Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে বিশাল সাফাই অভিযান বিচারব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষায় এবং পরিবেশ দূষণ রোধে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

উনত্রিশে মে বিশ ছাব্বিশ পশ্চিমবঙ্গের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ পীঠস্থান কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে আজ এক অভাবনীয় এবং বিশাল সাফাই অভিযান পরিচালিত হলো দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনা এবং পান গুটখার দাগ পরিষ্কার করে আদালত চত্বরকে এক নতুন এবং পরিচ্ছন্ন রূপ দেওয়ার এই উদ্যোগে স্বয়ং বিচারপতি আইনজীবী এবং পুরসভার কর্মীরা একযোগে অংশগ্রহণ করেন পরিবেশ রক্ষা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার এই কড়া বার্তা সমগ্র রাজ্যের অন্যান্য আদালত এবং সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে এক বিশাল বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে  

Environment & Geoscience

কলকাতা উনত্রিশে মে বিশ ছাব্বিশ

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী এবং তিলোত্তমা মহানগরী কলকাতার বুকে অবস্থিত কলকাতা হাইকোর্ট হলো দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী এক বিচারালয় যার ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্যগত গুরুত্ব অপরিসীম প্রতিদিন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের আইনি লড়াই লড়তে এবং ন্যায়বিচারের আশায় এই আদালতের দ্বারস্থ হন একটি গণতান্ত্রিক দেশের বিচারব্যবস্থা হলো সমাজের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক স্থান যেখানে মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষার শেষ আশ্রয় খুঁজে পান কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যে স্থানটি মানসিক এবং আইনি দিক থেকে এতটা পবিত্র সেই স্থানের বাহ্যিক পরিবেশ গত কয়েক দশক ধরে চরম অবহেলা এবং দূষণের শিকার হয়ে আসছিল আদালত চত্বরের যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা পানের পিক ফেলে ঐতিহাসিক লাল ইটের দেওয়াল নোংরা করা এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ হাইকোর্টের পরিবেশকে এক অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং দৃষ্টিকটু স্থানে পরিণত করেছিল কিন্তু আজ উনত্রিশে মে বিশ ছাব্বিশ তারিখটি কলকাতা হাইকোর্টের ইতিহাসে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে আজ সকাল থেকে সমগ্র আদালত চত্বর এবং তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে এক সুবিশাল এবং ঐতিহাসিক সাফাই অভিযান যা কেবল আদালত প্রাঙ্গণকে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নয় বরং এটি হলো নাগরিক সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার এক বিশাল সামাজিক আন্দোলন

এই বিশাল সাফাই অভিযানের সূচনা হয় আজ সকাল ঠিক আটটা নাগাদ যখন আদালতের স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা শুরু হয়নি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এবং অন্যান্য বরিষ্ঠ বিচারপতিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক স্বচ্ছতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় দেশের বিচারব্যবস্থার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন নিজেদের হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়ে আদালত চত্বর পরিষ্কার করার কাজে এগিয়ে আসেন তখন তা উপস্থিত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এবং আইনজীবীদের মনে এক বিশাল শ্রদ্ধার জন্ম দেয় বিচারপতিরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বার্তা দেন যে পরিচ্ছন্নতা কেবল পুরসভার কর্মীদের দায়িত্ব নয় এটি সমাজের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য আমরা যদি নিজেদের কাজের জায়গা এবং চারপাশের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখতে না পারি তবে আমরা কোনোভাবেই একটি সুস্থ এবং উন্নত সমাজ গঠন করতে পারব না তাদের এই অনুপ্রেরণামূলক কথার পর কলকাতা পুরসভার বিশাল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং আদালতের শত শত আইনজীবী একযোগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েন

