Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্রতিকা রাওয়ালের ঝলক! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ১২২ রানের পর ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ ইনিংস খেলে ভারতকে জয় এনে দিয়েছেন প্রতিকা রাওয়াল। ম্যাচ-জয়ী ১২২ রানের পর এই তরুণ ব্যাটার জানালেন, তাঁর সাফল্যের মূল রহস্য ধৈর্য, শট নির্বাচনের দক্ষতা ও প্রতিপক্ষের বোলিং পড়ার ক্ষমতা। তিনি বলেন, “আমি শুধু নিজের খেলায় মনোযোগ দিয়েছি, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করেছি — সেটাই জয়ের চাবিকাঠি।”

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের নতুন তারকা প্রতিকা রাওয়াল আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর দুর্দান্ত ১২২ রানের ইনিংস শুধু ভারতকে জয় এনে দেয়নি, বরং ক্রিকেটবিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এক আত্মবিশ্বাসী ও পরিপক্ব ব্যাটারের সঙ্গে। ম্যাচের পর প্রতিকা নিজের ব্যাটিং স্টাইল, মানসিক প্রস্তুতি ও সাফল্যের রহস্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

মাত্র ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটার জানিয়েছেন, তিনি কখনও তাড়াহুড়ো করে রান তোলার চেষ্টা করেন না। বরং পরিস্থিতি বুঝে খেলাটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। প্রতিকার কথায়, “আমি সবসময় নিজের শট নির্বাচনে মনোযোগ দিই। প্রতিটি বলের পর নতুনভাবে ভাবি — এই বলের পর কীভাবে ইনিংস গড়া যায়, কোথায় বোলারকে চাপে ফেলা যায়। আমি শিখেছি, বড় ইনিংস গড়তে হলে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।”

নিউজিল্যান্ডের বোলাররা শুরুতে তাঁকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রতিকা ধৈর্য ধরে খেলেছেন, প্রথম ৩০ রান তুলতে সময় নিয়েছেন। একবার তিনি নিজের রিদম পেয়ে গেলে, তাঁর ব্যাট থেকে শুরু হয় দুরন্ত শটের বন্যা। কভার ড্রাইভ, পুল, ফ্লিক — প্রতিটি শটে ফুটে উঠছিল নিখুঁত টেকনিক ও আত্মবিশ্বাস। তাঁর ১২২ রানের ইনিংস গড়তে লাগে মাত্র 114 বল, যাতে ছিল 14টি বাউন্ডারি ও 2টি ছক্কা।

প্রতিকা বলেন, “আমি জানতাম যে উইকেট কিছুটা ধীর, তাই শুরুতে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। আমি চাইছিলাম টিমকে ২৫ ওভার পর্যন্ত ধরে রাখতে। যখন বল পুরনো হতে শুরু করল, তখনই আমি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করি। আমার পরিকল্পনা ছিল — ইনিংস শেষ না হওয়া পর্যন্ত টিকে থাকা।” তাঁর এই পরিপক্ব মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলছে।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান যে, তাঁর ব্যাটিং স্টাইলের মূল ভিত্তি হলো “নির্ভীকতা” এবং “পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া”। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে কখনও সীমাবদ্ধ রাখি না। যদি দলকে আক্রমণ দরকার হয়, আমি আক্রমণ করি। যদি টিকে থাকার প্রয়োজন হয়, আমি তা করি। ব্যাটিং মানে শুধু শট মারা নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তে দলের প্রয়োজন বোঝা।”

প্রতিকা তাঁর ইনিংসের কৃতিত্ব দিয়েছেন সিনিয়র খেলোয়াড় স্মৃতি মন্ধনাকে। তিনি বলেন, “স্মৃতিদিদি সবসময় আমার পাশে থাকে। ম্যাচের সময় ও তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুই শুধু নিজের খেলায় মন দে, বাকিটা আমরা সামলে নেব।’ এই কথাটাই আমাকে সাহস জুগিয়েছিল।” মন্ধনা ও রাওয়ালের মধ্যে ১৮৫ রানের পার্টনারশিপই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং ভারতকে সহজ জয় এনে দেয়।

কোচ রমেশ পাওয়ারও প্রশংসা করেন প্রতিকার শৃঙ্খলা ও ফোকাসের। তিনি বলেন, “প্রতিকা এখন ভারতীয় দলের ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা। ওর ব্যাটিংয়ে একটা পরিকল্পনা থাকে, যেটা খুব কম বয়সে দেখা যায়। এমন ব্যাটার খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের জায়গা তৈরি করে।”

news image
আরও খবর

প্রতিকা রাওয়ালের ক্রিকেট যাত্রা সহজ ছিল না। দিল্লির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রতিকা ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহী ছিলেন। তাঁর বাবা-মা প্রথমে মেয়েকে পড়াশোনায় মন দিতে বলেন, কিন্তু প্রতিকার অদম্য ইচ্ছা তাঁকে ক্রিকেটের ময়দানে টেনে আনে। স্কুলের হয়ে খেলা থেকেই শুরু হয় তাঁর ক্রিকেট-যাত্রা। পরে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে জাতীয় দলের দরজা খুলে দেয়।

বর্তমানে প্রতিকা রাওয়াল শুধু ভারতীয় দলে নয়, নারী ক্রিকেট জগতেও এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও টেকনিক তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বলেন, “আমি চাই ছোট মেয়েরা যেন জানে, ক্রিকেট শুধু ছেলেদের খেলা নয়। যদি স্বপ্ন দেখার সাহস থাকে, তাহলে একদিন তারা দেশের জার্সি গায়ে দিতে পারবে।”

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর এই ইনিংস ভারতের সেমিফাইনাল যাত্রার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিকা রাওয়াল আগামী বছরগুলিতে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম মুখ হয়ে উঠবেন। তাঁর ব্যাটিং স্টাইল, মনোভাব ও মাঠে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভবিষ্যতের বিশ্বমানের ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে — এমনটাই আশা করছে গোটা ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্ব।

 

 

 

Preview image