বিশ্ব ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। কিন্তু গত এক দশকে চীনের ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি যে গতিতে বেড়েছে, তা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। শুধু স্থানীয় বাজার নয়, চীনা ফার্মা আজ আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ব্যবসায়িক উত্থান নয় বরং চীন এখন বিশ্ব স্বাস্থ্যনীতির বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠছে। চীনের ফার্মা শিল্পের উত্থানের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, দেশীয় বিশাল বাজার এবং সরকারি ভর্তুকি চীনা ফার্মাকে শক্তিশালী করেছে। দ্বিতীয়ত, চীনা কোম্পানিগুলো আর শুধু জেনেরিক ওষুধ তৈরি করছে না তারা এখন তৈরি করছে উন্নত বায়োলজিক্স, ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা, ভ্যাকসিন, mRNA থেরাপি এবং AI-চালিত নতুন ড্রাগ মডেল। যেসব ওষুধ পশ্চিমা দেশে তৈরি হতে ৮–১০ বছর লাগে, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীন তা ৩–৫ বছরেই তৈরি করতে পারছে। এছাড়াও, WHO–এর অনুমোদন বা prequalification পাওয়ায় চীনা ফার্মার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। এর ফলে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখন সরকারি পর্যায়ে চীনা ওষুধ সরাসরি আমদানি করতে পারছে। পশ্চিমা ওষুধের তুলনায় চীনা ওষুধ সস্তা হওয়ায় আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ভারতের জন্য এই উত্থান নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। ভারত বহু বছর ধরে ‘ফার্মেসি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত এবং জেনেরিক বাজারে ভারতের জায়গা এখনো শক্ত। কিন্তু চীনের আক্রমণাত্মক মূল্যনীতি, সরকারি সহায়তা এবং দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। আগামী ৫–১০ বছর হবে ভারত–চীন ফার্মা প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্বজুড়ে অনেকেই যদিও চীনা ওষুধের গুণগত মান, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বাজার-নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তবুও চীনের গবেষণা, প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা যে নতুন যুগের সূচনা করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন আগামী দশকে বিশ্বের শীর্ষ তিন ফার্মা শক্তির একটি হয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিতে তাদের প্রভাব আরও বাড়বে। সুতরাং স্পষ্ট-চীনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এখন শুধুই বাজার দখলের পথে নয়, বরং বিশ্বের নতুন ফার্মা সুপার পাওয়ার হয়ে ওঠার দিকে দ্রুত এগোচ্ছে।
বিশ্ব ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আধিপত্য বজায় রয়েছে। কিন্তু গত এক দশকে ধীরে ধীরে একটি দেশের উত্থান চোখে পড়ছে—চীন। প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, ই-কমার্সের মতো সেক্টর দখল করার পর এবার চীন দ্রুতগতিতে উঠছে বিশ্ব ফার্মা মার্কেটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চীনা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, বরং আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বহু অঞ্চলে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা ফার্মা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা বিশ্ববাজারে “চীন বনাম পশ্চিমা ফার্মা”—এমন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে সক্ষম। একইসঙ্গে ভারত, যা বহু বছর ধরে ‘ফার্মেসি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসাবে পরিচিত, তাদের জন্যও এটি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ।
