Airtel-এর Q2 ফলাফল দুর্দান্ত — শেয়ারদর ২.২% বৃদ্ধি, ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির আস্থা বৃদ্ধি ভারতের শীর্ষ টেলিকম কোম্পানি Bharti Airtel দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের (Q2 FY26) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা বাজারের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানির নেট প্রফিট ₹৬,৭৯২ কোটি, যা গত বছরের তুলনায় ৭৩.৬% বেশি, আর রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫.৭% হয়ে ₹৫২,১৪৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই ইতিবাচক ফলাফলের পর Airtel-এর শেয়ারদর প্রায় ২.২% বৃদ্ধি পেয়ে ₹১,৪৭৫ ছুঁয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী ARPU (Average Revenue Per User) বৃদ্ধি ও প্রিমিয়াম গ্রাহক শ্রেণিতে ফোকাসই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এই ত্রৈমাসিকে ARPU বেড়ে হয়েছে ₹২৫৬, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় উন্নত। CEO গোপাল বিতল জানান, Airtel এখন “উচ্চমানের নেটওয়ার্ক ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা”-র উপর জোর দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের স্থায়ী মুনাফার পথ তৈরি করছে। কোম্পানি তাদের 5G Plus পরিষেবা ও Xstream Fiber ব্রডব্যান্ড সেগমেন্টে দ্রুত সম্প্রসারণ করছে — ইতিমধ্যেই ভারতের ৬,৫০০ শহরে 5G নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে। ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক। Motilal Oswal Airtel-এর লক্ষ্য মূল্য ₹১,৬০০ নির্ধারণ করেছে। Jefferies বলছে, কোম্পানি “sustainable ARPU-led growth”-এর পথে এগোচ্ছে। CLSA মনে করছে, Airtel-এর 5G ও হোম ব্রডব্যান্ড খাতই ভবিষ্যতে রাজস্বের মূল উৎস হবে। Airtel জানিয়েছে, তারা খরচ নিয়ন্ত্রণ ও ক্যাশ ফ্লো বাড়িয়ে ঋণ কমাচ্ছে, যার ফলে কোম্পানির EBITDA মার্জিন ৫২%-এ পৌঁছেছে — টেলিকম খাতে অন্যতম সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে, Bharti Airtel তার গ্রাহক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টের উপর নির্ভর করে ভারতের টেলিকম বাজারে নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা বজায় থাকলে Airtel আগামী প্রান্তিকেও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করবে না।
ভারতের অন্যতম শীর্ষ টেলিকম সংস্থা Bharti Airtel আবারও প্রমাণ করল তাদের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান। সংস্থার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2 FY26) রিপোর্ট প্রকাশের পরেই শেয়ার বাজারে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। কোম্পানির শেয়ারদর শুক্রবারে বেড়ে যায় প্রায় ২.২ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আস্থা সঞ্চার করেছে।
এই বৃদ্ধি এসেছে মূলত কোম্পানির নেট মুনাফা ও রাজস্ব বৃদ্ধির অসাধারণ পারফরম্যান্স-এর কারণে। Airtel জানিয়েছে যে তাদের Q2 নেট প্রফিট দাঁড়িয়েছে ₹৬,৭৯২ কোটি টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৩.৬% বেশি। রাজস্বও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ₹৫২,১৪৫ কোটি টাকায়, যা ২৫.৭% বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
Airtel-এর সাফল্যের অন্যতম কারণ হলো তাদের গ্রাহকপ্রতি আয় বা ARPU (Average Revenue Per User) বৃদ্ধি।
এই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির ARPU দাঁড়িয়েছে ₹২৫৬, যেখানে আগের ত্রৈমাসিকে তা ছিল ₹২৫৩ এবং গত বছরের একই সময়ে ছিল ₹২৫৪।
টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে ARPU একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, কারণ এটি প্রতিফলিত করে কোম্পানির গ্রাহক ভিত্তির মান ও আয় উৎপাদনের দক্ষতা। Airtel গত কয়েক বছর ধরে “quality over quantity” নীতি গ্রহণ করেছে — অর্থাৎ কম দামে বেশি গ্রাহক টানার বদলে, তারা উচ্চমানের ডেটা ও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের দিকে ঝুঁকছে।
এই কৌশলই এখন লাভের মুখ দেখাচ্ছে।
Airtel India & South Asia CEO গোপাল বিতল বলেন —
“আমরা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছি যে, টেলিকম ব্যবসায় স্থায়ী মুনাফা আসে উচ্চমানের নেটওয়ার্ক, গ্রাহক অভিজ্ঞতা ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টে ফোকাস রাখলে।”
ফলাফল ঘোষণার পর একাধিক শীর্ষ ব্রোকারেজ সংস্থা Airtel-এর শেয়ার নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছে।
Motilal Oswal Financial Services Airtel-এর লক্ষ্যমূল্য (Target Price) নির্ধারণ করেছে ₹১,৬০০, বলেছে কোম্পানির EBITDA ও মার্জিন দুটোই স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে।
Jefferies বলেছে, Airtel “ARPU-led sustainable growth path”-এ রয়েছে, যেখানে কোম্পানি প্রতিযোগিতার মধ্যেও তাদের প্রিমিয়াম গ্রাহক ধরে রাখতে পারছে।
CLSA জানিয়েছে, Airtel 5G রোলআউট ও হোম ব্রডব্যান্ড এক্সপানশন থেকে আরও শক্তিশালী রাজস্ব আয় করতে পারবে।
এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) অংশগ্রহণও Airtel-এ স্থিতিশীল রয়েছে, যা কোম্পানির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।
Airtel-এর হোম ব্রডব্যান্ড পরিষেবা Xstream Fiber এবং 5G Plus সেগমেন্ট দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে Airtel Xstream Fiber-এর ব্যবহারকারী সংখ্যা ছুঁয়েছে ৯.৫ মিলিয়ন, যা গত বছরের তুলনায় ২৫% বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
অন্যদিকে, 5G পরিষেবার সাবস্ক্রিপশনও দ্রুত বাড়ছে। Airtel ইতিমধ্যেই ভারতের ৬,৫০০ শহর ও ২০,০০০ গ্রামের বেশি এলাকায় 5G কভারেজ তৈরি করেছে।
গোপাল বিতল বলেন —
“আমাদের লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে ভারতের প্রতিটি জেলা সদর শহরকে 5G-এর আওতায় আনা। এটাই আগামী বৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হবে।”
Airtel-এর নিট ঋণ (Net Debt) কিছুটা কমে এসেছে, যা আর্থিকভাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
সংস্থাটি বলেছে, তারা মূলত নগদ প্রবাহের উন্নতি ও খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঋণ কমাচ্ছে।
এই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির EBITDA মার্জিন দাঁড়িয়েছে ৫২%, যা ভারতের টেলিকম সেক্টরে সর্বোচ্চগুলির মধ্যে একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি Airtel-এর পরিচালন দক্ষতা ও আর্থিক স্থায়িত্বের প্রমাণ।
Airtel Africa-এর পারফরম্যান্সও Q2-তে ভালো ছিল। আফ্রিকা অঞ্চলে কোম্পানির রাজস্ব ১২% বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে নাইজেরিয়া ও কেনিয়া বাজারে মোবাইল মানি ব্যবসার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী বড় বিনিয়োগ হবে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড পরিষেবা খাতে, যা আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ডিজিটাল সংযোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
রিপোর্ট প্রকাশের পরদিনই Airtel-এর শেয়ারদর ২.২% বৃদ্ধি পেয়ে NSE-তে ₹১,৪৭৫ ছুঁয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ারটি আগামী প্রান্তিকে আরও উর্ধ্বমুখী হতে পারে, কারণ Airtel এখন এক “High ARPU, Low Churn Business Model”-এ কাজ করছে।