AI চাহিদার জোয়ারে Nvidia–র সিইও Jensen Huang: “TSMC আমাদের রক্তপ্রবাহ” বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চিপের তীব্র চাহিদা মেটাতে Nvidia এখন উৎপাদন সীমার প্রান্তে দাঁড়িয়ে। এজন্য সংস্থার সিইও Jensen Huang তাইওয়ানের TSMC (Taiwan Semiconductor Manufacturing Company)-কে আরও বেশি উইফার (wafer) সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন। Huang Bloomberg-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের AI চিপের চাহিদা নজিরবিহীন। TSMC ছাড়া এই বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব।” TSMC বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ ফাউন্ড্রি, যা Nvidia, Apple ও AMD-এর মতো শীর্ষ সংস্থার জন্য চিপ তৈরি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা সীমায় পৌঁছেছে। সিইও C.C. Wei স্বীকার করেছেন যে AI চিপের চাহিদা এতটাই বেশি যে, কোম্পানির CoWoS প্যাকেজিং ফ্যাসিলিটি “পূর্ণক্ষমতায়” চলছে। Nvidia-র নতুন প্রজন্মের Blackwell (B200) ও Hopper (H200) সিরিজের GPU এখন বাজারে বিস্ফোরক সাড়া ফেলেছে। এই চিপগুলিই ChatGPT, Google Gemini, Meta LLaMA-র মতো জেনারেটিভ AI প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। ফলে ডেটা সেন্টার কোম্পানিগুলির অর্ডার লাইন দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই চাহিদা মেটাতে না পারলে বিশ্বজুড়ে AI চিপ সংকট দেখা দিতে পারে। Bloomberg ও Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, “AI চিপ এখন নতুন তেল — যার হাতে উৎপাদন ক্ষমতা, তার হাতেই ভবিষ্যৎ।” TSMC ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের CoWoS উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-ভিত্তিক চিপ উৎপাদন “বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় শিল্প-চ্যালেঞ্জ” হয়ে উঠছে। Huang-এর মন্তব্য, “Nvidia কেবল চিপ তৈরি করছে না, আমরা ভবিষ্যতের কম্পিউটিং কাঠামো গড়ে তুলছি। কিন্তু উৎপাদনের সীমা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ভারতের মতো দেশের জন্যও এক বড় শিক্ষা। যদি ভারত এখনই নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকে জোরদার করে, তবে ভবিষ্যতের চিপ সংকটে দেশের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিস্ফোরক চাহিদা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিপ নির্মাতা কোম্পানি Nvidia। এই প্রেক্ষিতে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Jensen Huang সম্প্রতি Taiwan Semiconductor Manufacturing Company (TSMC)-র কাছে উইফার (wafer) সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, Huang বলেছেন — “আমাদের AI চিপের চাহিদা ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং TSMC আমাদের সাপ্লাই চেইনের মূল স্তম্ভ।”
বিশ্বজুড়ে AI বিপ্লবের ফলে চিপের চাহিদা বহুগুণে বেড়েছে। ChatGPT, Claude, Gemini, এবং অন্যান্য জেনারেটিভ AI মডেলগুলো বিপুল কম্পিউটিং শক্তি দাবি করছে। Nvidia বর্তমানে তাদের Hopper (H200) এবং Blackwell (B200) সিরিজের GPU তৈরি করছে — যেগুলোই বড় ভাষা মডেল ও ডেটা সেন্টারের মেরুদণ্ড।
এই সব GPU তৈরি হয় TSMC-র CoWoS (Chip-on-Wafer-on-Substrate) প্যাকেজিং প্রযুক্তিতে। Huang বলেছেন — “TSMC বিনা AI ইকোসিস্টেম সম্ভব নয়। তারা আমাদের প্রযুক্তিগত হৃদপিণ্ড।”
