Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বাস্তব জীবনে সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন অদ্রিজা রায়, ২৫ জানুয়ারি মুম্বইয়ে বাগদান

মুম্বইয়ে পাকাপাকিভাবে থিতু হওয়ার পর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অদ্রিজা রায়। আগামী ২৫ জানুয়ারি থানে-ভিত্তিক ব্যবসায়ী বিগ্নেশ আইয়ারের সঙ্গে বাগদান সারবেন তিনি।

‘রাহি’ থেকে রাজবধূ: অভিনেত্রী অদ্রিজা রায়ের জীবনের নতুন অধ্যায় এবং রূপকথার প্রেমকাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: বিনোদন জগতের অন্দরমহলে এখন বিয়ের সানাইয়ের গুঞ্জন। তবে টলিপাড়ার পরিচিত মুখ অদ্রিজা রায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল গুঞ্জন নয়, বরং বাস্তবের রূপ পেতে চলেছে। বাংলা টেলিভিশনের একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বর্তমানে মায়ানগরী মুম্বইয়ে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। সেখানে জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিক 'অনুপমা'-তে 'রাহি' চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করছে। কিন্তু পর্দার জীবন আর বাস্তবের জীবনের মধ্যে এবার এক বড় বদল আসতে চলেছে তাঁর। পর্দার বিয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বাস্তব জীবনে সাতপাকে বাঁধা পড়ার প্রথম ধাপটি পূরণ করতে চলেছেন তিনি।

আগামী রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অদ্রিজা রায়ের জীবনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আসতে চলেছে। ওই দিন মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে একটি ছবির মতো সুন্দর খামারবাড়িতে (farmhouse) অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হবে।

টলিপাড়া থেকে অনুপমার ‘রাহি’: এক দীর্ঘ সফর

অদ্রিজা রায়ের অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল কলকাতার স্টুডিও পাড়ায়। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর ছিল এক অদ্ভুত টান। 'পটল কুমার গানওয়ালা'-র মতো ধারাবাহিকে তাঁর কাজ আজও বাঙালি দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। একের পর এক হিট বাংলা মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির ড্রয়িংরুমের চেনা মুখ। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়—জাতীয় স্তরে নিজের পরিচয় তৈরি করা।

সেই স্বপ্নপূরণের উদ্দেশ্যেই তিনি পাড়ি দেন মুম্বইয়ে। সেখানে কঠিন সংগ্রামের পর তিনি সুযোগ পান স্টার প্লাসের জনপ্রিয় মেগা 'অনুপমা'-তে। এই ধারাবাহিকের 'রাহি' চরিত্রটি তাঁকে রাতারাতি সর্বভারতীয় পরিচিতি এনে দেয়। বর্তমানে তিনি মুম্বইয়ের একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং হিন্দি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন অত্যন্ত ব্যস্ত অভিনেত্রী।

প্রেমের শুরু: মে মাসের সেই বসন্ত সন্ধ্যা

অনেকেরই কৌতূহল ছিল, অদ্রিজার মনের মানুষটি কে? অবশেষে সেই রহস্যের যবনিকা উঠেছে। অদ্রিজার হবু বর বিগ্নেশ আইয়ার পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিগ্নেশ দক্ষিণ ভারতীয় (তামিল) সংস্কৃতির মানুষ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিগ্নেশ অভিনয়ের জগতের মানুষ নন। অদ্রিজা বরাবরই চেয়েছিলেন তাঁর জীবনসঙ্গী যেন বিনোদন জগতের বাইরের কেউ হন, যাতে বাড়ির অন্দরে কাজের বাইরের এক সাধারণ পৃথিবী গড়ে তোলা যায়।

তাঁদের এই প্রেমের গল্পের শুরুটা হয়েছিল গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে। এক সাধারণ বন্ধুর আয়োজিত একটি পার্টিতে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। প্রথম আলাপেই যে তাঁরা একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন তা নয়, বরং সেই পার্টিতে তাঁদের মধ্যে সাধারণ কিছু কথা বিনিময় হয়েছিল। কিন্তু সেই শুরু থেকেই দুজনের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিক সংযোগ তৈরি হয়। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়তে থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে সেই বন্ধুত্বই প্রেমে রূপান্তরিত হয়।

