সাজঘর এ মুখ্য ভূমিকায় ঐন্দ্রিলা সেন বিশেষ চরিত্রে অঙ্কুশ প্রযোজকের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন তাঁরাও।
টলিউডে ফের শোরগোল ফেলেছে ‘সাজঘর’ ছবিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। ছবির মুক্তির আগেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ছবির ভবিষ্যৎ। প্রযোজক সুমন সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে বকেয়া পারিশ্রমিক না মেটানোর অভিযোগ তুলেছিলেন পরিচালক অঞ্জন কাঞ্জিলাল। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন ছবির দুই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা এবং অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন। ফলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘সাজঘর’।
এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন। অন্যদিকে বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা অঙ্কুশকে। সম্প্রতি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দু’জনেই প্রযোজকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। অঙ্কুশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ছবির জন্য কিছু পারিশ্রমিক আগেই পেয়েছিলেন ঠিকই, তবে এখনও তাঁর বকেয়া টাকা মেটানো হয়নি। অভিনেতার কথায়, তিনি চান বিষয়টি প্রকাশ্যে নয়, সামনাসামনি বসে আলোচনা হোক।
অঙ্কুশ বলেন, “প্রথমে অল্প কিছু পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম। বাকিটা এখনও পাইনি। আমি চাই উনি সামনে এসে কথা বলুন। কোনও মিডিয়া থাকবে না। আমি, বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়), ঐন্দ্রিলা— সবাই থাকব। পুরো কথোপকথন ভিডিয়ো করা থাকবে। সামনে এসে বলুক।”
অভিনেতার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি আর পরোক্ষে কথা বলতে রাজি নন। সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান তিনি। টলিউডে এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
একই সুর শোনা গিয়েছে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেনের গলাতেও। তিনি জানিয়েছেন, ছবির কাজের শুরুতে কিছু অগ্রিম পারিশ্রমিক পেলেও এখনও বহু পাওনা বাকি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর সঙ্গে যুক্ত রূপটানশিল্পী, পোশাকশিল্পী সহ একাধিক কর্মীর পারিশ্রমিক এখনও মেটানো হয়নি বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী।
ঐন্দ্রিলা বলেন, “আমার ভুয়ো সই দেখিয়ে সুমন বলেছিলেন অঙ্কুশের পারিশ্রমিক তিনি দিয়েছেন। পুলিশে যাইনি এটাই বড় কথা। সাহস থাকলে উনি সামনে এসে সবটা বলুন।”
ঐন্দ্রিলার এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন মাত্রা দিয়েছে বিতর্কে। বিশেষ করে ভুয়ো স্বাক্ষরের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ হয়নি।
অন্যদিকে প্রযোজক সুমন সেনগুপ্ত এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অধিকাংশ শিল্পী ও কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক তিনি মিটিয়ে দিয়েছেন। কেবলমাত্র কয়েকজনের কিছু বকেয়া রয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলা আগাম অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নিয়ে বসে আছেন। সেই টাকা ফেরত পেলেই অনেকের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রযোজক বলেন, “অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা বাড়তি পারিশ্রমিক আগে থেকে নিয়ে বসে আছে। সেটা ফেরত দিলে অনেককে পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া যাবে।”
এই পাল্টা দাবির ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। একদিকে পরিচালক, অন্যদিকে নায়ক-নায়িকার অভিযোগ— সব মিলিয়ে ‘সাজঘর’ ছবির মুক্তি এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে। সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল, আদৌ কি সময়মতো মুক্তি পাবে এই ছবি?