চীনের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প অনেক বছর ধরেই প্রচুর পরিমাণে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করে। দেশীয় বিশাল বাজার, সরকারি ভর্তুকি ও সস্তা শ্রমশক্তির কারণে চীনের ওষুধ সবসময়ই সস্তা এবং সহজলভ্য ছিল। কিন্তু বিশ্ববাজারে চীনা ওষুধ নিয়ে কিছু সন্দেহ ছিল—গুণগত মান, রেগুলেটরি মানদণ্ড পূরণ, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল—এসব প্রশ্ন ছিল বরাবরই।
এরপর গত কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু হয়।
চীনা কোম্পানিগুলো কেবল জেনেরিক নয়, এখন তৈরি করছে—
উন্নত বায়োলজিক্স
ক্যান্সারের আধুনিক ওষুধ
ভ্যাকসিন
mRNA প্রযুক্তিভিত্তিক চিকিৎসা
AI ভিত্তিক নতুন ড্রাগ মডেল
সরকারও গবেষণায় বিপুল বিনিয়োগ করছে। একটি সময় যেসব ওষুধ পশ্চিমা দেশে তৈরি হতো ৮–১০ বছরে, এখন চীনে তৈরি হচ্ছে মাত্র ৩–৫ বছরে। AI, বায়োটেক ও বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চীনের দ্রুত অগ্রগতি ফার্মা সেক্টরের উন্নতির মূল চালিকা শক্তি।
পশ্চিমা ফার্মার তুলনায় চীনা কোম্পানিগুলো অনেক সস্তায় ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম।
আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো—সবজায়গায় সস্তা চিকিৎসা একটি বড় চাহিদা। ফলে চীনা ওষুধ সেখানে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে বেশ কিছু চীনা ভ্যাকসিন ও বিশেষ ওষুধ WHO-এর প্রাক-যোগ্যতা (prequalification) পেয়েছে।
এটি চীনের জন্য বড় গেম–চেঞ্জার।
এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারও সরাসরি চীনা ওষুধ আমদানি করতে পারছে।
চীন তার ফার্মা শক্তিকে একটি স্ট্র্যাটেজিক টুল হিসেবে ব্যবহার করছে।
সরকার সরাসরি গবেষণায় অর্থ দিচ্ছে, সাপ্লাই চেইন তৈরি করছে, রপ্তানিতে ছাড় দিচ্ছে।
ফলে কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক বিস্তার সহজ হচ্ছে।
চীনে এখন সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে—
AI + Pharma
যার ফলে নতুন ওষুধ তৈরি হচ্ছে দ্রুত, কার্যকর এবং কম খরচে।
চীনের ওষুধ এখন যে অঞ্চলগুলোতে প্রবলভাবে গ্রহণযোগ্য:
আফ্রিকা
মধ্যপ্রাচ্য
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
ল্যাটিন আমেরিকা
পূর্ব ইউরোপ
বিশেষ করে আফ্রিকায় স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ঘাটতি চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
অনেক দেশ পশ্চিমা ওষুধের দাম বহন করতে পারে না—চীন সেই জায়গা দখল করছে।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক।
ভারতীয় ওষুধ বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জনপ্রিয়—
মানের জন্য
সাশ্রয়ী দামের জন্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিপুল অনুমোদনের জন্য
কিন্তু চীনের ওঠতি শক্তি ভারতের জন্য নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করছে।
শক্ত রেগুলেটরি নেটওয়ার্ক
GMP মানদণ্ড
উন্নত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ক্ষমতা
ব্র্যান্ড রেপুটেশন
সস্তা দাম
সরকারি ভর্তুকি
উৎপাদন ক্ষমতা
দ্রুত বিস্তার
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৫–১০ বছর ফার্মা সেক্টরে ভারত–চীন প্রতিযোগিতাই বিশ্ববাজারের চিত্র বদলে দেবে।
চীন শুধু অর্থনীতিতে নয়, স্বাস্থ্য–কূটনীতিতেও শক্তি বাড়াচ্ছে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো চীন এখন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তার করছে।
অনেক দেশ চীনের সাহায্যে হাসপাতাল নির্মাণ করছে, ওষুধ পাচ্ছে।
এতে পশ্চিমা দেশের উদ্বেগ বাড়ছে।
অনেক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন—
গুণগত মান সবসময় স্থিতিশীল থাকবে কি?
রাজনৈতিক প্রভাব কি স্বাস্থ্যনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে?
দেশগুলো চীনের উপর অতিরিক্ত নির্ভর হয়ে পড়বে কি?
