য যাদের সময় দেওয়া দরকার ছিল তাদের পাওয়া যায়নি
এ ধরনের অবহেলাই পরে বড় সমস্যায় রূপ নেয়

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ছিল দ্বৈত কাঠামো
কেন্দ্রের বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের বড় বাহিনী মাঠে ছিল
অন্যান্য জেলা থেকেও লোক আনা হয়েছিল
তবু মাঠের ভিতরে বাইরে সমন্বিত নির্দেশ একরকম ছিল না
কে কোন গেটে থাকবে
ভিআইপি কারা
কে কতদূর পর্যন্ত যেতে পারবে
এসব প্রশ্নে একই রকম কঠোরতা দেখা যায়নি
ফলে প্রভাবশালীদের অনেকে অনায়াসে খুব কাছে চলে যেতে পেরেছেন
যা কোনও আন্তর্জাতিক মানের সফরে কল্পনাও করা যায় না

অব্যবস্থার ইঙ্গিত আরও আগে থেকেই দেখা গিয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছে
হোটেলের মিট অ্যান্ড গ্রিট পর্বেও নাকি অনেক মানুষ নিয়ম ভেঙে মোবাইল নিয়ে সামনে চলে যান
যেখানে কঠোর নিয়ম থাকার কথা ছিল
সেই নিয়ম মাঠেও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি
নিয়ম ভাঙার প্রবণতা যখন শুরু থেকেই চলতে থাকে তখন শেষ মুহূর্তে তা থামানো খুব কঠিন হয়ে যায়

স্টেডিয়ামের ভেতরে আরেকটি বড় সমস্যা ছিল পানীয় জলের ব্যবস্থা
সাধারণ দর্শকের জন্য পর্যাপ্ত সাশ্রয়ী জল সহজে পাওয়া যায়নি এমন অভিযোগ ওঠে
কিছু জায়গায় অতিরিক্ত দামে জল বিক্রির কথাও শোনা যাচ্ছে
এর ফলে ভিড়ের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়
পরে পরিস্থিতি খারাপ হলে বোতল ছোড়াছুড়িও হয়
যা নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ
কারণ বোতল ভেতরে ঢোকা মানেই ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া

শনিবারের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার যে বিষয়টি উঠে আসছে তা হল ব্যক্তিগত প্রচার আর অনিয়মের সংস্কৃতি
মেসির মতো বিশ্বতারকার উপস্থিতি একটি শহরের জন্য উৎসব হয়ে উঠতে পারত
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সেই মুহূর্তকে অনেকেই ব্যক্তিগত সাফল্য আর নিজের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন
এই মানসিকতাই আস্তে আস্তে আয়োজনের ভিত নড়িয়ে দেয়
কারা কার সঙ্গে ছবি তুলবে
কারা সামনে থাকবে
কারা সবচেয়ে কাছে যেতে পারবে
কে সবার আগে সেলফি তুলবে
এগুলো হয়ে ওঠে বড় প্রশ্ন
ফুটবল বা দর্শকের আনন্দ তখন পিছনে চলে যায়

বড় কোনও তারকা কোনও শহরে এলে তার চারপাশে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে
কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে হয়
নিরাপত্তার করিডর বানিয়ে দিতে হয়
তাকে হাঁটার জায়গা করে দিতে হয়
তার প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখাতে হয়
কিন্তু এখানে অভিযোগ উঠছে অনেকেই সেই নিয়ম মানেননি
বরং নিয়মকে উপেক্ষা করে মেসির গায়ে লেগে থাকার চেষ্টা করেছেন
একজন নয় বহুজন
ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয় তা ছিল অস্বস্তিকর
একজন তারকা যখন হাঁটতেই পারেন না
যখন প্রতিটি মুহূর্তে কেউ না কেউ তার গায়ে ধাক্কা দিচ্ছে
তখন সেটি শুধু বিরক্তিকর নয়
এটি নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি

news image

এই ধরনের ভিড়ে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা
ভিড় যত বাড়ে ততই চাপ বাড়ে
একজনের ধাক্কা অন্যজনকে ধাক্কা দিতে বাধ্য করে
পেছনের মানুষ সামনে এগোতে চায়
সামনের মানুষ জায়গা ছাড়তে চায় না
এভাবেই অল্প সময়েই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়
এই ঘটনার ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছে
যারা সামনে ছিলেন তারা নিজেদের জায়গা ছাড়তে রাজি ছিলেন না
কারণ তারা চাইছিলেন ক্যামেরায় ধরা পড়তে
তারা চাইছিলেন মেসির সঙ্গে দেখা যাচ্ছি এমন একটি ছবি তৈরি করতে
সেখানেই তৈরি হয় প্রতিযোগিতা
যা পেশাদার আয়োজনের ঠিক উল্টো

