বর্ধমানের কাটাপুকুর এলাকায় গতরাতে ঠিক ১টা নাগাদ ঘটে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। ঘুসকরা থেকে আসানসোলের দিকে যাচ্ছিল পাথরবোঝাই একটি লরি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লরিটির গতি ছিল খুব বেশি এবং একটি বাঁক নেওয়ার সময় চালক হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের গ্রাম। অনেকের ঘুম ভেঙে যায় সেই শব্দে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রামের মানুষ দৌড়ে এসে লরিটিকে উল্টে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। লরির সামনে অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং পাথর রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে। চালক কেবিনে আটকে পড়েছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ১:
“রাত তখন প্রায় ১টা। আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ এমন একটা শব্দ হলো যেন বজ্রপাত হল। বাইরে বেরিয়ে দেখি রাস্তায় ধুলো উড়ছে। আলো দিয়ে দেখি লরি উল্টে রয়েছে আর পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে। মনে হলো যেন লরিটা উড়েই এসে পড়েছে।”
প্রত্যক্ষদর্শী ২:
“লরিটা খুব জোরে আসছিল—আমরা আগেও দেখেছি এ রাস্তা দিয়ে ওরা খুব দ্রুত চলে। ওই বাঁকটা খুব বিপজ্জনক। যদি গতি কম না থাকে, দুর্ঘটনা হবেই।”
প্রত্যক্ষদর্শী ৩:
“আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি চালকটা ভিতরে আটকে আছে। তাকে উদ্ধার করতে আমাদের প্রায় ১৫ মিনিট লেগে গেল। এরপর পুলিশ আসে।”
এই পথটি অর্থাৎ ঘুসকরা–আসানসোল স্টেট রুট বহুদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে পরিচিত। পাথরবোঝাই লরি ও অন্যান্য ভারী যানবাহন প্রায় প্রতিদিনই এই রুট ধরে চলাচল করে। রাস্তার বিভিন্ন বাঁক এবং অন্ধকার অংশে অনেকদিন ধরেই পর্যাপ্ত আলোর অভাব ছিল বলেও অভিযোগ।
দ্রুতগতি:
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী লরিটির গতি ছিল খুব বেশি।
অতিরিক্ত ওজন:
পাথরবোঝাই লরিগুলির ওজন সাধারণত অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে।
রাস্তার অবস্থার সমস্যা:
বাঁকগুলোতে স্লিপেজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। রাতের অন্ধকারে দৃশ্যমানতাও কম থাকে।
চালকের ক্লান্তি:
দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভিংয়ের ফলে চালকের ক্লান্তিও এমন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
রিপোর্টার:
“স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, এখনও প্রাথমিক তদন্ত চলছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা তাঁরা দিয়েছেন।”
“ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে আমরা আহত চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। আমাদের প্রাথমিক অনুমান, লরিটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং বাঁকে এসে নিয়ন্ত্রণ হারায়। রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছেও গাড়িটি আঘাত করে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে ব্রেকের দাগ এবং টায়ারের চিহ্ন সংগ্রহ করেছি। গাড়িটি মেকানিক্যালি ত্রুটিযুক্ত ছিল কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।”
চালককে রাতেই স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—
তাঁর মাথায় ও বুকে আঘাত রয়েছে,
একাধিক আঘাতের কারণে অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে,
চালক কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।
চালক সুস্থ হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় মানুষদের মতে, এ রুটে দুর্ঘটনা নতুন নয়। তাঁরা দাবি করেছেন—
রাস্তার বাঁকগুলো আরও নিরাপদ করতে হবে,
স্ট্রিটলাইট বাড়াতে হবে,
রাতের বেলা ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,
নিয়মিত পুলিশ চেকিং দরকার।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন:
“বারবার বলে আসছি, রাস্তাটা ঠিক করা দরকার। গত বছরও এখানে একটা লরি উল্টে গেছিল। আজ আবার একই ঘটনা।”
রাতের ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তা অবরুদ্ধ ছিল। ভোরবেলা ক্রেন এনে লরিটি সরানো হয়। পুলিশ যেসব ব্যবস্থা নেয়—
রাস্তার একদিক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়,
ট্রাফিক ডাইভারশন করে স্থানীয়দের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়,
পাথর সরানোর জন্য আলাদা দলে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভোর ৫টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
এক রাস্তা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন:
“যখন ভারী যানবাহন রাতে দ্রুত গতিতে চলে, তখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বাঁকযুক্ত রাস্তার ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়। কিন্তু অনেক সময় তাঁরা তা মানেন না। এর পাশাপাশি, আলোর অভাব এবং রাস্তার প্রান্তের দুর্বল কাঠামোও দুর্ঘটনার কারণ হয়।”
তিনি আরও বলেন:
“এই এলাকায় বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। দুর্ঘটনার ইতিহাস থাকলে তা হাই–রিস্ক জোন হিসাবে চিহ্নিত করে বিশেষ সাইনবোর্ড লাগানো উচিত।”
পঞ্চায়েত প্রধান বলেন:
“ঘটনাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বহুদিন ধরেই রাস্তা সংস্কারের জন্য আবেদন করে আসছি। জেলা প্রশাসনকে আবারও জানানো হবে। আমরা চাই এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
জেলা প্রশাসনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে—
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন,
রাতের ট্রাক চেকিং বাড়ানো,
রাস্তা সংস্কারের প্রস্তাব পুনরায় পাঠানো,
দুর্ঘটনাস্থলকে হাই–রিস্ক জোন হিসাবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ।
অ্যাঙ্কর:
“ধন্যবাদ, ___। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে হাইওয়ে ও স্টেট রুটগুলোতে দ্রুতগতির বিপদ কতটা ভয়াবহ হতে পারে। ভারী যানবাহনগুলির উপর আরও নজরদারি প্রয়োজন। দুর্ঘটনার পর যে ধরনের প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয় মানুষ যদি অনুভব করেন যে প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে না, তবে এমন ঘটনা রোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।”
এক গ্রামবাসী বলেন:
“আমরা যারা গ্রামের মানুষ, রাতে এমন শব্দে ভয় পেয়ে যাই। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর মনে হয় যদি এটি আরও বড় হত? যদি কেউ প্রাণ হারাত? প্রশাসনের তরফে যদি আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো তবে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
ঘটনার ফলাফল শুধু চালকের আঘাতেই সীমাবদ্ধ নয়—এই অঞ্চল দিয়ে প্রতিদিন যেসব মানুষ যাতায়াত করেন তাঁদের প্রত্যেকেই আতঙ্কিত।
গত ৫ বছরে এই রুটে—
ছোট বড় মিলিয়ে ১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে,
এর মধ্যে ৬টি লরি বা ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা,
৩টি মৃত্যু,
২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এমন পরিসংখ্যান এই দুর্ঘটনাকে আরও গুরুত্ব দেয়।
স্থানীয়রা বলেন:
“রাস্তার ঐ অংশে কোনো হাই–মাস্ট লাইট নেই,”
“লরিগুলো সাধারণত খুব দ্রুতগতিতে যায়,”
“চিহ্ন বা সাইনবোর্ডও কম,”
এ সমস্যাগুলো বহুদিন ধরেই প্রশাসনের নজরে আছে বলে দাবি।
রিপোর্টার:
“ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ এবং স্থানীয় মানুষদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে প্রশ্ন উঠছে—আর কত দুর্ঘটনার পর প্রশাসন জাগবে? রাস্তার উন্নয়ন, আলোর ব্যবস্থা, এবং দ্রুতগতি নিয়ন্ত্রণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ফিল্ড থেকে—আমি ___, বাংলা নিউজ ২৪।”
অ্যাঙ্কর:
“আমাদের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র খবর পরিবেশন নয়—এই ধরনের ঘটনার মাধ্যেমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়—তা নজরে রাখবে আমাদের চ্যানেল। আপাতত এখানেই রাখছি। কিন্তু এ নিয়ে আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন বাংলা নিউজ ২৪-এ।”
প্রত্যক্ষদর্শী এক গ্রামবাসীর কথায়, “শব্দটা এমন ছিল যেন কোনও বিস্ফোরণ হলো। বাইরে বেরিয়ে দেখি লরি উল্টে আছে আর পাথর ছড়িয়ে রাস্তা ব্লক করে রেখেছে।” আরও একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “রাতে এই রাস্তা দিয়ে ট্রাকগুলো খুব দ্রুত গতিতে চলে। ওই বাঁকটা খুবই বিপজ্জনক। এর আগেও এখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে।” গ্রামবাসীরা প্রথমেই উদ্ধার কাজে হাত লাগান। প্রায় ১৫ মিনিট চেষ্টা করে তাঁরা চালককে কেবিন থেকে বের করতে সক্ষম হন। এরপর আসে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চালককে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চালকের মাথা ও বুকে আঘাত রয়েছে এবং তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনি কথা বলতে পারছেন না। পুলিশ জানিয়েছে, লরিটি অতিরিক্ত গতিতে ছিল এবং অতিরিক্ত ওজনের চাপও নিয়ন্ত্রণ হারানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। পুলিশ ব্রেকের দাগ, টায়ারের চিহ্ন এবং রাস্তার পাশের গাছের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা করে দেখছে। তদন্তে মেকানিক্যাল ত্রুটি বা ব্রেক ফেল হওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভও তীব্র। তাঁদের দাবি, এই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। রাস্তার বাঁকে সঠিক আলো নেই, সতর্কতামূলক রাস্তার চিহ্নও কম। অনেকেই বলেন, “প্রশাসন যদি আগেই ব্যবস্থা নিত, তাহলে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।” তাঁরা দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও স্ট্রিটলাইট বসানোর দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি রাতে ভারী যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ ও চেকিং জোরদার করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার ফলে রাতের প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তার একাংশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ভোরবেলা ক্রেন এনে লরিটি তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাস্তা পরিষ্কার করার পর ট্রাফিক স্বাভাবিক হয়। এলাকাবাসীর মতে, এ রুটে গত কয়েক বছরে ছোট–বড় বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাথরবোঝাই লরি ও ট্রাকের কারণে এই রাস্তায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে বিপদ আরও বেড়ে যায় বলে মানুষের অভিযোগ।