Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

৬৭ হাজার বছরের ‘অদৃশ্য’ গুহাচিত্রের সন্ধান, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পকর্মের দাবি প্রত্নতাত্ত্বিকদের

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের এক গুহায় মিলল ৬৭ হাজার বছরের লালচে গুহাচিত্র, যা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পকর্ম বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

৬৭ হাজার বছরের ‘অদৃশ্য’ গুহাচিত্রের সন্ধান, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পকর্মের দাবি প্রত্নতাত্ত্বিকদের
Environment & Geoscience

চোখের সামনেই ছিল, তবু ধরা পড়েনি: সুলাওয়েসির ‘অদৃশ্য’ গুহাচিত্র আবিষ্কার এবং মানব শিল্পের জন্মকথা

কখনও কখনও ইতিহাস আমাদের চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকে। যুগ যুগ ধরে মানুষের আনাগোনায় ঘেরা কোনও গুহার দেওয়ালে, পর্যটকদের নজরে পড়া চেনা ছবির পাশেই এমন কিছু ছাপ থেকে যায়, যা দেখে মনে হয় নিছক পাথরের দাগ। কিন্তু সময়, প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানীসুলভ কৌতূহল মিললে সেই দাগই হয়ে ওঠে মানব সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পকর্মের প্রমাণ। ঠিক এমনই এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে — যেখানে অন্তত ৬৭,৮০০ বছরের পুরনো হাতের ছাপ খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। গবেষকদের দাবি, সম্ভবত এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গুহাচিত্র, এবং এটিই আধুনিক মানুষের (হোমো সেপিয়েন্স) তৈরি প্রাচীনতম শিল্প নিদর্শন।

এই আবিষ্কার শুধু প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে নয়, মানব বিবর্তন, চিন্তার বিকাশ এবং সৃজনশীলতার উৎপত্তি বোঝার ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এত দিন মনে করা হত, ইউরোপের লাসকক্স বা স্পেনের গুহাচিত্রই মানব শিল্পের প্রাচীনতম উদাহরণ। কিন্তু সুলাওয়েসির এই আবিষ্কার সেই ধারণাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে হাজার হাজার বছর।

এই প্রতিবেদনে আমরা জানব:
✔ কীভাবে এই ‘অদৃশ্য’ গুহাচিত্র আবিষ্কৃত হল
✔ কেন এটিকে আধুনিক মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প নিদর্শন বলা হচ্ছে
✔ কীভাবে এর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে
✔ ইউরোপ ও আফ্রিকার গুহাচিত্রের সঙ্গে এর তুলনা
✔ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই আবিষ্কারের তাৎপর্য

সুলাওয়েসি: ইতিহাসে মোড়া এক দ্বীপ

ইন্দোনেশিয়ার মানচিত্রে সুলাওয়েসি দ্বীপটি যেন এক অদ্ভুত আকৃতির তারার মতো। বোর্নিও দ্বীপের পূর্বে অবস্থিত এই দ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্নতত্ত্ববিদদের আগ্রহের কেন্দ্র। এখানে প্রাচীন মানব বসতির বহু নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে দ্বীপের পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা চুনাপাথরের গুহাগুলি বহু যুগ ধরে মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

গত এক দশকে সুলাওয়েসির বিভিন্ন গুহা থেকে পাওয়া গিয়েছে:
✔ শূকরের বিশাল চিত্র
✔ হরিণ ও ঘোড়ার আঁকা ছবি
✔ জ্যামিতিক চিহ্ন ও বিমূর্ত নকশা

এর মধ্যে একটি শূকর-চিত্রের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল অন্তত ৪৫,৫০০ বছর, যা এত দিন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন প্রাণীর গুহাচিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হাতের ছাপের আবিষ্কার সেই রেকর্ডকেও ভেঙে দিয়েছে।

