Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অহনার জিম আউটফিটে উত্তাপ সোশ্যাল মিডিয়ায়—আমরা কি এখনো পিছিয়ে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও আলোচনায় অভিনেত্রী অহনা। জিমের পোশাকে রাস্তায় বের হওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে নানা মন্তব্য, সমালোচনা ও ট্রলিং। অথচ পোশাকটি ছিল সাধারণ জিম আউটফিট—স্পোর্টস টপ ও লেগিংস, যা আজকাল ফিটনেসপ্রেমীদের কাছে খুবই পরিচিত। তবে নারীর পোশাক নিয়ে সমালোচনার পুরনো অভ্যাস যেন আবারও মাথা তুলেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এভাবে রাস্তায় বের হওয়া ঠিক নয়,সেলিব্রেটি বলে সব পোশাক চলবে নাকি? আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণও করেছেন। এতে বোঝা যায়, ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েও আমরা নারীর পোশাক নিয়ে অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পারিনি। একই পোশাক কোনো পুরুষ পরলে হয়তো এত আলোচনা হতো না, যা সমাজের দ্বৈত মানদণ্ডকে পরিষ্কার করে দেয়। টেলিপাড়ায় অবশ্য অনেকে অহনার পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের মতে, ফিটনেস নিয়ে কাজ করলে এমন পোশাক পরা খুবই স্বাভাবিক। সোশ্যাল মিডিয়া যুগে যেকোনো বিষয় ভাইরাল হওয়া যেমন সহজ, তেমনি সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হওয়াও সাধারণ, বিশেষত নারী সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে। এই বিতর্ক শুধু অহনাকে ঘিরে নয়। প্রতিদিন সাধারণ মেয়েরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়। বাসে, রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে—তাদেরও পোশাক নিয়ে মন্তব্য, নজরদারি, উপহাস সহ্য করতে হয়। কেন নারী কী পরবে সে সিদ্ধান্ত সমাজ ঠিক করবে? কেন তার পোশাকই নৈতিকতার মাপকাঠি হবে? ফ্যাশন ও পোশাক সময়ের সঙ্গে বদলায়। জিম পোশাক হলো আরামের ও কার্যকারিতার অংশ। কিন্তু এখনও অনেকেই পোশাককে নৈতিকতার সঙ্গে মেলাতে চায়। বিষয়টি শুধু মানসিকতার প্রশ্ন, যা বদলাতে সচেতনতা জরুরি। অহনার ঘটনার পর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছেন, আগে নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা বা সুযোগ নিয়ে কথা বলা উচিত—পোশাক নয়। আবার অনেকে মনে করেন, ট্রল বা সমালোচনার ভয়ে নারীরা যেন নিজেদের পছন্দে বাধা না দেয়।  শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি সত্যিই আধুনিক হচ্ছি? নাকি পোশাকের মতো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েই এখনো আটকে আছি? অহনার জিম আউটফিট নিয়ে বিতর্ক হয়তো সাময়িক, কিন্তু এটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে নারীর স্বাধীনতা নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও বদলায়নি। তাই প্রশ্ন রয়ে যায়—আমরা কি সত্যিই এগোচ্ছি, নাকি এখনো পিছিয়েই আছি?

 

news image
আরও খবর

টেলিভিশনের পর্দার পরিচিত মুখ অহনা সবসময়ই দর্শকদের কাছে খোলামেলা, স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তিনি বেশ সক্রিয়। নিয়মিত নিজের ফিটনেস জার্নি, শুটিংয়ের মূহূর্ত কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক এক ঘটনায় আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন অহনা—কারণ তার জিম আউটফিট। নিজের জিমের পোশাকে রাস্তায় বের হওয়ার একটি ছোট ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তার পর থেকেই শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য, সমালোচনা, বিতর্ক, ট্রোলিং—যার বড় অংশই আসলে নারীর পোশাক নিয়েই ঘুরপাক খায়।  