পেশাদার আয়োজনের সবচেয়ে বড় শর্ত হল শৃঙ্খলা
ভিআইপি কারা সেটি ঠিক করা
কে কোথায় দাঁড়াবে সেটি ঠিক করা
কে কতক্ষণ থাকবে সেটি ঠিক করা
নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ একটাই থাকবে
আর আয়োজনের দায়িত্বশীল পক্ষ সেই নির্দেশ মেনে চলবে
কিন্তু অভিযোগ হচ্ছে এখানে ব্যক্তিগত চাহিদা প্রাধান্য পেয়েছে
অনেকে মনে করেছেন তারা সব কিছু করতে পারবেন
কারণ তারা প্রভাবশালী
কারণ তারা পরিচিত
কারণ তারা ক্ষমতার কাছাকাছি
এই ভাবনা থেকে নিয়মভাঙা শুরু হয়
আর একবার নিয়মভাঙা শুরু হলে আরেকজনও নিয়ম ভাঙতে সাহস পায়
এভাবেই পুরো মাঠে বিশৃঙ্খলার বাতাবরণ তৈরি হয়

এর ফলাফল খুব পরিষ্কার
তারকাদের নিরাপত্তা এবং দর্শকের অভিজ্ঞতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়
মেসি এসেছিলেন দর্শকদের সামনে আসতে
একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করতে
কিন্তু তিনি সেই সুযোগই পেলেন না
কারণ তার চারপাশে যে ভিড় ছিল তা ছিল অনিয়ন্ত্রিত
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে প্রথম লক্ষ্য থাকে তারকাকে নিরাপদ রাখা
দর্শকের সামনে আনা নয়
তাই যখন পরিস্থিতি বেগতিক হয় তখন তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়
তারকাকে সরিয়ে নেওয়া হয়
এখানেই তৈরি হয় দর্শকের হতাশা
কারণ দর্শক ভাবে তার টাকা সময় উত্তেজনা সব নষ্ট হয়ে গেল
আর সেই হতাশা থেকে ক্ষোভ তৈরি হয়

এই ক্ষোভ পরে আরও বড় আকার নেয়
কারণ স্টেডিয়াম মানে আবেগের জায়গা
হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে আছে
তারা গরমে ক্লান্ত
তারা অপেক্ষায় আছে
তারা আশা নিয়ে বসে আছে
যখন সেই আশা ভেঙে যায় তখন অনেকেই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না
কেউ ভাঙচুর করে
কেউ চিৎকার করে
কেউ অন্যদের উসকে দেয়
এটা শুধু একজনের রাগ নয়
এটা সমষ্টিগত ক্ষোভ
যা মুহূর্তে বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয় ফুটবলের
কারণ ফুটবল মানে আনন্দ
ফুটবল মানে মিলেমিশে উচ্ছ্বাস
ফুটবল মানে মাঠে নেমে তারকাদের দেখা
তাদের খেলা উপভোগ করা
তাদের সঙ্গে শহরের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া
কিন্তু যখন সেই আনন্দ ঢেকে যায় বিশৃঙ্খলায় তখন ফুটবল আড়ালে চলে যায়
শিরোনামে উঠে আসে তাণ্ডব
অব্যবস্থা
অশৃঙ্খলা
তারকা চলে যাওয়া
এটাই সবচেয়ে দুঃখের

