বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান আবারও নতুন বিতর্কে জড়ালেন বেঙ্গালুরুর এক পাব–ইভেন্টে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়—তিনি জনসমক্ষে একটি বিতর্কিত হ্যান্ড জেসচার করেছেন, যা অনেকেই মধ্যাঙ্গুল প্রদর্শন হিসেবে ধরে নিয়েছেন। ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনলাইনে নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনার পর বেঙ্গালুরুর এক আইনজীবী আরিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে দাবি করা হয়—এ জেসচার “মহিলাদের শালীনতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন” করতে পারে। পুলিশ ভিডিওটি পরীক্ষা করে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ধারায় তদন্ত চালাচ্ছে।
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খান আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। বেঙ্গালুরুর এক পাব–ইভেন্টে তোলা একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। ভিডিওতে দেখা যায়—আরিয়ান খান জনসমক্ষে একটি বিতর্কিত হ্যান্ড জেসচার করছেন। অনেকে এটিকে “মধ্যাঙ্গুল প্রদর্শন” বলে দাবি করেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
তারই মাঝে অভিনেতা জায়েদ খান সামনে এসে দাবি করেন—
“ভিডিওতে আরিয়ানের যে হ্যান্ড জেসচার দেখা গেছে, তা ভিড়ের উদ্দেশ্যে ছিল না; বরং তাঁর ম্যানেজারের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।”
এই বক্তব্যে বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় ঘটনাটি এখন পুলিশের তদন্তাধীন। গোটা বলিউড, মিডিয়া ও দর্শকমহল এখন নজর রাখছে—এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।
১১ নভেম্বর রাতে বেঙ্গালুরুর একটি জনপ্রিয় প্রিমিয়াম পাব–এ একটি ব্র্যান্ড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সেই ইভেন্টে ব্র্যান্ড–অ্যাম্বাসেডর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিয়ান খান।
ইভেন্টে ভিড় ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ভক্তরা ও মিডিয়া কর্মীরা আরিয়ানকে ঘিরে ধরেন ছবি ও ভিডিও তুলতে। এসময়ে একটি ভিডিওতে দেখা যায়—
আরিয়ান খান একটি আলো–আঁধারি পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছেন,
তাঁর পাশেই স্টাফ ও সিকিউরিটি সদস্যরা,
এবং তিনি একটি হাতের ইশারা করছেন, যা অনেকেই “মধ্যাঙ্গুল প্রদর্শন” বলে ধরে নেন।
এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।
কমেন্ট বক্স ভরে ওঠে—
সমালোচনা
ব্যাখ্যার দাবি
সমর্থন
নিন্দা
মিম
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভিডিও ভাইরাল হওয়া যেমন সহজ, তেমনই সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষকে বিচার করা। আরিয়ান খানের ক্ষেত্রে তা আরও দ্রুত ঘটে, কারণ তিনি শাহরুখ খানের পুত্র—এক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুপারস্টারের ছেলে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বেঙ্গালুরুতে এক আইনজীবী আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়—
তাঁর মাঝাঙ্গুল দেখানোর আচরণ “সামাজিক শালীনতা বিরোধী”
সেটা “মহিলাদের সম্মানহানিকর”
এবং “জনসমক্ষে অশোভন আচরণ” হিসাবে গণ্য হবে
কিছু মিডিয়া সূত্র জানায়—
অভিযোগটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারার আওতায় পড়তে পারে, যদি উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয় মহিলাদের শালীনতা নষ্ট করার। যদিও এখনো অভিযোগের ভিত্তি বিচারাধীন।
পুলিশ জানিয়েছেন—
“ভিডিওটির সত্যতা, সময়, স্থান, জেসচারের প্রকৃতি এবং অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।”
বলিউড অভিনেতা জায়েদ খান ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন। তিনি বলেন—
“এই হ্যান্ড জেসচার ভিড় বা দর্শকদের উদ্দেশ্যে ছিল না।
আরিয়ান তাঁর ম্যানেজারকে কিছু নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে।”
জায়েদ খান আরিয়ানকে সমর্থন করলেও তাঁর বক্তব্য প্রশ্ন তোলে—
অশ্লীল জেসচার হলে সেটি ম্যানেজারের দিকেই বা করা হলো কেন?
এমন আচরণ জনসমক্ষে কতটা গ্রহণযোগ্য?
সেলিব্রিটি হিসেবে আরও সতর্ক হওয়া কি প্রয়োজন ছিল?
সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ মনে করছে—
জায়েদ খানের মন্তব্য পরিস্থিতিকে “কন্ট্রোল” করার চেষ্টা মাত্র।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায় দুইটি স্পষ্ট ভাগ—
“শাহরুখ খানের ছেলের অহঙ্কার চরমে।”
“টাকা ও ক্ষমতায় মাথা ঘুরে গেছে।”
“জনসমক্ষে এমন আচরণের শাস্তি হওয়া উচিৎ।”
“বার বার বিতর্কে জড়ানোই প্রমাণ—আচরণের সমস্যা রয়েছে।”
“ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ভুল ধারণা দিয়েছে।”
“শুধু একটি মুহূর্তকে ভিত্তি করে বিচার করা ঠিক নয়।”
“সেলিব্রিটি বাচ্চাদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি থাকা অন্যায়।”
“সবসময় আরিয়ানকে টার্গেট করা হচ্ছে।”
এই মিশ্র প্রতিক্রিয়াই দেখায়—জনমত কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করছে তদন্ত ও পরবর্তী তথ্য প্রকাশের ওপর।
আইন–বিশেষজ্ঞদের মতে—
“জেসচারের উদ্দেশ্য প্রমাণ করা না গেলে অপরাধ দাঁড়ায় না।”
“একটা ভিডিও প্রমাণ হলেও কনটেক্সট জানা জরুরি।”
“সোশ্যাল মিডিয়া বিতর্ক আইনের চোখে যথেষ্ট নয়।”
তবে তারা এটাও বলেন—
“জনসমক্ষে অশ্লীল আচরণ দণ্ডনীয়।”
“সেলিব্রিটিদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।”
২০২১ সালের “ক্রুজ–ড্রাগস কেস”-এ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই আরিয়ান খান সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন।
যদিও তিনি আদালতে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবুও—
তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ আলোচনায় আসে
সোশ্যাল মিডিয়ার নজর সবসময় তাঁর উপর
সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু তিনি হয়ে উঠেছেন
মানুষের মানসিকতায় “একবার বিতর্কিত মানেই সবসময় সন্দেহ” — এই প্রবণতাও দেখা যায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন—
সেলিব্রিটি সন্তানদের উপর নজরদারি সাধারণের তুলনায় হাজার গুণ বেশি
ছোট একটি ভুলকে বিশাল বিতর্কে পরিণত করা হয়
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও জনমতের সংঘর্ষই এই ধরনের ঘটনাকে বড় করে তোলে
একজন মন্তব্য করেন—
আরিয়ান শুধু শাহরুখের ছেলে বলেই ভিডিও ভাইরাল হওয়া মাত্র অভিযোগ দায়ের হলো। একজন সাধারণ ছেলের ক্ষেত্রে হয়তো বিষয়টি এতদূর যেত না।
বেঙ্গালুরুর সেই রাতের ঘটনাটি যতদূরই “ছোট একটি ভুল” বলে মনে হোক না কেন, সামাজিক মাধ্যমের যুগে এক সেকেন্ডের ভিডিওও বিশাল সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। আর সেই আলোড়ন যদি কোনও সুপারস্টারের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তার তরঙ্গছায়া ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
আরিয়ান খানের সাম্প্রতিক ভাইরাল ভিডিওটিও ঠিক তেমন। একটি জেসচারের ভুল ব্যাখ্যা, অনলাইন ট্রোলিং, আইনগত অভিযোগ—সব মিলিয়ে যে অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতি, সেলিব্রিটি কণ্ট্রোল, ও জনমনের আচরণ বিশ্লেষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ভিডিওটি সর্বপ্রথম কিছু ইনস্টাগ্রাম স্টোরি ও ফ্যান–পেজে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই—
টুইটার
ইনস্টাগ্রাম রিল
ফেসবুক পেজ
ইউটিউব শর্টস
টেলিগ্রাম চ্যানেল
—সব জায়গায় ভিডিওটি শেয়ার হতে থাকে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার মূল কারণগুলো ছিল—
সাধারণ মানুষের বাড়তি আগ্রহ।
মানুষ দ্রুত বিচার করে, “আবার কিছু করেছে নিশ্চয়ই”।
অন্ধকার আলো–ছায়ায় তোলা ভিডিও; ভুল ব্যাখ্যার সম্ভাবনা বেশি।
একধরনের সামাজিক মানসিকতা:
“ওরা বড়লোক, ওদের ভুল বের করতেই হবে।”
টিভি চ্যানেল:
“আরিয়ান আবার বিতর্কে!”