এই সাফাই অভিযানের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক হেরিটেজ ভবনটিকে তার পুরোনো এবং স্বকীয় রূপে ফিরিয়ে দেওয়া ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই সুবিশাল লাল ইটের ভবনটি গথিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষের অবিবেচকের মতো আচরণের ফলে এই ভবনের সুন্দর দেওয়াল এবং স্তম্ভগুলো পান এবং গুটখার লাল দাগে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে গিয়েছিল পুরসভার কর্মীরা আজ অত্যন্ত আধুনিক স্প্রে মেশিন এবং বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে দেওয়ালের সেই জেদি দাগগুলো পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে জল দিয়ে ধুয়ে এবং ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে ঐতিহাসিক স্তম্ভগুলোকে তাদের আসল রঙে ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে প্রশাসন অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে এরপর থেকে যদি কোনো ব্যক্তিকে আদালত চত্বরে পান বা গুটখা খেয়ে পিক ফেলতে দেখা যায় তবে তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হবে

আদালত চত্বরের পরিবেশ নষ্ট করার পেছনে আরেকটি অত্যন্ত বড় কারণ হলো যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা বেআইনি প্লাস্টিকের ত্রিপল খাটানো খাবারের দোকান এবং চায়ের স্টল প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে এই দোকানগুলো তৈরি হলেও এরা পরিবেশের প্রতি বিন্দুমাত্র যত্নশীল নয় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাপ শালপাতার থালা এবং উচ্ছিষ্ট খাবার সরাসরি ড্রেনে বা রাস্তার ধারে ফেলে রাখার কারণে আদালত চত্বরের নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিল সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেন উপচে নোংরা জল রাস্তায় চলে আসত এবং এক চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হতো আজকের এই সাফাই অভিযানে এই সমস্ত অস্থায়ী দোকানদারদের অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে পুরসভার তরফ থেকে প্রতিটি দোকানের সামনে বড় বড় ডাস্টবিন বা আবর্জনা ফেলার পাত্র বসানো হয়েছে এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কোনোভাবেই যেন প্লাস্টিক বা ময়লা রাস্তায় ফেলা না হয় যে সমস্ত দোকানদার এই নিয়ম অমান্য করবেন তাদের দোকান তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেওয়ার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কলকাতা পুলিশের এক বিশাল বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তারা আদালত চত্বরের চারপাশের রাস্তাগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করেছেন হাইকোর্টের সামনের রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি এবং মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখার ফলে সাধারণ পথচারীদের হাঁটার কোনো জায়গা অবশিষ্ট ছিল না এবং সারাদিন এক চরম যানজট লেগে থাকত পুলিশ আজ ক্রেন দিয়ে সেই সমস্ত বেআইনিভাবে পার্ক করা গাড়ি সরিয়ে রাস্তা সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দিয়েছে যার ফলে আদালত চত্বরের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে প্রশাসন যদি সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করে তবে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে অত্যন্ত দ্রুত শৃঙ্খলায় পরিণত করা সম্ভব

এই সাফাই অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ বিচারপ্রার্থী এবং আইনজীবীদের সচেতন করার জন্য এক বিশাল প্রচার অভিযানও চালানো হয়েছে আদালত চত্বরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় বড় হোর্ডিং এবং ব্যানার লাগানো হয়েছে যেখানে পরিবেশ রক্ষার বার্তা লেখা রয়েছে মাইকিং করে ক্রমাগত ঘোষণা করা হচ্ছে যে প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং যত্রতত্র ময়লা ফেললে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে অনেক তরুণ আইনজীবী এবং আইনের ছাত্রছাত্রীরা আজ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এই প্রচার অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন তারা সাধারণ মানুষদের কাছে গিয়ে অত্যন্ত বিনম্রভাবে বোঝাচ্ছেন যে এই আদালত তাদের নিজেদের সম্পত্তি এবং একে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাদের নিজেদের এই তরুণ প্রজন্ম যারা সমাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন তারা বুঝতে পারছেন যে একটি সুন্দর পরিবেশ ছাড়া কোনো সুস্থ আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করা সম্ভব নয় তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই সাফাই অভিযানকে এক বিশাল সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছে

