Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়ল, লোকাল ট্রেন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?

দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং পরিষেবা উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই এই ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসি, স্লিপার ও চেয়ার কারসহ প্রায় সব ধরনের দূরপাল্লার ট্রেনেই এই বাড়তি ভাড়া কার্যকর হয়েছে, যার প্রভাব পড়বে নিয়মিত যাতায়াতকারী ও দীর্ঘপথের যাত্রীদের ওপর। তবে দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়লেও লোকাল ট্রেন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। লোকাল ট্রেন মূলত অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান ভরসা। তাই এই ট্রেনগুলোর ভাড়ায় যেকোনো পরিবর্তন অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, আপাতত লোকাল ট্রেনের ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার দিকেই ঝোঁক রয়েছে। রেল সূত্রের মতে, লোকাল ট্রেন সামাজিক পরিষেবার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ কম খরচে যাতায়াত করতে এই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়ে যাবে, যা রেল কর্তৃপক্ষ এড়াতে চাইছে। সেই কারণেই দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেনের ভাড়ার ক্ষেত্রে আলাদা নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়ল, লোকাল ট্রেন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?
জাতীয় খবর

দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রেল যোগাযোগ দেশের পরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্ভর করে তাদের কাজ, পড়াশোনা, ব্যবসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে। সেই কারণে ট্রেনের ভাড়ায় যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়লেও লোকাল ট্রেন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা জানার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রেল অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, নতুন কোচ সংযোজন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার জন্য খরচ অনেকটাই বেড়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতেই দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়ায় সমন্বয় করা হয়েছে। এসি কোচ, স্লিপার, থার্ড এসি, চেয়ার কারসহ বিভিন্ন শ্রেণির টিকিটেই এই ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। ফলে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত করা যাত্রীদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়ছে।

তবে দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি উঠেছে, তা হলো লোকাল ট্রেনের ভবিষ্যৎ ভাড়া নিয়ে। লোকাল ট্রেন শুধু একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, বরং শহর ও শহরতলির মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসযাত্রী, কারখানার শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রতিদিন লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করেন। কম খরচে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য লোকাল ট্রেনই তাদের প্রধান ভরসা। সেই কারণে লোকাল ট্রেনের ভাড়ায় সামান্য পরিবর্তনও লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

রেল সূত্রে জানা গেছে, লোকাল ট্রেনকে মূলত সামাজিক পরিষেবা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ট্রেনগুলো লাভের জন্য চালানো হয় না, বরং সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে। শহরের যানজট কমানো, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও লোকাল ট্রেনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়লেও লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রয়োগ করা হবে না বলে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

যাত্রী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই বিষয়ে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষ এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ে চাপে রয়েছে। এর মধ্যে যদি লোকাল ট্রেনের ভাড়াও বাড়ানো হয়, তাহলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবন চালানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে। অনেক যাত্রী সংগঠন ইতিমধ্যেই রেল মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে লোকাল ট্রেনের ভাড়া যেন অপরিবর্তিত রাখা হয়।

অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষের বাস্তব সমস্যাও অস্বীকার করার উপায় নেই। লোকাল ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিপুল ব্যয় হয়। কোচের রক্ষণাবেক্ষণ, লাইন মেরামত, সিগন্যাল ব্যবস্থা উন্নত করা, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রেই লোকাল ট্রেন পরিচালনা করে রেল আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য দূরপাল্লার ট্রেন থেকে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বর্তমানে রেলের পক্ষ থেকে যে ইঙ্গিত মিলছে, তাতে আপাতত লোকাল ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেই। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থনৈতিক অবস্থা, যাত্রীসংখ্যা, পরিষেবার মান এবং সার্বিক সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ এটাও স্পষ্ট করেছে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাত্রীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

news image
আরও খবর

লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে এই মুহূর্তে একদিকে স্বস্তি থাকলেও অন্যদিকে উদ্বেগও রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়ার পর একসময় লোকাল ট্রেনের ভাড়াও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে যেখানে প্রতিদিন যাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি, সেখানে পরিষেবা উন্নয়নের নামে ভবিষ্যতে ভাড়া বাড়ানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আবার অনেক যাত্রী আশাবাদী যে সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের কথা ভেবে লোকাল ট্রেনের ভাড়া দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত রাখবে।                                                                                                                                            

যাত্রী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও লোকাল ট্রেনের ভাড়া না বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রে যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে বেশি খরচ বহন করতে সক্ষম হলেও লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। অনেক সংগঠন ইতিমধ্যেই রেল মন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছে, যেন লোকাল ট্রেনের ভাড়া অন্তত কিছু সময়ের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়।                                                                                                                                                       

রেল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, লোকাল ট্রেনকে এখনও সামাজিক পরিষেবা হিসেবেই দেখা হয়। এই পরিষেবার মূল উদ্দেশ্য লাভ করা নয়, বরং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য লোকাল ট্রেনের ভাড়া দীর্ঘদিন ধরেই সহনীয় রাখা হয়েছে। বড় শহরগুলিতে যানজট কমানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও লোকাল ট্রেনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেই কারণেই দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়লেও লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষ এটাও জানিয়েছে যে ভবিষ্যতে পরিষেবা উন্নয়ন, নতুন কোচ সংযোজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সময়ানুবর্তিতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে লোকাল ট্রেনের ভাড়া নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাত্রীদের স্বার্থ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক প্রভাব সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছ.

 দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি ইতিমধ্যেই কার্যকর হলেও লোকাল ট্রেন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সাধারণ যাত্রীরা আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও ভবিষ্যতে কী হয়, সেদিকে নজর রাখছে সবাই। রেল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে যাত্রী মহল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেনের ভাড়া নীতিতে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। দূরপাল্লার যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পান এবং তাদের যাত্রা মাঝে মাঝে হয়, ফলে কিছুটা বেশি ভাড়া দেওয়া সম্ভব। কিন্তু লোকাল ট্রেনের যাত্রীরা প্রায় প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তাদের ক্ষেত্রে মাসিক বা দৈনিক খরচ সামান্য বাড়লেও তার প্রভাব অনেক বেশি পড়ে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি রেলের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর একটি পদক্ষেপ হলেও লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে এখনো সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষের জীবনে লোকাল ট্রেনের গুরুত্ব অপরিসীম, তা রেল প্রশাসনও ভালোভাবেই জানে। তাই এই মুহূর্তে লোকাল ট্রেন নিয়ে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া এবং সার্বিক সামাজিক প্রভাবের ওপর। যাত্রীমহল এখন রেল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছে, এই আশায় যে লোকাল ট্রেন তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাশ্রয়ী ভরসা হিসেবেই বজায় থাকবে।

Preview image