নতুন প্রজন্ম এখন বাজারি প্রসাধনীর বদলে ঘরোয়া উপাদানেই আস্থা রাখছে ত্বকের নিস্তেজতা দূর করে প্রাকৃতিক জেল্লা ফেরাতে কেশর হতে পারে এক দারুণ উপায়
শীতের শুরু মানেই ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে ফেলে নিস্তেজতা আর শুষ্কতার ছোঁয়া। চোখের নীচে ক্লান্তির ছাপ, মুখের চারপাশে টানটান ভাব—সব মিলিয়ে ত্বক হয়ে ওঠে প্রাণহীন। এমন সময়েই প্রকৃতির এক অমূল্য উপাদান কেশর বা জাফরান হয়ে উঠতে পারে ত্বকের ত্রাণকর্তা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতেই নয়, রূপচর্চার ক্ষেত্রেও কেশরের ভূমিকা অনন্য। আজকের প্রজন্ম যখন বাজারজাত প্রসাধনীর চেয়ে ঘরোয়া উপাদানের উপরেই বেশি ভরসা রাখছে, তখন ত্বকের যত্নে কেশর হতে পারে এক প্রাকৃতিক ও কার্যকরী সমাধান।
শীতকালে ত্বকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জলশূন্যতা (dehydration)। ত্বকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে তা দ্রুত টান ধরে ও খসখসে হয়ে যায়। কেশরে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যেমন ক্রোসিন ও ক্রোসেটিন, যা ত্বকের কোষে নতুন প্রাণ এনে দেয়। এই উপাদানগুলি রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি রোধ করে এবং ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল, কোমল ও দীপ্তিময়।
কেশরে আরও আছে ভিটামিন বি২, বি৩ ও ক্যারোটিনয়েডস, যা ত্বককে টানটান রাখে এবং অকাল বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে মুখে আসে স্বাভাবিক আভা—যেমনটা ফেসিয়ালের পর দেখা যায়।
বাজারে আজকাল নানা কেশরসমৃদ্ধ ক্রিম, ফেস সিরাম ও মাস্ক পাওয়া যায় বটে, তবে তাতে থাকে রাসায়নিক উপাদান ও প্রিজারভেটিভ, যা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বরং ঘরেই কয়েকটি উপকরণ দিয়ে সহজেই বানানো যায় প্রাকৃতিক কেশর মাস্ক, যা ত্বককে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়।
উপকরণ:
৪–৫টি কেশর
২ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ
১ চামচ মধু
পদ্ধতি:
সারা রাত দুধে কেশর ভিজিয়ে রাখুন (অথবা অন্তত ৩–৪ ঘণ্টা)। দুধে হালকা সোনালি রং ধরলে তাতে মধু মিশিয়ে মুখ, গলা ও হাতে লাগিয়ে দিন। ২০ মিনিট পর ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক ত্বককে হাইড্রেটেড ও পুষ্ট রাখে—বিশেষ করে শীতের সকালে ব্যবহারের জন্য আদর্শ।
উপকরণ:
১ টেবিল চামচ অ্যালো ভেরা জেল (গাছ থেকে নেওয়া হলে সবচেয়ে ভাল)
৩–৪টি কেশর
পদ্ধতি:
অ্যালো ভেরা জেলে কেশর ভিজিয়ে রেখে দিন কয়েক ঘণ্টা। তারপর সেটি মুখ ও গলায় লাগান। রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে ত্বক সবচেয়ে বেশি পুষ্টি পায়। সকালে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক দাগ, ছোপ ও ক্লান্তির ছাপ দূর করে ত্বককে সতেজ করে তোলে।
উপকরণ:
৫–৬টি কেশর
১ টেবিল চামচ গোলাপজল
১ টেবিল চামচ চন্দনগুঁড়ো
পদ্ধতি:
গোলাপজলে কয়েক ঘণ্টা কেশর ভিজিয়ে রাখুন। তারপর তাতে চন্দনগুঁড়ো মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট বানান। মুখ ও গলায় লাগিয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা দেয়—কোনও অনুষ্ঠানের আগে দ্রুত আভা আনার জন্য এটি আদর্শ।