Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অ্যাশেজে বড় পরিবর্তন! তৃতীয় টেস্টে ফিরলেন প্যাট কামিন্স, পুরো সিরিজ থেকে ছিটকেলেন হ্যাজেলউড

অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে তৃতীয় টেস্টের আগে। চোটের কারণে প্রথম দুটি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে দলে ফিরছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তাঁর ফিরে আসা অস্ট্রেলিয়ার বোলিং শক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কামিন্স নিজেও জানিয়েছেন, শারীরিকভাবে তিনি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং অ্যাডিলেডে দলে নেতৃত্ব দিতে মুখিয়ে আছেন। তবে সুখবরের মধ্যেই রয়েছে এক দুঃসংবাদ। অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজেলউড পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে থাকা পাশের পেশির চোট আবারও জ্বলে ওঠায় তাঁকে বিশ্রামে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, হ্যাজেলউডকে ঝুঁকিতে না ফেলে ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হ্যাজেলউডের অনুপস্থিতি অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া পেস আক্রমণে বড় ধাক্কা, তবে কামিন্সের প্রত্যাবর্তন দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা তরুণ পেসারদের মধ্যেও সুযোগ বাড়বে নিজেদের প্রমাণের। অ্যাডিলেডে দিন রাতের এই ম্যাচের আগে এমন নাটকীয় পরিবর্তন অ্যাশেজের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, নেতৃত্বে কামিন্স কতটা প্রভাব ফেলে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে এগিয়ে নিতে পারেন।

অ্যাশেজের মহানাটক: কামিন্সের ফেরা, হ্যাজেলউডের বিদায়—অ্যাডিলেড টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে চরম উত্তেজনা

বোলিং আক্রমণের দুই বিপরীত মেরু: অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতায় বড় রদবদল—ইংল্যান্ডের সামনে এক নতুন অগ্নিপরীক্ষা

ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজের প্রতিটি টেস্টই নাটক আর উত্তেজনায় পরিপূর্ণ থাকে, কিন্তু এবার তৃতীয় টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে যে রদবদল ঘটল, তা যেন এক মহানাটকের জন্ম দিয়েছে। দলের মূল স্তম্ভ ও নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের ইনজুরি কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন এবং অভিজ্ঞ পেস বোলার জশ হ্যাজেলউডের পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া—এই দুই বিপরীতমুখী ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার সাজঘরে একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো অ্যাশেজের বাকি অংশের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিতব্য বহুল আকাঙ্ক্ষিত দিন-রাতের (Pink Ball) টেস্টে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল অ্যাশেজের গতিপথ নির্ধারণে এক নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে।

১. নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন: প্যাট কামিন্সের ফেরা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

প্যাট কামিন্স কেবল একজন বিশ্বমানের বোলার নন, আধুনিক ক্রিকেটে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল ও কৌশলগত অধিনায়কদের একজন। প্রথম দুই টেস্টে তাঁর অনুপস্থিতি (স্টিভ স্মিথ নেতৃত্ব দিলেও) দলের বোলিং ইউনিট এবং ড্রেসিং-রুমের মনোবলে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল।

কামিন্সের প্রভাব: চার দিকের সুবিধা

১. বোলিংয়ের ধার (The Cutting Edge): কামিন্স বিশ্বের অন্যতম নিয়ন্ত্রিত এবং কার্যকর সিম বোলার। তাঁর বাউন্স, দ্রুত গতি এবং লেংথের ওপর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ অ্যাশেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ক্রমাগত চাপে রাখার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে অ্যাডিলেডের পিচ এবং গোলাপি বলের সুইং, কামিন্সের হাতে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

২. কৌশলগত তীক্ষ্ণতা (Tactical Acumen): স্টিভ স্মিথ একজন দারুণ ফিল্ডার এবং বুদ্ধিমান ক্রিকেটার হলেও, একজন বিশেষজ্ঞ বোলার হিসেবে কামিন্সের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভিন্ন মাত্রা দেয়। কখন বোলার পরিবর্তন করতে হবে, কখন ফিল্ড সেট করতে হবে বা কখন নিজের বোলিং স্পেল দিতে হবে—এই কৌশলগত নেতৃত্ব অস্ট্রেলিয়ার জন্য মূল্যবান।

