Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ছোট শহরের মেয়ে, বড় পর্দার স্বপ্ন: বর্ধমান থেকে দেবের নায়িকা জ্যোতির্ময়ীর যাত্রা

বর্ধমানের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া জ্যোতির্ময়ীর অভিনয়যাত্রা যেন এক বাস্তব জীবনের চিত্রনাট্য। ছোট শহরের সীমিত গণ্ডির মধ্যেই বেড়ে ওঠা এই মেয়েটির চোখে ছিল বড় পর্দার স্বপ্ন। স্কুল-কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, আবৃত্তি ও মঞ্চাভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চারপাশের প্রশ্ন, সংশয় আর বাস্তবের বাধা সত্ত্বেও তিনি নিজের স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। বর্ধমান থেকে কলকাতায় নিয়মিত যাতায়াত, অডিশনের অপেক্ষা, প্রত্যাখ্যান সবই ছিল তাঁর লড়াইয়ের অংশ।টেলিভিশনে ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু হলেও জ্যোতির্ময়ী খুব দ্রুত দর্শকের নজর কাড়েন তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় ও চোখের ভাষায়। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বড় সুযোগের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। অবশেষে দেবের বিপরীতে বড় ছবিতে সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছবির মুক্তির পর তিনি প্রমাণ করেন, তিনি শুধু দেবের নায়িকা নন, নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষমতা রাখেন।

ছোট শহরের মেয়ে, বড় পর্দার স্বপ্ন

বর্ধমানের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জ্যোতির্ময়ী। ছোট শহরের সীমিত পরিসরের মধ্যেই অতিবাহিত হয়েছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। চারপাশে তখন সিনেমা ছিল মূলত প্রেক্ষাগৃহের পর্দায় বা টেলিভিশনের পর্দায় দেখা এক দূরের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নই যে একদিন তাঁর জীবনের চিত্রনাট্য হয়ে উঠবে, তা তখন কে জানত।পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, আবৃত্তি আর মঞ্চে অভিনয়ের প্রতি আলাদা একটা আগ্রহ ছিল জ্যোতির্ময়ীর। স্কুলের অনুষ্ঠানে বা স্থানীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চে তাঁকে দেখলে অনেকেই বলতেন, মেয়েটার চোখে আলাদা একটা ভাষা আছে। সেই ভাষাই হয়তো একদিন তাঁকে বড় পর্দায় পৌঁছে দেবে। কিন্তু সেই পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে যখন অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তখন চারপাশ থেকে আসে নানা প্রশ্ন, নানা সন্দেহ। পরিবার যদিও তাঁর প্রতিভাকে মূল্য দিত, কিন্তু ক্যারিয়ার হিসেবে অভিনয়কে মেনে নেওয়া সহজ ছিল না। কলেজে ওঠার পর জ্যোতির্ময়ীর ভাবনার জগৎ আরও প্রসারিত হয়। তখন সোশ্যাল মিডিয়া আর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথমে ছোট ছোট ফটোশুট, তারপর স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও আর ওয়েব কনটেন্টে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। অভিনয় শেখার জন্য নিয়মিত ওয়ার্কশপ করেন, নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলি নিয়ে কাজ করেন। তিনি বুঝেছিলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রস্তুতি প্রয়োজন।বর্ধমান থেকে কলকাতা—এই যাত্রাটা মোটেই সহজ ছিল না। ট্রেন ধরার তাড়া, অডিশনের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, কখনও সুযোগ মিলছে, কখনও মিলছে না—সব মিলিয়ে এক কঠিন বাস্তবের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছিল তাঁর পথচলা। অনেক সময় পরিবার-পরিজনদের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে কেন বারবার কলকাতা যাচ্ছেন, কেন পড়াশোনার পাশাপাশি এত সময় অডিশনে ব্যয় করছেন। কিন্তু জ্যোতির্ময়ী জানতেন, এই লড়াইটা তাঁকে একা লড়তে হবে। প্রতিটি প্রত্যাখ্যান তাঁকে আরও শক্ত করে তুলেছে, প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁকে শিখিয়েছে নতুন কিছু। এই লড়াইয়ের মধ্যেই আসে টেলিভিশনের সুযোগ। ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু হলেও জ্যোতির্ময়ী প্রতিটি দৃশ্যে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে থাকেন। ধীরে ধীরে দর্শকের নজরে পড়তে শুরু করেন তিনি। তাঁর অভিনয়ে ছিল এক ধরনের স্বাভাবিকতা, যা অনেক সময় প্রশিক্ষিত অভিনেতাদের মধ্যেও দেখা যায় না। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রমাণ করার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত উপস্থিত হওয়ার ফলে জ্যোতির্ময়ী শিখতে থাকেন দর্শকের সঙ্গে কীভাবে সংযোগ স্থাপন করতে হয়। তিনি বুঝতে পারেন, অভিনয় শুধু সংলাপ বলা নয়, এটি এক ধরনের নীরব যোগাযোগও। চোখের ভাষা, শরীরের অভিব্যক্তি, এমনকি নীরব থাকার মুহূর্তেও চরিত্রকে বাঁচিয়ে রাখা—এসব শিখতে শিখতে তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হয়ে উঠতে থাকেন।