Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তীব্র হচ্ছে সুপার এল নিনো: ২০২৬ সালে রেকর্ড ভাঙা গরম আর অনাবৃষ্টির কবলে পড়তে পারে ভারত

২২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তৈরি হয়েছে এক শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতীয় জলবায়ুর ওপর। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এবারের পরিস্থিতি বিগত কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

তীব্র হচ্ছে সুপার এল নিনো: ২০২৬ সালে রেকর্ড ভাঙা গরম আর অনাবৃষ্টির কবলে পড়তে পারে ভারত
Environment & Nature

সুপার এল নিনোর থাবায় ভারত ২০২৬ সালে এক অভূতপূর্ব জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া এই শক্তিশালী প্রাকৃতিক পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্য ওলটপালট করে দিচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর এবং বহুমুখী। নিচে এই বিষয়ের ওপর একটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ভূমিকা ও সুপার এল নিনোর প্রেক্ষাপট এল নিনো একটি স্পেনীয় শব্দ যার অর্থ ছোট বালক। এটি মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণায়নকে বোঝায়। যখন এই উষ্ণায়ন সাধারণ মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় তখন তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা একে একটি চরম জলবায়ু ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভারতের মতো দেশে যেখানে জনজীবন এবং অর্থনীতি মূলত মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল সেখানে এই ধরনের পরিবর্তন অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

২০২৬ সালের পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক জলবায়ু সংস্থাগুলোর মতে ২০২৬ সালটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হতে চলেছে। সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে ভারতে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয় না। ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতেই ভারতের উত্তর এবং উত্তর পশ্চিম অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। রাজস্থান দিল্লি এবং হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলোতে তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৪৯ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে। এটি কেবল শুরু কারণ আবহাওয়াবিদদের মতে জুন এবং জুলাই মাসে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

কৃষিখাতে প্রভাব ও খাদ্য নিরাপত্তা ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এখানকার চাষাবাদের একটি বড় অংশ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। সুপার এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬ সালে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ কম হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খারিফ শস্য যেমন ধান পাট এবং ডাল জাতীয় শস্যের চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় বীজের অঙ্কুরোদগম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় পানির অভাবে কৃষকরা জমি চাষ করতে পারছেন না। যদি এই খরা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। চাল এবং ডালের উৎপাদন কমে গেলে বাজারে এসব নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জলসংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন অনাবৃষ্টির কারণে ভারতের প্রধান নদী এবং জলাধারগুলোতে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। দক্ষিণ ভারতের অনেক শহরে এখনই পানীয় জলের হাহাকার শুরু হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন কমে গেছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা যখন তুঙ্গে তখন উৎপাদন কমে যাওয়া লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল গৃহস্থালি জীবন নয় বরং শিল্পকারখানার উৎপাদনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনজীবন অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং তাপপ্রবাহ সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। হিট স্ট্রোক ডিহাইড্রেশন এবং পেটের অসুখ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নির্মাণ শ্রমিক বা কৃষি শ্রমিক যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন তাদের কাজের সময় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। শহরের কংক্রিটের জঙ্গল এবং গাছপালা কমে যাওয়ায় হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট তৈরি হচ্ছে যা তাপমাত্রাকে আরও অসহনীয় করে তুলছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব সুপার এল নিনোর প্রভাব কেবল কৃষি বা স্বাস্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যখন কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমে যায় তখন মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে তার প্রভাব পড়ে শিল্প ও সেবা খাতের ওপর। সরকারকেও খরার মোকাবিলায় ত্রাণ এবং ভর্তুকি বাবদ বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয় যা দেশের বাজেট কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি ও করণীয় জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত পানি সংরক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত কৃষিতে এমন ধরনের ফসলের চাষ বাড়াতে হবে যা কম পানিতে জন্মাতে পারে এবং উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম। জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। তৃতীয়ত শহরগুলোতে বনায়নের মাত্রা বাড়াতে হবে এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করতে হবে যাতে স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

উপসংহার সুপার এল নিনো ২০২৬ কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় এটি মানবজাতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারালে তার ফল কতটুকু ভয়াবহ হতে পারে ভারত বর্তমানে তার প্রমাণ দিচ্ছে। সরকার প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং দ্রুত পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের এই কঠিন সময়টি শিক্ষা দেয় যে পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার কোনো বিকল্প নেই। যদি আমরা আজ সচেতন না হই তবে ভবিষ্যতে এল নিনোর মতো ঘটনাগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে ফিরে আসবে।

সুপার এল নিনোর প্রকোপ এবং ২০২৬ সালে ভারতের জলবায়ু সংকট নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো। এখানে কোনো বিশেষ চিহ্ন বা স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার করা হয়নি।

সুপার এল নিনোর প্রভাব ও ভারতের ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতি

news image
আরও খবর

জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালে আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছি যেখানে প্রকৃতির রোষ সরাসরি মানবসভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জেগে ওঠা সুপার এল নিনো এখন আর কোনো তাত্ত্বিক কথা নয় বরং এটি এক কঠোর বাস্তব যা ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিচ্ছে।

