"আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ শিশুদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়াচ্ছে।"
আজকাল শিশুদের দৈনন্দিন জীবনেই মোবাইল, ট্যাব বা কম্পিউটারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করা, ভিডিয়ো দেখা বা গেম খেলার অভ্যাস সাধারণ দৃশ্য হয়ে উঠেছে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে, খেতে বসে বা সফরে—সব সময়েই তারা এই অভ্যাসে ডুবে থাকে। অনেক সময় বড়রাও শিশুরা মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় নিশ্চিন্তে নিজের কাজ করছেন, কিন্তু এই অভ্যাসে শিশুদের স্বাস্থ্য বিপদে পড়ছে।
গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ শুধু স্থূলত্বের কারণ নয়, এটি শিশু ও কমবয়সিদের হার্টের রোগের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, ২ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুরা মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় কাটালে তাদের বিপাকপ্রক্রিয়া পরিবর্তিত হচ্ছে। শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বাড়ছে, কার্ডিয়োমেটাবলিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে, ফলে ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাতে মোবাইল ব্যবহার মেলাটোনিন হরমোনকে প্রভাবিত করছে, যা ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বিঘ্নিত করছে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকলে ঘুমের সমস্যা, চাপ, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৩–৪ ঘণ্টার বেশি মোবাইল ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে হাইপারটেনশন ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের গবেষণা বলছে, শিশুদের দৈনিক ৩ ঘণ্টার বেশি টিভি বা স্ক্রিন টাইম তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সমাধান ও পরামর্শ:
শিশুদের পড়াশোনা ও বিনোদনের সময় ভাগ করে দিতে হবে।
দৈনন্দিন শরীরচর্চা ও খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে—গল্প পড়া, অভিনয় বা ক্রিয়েটিভ অ্যাক্টিভিটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে।
সামাজিক মেলামেশার সুযোগ দিন—বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে খেলা, আঁকা বা লেখা শখ গড়ে তোলা।
দিনের নির্দিষ্ট সময়ে শিশুর সঙ্গে কথা বলুন, খেলুন ও মনোযোগ দিন, ফোনমুখী অভ্যাস কমাতে সাহায্য হবে।
গবেষকরা বলছেন, শিশুরা যখন শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় থাকবে, সামাজিক মেলামেশা করবে, এবং সঠিক পরিমাণে স্ক্রিন টাইম ব্যবহার করবে, তখন হৃদ্রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।