Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জন্মদিনে সিঙ্গল ঘোষণা! তবে কি নতুন প্রেমের ইঙ্গিত দিলেন ঊষসী?

এই বছরেও কি সিঙ্গল ঊষসী? নাকি জীবনে এসেছে বিশেষ কেউ? জন্মদিনে সম্পর্কের প্রশ্ন উঠতেই কিছুটা লাজুক হাসিতে রহস্যময় উত্তর দিলেন অভিনেত্রী ইঙ্গিতেই কি লুকিয়ে নতুন প্রেমের খবর?

জন্মদিনে সিঙ্গল ঘোষণা! তবে কি নতুন প্রেমের ইঙ্গিত দিলেন ঊষসী?
বিনোদন

১৭ ফেব্রুয়ারি মানেই বিশেষ দিন—অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী-র জন্মদিন। বয়স বাড়া নিয়ে যেখানে অনেকেই অস্বস্তিতে ভোগেন, সেখানে ঊষসীর ভাবনাটা একেবারেই আলাদা। তাঁর কথায়, বয়স বাড়া মানেই পিছিয়ে পড়া নয়; বরং প্রতিটি বছর যেন তাঁকে আরও হালকা, আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। “যত দিন যাচ্ছে, বয়স ততই কমছে”—এই বিশ্বাসেই তিনি উদ্‌যাপন করেন নিজের জন্মদিন।

জন্মদিন মানেই তাঁর কাছে আনন্দ, কাছের মানুষদের ভিড়, গল্প-আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা। বড় কোনও জাঁকজমক নয়, বরং ঘরোয়া উষ্ণতা—এই সরল পরিকল্পনাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি টানে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। বাড়িতেই ছোট করে আয়োজন, প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো—এই ছিল তাঁর ইচ্ছে।

তবে জন্মদিনের আড্ডায় একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে—এই বছরেও কি তিনি ‘সিঙ্গল’? নাকি জীবনে এসেছে বিশেষ কেউ? প্রশ্ন শুনে কিছুটা লাজুক হাসি। সরাসরি হ্যাঁ বা না না বলে ঊষসীর উত্তর, “বন্ধুত্ব তো হতেই থাকে। সেটা কোন দিকে যাবে তো জানি না।” এই একবাক্যেই যেন রহস্য রেখে দিলেন তিনি।

বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা আর সম্পর্কের দোলাচল

ঊষসী স্পষ্ট জানালেন, এই মুহূর্তে তিনি কোনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকতে চান না। “আমি একটু কমিটমেন্ট ফোবিক,”—স্বীকারোক্তিতে কোনও রাখঢাক নেই। তাঁর মতে, একটি দীর্ঘ সম্পর্কের অভিজ্ঞতার পর নিজেকে আবার নতুন করে গুছিয়ে নিতে সময় দরকার। প্রায় দশ বছর একটি সম্পর্কে থাকার পর এখন তিনি নিজেকে স্বাধীনভাবে দেখতে চান।

সম্পর্ক তাঁর কাছে অমূল্য—কিন্তু সেটি যেন কখনও শৃঙ্খল না হয়ে যায়। “কমিটেড হয়ে গেলে জীবন থেকে মজাগুলো চলে যায়”—এই কথায় বোঝা যায়, তিনি এখন নিজের সময়, নিজের পরিসর, নিজের আনন্দকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একা থাকার মধ্যেও যে এক ধরনের মুক্তি আছে, সেটাই উপভোগ করছেন তিনি।

তিনি মনে করেন, আমাদের সমাজে এখনও মেয়েদের ক্ষেত্রে ‘কমিটেড’ থাকা বা সংসার করা যেন এক ধরনের প্রত্যাশা। বিশেষ করে পরিচিত মুখ হলে সেই কৌতূহল আরও বেশি। কিন্তু ঊষসী সেই সামাজিক চাপকে নিজের জীবনের মাপকাঠি বানাতে চান না। তাঁর কাছে সম্পর্ক মানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বস্তি আর সমান স্বাধীনতা। যদি কখনও মনে হয় সেই ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তবে সেখান থেকে সরে আসাই শ্রেয়।