চোখের সামনেই ছিল, তবু নজরে আসেনি

এই আবিষ্কারের সবচেয়ে আশ্চর্যের দিক হল — এই হাতের ছাপগুলি নতুন করে আঁকা হয়নি, কিংবা কোনও গোপন গুহার গভীরে লুকিয়ে ছিল না। বরং সেগুলি ছিল এমন এক গুহার দেওয়ালে, যেখানে বহু বছর ধরেই পর্যটক ও গবেষকেরা যাতায়াত করতেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছাপগুলি হয়ে উঠেছিল এতটাই আবছা যে সেগুলিকে পাথরের স্বাভাবিক দাগ বা খনিজ জমাট ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। আলো পড়লে কোনও কোনও কোণে লালচে আভা দেখা গেলেও তা যে মানবসৃষ্ট, সেই ধারণা তৈরি হয়নি বহুদিন।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূ-রসায়নবিদ ম্যাক্সিম অবার্ট এবং তাঁর দল যখন আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুহার দেওয়ালগুলি নতুন করে বিশ্লেষণ করেন, তখনই ধরা পড়ে সেই অবিশ্বাস্য সত্য — সেখানে রয়েছে প্রাচীন মানুষের রেখে যাওয়া হাতের ছাপ।

হাতের ছাপগুলি কেমন?

গুহার দেওয়ালে পাওয়া গেছে মোট সাতটি হাতের ছাপ। সবকটিই প্রায় একই ধরনের — গুহার দেওয়ালে হাত রেখে তার চারপাশে লালচে রং ছিটিয়ে বা লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় স্টেনসিল টেকনিক। অর্থাৎ, শিল্পী প্রথমে নিজের হাত দেয়ালে রেখে তার চারপাশে রং ছড়িয়ে দেন। ফলে হাতের জায়গাটি অনাবৃত থাকে এবং চারপাশে রঙিন ছাপ তৈরি হয়।

গবেষকদের মতে:
✔ এগুলি কোনও আকস্মিক দাগ নয়
✔ এগুলি পরিকল্পিত ও সচেতন শিল্পকর্ম
✔ এগুলির পিছনে রয়েছে প্রতীকী বা সামাজিক উদ্দেশ্য

এ ধরনের হাতের ছাপ মানব ইতিহাসে বহু জায়গায় পাওয়া গেলেও, সুলাওয়েসির এই নিদর্শনগুলিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পুরনো বলে মনে করা হচ্ছে।

কীভাবে নির্ধারণ করা হল বয়স?

গুহাচিত্রের বয়স নির্ধারণ করা প্রত্নতত্ত্বে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, পাথরের উপর আঁকা রঙের কার্বন ডেটিং সব সময় সম্ভব হয় না। তাই বিজ্ঞানীরা এখানে ব্যবহার করেছেন ইউরেনিয়াম-থোরিয়াম ডেটিং পদ্ধতি।

এই পদ্ধতিতে গুহার দেওয়ালে জমে থাকা ক্যালশিয়াম কার্বনেটের পাতলা স্তরের বয়স নির্ধারণ করা হয়। এই স্তর গুহাচিত্রের উপর বা নিচে তৈরি হলে, তার বয়স থেকে ছবির ন্যূনতম বয়স জানা যায়।

সুলাওয়েসির ক্ষেত্রে:
✔ হাতের ছাপের উপর জমে থাকা ক্যালসাইট স্তরের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে
✔ ফলাফল বলছে — এগুলির বয়স অন্তত ৬৭,৮০০ বছর
✔ অর্থাৎ, এগুলি আরও পুরনোও হতে পারে

এই হিসাব অনুযায়ী, এগুলি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন গুহাচিত্রের মধ্যে পড়ে।

ম্যাক্সিম অবার্টের প্রতিক্রিয়া

এই আবিষ্কারের নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক ম্যাক্সিম অবার্ট বলেন:

“এই হাতের ছাপগুলি কোনও লাল রঙ দিয়ে করা হয়েছিল। মানুষ গুহার দেওয়ালে হাত রেখে তার উপর রং ছড়িয়েছিল। তারা কীভাবে রং ছড়িয়েছিল, তা আমরা নিশ্চিত নই — হয়তো মুখে রং নিয়ে ফুঁ দিয়ে ছিটিয়ে দিয়েছিল, কিংবা কোনও আদিম যন্ত্র ব্যবহার করেছিল।”

তিনি আরও বলেন:

“এই আবিষ্কার আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আধুনিক মানুষ খুব প্রাচীনকাল থেকেই বিমূর্ত চিন্তা ও প্রতীকী প্রকাশের ক্ষমতা রাখত।”

এই বক্তব্য মানব বিবর্তন সম্পর্কিত বহু পুরনো ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এগুলি কি আধুনিক মানুষের তৈরি?

