ভারত সরকার জানিয়েছে, ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে পাকিস্তানকে কোনও বাধা দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক সম্পর্ক যাই হোক না কেন, খেলাধুলা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে বলেই স্পষ্ট বার্তা দিল কেন্দ্র।
২০৩০ সালে ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কমনওয়েলথ গেমস। এই বিশাল ক্রীড়া আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছিল — দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতার কারণে পাকিস্তান কি এই আসরে অংশ নিতে পারবে?
রাজনীতি নয়, খেলাই মুখ্য
সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে ভারত খেলাধুলাকে রাজনীতির সঙ্গে মিশ্রিত করবে না। পাকিস্তানসহ সকল যোগ্য দেশই ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, "ভারত সর্বদা খেলাধুলাকে ঐক্য ও সৌহার্দ্যের মঞ্চ হিসেবে দেখে আসছে। রাজনৈতিক মতভেদ, সীমান্ত বিরোধ কিংবা কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে কোনো দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।"
আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া
ভারতের এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়া গেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই অবস্থান বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি পরিপক্ব ও দায়িত্বশীল বার্তা প্রেরণ করছে।
পাকিস্তান ক্রীড়া বোর্ডও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "এটিই খেলাধুলার প্রকৃত চেতনা এবং আমরা এই উদারতার প্রশংসা করি।"
ঐক্যের বার্তা পৌঁছাবে বিশ্বে
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই কমনওয়েলথ গেমসের মাধ্যমে ভারত কেবল ক্রীড়া সংগঠনের দক্ষতাই প্রদর্শন করবে না, বরং বৈশ্বিক ঐক্য, সহিষ্ণুতা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
২০৩০ সালের এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞ হয়ে উঠবে 'খেলার মাধ্যমে সেতুবন্ধন' — এই আদর্শের বাস্তব প্রমাণ।