বন্ধুত্ব তাঁর কাছে এখনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রেমের দিকে গড়াতে পারে, আবার নাও পারে—এই অনিশ্চয়তাকে তিনি ভয় পান না। বরং এই অনির্ধারিত অবস্থাতেই স্বস্তি খুঁজে পান। কারণ তাঁর বিশ্বাস, কোনও সম্পর্ককে জোর করে নাম দেওয়ার চেয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

নিজের জন্য উপহার: আত্মভালবাসার চর্চা

জন্মদিন মানেই উপহার—তবে অন্যের থেকে পাওয়ার চেয়ে নিজেকে কিছু দেওয়ার আনন্দটাই যেন বেশি। এ বছর নিজেকেই কয়েকটি নতুন পোশাক উপহার দিয়েছেন ঊষসী। পাশাপাশি ভাবছেন একটি আইপ্যাড কেনার কথাও। কাজের প্রয়োজন, ব্যক্তিগত পছন্দ—দুটো মিলিয়েই এই পরিকল্পনা।

অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের নানা সৃজনশীল কাজেও সময় দিতে চান তিনি। স্ক্রিপ্ট পড়া, নোট নেওয়া, নতুন কিছু শেখা—এই সবকিছুর জন্যই প্রযুক্তির সাহায্য প্রয়োজন। তাই আইপ্যাড কেনার পরিকল্পনাটা নিছক বিলাসিতা নয়, বরং নিজের কাজে বিনিয়োগ।

নিজেকে ভালবাসার এই অভ্যাসটাই তাঁকে আলাদা করে। অনেক সময় আমরা অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছেগুলোকে ভুলে যাই। কিন্তু ঊষসী সেই পথে হাঁটতে চান না। তাঁর কাছে আত্মসম্মান ও আত্মভালবাসা—দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, নিজেকে যত বেশি যত্নে রাখা যায়, ততই সম্পর্কগুলোও সুস্থ থাকে।

বয়স নিয়ে আলাদা দর্শন

“আমি বুড়িয়ে যেতে চাই না। মন থেকে সতেজ থাকতে চাই।” বয়সকে তিনি কেবল একটি সংখ্যা হিসেবে দেখেন। মানসিক তারুণ্যটাই আসল—এই বিশ্বাস তাঁর কথায় বারবার উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অনেক কিছু শিখে। ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, সম্পর্কের মূল্য বোঝে, নিজেকে চিনতে শেখে। তাই বয়সকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং প্রতিটি বছর নতুন উপলব্ধি নিয়ে আসে।

ঊষসীর মতে, নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম—এই সবকিছুর পাশাপাশি প্রয়োজন ইতিবাচক মানসিকতা। কারণ মন যদি ক্লান্ত হয়ে যায়, তা হলে বাইরের সাজগোজ কোনও কাজে আসে না।

আবেগের জায়গা: বাবাকে মনে পড়ে

জন্মদিন এলেই বাবাকে খুব মনে পড়ে তাঁর। শৈশবের সেই ছোট ছোট মুহূর্ত—কেক কাটা, উপহার পাওয়া, পরিবারের একসঙ্গে বসে খাওয়া—সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বাবার অনুপস্থিতি এই দিনে খানিকটা শূন্যতা তৈরি করে।

news image
আরও খবর

ছোটবেলার এক প্রিয় বন্ধুর সঙ্গেও এখন আর যোগাযোগ নেই—তাকেও মনে পড়ে। সময়ের স্রোতে অনেক সম্পর্ক বদলে যায়, দূরে সরে যায়। কিন্তু স্মৃতিগুলো থেকে যায়।

এই ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলোই তাঁকে মাটির কাছাকাছি রাখে। তারকাখ্যাতির আড়ালে যে একজন সাধারণ মানুষ লুকিয়ে থাকেন, তাঁর অনুভূতি, শূন্যতা, আনন্দ—সবটাই যে একেবারে বাস্তব, সেটাই বোঝা যায় তাঁর কথায়।

পেশা ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য

একজন পরিচিত মুখ হওয়ার কারণে ব্যক্তিজীবন নিয়ে কৌতূহল থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঊষসী মনে করেন, কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। অভিনয় তাঁর পেশা, কিন্তু সম্পর্ক তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর।