৩. মনোবল বৃদ্ধি (Morale Boost): একজন সফল ও নিয়মিত অধিনায়কের দলে ফেরা, বিশেষ করে অ্যাশেজের মতো সিরিজে, খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন করে শক্তি এবং মানসিক স্থিতিশীলতা তৈরি করে। তাঁর প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়াকে মানসিকভাবে আরও সুসংহত করবে।

কামিন্স নিজেই তাঁর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন: "আমি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। অ্যাডিলেড টেস্টে নেতৃত্ব দিতে মুখিয়ে আছি। দলের প্রয়োজনেই দ্রুত রিহ্যাব শেষ করেছি।" এই আত্মবিশ্বাসপূর্ণ বক্তব্য ইংল্যান্ড শিবিরে স্পষ্টতই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

২. অভিজ্ঞতার বিদায়: হ্যাজেলউডের চোট—অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা

যখন কামিন্সের ফেরা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আনন্দের ঢেউ, তখন সাইড স্ট্রেইন ইনজুরির পুনরাবৃত্তিতে জশ হ্যাজেলউডের পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া এক বড় দুঃসংবাদ। হ্যাজেলউড অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের অন্যতম অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ।

হ্যাজেলউডের অভাব: পূরণ করা কঠিন

১. নিয়ন্ত্রণের প্রতীক: হ্যাজেলউড তাঁর নিখুঁত লাইন এবং লেংথের জন্য সুপরিচিত। তাঁর ধারাবাহিকতা অন্য বোলারদের ওপর থেকে চাপ কমায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং ইউনিটে নিয়ন্ত্রণের কিছুটা অভাব অনুভূত হতে পারে।

২. পিংক বলের মাস্টার: হ্যাজেলউড গোলাপি বলের টেস্টে অত্যন্ত সফল। অ্যাডিলেডের পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর আউটসুইং এবং সিম মুভমেন্টের মাধ্যমে যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতি সত্যিই অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ক্ষতি।

কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড এই চোটকে 'সংবেদনশীল' বলে অভিহিত করে হ্যাজেলউডের দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেস নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছেন। তাঁর বিদায় তরুণ বোলারদের জন্য সুযোগ এনে দিলেও, অভিজ্ঞতার দিক থেকে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

৩. অ্যাডিলেডের চ্যালেঞ্জ: পিংক বল এবং কামিন্সের সুবিধা

অ্যাডিলেড ওভালে দিন-রাতের টেস্ট অ্যাশেজের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে। সূর্যাস্তের সময় এবং রাতের আলোয় গোলাপি বল অপ্রত্যাশিত সুইং ও সিম মুভমেন্ট তৈরি করে, যা পেসারদের জন্য এক বিরাট সুবিধা।

নতুন পেসারের লড়াই: কার হাতে উঠবে সুযোগ?

হ্যাজেলউডের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়ার জন্য মূলত দুজন বোলার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:

১. স্কট বোল্যান্ড (Scott Boland): ঘরের মাঠে তাঁর সাফল্য, বিশেষ করে অ্যাশেজে তাঁর ৬/৭ এর অবিশ্বাস্য স্পেল, তাঁকে একাদশে নিয়ে আসার জন্য শক্তিশালী যুক্তি। তিনি পিচে নিয়ন্ত্রিত লেংথ বজায় রেখে সিম মুভমেন্ট আদায় করতে পারেন।

২. জাই রিচার্ডসন (Jhye Richardson): পিংক বল টেস্টে তিনি অতীতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছেন। তাঁর গতি এবং বৈচিত্র্য ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চমকে দিতে পারে।

সম্ভাব্য পেস অ্যাটাক: কামিন্স (C) + স্টার্ক + বোল্যান্ড/রিচার্ডসন + ক্যামেরন গ্রিন (অলরাউন্ডার)—এই কম্বিনেশন ইংল্যান্ডকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।

৪. ইংল্যান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ: কামিন্স-স্টার্কের দ্বিমুখী আক্রমণ