বাগদান এবং অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি

২৫ জানুয়ারির এই বিশেষ দিনটির জন্য মুম্বইয়ের একটি মনোরম খামারবাড়িকে বেছে নেওয়া হয়েছে। অদ্রিজা এবং বিগ্নেশ দুজনেই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের চেয়ে আন্তরিকতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই তাঁদের বাগদান অনুষ্ঠানে কোনো বিশাল ভিড় থাকবে না; উপস্থিত থাকবেন কেবল দুই পরিবারের সদস্য এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধু-বান্ধব।

খামারবাড়িটির সাজসজ্জায় বাঙালি এবং দক্ষিণ ভারতীয়—উভয় সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকবে বলে জানা গেছে। অভিনেত্রীর পরনে কী থাকবে বা বিগ্নেশ কী পরবেন, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিকতার মেলবন্ধনে সাজবেন এই জুটি।

দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধন: বিয়ের পরিকল্পনা

বাগদান অনুষ্ঠান এখন সম্পন্ন হলেও বিয়ের জন্য এখনই তাড়াহুড়ো করছেন না এই যুগল। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁরা দুজনেই তাঁদের কর্মজীবন নিয়ে যথেষ্ট ব্যস্ত। তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে তাঁরা কিছুটা সময় নিতে চান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন।

যেহেতু অদ্রিজা বাঙালি এবং বিগ্নেশ তামিল, তাই তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলন দেখা যাবে। অদ্রিজা জানিয়েছেন যে, তাঁদের বিয়েতে বাঙালি রীতিনীতি (যেমন শুভদৃষ্টি, সিঁদুরদান) এবং দক্ষিণ ভারতীয় রীতিনীতি (যেমন মঙ্গলসূত্র পরানো)—উভয়ই পালন করা হবে। দুই ভিন্ন ধারার মিলনই হবে তাঁদের বিয়ের মূল আকর্ষণ।

news image
আরও খবর

পেশা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য

মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত শহরে একজন লিড অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় শুটিং করতে হয় অদ্রিজাকে। অন্যদিকে বিগ্নেশও একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা একে অপরের জন্য সময় বের করে নেন। অদ্রিজার কথায়, "বিগ্নেশ খুব বুঝদার এবং সে আমার কাজকে খুব শ্রদ্ধা করে।" অভিনয়ের জগতের বাইরের মানুষ হওয়ায় বিগ্নেশ অদ্রিজাকে জীবনের অন্য এক দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পেরেছেন, যা তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে।

ভক্তদের শুভকামনা

অদ্রিজা রায়ের বাগদানের খবর সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে তাঁর ভক্তরা উপচে পড়া ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন। তাঁর সহ-অভিনেতারাও এই নতুন যাত্রার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। 'রাহি' হিসেবে পর্দার লড়াই কাটিয়ে বাস্তবে অদ্রিজা যে সুখের সন্ধান পেয়েছেন, তাতে খুশি তাঁর অনুরাগীরা।

পরিশেষে বলা যায়, ২৫ জানুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি অদ্রিজা ও বিগ্নেশের দীর্ঘস্থায়ী প্রেমের অঙ্গীকারের দিন। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তাঁরা যেভাবে একে অপরের হাত ধরেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

এই রূপকথার প্রেমকাহিনী এবং আগামী দিনের প্রস্তুতির বিষয়ে আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য নিচে যোগ করা হলো:

দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের রসায়ন: কেন বিগ্নেশই অনন্য?

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর লাইমলাইটের আড়ালে প্রতিটি অভিনেতা বা অভিনেত্রীই খোঁজেন এমন একজনকে, যার কাছে তাঁরা স্রেফ একজন রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে ধরা দিতে পারেন। অদ্রিজার ক্ষেত্রে সেই আশ্রয় হয়ে উঠেছেন বিগ্নেশ আইয়ার। অভিনয়ের জগতের বাইরের মানুষ হওয়ায় বিগ্নেশের কাছে অদ্রিজা কোনো ‘স্টার’ নন, বরং একজন প্রিয় মানুষ। বিগ্নেশ পেশায় সফল ব্যবসায়ী হলেও তাঁর মাটির কাছাকাছি থাকা স্বভাব অদ্রিজাকে মুগ্ধ করেছে। মুম্বইয়ের ব্যস্ত জীবনে যখন শুটিংয়ের চাপে অদ্রিজা ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন বিগ্নেশের শান্ত স্বভাব তাঁকে মানসিক স্বস্তি দেয়। বিনোদন জগতের জটিল সমীকরণগুলো থেকে দূরে বিগ্নেশ তাঁর জীবনে এক ফালি বিশুদ্ধ বাতাস নিয়ে এসেছেন।

