এশিয়া কাপ ট্রফি হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ভারত পাক দ্বন্দ্ব বাড়ছে, আইসিসির নিয়মকে হাতিয়ার করতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
পাকিস্তানের মন্ত্রী হলেও কীভাবে ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকছেন মহসিন নকভি এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মঞ্চে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতির পদেও থাকা নকভির দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে সরব হতে পারে বিসিসিআই, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে নতুন বিতর্কের আগুন জ্বালাতে পারে।
গত এশিয়া কাপের ট্রফি হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ভারত-পাক ক্রিকেট দ্বন্দ্ব ইতিমধ্যেই তীব্র। দুই দেশের কর্তারাও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিসিসিআই আইসিসির (ICC) নিয়মকে হাতিয়ার করার পরিকল্পনা করছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশের ক্রিকেট বোর্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারে না তৃতীয় পক্ষ, এমনকি সেই দেশের সরকারও সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বিসিসিআই এই নিয়মের আলোকে প্রশ্ন তুলবে, যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী হয়ে নকভি কীভাবে পিসিবি এবং এসিসির শীর্ষ পদে থাকতে পারেন।
আইসিসির বৈঠকে নকভির নৈতিকতা ও দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিসিসিআই। এছাড়া, আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডকেও পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছে ভারতীয় কর্তারা, যাতে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত হয়। তবে পিসিবি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে, নকভি এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকার কারণে তাঁর পরিবর্তে পিসিবির সিইও সুমের সৈয়দ উপস্থিত থাকবেন। তাঁর উপস্থিতিতেই বিসিসিআই নকভির কার্যকারিতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিকল্পনা করেছে।
এই পদক্ষেপ ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশের সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এটি শুধু দুই দেশের ক্রিকেট দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করছে না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও উন্মুক্ত করছে।