অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মহারণের আগে ভারতীয় মহিলা দলে বড় পরিবর্তন। ২০২৫ মহিলা ODI বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে প্রতীকা রাওয়ালের পরিবর্তে দলে ফিরলেন শফালি ভার্মা। তরুণ ওপেনারের অভিজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভরসা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত, জানিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শফালির উপস্থিতি দলের ব্যাটিং লাইনআপে বাড়াবে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস।
নয়াদিল্লি, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রাক্কালে ভারতীয় দল ঘোষণা করেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নকআউট ম্যাচের জন্য প্রতীকা রাওয়ালের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেলেন তরুণ ও আক্রমণাত্মক ওপেনার শফালি ভার্মা। দলের নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, ম্যাচের পরিস্থিতি, অভিজ্ঞতা এবং ব্যাটিং কৌশল বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শফালি ভার্মা, যিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইলের জন্য সুপরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মের ওঠাপড়া এবং কন্ডিশন অনুযায়ী স্কোয়াড রোটেশনের কারণে তিনি মূল একাদশে স্থান পাননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে শক্তিশালী ও আগ্রাসী ওপেনিং যে অপরিহার্য, সেই বিষয়টি দলপতি ও কোচিং স্টাফ স্পষ্ট করেছেন।
প্রতীকা রাওয়াল, যিনি গ্রুপ স্টেজে স্থিরতা ও টেকনিক্যাল ব্যাটিংয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। তবে দলের এক সিনিয়র কর্তা বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, "সেমিফাইনাল ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান সংগ্রহ করাই হবে ম্যাচের মূল চাবিকাঠি। তাই একজন স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ওপেনার হিসেবে শফালি ভার্মা আমাদের খেলার পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।"
বিশ্লেষকদের মতে, শফালির দলে প্রত্যাবর্তন ভারতীয় দলকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে:
পাওয়ারপ্লেতে আগ্রাসন: শফালি পাওয়ারপ্লে ওভারগুলিতে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রাখেন, যা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে সাহায্য করে।
সর্বমুখী দক্ষতা: স্পিন ও পেস — উভয় ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধেই আক্রমণাত্মক খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা: আন্তর্জাতিক নকআউট ম্যাচগুলিতে মানসিক দৃঢ়তা প্রদর্শনের ইতিহাস আছে শফালির।
খেলার গতি পরিবর্তন: দ্রুত রান সংগ্রহের মাধ্যমে ম্যাচের রিদম বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই চাপ তৈরি করার চেষ্টা করবে। সেক্ষেত্রে ম্যাচের প্রথম ১০ ওভারে ভারত যদি আগ্রাসী ব্যাটিং করতে সক্ষম হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ডিফেন্সিভ ফিল্ড সাজানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
শফালির অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শফালি ভার্মা ওপেনিংয়ে ফিরে আসবেন এবং স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে তাঁর জুটি দলকে শুরুতেই বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। মিডল অর্ডারে হারমানপ্রিত কৌর, রিচা ঘোষ এবং দেবিকা বৈষ্ণব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সেমিফাইনাল শুধুমাত্র ফাইনাল প্রবেশের লড়াই নয় — এটি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এক বিরাট সুযোগ। অস্ট্রেলিয়া বরাবরই মহিলাদের ক্রিকেটে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সফল দলগুলির একটি, যার কারণে এই ম্যাচের মানসিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
অস্ট্রেলিয়ান দলের অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা সুবিদিত। তবে ভারতীয় দলও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছে এবং গ্রুপ স্টেজে তাদের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, টস এবং ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা এই লড়াইয়ের মোড় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতীয় ভক্তদের আশা, শফালির আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং দলের সামগ্রিক পরিকল্পনা তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।