এই প্রশ্নগুলো ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে—
চীন আগামী ১০ বছরে বিশ্বের শীর্ষ ৩ ফার্মা শক্তির একটি হয়ে উঠবে।
AI–চালিত বায়োটেক ক্ষেত্রে চীন নেতৃত্ব নেবে।
ভারত–চীন প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চীনের প্রভাব আরও বাড়বে।
চীনা ফার্মার এই উত্থান শুধু বাজারের পরিবর্তন নয়—এটি বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎকেও বদলে দেবে।
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বায়োটেক গ্রোথ হয়েছে চীনে। AI এবং বায়োলজির সমন্বয়ে চীনা ল্যাবগুলো এখন এমন ওষুধ তৈরি করছে, যা আগে কল্পনাতীত ছিল।
বহু আন্তর্জাতিক জার্নালে দেখা গেছে—
চীনের গবেষকরা ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপিতে বড় অগ্রগতি
জিন-থেরাপি সেগমেন্টে উল্লেখযোগ্য উন্নতি
বিরল রোগের ওষুধে নতুন গবেষণা
স্টেম সেল গবেষণায় ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্রের সমতুল্য অবস্থান
এর ফলে চীনা বায়োলজিক্স শীঘ্রই গ্লোবাল মার্কেটে বড় স্থান পেতে পারে।
চীনা কোম্পানির ব্যবসার মূল কৌশল হলো—
ওষুধের দাম কমানো
বড় পরিমাণে উৎপাদন করা
নতুন দেশে দ্রুত প্রবেশ করা
সরকারি পর্যায়ে চুক্তি করা
দেশভেদে বিশেষ মূল্যনীতি
একই ওষুধ পশ্চিমা বাজারে যেখানে ১০০ ডলার, চীনে তা ৩০–৪০ ডলারে পাওয়া যায়।
এটাই উন্নয়নশীল দেশের কাছে চীনা ওষুধকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
চীন এখন শুধু ওষুধ রপ্তানি করছে এমন নয়—তারা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রকল্পেও বিনিয়োগ করছে। আফ্রিকা থেকে ল্যাটিন আমেরিকার প্রত্যন্ত এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ, মোবাইল হেলথ ক্যাম্প, মেডিকেল ট্রেনিং—এসব কাজে চীনা উপদেষ্টা দল কাজ করছে। অনেক আন্তর্জাতিক গবেষকই বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে ধীরে ধীরে তাদের "গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভ" কমিয়েছে, সেই জায়গা দখল করছে চীন।
চীন বুঝে গেছে, স্বাস্থ্যসেবা একটি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল খাত। এই খাত দিয়ে সহজেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মজবুত করা যায়। এজন্য—
সাশ্রয়ী চিকিৎসা
দ্রুত ওষুধ সরবরাহ
ট্রেনিং প্রোগ্রাম
জরুরি স্বাস্থ্য সাহায্য
এগুলোকে চীন ব্যবহার করছে রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে।
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বায়োটেক গ্রোথ হয়েছে চীনে। AI এবং বায়োলজির সমন্বয়ে চীনা ল্যাবগুলো এখন এমন ওষুধ তৈরি করছে, যা আগে কল্পনাতীত ছিল।
বহু আন্তর্জাতিক জার্নালে দেখা গেছে—
চীনের গবেষকরা ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপিতে বড় অগ্রগতি
জিন-থেরাপি সেগমেন্টে উল্লেখযোগ্য উন্নতি
বিরল রোগের ওষুধে নতুন গবেষণা
স্টেম সেল গবেষণায় ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্রের সমতুল্য অবস্থান
এর ফলে চীনা বায়োলজিক্স শীঘ্রই গ্লোবাল মার্কেটে বড় স্থান পেতে পারে।
চীনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এখন আর শুধু স্থানীয় বাজারের উপর নির্ভরশীল নয়।
তারা বিশ্বের সামনে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করছে—
• গবেষণায়
• প্রযুক্তিতে
• উৎপাদনে
• আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে
ফলে চীন নিঃসন্দেহে বিশ্বের নতুন ফার্মা শক্তি হতে চলেছে।
চীনা ফার্মার উত্থান এখন আর থিয়োরি নয়, এটি বাস্তব।
বিশ্ব ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি এখন একটি বিশাল পরিবর্তনের পথে দাঁড়িয়ে আছে।
চীন, ভারত, পশ্চিমা দেশ—সবার মধ্যে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।
এই প্রতিযোগিতা বিশ্বস্বাস্থ্য, ওষুধের দাম, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।
চীন নিঃসন্দেহে আগামী দশকের ফার্মাসিউটিক্যাল সুপার পাওয়ারদের তালিকায় উঠে আসছে—
এবং এই পরিবর্তনের প্রভাব অনুভূত হবে পুরো বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থায়।