এল নিনোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং সুপার এল নিনোর উৎপত্তি এল নিনো একটি জটিল আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া। এটি মূলত দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণায়নকে বোঝায়। সাধারণ অবস্থায় পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত বাতাস সমুদ্রের ওপরের স্তরের গরম পানিকে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এল নিনোর সময় এই বাতাস দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গরম পানি উল্টো দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। যখন এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি হয় তখন তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যা গত ১০০ বছরের রেকর্ড ভাঙার উপক্রম করেছে।

ভারতের মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টির অভাব ভারত একটি মৌসুমি বায়ুর দেশ। আমাদের দেশের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে। সুপার এল নিনোর সরাসরি প্রভাব পড়ে এই মৌসুমি বায়ুর ওপর। প্রশান্ত মহাসাগর উত্তপ্ত হওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলের রক্তচাপ এবং বাতাসের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফলে মেঘ তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং মৌসুমি বায়ু ভারতে পৌঁছাতে দেরি করে অথবা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারতের উত্তর পশ্চিম এবং মধ্য ভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হবে। এই অনাবৃষ্টির ফলে কৃষি জমিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে এবং দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি ও গ্রামীন অর্থনীতির ওপর আঘাত ভারতের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। ভারতের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সুপার এল নিনোর কারণে ধান তুলা ভুট্টা এবং ডাল চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত সেচের অভাবে চারাগাছ মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে। যদি উৎপাদন কমে যায় তবে তার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে। চাল এবং গমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় যেখানে মানুষের আয় মূলত ফসলের ওপর নির্ভর করে সেখানে দারিদ্র্য এবং বেকারত্বের ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষকরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন যা একটি বড় সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।

তীব্র তাপপ্রবাহ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকাল ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। রাজস্থান উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির মতো এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা প্রায় প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। এই চরম তাপমাত্রা কেবল অস্বস্তি নয় বরং প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। হিট স্ট্রোক ডিহাইড্রেশন এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক তাদের পক্ষে বাইরে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হলেও জীবিকার তাগিদে বহু মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

শহুরে জীবন এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ শহরগুলোতে কংক্রিটের দালান এবং গাছপালা কম থাকার কারণে হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ শহরের তাপমাত্রা আশেপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকছে। এসি এবং ফ্রিজের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে শহরে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে যা একটি দুষ্টচক্র তৈরি করছে। একদিকে গরম বাড়ছে অন্যদিকে আমরা সেই গরম কমাতে যন্ত্র ব্যবহার করছি যা পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করছে। শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে যার ফলে অনেক বড় বড় আবাসন কমপ্লেক্সে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বন্যপ্রাণী ও বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি মানুষের পাশাপাশি এই প্রতিকূল আবহাওয়ার শিকার হচ্ছে পশুপাখি এবং বন্যপ্রাণীরাও। জঙ্গলের প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বাঘ হরিণ এবং হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত বাড়ছে। উত্তরাখণ্ডের মতো পাহাড়ী অঞ্চলে বনের শুকিয়ে যাওয়া লতাপাতায় সামান্য ঘর্ষণে ভয়াবহ দাবানল সৃষ্টি হচ্ছে। এই অগ্নিকাণ্ডে যেমন অমূল্য বনজ সম্পদ নষ্ট হচ্ছে তেমনি বাতাসে কার্বনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলছে।

বিদ্যুৎ সংকটের নতুন মাত্রা তীব্র গরমে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত পানির অভাবে ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্প খাতও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে পরিবেশের একটি ছোট্ট পরিবর্তন কীভাবে গোটা দেশের প্রতিটি ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।

ভবিষ্যতের জন্য করণীয় ও প্রস্তুতি সুপার এল নিনোর মতো মহাপ্রলয় থেকে বাঁচার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই পরিকল্পনা করতে হবে। প্রথমত পানির অপচয় বন্ধ করতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি বাড়িতে এবং সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে। কৃষিকাজে ড্রিপ ইরিগেশন বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে যাতে কম পানিতে বেশি ফসল ফলানো যায়। বন উজাড় বন্ধ করে বিপুল পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে যা মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে। নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌর বিদ্যুৎ এবং বায়ু বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে যাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো যায়।

উপসংহার ২০২৬ সালের সুপার এল নিনো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরা প্রকৃতির ওপর কতটা নির্ভরশীল। প্রকৃতির সাথে লড়াই করে নয় বরং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলাই আমাদের আগামীর পথ হওয়া উচিত। এবারের এই খরা এবং তাপপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি আমরা আজই সচেতন না হই তবে আগামী প্রজন্মের জন্য এক বাস অযোগ্য পৃথিবী রেখে যাব। পরিবেশ রক্ষা এখন আর কেবল বিজ্ঞানীদের কাজ নয় এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সঠিক পদক্ষেপ এবং সচেতনতাই পারে ভারতকে এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করতে। পরিবেশ সচেতনতাই হোক আমাদের আগামীর মূলমন্ত্র।

Preview image