কামিন্সের ফিরে আসা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি এবং মিডল অর্ডার প্রথম দুই টেস্টেই চরম অস্থিরতা দেখিয়েছে। কামিন্সের ধারালো বোলিং সেই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • ওপেনিংয়ের সমস্যা: ইংল্যান্ডের ওপেনাররা নতুন বলের বিরুদ্ধে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। কামিন্স এবং স্টার্কের নিখুঁত নতুন বলের স্পেলগুলো ওপেনিং জুটিকে আরও চাপের মুখে ফেলবে।

  • রুটের ওপর চাপ: জো রুটকে দলের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হিসেবে আরও বড় এবং লম্বা ইনিংস খেলতে হবে। পিংক বলের সুইংয়ে যদি রুট দ্রুত আউট হন, তাহলে মিডল অর্ডার চরম সংকটে পড়বে।

  • ধৈর্যের পরীক্ষা: ইংল্যান্ডকে যদি অ্যাডিলেডে টিকে থাকতে হয়, তবে তাদের আগ্রাসী 'ব্যাজবল' কৌশলের বদলে ধৈর্য এবং পিচে টিকে থাকার মানসিকতা দেখাতে হবে। কিন্তু পিংক বলের পরিস্থিতিতে এই ধৈর্য রাখা আরও কঠিন।

৫. অস্ট্রেলিয়া দলের মনোবলে মিশ্র প্রভাবের বিশ্লেষণ

হ্যাজেলউড ছিটকে যাওয়ায় অভিজ্ঞতা এবং পিংক বল বিশেষজ্ঞ হারানোর উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়া শিবির ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।

দৃষ্টিকোণ পজিটিভ দিক (কামিন্স ফেরা) নেগেটিভ দিক (হ্যাজেলউড ছিটকে যাওয়া)
নেতৃত্ব নিয়মিত অধিনায়কের প্রত্যাবর্তন দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে। নেতৃত্ব দলগতভাবে স্থিতিশীল হলেও, বোলিংয়ে অভিজ্ঞতার অভাব তৈরি হবে।
বোলিং শক্তি বিশ্বমানের একজন স্ট্রাইক বোলারের সংযোজন। বোলারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং একাদশের নতুন বোলারদের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ।
মনোবল ড্রেসিং-রুমে উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি। একজন মূল খেলোয়াড়কে হারানোয় দলের পরিকল্পনায় আকস্মিক পরিবর্তন।

অধিনায়কের প্রত্যাবর্তন দলকে কৌশলগত এবং মানসিকভাবে যে শক্তি জোগাবে, তা হ্যাজেলউডের অনুপস্থিতির ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

৬. উপসংহার: অ্যাশেজের ভাগ্য নির্ধারণে নির্ণায়ক অধ্যায়

অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য কামিন্সের ফেরা যেন অন্ধকারের মাঝে তীব্র আলো। নেতৃত্ব, মানসিক শক্তি এবং বোলিংয়ের গুণগত মান—সব দিক থেকেই তিনি আলাদা স্তরের খেলোয়াড়। অন্যদিকে, হ্যাজেলউডের চোট অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনলেও, তরুণ বোলারদের জন্য নিজেদের প্রমাণের সেরা মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে।

ইংল্যান্ডের জন্য এটি বড় পরীক্ষা। তাদের ব্যাটসম্যানদের নিজেদের ভুল সংশোধন করে ধৈর্যের সঙ্গে খেলতে হবে। অন্যথায়, অ্যাডিলেডে রাতের সেশনে কামিন্স–স্টার্ক–বোল্যান্ডের সমন্বিত আক্রমণ রীতিমতো ঝড় তুলে অ্যাশেজের ভাগ্য অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আগামী টেস্ট তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়—অ্যাশেজের ভাগ্য নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই নাটকীয় পরিবর্তনগুলির মধ্যে দিয়েই নির্ধারিত হবে, ঐতিহ্যের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তন নাকি ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তনের দৃঢ় প্রচেষ্টা। এই উত্তেজনার পারদ চড়ানো সিরিজেই বিশ্ব ক্রিকেট প্রত্যক্ষ করতে চলেছে ক্রিকেটের সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলির একটি নতুন, ঘটনাবহুল অধ্যায়।

Preview image