প্রযোজক সুমন সেনগুপ্ত এর আগে জানিয়েছিলেন, ‘সাজঘর’ ছবি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অন্য কোনও নতুন ছবির কাজে হাত দেবেন না। সেই সময় তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই ছবির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং আত্মবিশ্বাসের নিদর্শন হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনাই এখন বড় প্রশ্নের মুখে। কারণ ছবির মুক্তির আগেই একের পর এক অভিযোগ, পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিরোধ এবং প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ গোটা বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছে।
পরিচালক অঞ্জন কাঞ্জিলাল প্রথমে অভিযোগ করেন, তাঁর বকেয়া পারিশ্রমিক এখনও মেটানো হয়নি। এরপর একই সুরে মুখ খোলেন ছবির দুই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী অঙ্কুশ এবং ঐন্দ্রিলা সেন। তাঁদের দাবি, আংশিক পারিশ্রমিক দেওয়া হলেও এখনও বকেয়া অর্থ মেটানো হয়নি। শুধু তাই নয়, ঐন্দ্রিলা আরও অভিযোগ করেন যে তাঁর টিমের রূপটানশিল্পী, পোশাকশিল্পী সহ একাধিক কর্মীর পাওনাও এখনও বাকি রয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগ সামনে আসতেই ‘সাজঘর’ ছবির মুক্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে প্রযোজক সুমন সেনগুপ্ত অবশ্য সমস্ত অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, অধিকাংশের পারিশ্রমিক মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সীমিত বকেয়া থাকলেও তা দ্রুত মেটানো হবে। পাশাপাশি তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন, অঙ্কুশ ও ঐন্দ্রিলা আগাম বাড়তি পারিশ্রমিক নিয়ে রেখেছেন, সেই টাকা ফেরত পেলে অনেকের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মতে, কোনও ছবি মুক্তির আগে এ ধরনের প্রকাশ্য বিতর্ক ছবির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতেই পারে। বিশেষ করে যখন পরিচালক, মুখ্য অভিনেতা এবং অভিনেত্রী সকলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন দর্শকদের মধ্যেও ছবিকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়। এর ফলে ছবির প্রচার, ব্যবসা এবং দর্শক আগ্রহ— সব কিছুর উপরেই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
টলিউডে এর আগেও পারিশ্রমিক সংক্রান্ত নানা বিতর্ক সামনে এসেছে। অনেক সময় প্রযোজক ও শিল্পীদের মধ্যে আর্থিক মতবিরোধ দেখা গিয়েছে। তবে কোনও ছবির মুক্তির ঠিক আগে মুখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং পরিচালকের একযোগে প্রকাশ্য ক্ষোভ বিরল বলেই মনে করছেন সিনে মহলের অনেকেই। তাই ‘সাজঘর’ বিতর্ক এখন বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
এখন সকলের নজর একটাই প্রশ্নে— ‘সাজঘর’ ছবিকে ঘিরে চলা এই বিতর্কের শেষমেশ সমাধান হবে কি না। পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা এবং অভিনেত্রীর মধ্যে যে মতবিরোধ সামনে এসেছে, তা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব কি না, সেটাই এখন দেখার। কারণ পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হবে, ছবির মুক্তি ততটাই অনিশ্চয়তার দিকে এগোতে পারে বলে মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ।
ছবির সঙ্গে যুক্ত একাধিক পক্ষের তরফে বকেয়া পারিশ্রমিকের অভিযোগ উঠেছে। পরিচালক অঞ্জন কাঞ্জিলালের পর অভিনেতা অঙ্কুশ এবং অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেনও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধুমাত্র আর্থিক বকেয়া নয়, যোগাযোগের অভাব এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতেই হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
যদি দ্রুত এই সমস্যার নিষ্পত্তি না হয়, তা হলে ছবির নির্ধারিত মুক্তির দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ একটি সিনেমা মুক্তির আগে শুধু শুটিং শেষ হলেই হয় না, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রচার, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন, হল বুকিং এবং দর্শক আগ্রহ তৈরির মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিতর্ক চলতে থাকলে এই সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ছবির মুক্তির আগে নেতিবাচক প্রচার অনেক সময় দর্শকের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। আবার কখনও বিতর্ক কৌতূহলও বাড়ায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত অভিযোগ এবং প্রকাশ্য বিবাদ চলতে থাকলে তা ছবির ব্র্যান্ড ইমেজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ‘সাজঘর’-এর ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কাই দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, যদি আপসের রাস্তা বেরিয়ে আসে এবং প্রযোজক-শিল্পী-পরিচালক একসঙ্গে সমস্যার সমাধানে পৌঁছতে পারেন, তা হলে ছবির মুক্তির পথ আবারও সুগম হতে পারে। বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়া, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং যৌথভাবে নতুন করে প্রচার শুরু করা গেলে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোও অসম্ভব নয়। অনেক সময় ইন্ডাস্ট্রিতে শেষ মুহূর্তে সমস্যার সমাধান হয়ে ছবি সফলভাবেই মুক্তি পেয়েছে— এমন নজিরও রয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘সাজঘর’ ছবির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে বিতর্ক, অন্যদিকে দর্শকদের কৌতূহল— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ছবিটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। টলিউড মহল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। কারণ এই ঘটনার পরিণতি ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরন এবং প্রযোজক-শিল্পীদের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
দর্শকরাও এখন অপেক্ষা করছেন, এই বিতর্কের শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। ছবিটি আদৌ সময়মতো মুক্তি পাবে কি না, নাকি আরও দেরি হবে— সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একথা নিশ্চিত, ‘সাজঘর’ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং টলিউডের বহুল আলোচিত এক বিতর্কের নাম হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।