বিচারব্যবস্থার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল জায়গায় যেখানে মানুষ চরম মানসিক চাপ এবং উৎকণ্ঠা নিয়ে আসেন সেখানে চারপাশের পরিবেশের এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব থাকে পরিবেশবিদ এবং মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে একটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সবুজ পরিবেশ মানুষের মনের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয় এবং তাদের শান্ত থাকতে সাহায্য করে হাইকোর্ট চত্বর যদি আবর্জনা এবং দুর্গন্ধ মুক্ত থাকে তবে তা বিচারপ্রার্থী এবং আইনজীবী উভয়ের জন্যই এক অত্যন্ত ইতিবাচক কাজের পরিবেশ তৈরি করবে এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজকের সাফাই অভিযানের পর আদালত চত্বরে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কলকাতা পুরসভা এবং বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে টবে করে বিভিন্ন রকম বাহারি গাছ এবং ছায়াবৃক্ষ আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হচ্ছে যা এই কংক্রিটের জঙ্গলের মাঝে এক টুকরো সবুজের ছোঁয়া এনে দেবে

news image
আরও খবর

আইনি দিক থেকে বিচার করলে পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগ সংবিধানের একুশ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকারের সাথে সরাসরি যুক্ত সুপ্রিম কোর্ট এবং ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল বা এনজিটি একাধিক রায়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে একটি দূষণমুক্ত এবং পরিষ্কার পরিবেশে বসবাস করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার আর সেই অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খোদ আদালত প্রাঙ্গণকেই সবচেয়ে বড় উদাহরণ তৈরি করতে হবে আজ কলকাতা হাইকোর্ট সেই উদাহরণই তৈরি করল যা আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলা আদালত এবং মহকুমা আদালতের কাছে এক বিশাল বড় মডেল হিসেবে কাজ করবে প্রশাসন চাইছে এই পরিচ্ছন্নতার বার্তা যেন কেবল হাইকোর্টের গণ্ডিতে আটকে না থাকে বরং তা রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দপ্তর হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফাই অভিযানকে আরও অনেক বেশি কার্যকরী এবং বিজ্ঞানসম্মত করে তুলেছে কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে আদালত চত্বরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য এখন থেকে জিও ট্যাগিং যুক্ত একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে যদি কোনো নাগরিক আদালত চত্বরে কোথাও আবর্জনা জমে থাকতে দেখেন তবে তিনি ওই অ্যাপের মাধ্যমে ছবি তুলে সরাসরি পুরসভার কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে পারবেন ছবি পাঠানোর সাথে সাথেই সেই জায়গার নির্দিষ্ট লোকেশন পুরসভার কাছে পৌঁছে যাবে এবং পুরসভার বিশেষ দল অত্যন্ত দ্রুত সেখানে গিয়ে সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে দেবে এই প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা প্রশাসনকে অনেক বেশি সক্রিয় এবং দায়বদ্ধ করে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন

এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মানবিক দিক হলো মহিলাদের এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য উন্নত মানের শৌচালয় বা টয়লেট নির্মাণ প্রতিদিন যে বিপুল সংখ্যক মানুষ হাইকোর্টে আসেন তাদের মধ্যে প্রচুর মহিলা বিচারপ্রার্থী এবং আইনজীবী থাকেন কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে আদালত চত্বরে পর্যাপ্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয়ের অভাবে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো অপরিষ্কার শৌচালয়ের কারণে অনেক সময় তাদের নানা রকম শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো আজকের এই সাফাই অভিযানের অঙ্গ হিসেবে আদালত চত্বরের সমস্ত শৌচালয়গুলোকে অত্যন্ত আধুনিক রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি নতুন বায়ো টয়লেট বসানোর কাজ শুরু হয়েছে মহিলাদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ এক অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ যা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মনে এক বিশাল স্বস্তির জন্ম দিয়েছে