এখানে আরেকটি ক্ষতি হয় শহরের ভাবমূর্তির
কারণ বিশ্বমঞ্চে যখন কোনও ঘটনার ছবি যায়
তখন মানুষ শহরকে বিচার করে সেই ঘটনার মাধ্যমেই
কেউ দেখে বলে এই শহরে নিয়ন্ত্রণ নেই
এই শহরে নিরাপত্তা নেই
এই শহরে পরিকল্পনা নেই
এগুলো ঠিক না ভুল তা বিতর্কের বিষয় হতে পারে
কিন্তু এমন ছবি একবার ছড়িয়ে গেলে ভাবমূর্তি বদলাতে সময় লাগে
ফলে ক্ষতি শুধু একদিনের নয়
ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি

এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা একটাই
বড় আয়োজন মানে শুধু বড় নাম নয়
বড় আয়োজন মানে বড় প্রস্তুতি
একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা
যেখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছু লেখা থাকবে
মেসি কখন আসবেন
কোন গেট দিয়ে ঢুকবেন
কোথায় দাঁড়াবেন
কোথা দিয়ে হাঁটবেন
কারা তাঁর কাছে যেতে পারবেন
কারা পারবেন না
কোন দূরত্ব বজায় থাকবে
কোন সময় দর্শকের দিকে তাকাবেন
কোন সময় মাঠে যাবেন
কোন সময় বেরিয়ে যাবেন
এসব বিষয় আগে থেকেই ঠিক করা দরকার

স্পষ্ট দায়িত্বও দরকার
কে নিরাপত্তার দায়িত্বে
কে স্টেডিয়ামের ভেতরের শৃঙ্খলার দায়িত্বে
কে ভিআইপি গেট সামলাবে
কে সাধারণ দর্শকের প্রবেশ ও বেরোনো সামলাবে
কে মিডিয়া করিডর সামলাবে
সবকিছুর জন্য আলাদা দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকা দরকার
এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার

কঠোর নিরাপত্তা ছাড়া এমন আয়োজন সম্ভব নয়
কঠোর মানে অমানবিক নয়
কঠোর মানে নিয়ম ভাঙা যাবে না
প্রভাবশালী হলেও নয়
পরিচিত হলেও নয়
মন্ত্রী হলেও নয়
উদ্যোক্তা হলেও নয়
কারও জন্যই নিয়ম আলাদা হবে না
এই বার্তাটি স্পষ্ট করতে হবে
নইলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না

সমন্বিত নির্দেশও দরকার
কেন্দ্র রাজ্য পুলিশ বেসরকারি নিরাপত্তা সব পক্ষকে একই পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে
যাতে মাঠের ভিতরে বাইরে কেউ দ্বিধায় না থাকে
যাতে কোনও ফাঁক না থাকে
যাতে কেউ সুযোগ নিতে না পারে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দর্শকের প্রতি সম্মান
কারণ দর্শকই মাঠের প্রাণ
দর্শকই টিকিট কেটে আসে
দর্শকই গলা ফাটায়
দর্শকই শহরের আবেগ
তাদের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত না করলে আয়োজন ব্যর্থ হয়
এখানে দর্শককে শুধু ভিড় বলে দেখা যাবে না
দর্শককে সম্মান দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে
পানীয় জল
প্রবেশ পথ
বেরোনোর পথ
সিটিং
প্রচার
ঘোষণা
সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে হবে

এই সব না থাকলে ভিড়ই হয়ে ওঠে আসল ভিলেন
কারণ ভিড় যখন শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকে তখন সেটি শক্তি
আর ভিড় যখন অনিয়ন্ত্রিত হয় তখন সেটি ভয়
এই ঘটনার সবচেয়ে বড় সত্য সম্ভবত এটিই
শৃঙ্খলা না থাকলে এক মুহূর্তে সব বদলে যায়
আর তখন তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্তে মাঠ ছাড়াই হয়ে যায় একমাত্র পথ

তাই আগামী দিনে যদি এমন কোনও বড় আয়োজন করতে হয়
তবে নামের জৌলুস নয়
প্রস্তুতির মানটাই হবে আসল পরিচয়
কারণ বড় তারকা আসবে আবার
কিন্তু সেই মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে হলে
শহরকে আগে শিখতে হবে পেশাদারিত্ব
শিখতে হবে দায়িত্ববোধ
শিখতে হবে সম্মান
আর শিখতে হবে নিয়ম মানা

Preview image