অহনার সেই জিম আউটফিট ছিল একেবারেই সাধারণ—স্পোর্টস টপ ও লেগিংস, যেটা আজকের দিনে ফিটনেসপ্রেমী প্রায় সবারই পরিচিত পোশাক। তবে সেখানেই যেন বাধল বিপত্তি। কেউ বললেন, “এত খোলামেলা পোশাক পরে রাস্তায় বের হওয়া ঠিক হয়নি।” কেউ মন্তব্য করলেন, “সেলিব্রেটি বলে কি ইচ্ছে মতো পোশাক পরার অধিকার আছে?” আবার কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণও করলেন। সব মিলিয়ে বিষয়টি যেন পোশাক নয়, বরং সমাজের এক অদৃশ্য মানসিকতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলো আমাদের। প্রশ্ন হলো, ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে আমরা কি এখনো নারীর পোশাক নিয়ে এতটাই অস্বস্তিতে? যখন পৃথিবীর নানা দেশে ফ্যাশন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও শরীরচর্চা নিয়ে ইতিবাচকতা বাড়ছে, তখন আমাদের সমাজের অনেকেই এখনো নারীর পোশাককে কেন্দ্র করে বিচার-বিশ্লেষণ করতে ব্যস্ত। যেন নারীর স্বাধীনতা ও তার পছন্দমতো পোশাক পরার অধিকার এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে চলে এসেছে সেই পুরনো বিতর্ক—নারী কী পরবে, কোথায় যাবে, কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করবে, সে সিদ্ধান্ত কি তার নিজের? নাকি সমাজের কিছু মানুষের অনুমতি প্রয়োজন? মজার বিষয় হলো, যে পোশাক নিয়ে আজ এত বিতর্ক, একই পোশাক পুরুষেরা পরলে তা নিয়ে একটুও জলঘোলা হয় না। জিম থেকে বের হওয়া একজন পুরুষের শর্টস বা স্লিভলেস টি-শার্ট দেখে কেউ বলে না, “এভাবে রাস্তায় চলাফেরা ঠিক নয়।” এই দ্বৈত মানদণ্ডই আসলে আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যার দিকে আঙুল তোলে—নারীর স্বাধীনতা নিয়ে অস্বস্তি। মনে হয়, নারীর শরীর যেন নিজস্ব সম্পদ নয়, বরং সমাজের কিছু মানুষের মন্তব্যের জন্য উন্মুক্ত জায়গা। এটা শুধু অহনার ক্ষেত্রে নয়, যেকোনো সাধারণ মেয়েও বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। টেলিপাড়ায় অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই অহনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মন্তব্য, “তিনি একজন অভিনেত্রী, তার ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করা উচিত।” কেউ বলছেন, “ফিটনেস নিয়ে কাজ করলে জিমের পোশাক পরে বের হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এতে সমস্যা কোথায়?” আবার কেউ কেউ এও মনে করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেকোনো কিছুই আলোচনা বা সমালোচনার উপাদান হয়ে যায়, বিশেষ করে নারী সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে। আসলে পোশাকের বিষয়ে এই বিতর্ক কেবল সেলিব্রেটিদের ক্ষেত্রেই নয়; আমাদের সমাজের সাধারণ মেয়েরাও প্রতিদিন একই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। মেট্রো ট্রেনে, বাসে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি নিজের বাড়ির আশপাশের রাস্তায়ও তারা পোশাক নিয়ে নানা রকম মন্তব্য শুনতে বাধ্য হয়। কখনো “এটা কেন পরলে?”, “এভাবে চলাফেরা ঠিক না”, আবার কখনো “এতে ছেলেদের মনোযোগ বাড়ে”—এমন অসংখ্য মন্তব্য তাদের মন খারাপ করে, আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। অথচ একটি মেয়ের পোশাকই কেন সমাজের নৈতিকতা বা সংস্কৃতির মাপকাঠি হবে? ফ্যাশন এবং পোশাক কোনো স্থির বিষয় নয়। সময়ের সঙ্গে তা বদলায়। জিম পোশাক মূলত আরাম ও কার্যকারিতার জন্যই তৈরি হয়। শরীরচর্চা করার সময় এমন পোশাক পরা সুস্বাস্থ্য, সঠিক ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাসের অংশ। অথচ সে বিষয়টিকে উপেক্ষা করে আমরা এখনো পোশাককে নৈতিকতার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলি। এ যেন এমন এক মানসিকতা যা বদলাতে আমাদের আরো সময় লাগবে, যদি সচেতনতা না বাড়ে। অহনার এই অভিজ্ঞতা অনেককেই ভাবিয়েছে। কেউ কেউ লিখেছেন, “একজন নারী কী পরবেন তা নিয়ে এত সমালোচনা করার আগে সমাজের উচিত তার নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা নিয়ে কথা বলা। কেউ বলছেন, এই সমালোচনা প্রমাণ করে যে আমরা বাইরে থেকে আধুনিক হলেও ভিতরে এখনো কুসংস্কারে আটকে আছি। আবার অনেকে মনে করেন, “এমন ট্রল বা সমালোচনাকে পাত্তা দিলে নারীরা আরো সংকুচিত হয়ে যাবেন। বরং সাহস নিয়ে নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচা উচিত।