এই বিশাল সাফাই অভিযানের খবর আধুনিক ডিজিটাল যুগে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সমগ্র রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলোতে আজ সকাল থেকেই হাইকোর্ট চত্বর পরিষ্কার করার ছবি এবং ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে নেটিজেনরা বিচারপতি এবং আইনজীবীদের এই উদ্যোগের তীব্র প্রশংসা করে লিখছেন যে যারা সমাজকে আইন শেখান তারা আজ নিজেদের হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়ে সমাজের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন যা সত্যিই এক অভাবনীয় দৃশ্য অনেকেই দাবি করছেন যে এই অভিযান যেন কেবল একটি দিনের ফটো অপ বা ছবি তোলার ইভেন্ট হয়ে না থাকে এটিকে একটি ধারাবাহিক এবং নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত করতে হবে তবেই এই পরিচ্ছন্নতা দীর্ঘস্থায়ী হবে

সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ আজ এই সাফাই অভিযানের প্রতি নিজেদের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ যারা বিভিন্ন কাজে সরকারি অফিসগুলোতে যান তারা অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন সেই অফিসগুলোর নোংরা পরিবেশ দেখে হাইকোর্টের আজকের এই রূপান্তর তাদের মনে আশা জাগিয়েছে যে হয়তো এবার অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলোও নড়েচড়ে বসবে এবং নিজেদের অফিস চত্বর পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন কেবল তার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না সেই দেশের মানুষের সিভিক সেন্স বা নাগরিক সচেতনতা কতটা তার ওপরেই নির্ভর করে একটি সভ্য সমাজের আসল পরিচয় আমরা যদি ইউরোপ বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই তবে দেখতে পাব যে সেখানে মানুষ যত্রতত্র থুতু ফেলে না বা আবর্জনা ছড়ায় না আমাদের দেশকেও যদি সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হয় তবে প্রতিটি নাগরিককে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে

কলকাতা হাইকোর্টের এই সাফাই অভিযান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কোনো বড় পরিবর্তনের শুরুটা নিজেদের ঘর থেকেই করতে হয় বিচারব্যবস্থা সমাজকে পথ দেখায় আজ হাইকোর্ট পরিচ্ছন্নতার পথ দেখিয়ে সমগ্র রাজ্যকে এক বিশাল বড় বার্তা দিল আগামী দিনে যখন কোনো সাধারণ মানুষ হাইকোর্টে আসবেন তখন তার মনে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হবে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তাকে আইন এবং প্রশাসনের প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল করে তুলবে পাশাপাশি যে সমস্ত কর্মীরা দিনের পর দিন এই আদালত চত্বরে কাজ করেন তাদের স্বাস্থ্যেরও ব্যাপক উন্নতি ঘটবে দূষণমুক্ত পরিবেশে কাজ করার ফলে তাদের কাজের মান এবং দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে

পরিশেষে এটা অত্যন্ত গর্বের এবং স্বস্তির সাথে বলতে হচ্ছে যে উনত্রিশে মে তারিখের আজকের এই কোর্ট চত্বর সাফাই অভিযান কলকাতা হাইকোর্ট তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সচেতনতার ইতিহাসে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে যে আদালত প্রাঙ্গণ একদিন জঞ্জাল এবং পানের পিকে অবরুদ্ধ ছিল আজ তা এক অত্যন্ত সুন্দর এবং পবিত্র স্থানে পরিণত হয়েছে এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা এবং একতা থাকলে যেকোনো কঠিন কাজ অত্যন্ত সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব আমরা লেন্সপেডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি আইনজীবী কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ প্রশাসনের এই ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই এবং আশা করি আগামী দিনেও পরিচ্ছন্নতার এই ধারা অব্যাহত থাকবে আসুন আমরা সবাই মিলে এক দূষণমুক্ত পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করি যেখানে আমাদের আগামী প্রজন্ম এক সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই বিশাল সাফাই অভিযানের লেটেস্ট ভিডিও ও ছবি দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায় পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক সচেতনতার পক্ষে আমাদের এই সংবাদ পরিবেশনা অবিরাম চলতে থাকবে

Preview image