এ ধরনের শিরোনাম পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে।
বেঙ্গালুরু পুলিশ ইতিমধ্যেই সুমোটো মামলা তদন্ত শুরু করেছে। তারা এখন যে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে—
এটি কি এডিট করা?
কতটা স্পষ্ট?
ক্যামেরার কোণ কি বিভ্রান্তি তৈরি করেছে?
জনতার দিকে নাকি ম্যানেজারের দিকে?
ব্যঙ্গ না কি ইশারা?
অভিযোগকারী আইনজীবী দাবি করেছেন—
“এটি জনসমক্ষে মহিলাদের শালীনতায় আঘাত।”
যদি উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয় “অশ্লীল আচরণ”, তবে—
Section 354: insulting modesty
Section 509: word/gesture to insult modesty
Section 268: public nuisance
Section 294: obscene gesture in public
—প্রযোজ্য হতে পারে।
তারা কি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল?
পুলিশ সূত্র জানায়—
“এটি বড় মামলা করা নয়, বরং ঘটনার বাস্তবতা যাচাই করা জরুরি।”
জায়েদ খান বলেন—
**“আরিয়ান ভিড়কে নয়, তাঁর ম্যানেজারকে সংকেত দিচ্ছিলেন।”
তবে নেটিজেনদের প্রশ্ন:
যদি ম্যানেজারের দিকেই ইশারা করে থাকেন, তবে সেই আচরণও কতটা পেশাদার?
আরিয়ানের পাশে থাকা সিকিউরিটি বা কর্মীরা কেন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখালেন?
আগে কেন কেউ ব্যাখ্যা দেয়নি?
অনেকে মনে করছেন—এই মন্তব্যটি দেওয়া হয়েছে বিতর্ক কমানোর উদ্দেশ্যে।
কারণ এর আগে বহুবার দেখা গেছে—
বলিউড সেলিব্রিটি
তাদের সন্তান
বড় রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক পরিবারের মানুষ
—বিতর্কে জড়ালে “ভুল বোঝাবুঝির ব্যাখ্যা”ই মূল প্রতিরক্ষা কৌশল হয়।
এ ঘটনায় তিন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—
বেশিরভাগ অভিনেতা–অভিনেত্রী কোনও মন্তব্য করেননি।
কারণ—
বলিউড সাধারণত শাহরুখ খানের বিপক্ষে যায় না।
কিছু পরিচালক ও অভিনেতা বলেছেন—
“একটি মুহূর্তকে বড় করে দেখা উচিত নয়।”
ইনসাইড সূত্র জানায়—
ব্র্যান্ড টিম
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট
Shah Rukh Khan–এর লিগ্যাল টিম
—সবাই damage control–এ ব্যস্ত।
এটি কেবল ব্যক্তিগত আচরণ নয়—এর পেছনে আছে সামাজিক মনস্তত্ত্ব।
ফলে,
“ভুল করলে শাস্তি পেতেই হবে” — জনতার এই মনোভাব প্রবল।
২০২১ সালের ড্রাগস–কেস এক বড় কারণ।
এই ধারণা থেকে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত প্রত্যাশা করে।
“ওর মতো হলে আমি এমন করতাম না”—এই ভাবধারা।
আরিয়ান মানেই TRP বৃদ্ধি।
ভিডিওতে দেখা যায়—আরিয়ান খান দ্রুত, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে একটি হ্যান্ড জেসচার করছেন।
এখন প্রশ্ন—
আইন সবসময় intent–কে গুরুত্ব দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়া footage–এর ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করে।
এই দুইয়ের ফারাক থেকেই জন্ম নিয়েছে—
অভিযোগ
ভাইরাল বিতর্ক
মিডিয়া তোলপাড়
পুলিশের তদন্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে—
“ভিডিও ইন্টারপ্রিটেশন–এর ভুল সম্ভাবনা থাকে অত্যন্ত বেশি।”
এই ঘটনায় আরিয়ান খান আইনি আদালতে যাওয়ার আগেই সামাজিক আদালতে বিচার হয়েছে।
নেটিজেনরা—
নিজস্ব রায় দিয়েছে
মন্তব্যে আক্রমণ করেছে
পরিবারকে টেনেছে
মিম তৈরি করেছে
চরিত্রহানির অভিযোগ তুলেছে
এটাই আজকের বাস্তবতা।
কোনও ব্যক্তি বিখ্যাত হলেই তাঁর বিচার সামাজিক মাধ্যমে হয়