মায়ানগরীতে বাঙালি কন্যার জয়যাত্রা

কলকাতার ছোট পর্দা থেকে মুম্বইয়ের বড় ক্যানভাসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ ছিল না। অদ্রিজা যখন প্রথম মুম্বই পাড়ি দেন, তখন তাঁর সামনে ছিল অজস্র চ্যালেঞ্জ। ভাষা থেকে শুরু করে নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া—সবই ছিল কঠিন। কিন্তু তাঁর অদম্য জেদ এবং অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আজ 'অনুপমা'-র মতো একটি মাইলফলক ধারাবাহিকে পৌঁছে দিয়েছে। আজ যখন তিনি তাঁর বাগদানের পরিকল্পনা করছেন, তখন তাঁর পেছনে রয়েছে কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রমের এক দীর্ঘ ইতিহাস। এই সাফল্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের সুখ—উভয়ই তাঁর প্রাপ্য বলে মনে করছেন টলিপাড়ার তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।

সাজসজ্জা ও ফ্যাশনে নতুন চমক

বাগদান অনুষ্ঠানের ফ্যাশন নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। জানা যাচ্ছে, ২৫ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে অদ্রিজা কোনো নামী ডিজাইনারের তৈরি লেহেঙ্গা বা শাড়ি পরতে পারেন, যা হবে বাঙালি আভিজাত্য এবং আধুনিকতার সংমিশ্রণ। অন্যদিকে, বিগ্নেশকে দেখা যেতে পারে ট্র্যাডিশনাল দক্ষিণ ভারতীয় পোশাকে অথবা একটি স্টাইলিশ শেরওয়ানিতে। তাঁদের পোশাকেও দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধন ফুটিয়ে তোলার জন্য এক বিশেষ টিমের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। গয়নার ক্ষেত্রেও নাকি থাকছে বিশেষ চমক। অদ্রিজার পছন্দ মূলত ছিমছাম অথচ রুচিশীল নকশা, তাই তাঁর এনগেজমেন্ট রিংটিও হবে অত্যন্ত বিশেষ এবং আভিজাত্যপূর্ণ।

বিয়ের পরবর্তী পরিকল্পনা এবং ক্যারিয়ার

অনেকেই প্রশ্ন করছেন, বাগদানের পর অদ্রিজা কি অভিনয়ে বিরতি নেবেন? তবে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কাজ তাঁর প্রথম ভালোবাসা এবং বিগ্নেশও চান তিনি যেন নিজের ক্যারিয়ারে আরও উন্নতি করেন। তাই বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। বরং আগামী দুই বছর তিনি আরও কিছু বড় প্রজেক্টে নিজেকে যুক্ত করতে চান। বিয়ের পর তাঁরা মুম্বইয়েই নিজেদের নতুন সংসার পাতার পরিকল্পনা করেছেন। তবে দুই সংস্কৃতির মানুষ হওয়ায় তাঁদের ঘর হবে এক টুকরো ‘মিনি ইন্ডিয়া’, যেখানে দুর্গা পুজো আর পঙ্গল—দুটোই সমান ধুমধাম করে পালিত হবে।

সমাজমাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা

অদ্রিজা তাঁর বাগদানের খবরটি সামনে আনার পর থেকেই তাঁর ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ভক্তরা এই নতুন জুটির নাম দিয়েছেন ‘বিগ-দ্রিজা’ (Vig-Drija)। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নন, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুধাংশু পাণ্ডের মতো তারকারাও তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পর্দার 'রাহি' যখন বাস্তবে কনের সাজে সাজবেন, সেই মুহূর্তটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁর লক্ষাধিক অনুরাগী।

পরিশেষে, অদ্রিজা ও বিগ্নেশের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, ভালোবাসা কোনো সীমানা বা সংস্কৃতি মানে না। ২৫ জানুয়ারির সেই শীতের সকালে যখন তাঁরা আংটি বদল করবেন, তখন তা কেবল দুটি মানুষের মিলন হবে না, হবে দুই ভিন্ন ঐতিহ্যের এক সুন্দর সহাবস্থানের শুরু।

Preview image