একই সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, অভিনয় শুধু প্রতিভা নয়, ধৈর্য আর প্রস্তুতির পরীক্ষাও। শুটিংয়ের দীর্ঘ সময়, বারবার একই দৃশ্যের রিটেক, পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়া—এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও পেশাদার করে তোলে।ঠিক এই সময়েই তাঁর জীবনে আসে সেই মোড়, যা পুরো গল্পটাকে সিনেমার মতো করে তোলে। একটি বড় ছবির জন্য নতুন মুখ খুঁজছিল প্রযোজনা সংস্থা। অডিশনের ডাক আসে জ্যোতির্ময়ীর কাছেও। এমন সুযোগ যে কোনও নতুন অভিনেত্রীর কাছেই স্বপ্নের মতো। কিন্তু সুযোগ পাওয়া আর সেই সুযোগকে কাজে লাগানো—দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।অনেক নামী মুখের ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরা মোটেই সহজ ছিল না। প্রযোজক, পরিচালকরা অনেক প্রতিষ্ঠিত মুখের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কিন্তু অডিশনের ঘরে ঢুকে জ্যোতির্ময়ী যেন নিজের সমস্ত ভয়, দ্বিধা আর অনিশ্চয়তাকে বাইরে রেখে আসেন। চরিত্রের আবেগ, সংলাপের গভীরতা আর চোখের ভাষা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, এই মেয়েটি শুধু সুন্দর নন, অভিনয়ও জানেন।অডিশনের পরের দিনগুলো ছিল অসহ্য অপেক্ষার। ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা, প্রতিটি কলে আশা জাগানো, আবার হতাশ হওয়া—এই চক্র চলছিল। কিন্তু অবশেষে যখন ফোনটা এল, সেই মুহূর্তে জ্যোতির্ময়ীর মনে হয়েছিল যেন সমস্ত সংগ্রাম, সমস্ত অপেক্ষার অর্থ খুঁজে পেয়েছে তিনি।সেই ছবির নায়ক ছিলেন দেব। টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকার বিপরীতে কাজ করা যে কোনও নতুন অভিনেত্রীর কাছেই স্বপ্নের মতো। জ্যোতির্ময়ীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেবের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ মানেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যাওয়া। শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, এখানে কোনও জায়গায় ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই।দেবের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জ্যোতির্ময়ী শিখেছেন ক্যামেরার সামনে নিজেকে কীভাবে আরও সংযত ও গভীরভাবে মেলে ধরতে হয়। প্রতিটি দৃশ্যে দেবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তিনি অনুভব করেছেন একজন তারকা অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষা। দেবও নাকি প্রশংসা করেছিলেন জ্যোতির্ময়ীর প্রস্তুতি এবং তাঁর অভিনয়ের স্বাভাবিকতা দেখে।শুটিং চলাকালীন বহু মুহূর্ত ছিল যখন জ্যোতির্ময়ী নিজের ওপর সন্দেহ করেছেন। একটি জটিল আবেগময় দৃশ্যে
news image
আরও খবর
বারবার রিটেক হচ্ছিল। তিনি প্রায় ভেঙে পড়ছিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে পরিচালক এবং দেব দুজনেই তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাঁরা বুঝিয়েছিলেন, এই চাপের মধ্যেই একজন অভিনেতা তৈরি হয়। এই অভিজ্ঞতা জ্যোতির্ময়ীকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।ছবির মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়াই বলে দেয়, জ্যোতির্ময়ী শুধুই 'দেবের নায়িকা' নন, তিনি নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে পেরেছেন। তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, সমালোচকরা তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী হয়ে ওঠেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নাম ট্রেন্ড করতে থাকে। দর্শকরা বলতে থাকেন, এই মেয়েটির মধ্যে এক আলাদা তাজা হাওয়া আছে।বর্ধমানের সেই সাধারণ মেয়েটি হঠাৎ করেই হয়ে ওঠেন বহু তরুণীর অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেন, বড় শহরে জন্ম না নিলেও, বড় স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে পথ তৈরি হয়। অনেক মেয়ে তাঁর গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হতে থাকেন। বর্ধমান থেকে শুরু করে বাংলার বিভিন্ন ছোট শহর আর গ্রামের মেয়েরা দেখতে পান, তাঁদেরও স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে।ছবির সাফল্যের পর মিডিয়া ইন্টারভিউতে জ্যোতির্ময়ী বারবার বলেছেন, তাঁর এই সাফল্য শুধু তাঁর একার নয়। এটি তাঁর পরিবারের ধৈর্যের ফল, এটি তাঁর শিক্ষকদের বিশ্বাসের ফল, এটি সেই সমস্ত মানুষদের উৎসাহের ফল যারা একটা সময় তাঁকে বলেছিলেন, "তোমার চোখে আলাদা একটা ভাষা আছে।"