২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অন্ধপ্রদেশে একই দিনে দুটি পৃথক প্রাইভেট বাস দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু এবং বহু যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। প্রথমটি শ্রী সত্যসাই জেলার হায়দ্রাবাদ–বেঙ্গালুরু মহাসড়কে, আর দ্বিতীয়টি এলুরু জেলার লিংগাপালেমে ঘটেছে। অতিরিক্ত গতি, রাতের যাত্রা এবং বাস নিয়ন্ত্রণ হারানো মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধার কাজ করছে। এই দুর্ঘটনাগুলো রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রাইভেট বাস সংস্থার দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় সামনে এনেছে।
অন্ধপ্রদেশে পরপর দুই মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অন্ধপ্রদেশে একই দিনে দুটি পৃথক বাস দুর্ঘটনায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত কুড়িজনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর এবং প্রাইভেট বাস সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শ্রী সত্যসাই জেলার হায়দ্রাবাদ-বেঙ্গালুরু জাতীয় মহাসড়কে। জাব্বার ট্রাভেলস-এর একটি প্রাইভেট বাস, যা বেঙ্গালুরু থেকে হায়দ্রাবাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল, সেটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি আয়চর গাড়ির সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। বাসে মোট পঁচিশজন যাত্রী ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অতিরিক্ত গতিতে চলা এবং চালকের গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ। ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং পাঁচজন গুরুতর জখম হন। স্থানীয় পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
একই দিনে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে এলুরু জেলার লিংগাপালেম ম্যান্ডলের জুবিলি নগরের কাছে। এখানে ভারতী ট্রাভেলস-এর একটি প্রাইভেট বাস হঠাৎ করে উল্টে যায়। বাসে সতেরোজন যাত্রী ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় লিংগাপালেম সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ধর্মাবরম থানার উপ-পরিদর্শক ভেঙ্কন্না এবং তার দল উদ্ধার অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
এই দুটি দুর্ঘটনা ছাড়াও একই দিনে করিমনগর জেলার থিম্মাপুর ম্যান্ডলে আরও একটি ছোট দুর্ঘটনা ঘটে। তেলেঙ্গানা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (TGSRTC) একটি বাস ধানের গাদা বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পনেরোজন যাত্রী আহত হন এবং তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এই পরপর তিনটি দুর্ঘটনার ঘটনা রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বন্দি সঞ্জয় কুমার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং জেলা কালেক্টর প্রমেলা সাৎপতিকে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি রাজ্য সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা প্রচারণা চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর ঠিক আগের দিন তেলেঙ্গানার রাঙ্গারেড্ডি জেলায় একটি TSRTC বাস একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কুড়িজন নিহত এবং আরও কুড়িজন আহত হয়েছিলেন। এই পরপর ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে প্রাইভেট এবং রাষ্ট্রীয় উভয় ধরনের বাসের ক্ষেত্রেই গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রাইভেট বাস সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং সময়মতো পৌঁছানোর চাপ অনেক সময় চালকদের অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে বাধ্য করে। বিশেষত রাতের বেলা বা অন্ধকারে মহাসড়কে যাত্রা করার সময় অতিরিক্ত গতি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। এছাড়াও, অনেক প্রাইভেট বাসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকাও উদ্বেগের বিষয়।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষা, গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, এবং রাস্তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। প্রাইভেট বাস সংস্থাগুলির জন্য এই ঘটনাগুলো একটি কঠোর সতর্কবার্তা যে যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব না দিলে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন যদিও দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে, তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা প্রচার, কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং নিয়মিত পরিদর্শন এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা কমাতে সাহায্য করতে পারে। মোট কথা, গতি, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাকে অবহেলা করলে যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে - অন্ধপ্রদেশে এই পরপর দুর্ঘটনাগুলো সেই বার্তাই দিচ্ছে।