তিনি বলেন, দর্শকের ভালবাসাই তাঁকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু সেই ভালবাসার মাঝেও নিজের ব্যক্তিগত জায়গাটা অটুট রাখা দরকার। কারণ একজন শিল্পীও প্রথমে একজন মানুষ।

পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি চেষ্টা করেন পরিবার ও বন্ধুদের জন্য সময় বের করতে। কারণ এই সম্পর্কগুলিই তাঁকে মানসিক শক্তি দেয়।

‘সিঙ্গল’ নাকি নতুন প্রেম?

সবশেষে আবার সেই প্রশ্ন—তিনি কি সিঙ্গল? নাকি জীবনে এসেছে নতুন কেউ? ঊষসী সরাসরি কিছু বলেননি। বন্ধুত্ব আছে, আলাপ আছে, সময় কাটানো আছে—কিন্তু তাকে এখনও কোনও নির্দিষ্ট নাম দিতে নারাজ তিনি।

এই অনিশ্চয়তাই হয়তো তাঁর কাছে রোমাঞ্চকর। সম্পর্কের চাপ নয়, প্রত্যাশার বোঝা নয়—বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগোনোর ইচ্ছে। তিনি যেন বলছেন, প্রেম এলে আসবে নিজের মতো করেই। তাকে টেনে আনা যায় না, আবার দূরেও ঠেলে দেওয়া যায় না।

ভবিষ্যৎ ভাবনা: নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা

জন্মদিন মানেই শুধু কেক কাটা নয়, নিজের সঙ্গে একটু একান্তে কথা বলা। গত এক বছরের সাফল্য, ব্যর্থতা, শেখা আর না-পারা—সব কিছুর হিসেবনিকেশ করারও সময় এটি। ঊষসীর কথায়, তিনি এখন নিজের কাজ নিয়ে আরও বেশি মনোযোগী হতে চান। নতুন চরিত্র, নতুন চ্যালেঞ্জ—এই সবকিছুই তাঁকে টানে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন তিনি। বরং সময়কে সময় দিতে চান। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক মানুষ, সঠিক সম্পর্ক—সবকিছুই ঠিক সময়ে আসে। তাকে খুঁজে বেড়াতে হয় না, তাকে তৈরি করতে হয় না; বরং নিজের মতো থাকলেই তা একসময় সামনে এসে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, একা থাকার সময়টাই মানুষকে সবচেয়ে বেশি শেখায়। নিজের শক্তি, দুর্বলতা, পছন্দ-অপছন্দ—সবকিছু স্পষ্ট হয় এই সময়েই। তাই এই ‘সিঙ্গল’ অধ্যায়কে তিনি কোনও শূন্যতা হিসেবে দেখেন না, বরং একে দেখেন আত্মঅন্বেষণের সময় হিসেবে।

জন্মদিনের আসল মানে: নিজের মতো বাঁচা

শেষ পর্যন্ত জন্মদিন তাঁর কাছে কোনও সম্পর্কের ঘোষণা নয়, বরং জীবনের উদ্‌যাপন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজের জন্য ছোট ছোট পরিকল্পনা, পুরনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন দিনের মেলবন্ধন—এই নিয়েই তাঁর আনন্দ।

এ বছরও তাই ‘কমিটেড সম্পর্ক’-এর ঘোষণা নয়, বরং স্বাধীনতার উৎসব। বন্ধুত্বের সম্ভাবনা খোলা রাখলেও আপাতত নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান ঊষসী।

জন্মদিনের আলোয় তাই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন—জীবন একটাই, সেটাকে নিজের মতো করে উপভোগ করাই আসল। সম্পর্ক থাকবে, বন্ধুত্ব থাকবে, আবেগ থাকবে—কিন্তু সব কিছুর আগে নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্কটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মনের মানুষ রয়েছেন কি না, তা সময়ই বলবে। আপাতত তিনি ‘সিঙ্গল’, কিন্তু একা নন—কারণ নিজের সঙ্গেই তিনি সম্পূর্ণ।    

Preview image