TSMC বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফাউন্ড্রি, যা Nvidia, Apple, AMD, এবং Qualcomm-এর জন্য চিপ উৎপাদন করে। তবে সম্প্রতি কোম্পানির সিইও C.C. Wei জানিয়েছেন — “AI চিপ উৎপাদনে আমাদের সক্ষমতা এখন অত্যন্ত সংকীর্ণ। প্রতিটি ইউনিট সর্বোচ্চ চাপে চলছে।”
এই অবস্থায় Nvidia-র পক্ষ থেকে চাহিদা আরও বাড়ানো মানে উৎপাদন লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন-এর ওপর চাপ বাড়বে।
তবে Wei স্বীকার করেছেন, তারা AI-centric expansion plan হাতে নিয়েছেন, যেখানে ২০২৬ সালের মধ্যে CoWoS প্যাকেজিং ক্ষমতা দ্বিগুণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, Nvidia-TSMC সম্পর্ক এখন AI শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে।
চিপ সংকটের আশঙ্কা: যদি TSMC অতিরিক্ত উৎপাদনে সক্ষম না হয়, তাহলে Nvidia-র ডেলিভারি সময়সীমা পিছিয়ে যেতে পারে।
দামের প্রভাব: সরবরাহ সীমিত থাকলে AI চিপের দাম আরও বাড়তে পারে, যা সার্ভার ও ডেটা সেন্টার নির্মাণ ব্যয় বাড়াবে।
বিনিয়োগ প্রবাহ: এই পরিস্থিতি দেখে Microsoft, Google, Amazon ও Meta তাদের নিজস্ব চিপ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
MarketWatch-এর বিশ্লেষণ বলছে, “AI চিপ এখন নতুন তেল — যে বেশি উৎপাদন করবে, তার অর্থনৈতিক প্রভাবও তত বেশি।”
Nvidia বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রযুক্তি সংস্থা।
কোম্পানির বাজারমূল্য $২.৮ ট্রিলিয়ন অতিক্রম করেছে।
২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৭%।
AI GPU বিক্রির জন্য এখন কোম্পানির ওয়েটিং লিস্ট মাসের পর মাস বাড়ছে।
Jensen Huang বলেন, “আমরা কেবল GPU বিক্রি করছি না — আমরা ভবিষ্যতের কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।”
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা: চীন-তাইওয়ান সম্পর্ক এবং মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা TSMC-র উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। Nvidia ইতিমধ্যেই চীনের জন্য বিশেষভাবে কাটছাঁট করা চিপ বিক্রি করছে, কারণ মার্কিন সরকার উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন GPU চীনে রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।
সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি: একাধিক সাপ্লাইয়ারের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে উৎপাদনে বিলম্ব হতে পারে।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা: CoWoS প্রযুক্তি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ, যার ফলে দ্রুত স্কেল-আপ করা কঠিন।
তবে Huang জোর দিয়েছেন, “আমরা দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধান করতে চাই — নতুন ফাউন্ড্রি পার্টনার খোঁজা নয়, বরং TSMC-র সঙ্গে একত্রে ক্ষমতা বাড়ানোই লক্ষ্য।”
ভারত বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং-এ আত্মনির্ভর হওয়ার পথে। Nvidia-TSMC ঘটনা থেকে ভারতের শিক্ষণীয় বিষয় অনেক —
উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি: স্থানীয় চিপ ফ্যাব স্থাপনে দ্রুততা আনা জরুরি।
R&D ইনভেস্টমেন্ট: AI হার্ডওয়্যার-ডিজাইনে ভারতীয় স্টার্ট-আপদের উৎসাহ দেওয়া উচিত।
সরকারি সহযোগিতা: প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিমের আওতায় আরও বিদেশি কোম্পানি আনতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “ভারত আগামী দশকে যদি নিজস্ব ফাউন্ড্রি গড়ে তুলতে পারে, তাহলে Nvidia-র মতো কোম্পানিগুলোর দ্বিতীয় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভারতই হতে পারে।”