এখানে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়া অনেক সময় সচেতনতার মাধ্যম হয়, আবার কখনো ট্রল ও হেট স্পিচের অন্ধকার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। অহনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া মাত্রই যে মন্তব্যগুলোর বন্যা দেখা গেছে, তা এই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, অনেকেই অহনার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাকে সমর্থন করেছেন, কথা বলেছেন নারীর স্বাধীনতা নিয়ে। এই আওয়াজগুলোই ধীরে ধীরে সমাজকে আরও সচেতন, আরও উদার করে তুলতে পারে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ব্যক্তির স্বাধীনতা সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে মতের অমিল হবেই। কিন্তু স্বাধীনতা মানে নিজের শরীর, নিজের জীবন ও নিজের পছন্দমতো পথ বেছে নেওয়ার অধিকার। অহনা একজন জনপ্রিয় মুখ হওয়ায় তার উপর নজর একটু বেশি, কিন্তু যেকোনো নারীর ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য—সে কী পরবে, তা তার ইচ্ছে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি সত্যিই এগোচ্ছি? নাকি এই সমালোচনা, এই বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরা এখনও একই জায়গায় আটকে আছি, যেখানে নারীর পোশাকই যেন সমাজের সবচেয়ে বড় বিচার্য বিষয়? অহনার জিম আউটফিট নিয়ে ক্ষণিকের এই উত্তাপ থেমে যাবে হয়তো, কিন্তু ছাপ রেখে যাবে একটাই প্রশ্ন—নারীর নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার নিয়ে আমাদের সমাজ কি সত্যিই প্রস্তুত? নাকি আমরা এখনো পিছিয়েই আছি? সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও আলোচনায় অভিনেত্রী অহনা। জিমের পোশাকে রাস্তায় বের হওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে নানা মন্তব্য, সমালোচনা ও ট্রলিং। অথচ পোশাকটি ছিল সাধারণ জিম আউটফিট—স্পোর্টস টপ ও লেগিংস, যা আজকাল ফিটনেসপ্রেমীদের কাছে খুবই পরিচিত। তবে নারীর পোশাক নিয়ে সমালোচনার পুরনো অভ্যাস যেন আবারও মাথা তুলেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এভাবে রাস্তায় বের হওয়া ঠিক নয়,সেলিব্রেটি বলে সব পোশাক চলবে নাকি? আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণও করেছেন। এতে বোঝা যায়, ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েও আমরা নারীর পোশাক নিয়ে অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পারিনি। একই পোশাক কোনো পুরুষ পরলে হয়তো এত আলোচনা হতো না, যা সমাজের দ্বৈত মানদণ্ডকে পরিষ্কার করে দেয়। টেলিপাড়ায় অবশ্য অনেকে অহনার পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের মতে, ফিটনেস নিয়ে কাজ করলে এমন পোশাক পরা খুবই স্বাভাবিক। সোশ্যাল মিডিয়া যুগে যেকোনো বিষয় ভাইরাল হওয়া যেমন সহজ, তেমনি সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হওয়াও সাধারণ, বিশেষত নারী সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে। এই বিতর্ক শুধু অহনাকে ঘিরে নয়। প্রতিদিন সাধারণ মেয়েরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়। বাসে, রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে—তাদেরও পোশাক নিয়ে মন্তব্য, নজরদারি, উপহাস সহ্য করতে হয়। কেন নারী কী পরবে সে সিদ্ধান্ত সমাজ ঠিক করবে? কেন তার পোশাকই নৈতিকতার মাপকাঠি হবে? ফ্যাশন ও পোশাক সময়ের সঙ্গে বদলায়। জিম পোশাক হলো আরামের ও কার্যকারিতার অংশ। কিন্তু এখনও অনেকেই পোশাককে নৈতিকতার সঙ্গে মেলাতে চায়। বিষয়টি শুধু মানসিকতার প্রশ্ন, যা বদলাতে সচেতনতা জরুরি। অহনার ঘটনার পর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছেন, আগে নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা বা সুযোগ নিয়ে কথা বলা উচিত—পোশাক নয়। আবার অনেকে মনে করেন, ট্রল বা সমালোচনার ভয়ে নারীরা যেন নিজেদের পছন্দে বাধা না দেয়।  শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি সত্যিই আধুনিক হচ্ছি? নাকি পোশাকের মতো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েই এখনো আটকে আছি? অহনার জিম আউটফিট নিয়ে বিতর্ক হয়তো সাময়িক, কিন্তু এটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে নারীর স্বাধীনতা নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও বদলায়নি। তাই প্রশ্ন রয়ে যায়—আমরা কি সত্যিই এগোচ্ছি, নাকি এখনো পিছিয়েই আছি?

Preview image