গবেষকদের সবচেয়ে বড় দাবি — এই গুহাচিত্রগুলি সম্ভবত আধুনিক মানুষের (হোমো সেপিয়েন্স) তৈরি। কারণ:

✔ ৬৭,৮০০ বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধুনিক মানুষের উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে
✔ হাতের ছাপগুলি পরিকল্পিত শিল্পকর্মের উদাহরণ
✔ এই ধরনের বিমূর্ত চিন্তা ও প্রতীকী আচরণ আধুনিক মানুষের বৈশিষ্ট্য

যদিও ইউরোপে পাওয়া কিছু গুহাচিত্র নিয়ানডারথালদের তৈরি বলে মনে করা হয়, তবে সুলাওয়েসির এই নিদর্শনের ক্ষেত্রে গবেষকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি নিশ্চিত যে এগুলি আধুনিক মানুষের শিল্পচর্চার প্রমাণ।

আগের আবিষ্কারগুলির সঙ্গে তুলনা

?? ফ্রান্সের লাসকক্স গুহা

লাসকক্স গুহা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত গুহাচিত্রের জন্য পরিচিত। সেখানে পাওয়া গিয়েছে বিশাল বাইসন, ঘোড়া ও হরিণের চিত্র। তবে এগুলির বয়স আনুমানিক ১৭,০০০ বছর — অর্থাৎ সুলাওয়েসির গুহাচিত্রের তুলনায় প্রায় ৫০,০০০ বছর কম।

?? স্পেনের গুহাচিত্র

স্পেনের তিনটি গুহায় পাওয়া গিয়েছে লাল রঙের হাতের ছাপ, চিহ্ন ও বিন্দু। গবেষণায় দেখা যায়, সেগুলির বয়স অন্তত ৬৪,০০০ বছর। এগুলি ইউরোপে আধুনিক মানুষের আগমনের আগের সময়ের, ফলে অনেকেই মনে করেন এগুলি নিয়ানডারথালদের তৈরি।

?? দক্ষিণ আফ্রিকার গুহাচিত্র

কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি গুহায় হাতের ছাপের মতো কিছু চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। প্রথমে মনে করা হয়েছিল সেগুলিই সবচেয়ে প্রাচীন গুহাচিত্র। কিন্তু পরে জানা যায়, সেগুলি প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ত ছাপ — মানবসৃষ্ট শিল্পকর্ম নয়।

এই তুলনায় স্পষ্ট — সুলাওয়েসির এই আবিষ্কারই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পুরনো এবং নিশ্চিত মানবসৃষ্ট শিল্প নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

news image
আরও খবর

মানুষ কেন হাতের ছাপ আঁকত?

এই প্রশ্নের উত্তর প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছেও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে:

? নিজের অস্তিত্বের চিহ্ন রেখে যাওয়া — “আমি এখানে ছিলাম”
? গোষ্ঠী পরিচয়ের প্রতীক — কোনও সামাজিক বা পারিবারিক গোষ্ঠীর চিহ্ন
? ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য — গুহাকে পবিত্র স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা
? শিল্পচর্চার প্রাথমিক প্রকাশ — সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আকর্ষণ

হাতের ছাপ মানুষের শরীরের সরাসরি প্রতিফলন — কোনও মধ্যস্থতা ছাড়াই শিল্পে নিজের উপস্থিতি জানানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। সম্ভবত এই কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্রে হাতের ছাপ এত বেশি দেখা যায়।

মানব বিবর্তনে শিল্পের ভূমিকা

এই আবিষ্কার আমাদের সামনে এক বড় প্রশ্ন তোলে — মানুষ কবে থেকে শিল্পচর্চা শুরু করেছিল?

দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হত:
✔ বিমূর্ত চিন্তা ও শিল্পচর্চা ইউরোপে আধুনিক মানুষের আবির্ভাবের পরেই শুরু হয়
✔ প্রায় ৪০,০০০ বছর আগে থেকে শিল্পের বিকাশ ঘটে

কিন্তু সুলাওয়েসির এই আবিষ্কার বলছে:
➡️ মানুষ অন্তত ৬৭,০০০ বছর আগেই প্রতীকী চিন্তা ও শিল্পচর্চা করত
➡️ ইউরোপ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও মানব শিল্পের জন্মভূমি হতে পারে

এটি মানব সভ্যতার বিকাশের ভূগোল ও সময়রেখা — দুইয়ের ধারণাকেই আমূল বদলে দিচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: মানব ইতিহাসের নতুন কেন্দ্র

এই আবিষ্কারের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নতুন করে উঠে আসছে মানব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে।

আগে মনে করা হত:
✔ মানব সভ্যতার সাংস্কৃতিক বিকাশ মূলত ইউরোপ ও আফ্রিকাকেন্দ্রিক
✔ এশিয়া তুলনামূলকভাবে গৌণ ভূমিকা পালন করেছে

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে:
✔ সুলাওয়েসি, বোর্নিও ও আশপাশের দ্বীপগুলিতে অত্যন্ত প্রাচীন শিল্পকর্ম পাওয়া যাচ্ছে
✔ এই অঞ্চল হয়তো মানব সৃজনশীলতার এক প্রাথমিক কেন্দ্র ছিল

এটি মানব অভিবাসনের ইতিহাসকেও নতুন করে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া কি এই আবিষ্কার সম্ভব হত?

এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে:

✔ হাই-রেজোলিউশন ডিজিটাল ইমেজিং
✔ মাল্টিস্পেকট্রাল স্ক্যানিং
✔ ভূ-রসায়ন বিশ্লেষণ
✔ ইউরেনিয়াম-থোরিয়াম ডেটিং

এই প্রযুক্তিগুলি না থাকলে এই হাতের ছাপগুলি হয়তো আরও বহু বছর ‘অদৃশ্য’ হয়েই থেকে যেত।

এটি প্রমাণ করে — প্রত্নতত্ত্ব আজ আর শুধু খননকার্যের বিজ্ঞান নয়, বরং এটি প্রযুক্তিনির্ভর বহুমাত্রিক গবেষণার ক্ষেত্র।

গুহাচিত্র সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ

এ ধরনের আবিষ্কারের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসে — এগুলি কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে?

গুহাচিত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ:
✔ পর্যটকদের ভিড়
✔ বাতাসের আর্দ্রতা পরিবর্তন
✔ আলোর প্রভাব
✔ জীবাণু ও ছত্রাকের বৃদ্ধি

সুলাওয়েসির গুহাগুলিতেও ইতিমধ্যেই পর্যটন জনপ্রিয়। ফলে গবেষকেরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছেন যাতে:
➡️ দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়
➡️ নির্দিষ্ট অংশে প্রবেশ সীমিত রাখা যায়
➡️ ডিজিটাল কপি তৈরি করে গবেষণার সুযোগ বাড়ানো যায়

কারণ, একবার নষ্ট হয়ে গেলে এই শিল্পকর্ম আর কখনও ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

বিশ্ব প্রত্নতত্ত্বে এই আবিষ্কারের প্রতিক্রিয়া

এই আবিষ্কারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক প্রত্নতত্ত্ব মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে:
✔ এটি মানব শিল্পের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার
✔ এটি প্রমাণ করে যে সৃজনশীলতা মানব বিবর্তনের খুব প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য
✔ এটি ইউরোপকেন্দ্রিক শিল্প ইতিহাসের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে

অনেক গবেষকই এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুহাগুলিকে নতুন করে গবেষণার কেন্দ্রে আনছেন।

এই আবিষ্কার আমাদের কী শেখায়?

এই হাতের ছাপগুলি শুধু কয়েকটি রঙিন দাগ নয় — এগুলি মানব ইতিহাসের এক গভীর বার্তা বহন করছে।

এগুলি আমাদের শেখায়:
✔ মানুষ খুব প্রাচীনকাল থেকেই নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ করতে চেয়েছে
✔ শিল্পচর্চা সভ্যতার বিলাস নয় — বরং মানব সত্তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য
✔ আমরা যত পিছনেই তাকাই, ততই দেখি মানুষের চিন্তা ও কল্পনার গভীরতা

একজন প্রত্নতত্ত্ববিদের কথায়,

“এই হাতের ছাপগুলি যেন সময়ের ওপার থেকে আমাদের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া মানুষের হাত — যা বলে, ‘আমরাও তোমাদের মতোই ছিলাম।’”

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

এই আবিষ্কারের পর গবেষকেরা আশা করছেন:

✔ সুলাওয়েসি ও আশপাশের দ্বীপে আরও প্রাচীন গুহাচিত্র পাওয়া যেতে পারে
✔ মানব শিল্পের সূচনাকাল আরও পিছিয়ে যেতে পারে
✔ নিয়ানডারথাল ও আধুনিক মানুষের সৃজনশীলতার তুলনামূলক গবেষণা আরও বিস্তৃত হবে

এছাড়া, এই আবিষ্কার মানব অভিবাসনের পথ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আদি সমাজের কাঠামো সম্পর্কেও নতুন তথ্য দিতে পারে।

Preview image