আজ জ্যোতির্ময়ীর অভিনয়যাত্রার দিকে তাকালে মনে হয়, সত্যিই যেন কোনও চিত্রনাট্য অনুসরণ করে এগিয়েছে তাঁর জীবন। প্রতিটি অধ্যায়ে আছে সংগ্রাম, অপেক্ষা, সুযোগ আর সাফল্যের মুহূর্ত। কিন্তু এই চিত্রনাট্যের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর নিজের বিশ্বাস। তিনি বিশ্বাস রেখেছেন নিজের ওপর, নিজের স্বপ্নের ওপর। আর সেই বিশ্বাসই তাঁকে বর্ধমান থেকে টলিউডের আলোয় এনে দাঁড় করিয়েছে।জ্যোতির্ময়ী প্রায়ই বলেন, তাঁর যাত্রায় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধৈর্য ধরা। সাফল্য রাতারাতি আসে না। প্রতিটি প্রত্যাখ্যান, প্রতিটি ব্যর্থতা আসলে আপনাকে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত করে। তিনি আরও বলেন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন চারপাশের সবাই সন্দেহ করবে, তখনও যদি আপনি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারেন, তাহলে কোনও বাধাই আপনাকে থামাতে পারবে না।তাঁর মতে, প্রস্তুতির কোনও বিকল্প নেই। ভাগ্য হয়তো সুযোগ এনে দেয়, কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষতা প্রয়োজন। আর সেই দক্ষতা অর্জন করতে হয় নিরলস পরিশ্রম আর শেখার মনোভাবের মাধ্যমে।ভবিষ্যৎ নিয়ে জ্যোতির্ময়ী এখনও মাটিতেই পা রেখে ভাবতে চান। তাঁর কাছে অভিনয় মানে শুধুই নায়িকা হওয়া নয়, বরং ভালো গল্পের অংশ হওয়া, ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙা-গড়া করা। তিনি চান বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে, নিজের পরিধি বাড়াতে। শুধু গ্ল্যামারাস নায়িকার ভূমিকা নয়, তিনি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে আগ্রহী।তিনি বলেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর লক্ষ্য এমন চরিত্রে অভিনয় করা যা মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। শুধু বক্স অফিসের সাফল্য নয়, তিনি চান দর্শক যেন তাঁর কাজ মনে রাখে। তিনি চান এমন ছবিতে কাজ করতে যেখানে নারী চরিত্র শক্তিশালী, যেখানে গল্প শুধু নায়কের ওপর নির্ভর করে না।জ্যোতির্ময়ী আরও বলেন, তিনি চান বাংলা সিনেমায় নতুন ধরনের কাজ করতে। যদি পরিচালক তাঁকে কোনও পরীক্ষামূলক ছবিতে সুযোগ দেন, তিনি অবশ্যই সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পী হিসেবে বেড়ে উঠতে হলে ভিন্ন ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।এই মনোভাবই হয়তো তাঁকে আরও দূরে নিয়ে যাবে। শিল্পের প্রতি তাঁর এই নিবেদন, এই আন্তরিকতা দর্শক ও সমালোচক উভয়েই লক্ষ্য করছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, জ্যোতির্ময়ী শুধু একজন সফল অভিনেত্রীই হবেন না, তিনি টলিউডের একজন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হয়ে উঠবেন।বর্ধমানের মেয়ের এই যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, এটা স্বপ্ন দেখা আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক জীবন্ত উদাহরণ। জ্যোতির্ময়ী আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, সেটা তাঁর একক প্রচেষ্টার ফসল। কিন্তু তাঁর এই অর্জন আজ হাজার হাজার মেয়ের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে—স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে, এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করলে সাফল্য অবশ্যই আসে।অনেক তরুণী আজ জ্যোতির্ময়ীকে লিখছেন, বলছেন তাঁর গল্প তাঁদের সাহস যুগিয়েছে। ছোট শহরের অনেক মেয়ে যারা ভাবতেন অভিনয় হয়তো তাঁদের জন্য নয়, তাঁরাও এখন স্বপ্ন দেখছেন। জ্যোতির্ময়ী তাঁদের বলেন, স্বপ্ন দেখতে কোনও লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু বিশ্বাস আর পরিশ্রমের।তিনি প্রায়ই তরুণীদের পরামর্শ দেন, প্রথমে নিজেকে জানো, নিজের ভালো লাগা খুঁজে বের করো। তারপর সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। সাফল্যের জন্য শর্টকাট নেই, কিন্তু সঠিক পথ অবশ্যই আছে।জ্যোতির্ময়ীর যাত্রা এখনও চলছে। তাঁর সামনে আরও অনেক পথ বাকি, আরও অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কিন্তু যে মেয়েটি বর্ধমানের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে টলিউডের আলোয় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন, তাঁর সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস থাকা স্বাভাবিক। তাঁর এই চিত্রনাট্য এখনও লেখা হচ্ছে, এবং দর্শকরা উন্মুখ হয়ে আছেন পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য।

Preview image