আজ ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায়ের জন্মদিন — বিরাট কোহলি! যিনি শুধু ব্যাট হাতে নয়, তাঁর আত্মবিশ্বাস, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং ফিটনেস দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। দিল্লির রাস্তায় ব্যাট হাতে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি বিশ্বের প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ের অংশ। বিরাটের নেতৃত্বে ভারত জিতেছে অগণিত ম্যাচ, তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের ফাইটিং স্পিরিট। কঠিন রান-চেজ, অগ্নিময় দৃষ্টি, এবং জয়ের ক্ষুধা — সবকিছুই যেন তাঁর সিগনেচার!
আজ ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়ের জন্মদিন — বিরাট কোহলি।
যিনি শুধু ব্যাট হাতে রান করেননি, বরং তাঁর মানসিকতা, ফিটনেস, এবং নেতৃত্বগুণ দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে এক নতুন যুগে নিয়ে গেছেন। দিল্লির রাজপথে ব্যাট হাতে যাত্রা শুরু করা সেই ছেলেটি আজ কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ের স্পন্দন, অনুপ্রেরণার প্রতীক, এবং ভারতীয় ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
বিরাটের জন্ম ৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে দিল্লিতে। খুব অল্প বয়সেই ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। বাবা প্রেম কোহলি তাঁকে দিল্লির ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করান, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর ক্রিকেটযাত্রা।
স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁকে দ্রুত জাতীয় দলে জায়গা করে দেয়।
২০০৮ সালে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক — আর তারপর থেকে বিরাট যেন থামতেই জানেননি।
বিরাট কোহলি শুধুমাত্র একজন ব্যাটসম্যান নন, তিনি ভারতের ক্রিকেট মানসিকতার প্রতীক।
তাঁর আগমনেই ভারতীয় ক্রিকেটে প্রবেশ করে ফিটনেস, আক্রমণাত্মক মনোভাব, এবং আত্মবিশ্বাসের নতুন সংজ্ঞা।
প্রতিটি ম্যাচে তাঁর শরীরভঙ্গি, চিৎকার, আবেগ, আর জয়ের ক্ষুধা যেন দলের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে উজ্জীবন তৈরি করে।
বিরাট কোহলির ব্যাটিং শুধু টেকনিক নয়, তা এক শিল্প। তাঁর কভার ড্রাইভ, স্ট্রেইট ড্রাইভ, পুল শট — প্রতিটি বল যেন দর্শকদের চোখে কবিতা হয়ে বাজে।
তাঁর দৃঢ় মনোযোগ, পজিটিভ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, আর নির্ভীক মানসিকতা তাঁকে আলাদা করে তোলে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে।
২০১৭ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির পর বিরাট কোহলি যখন ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন, তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন — "তিনি কি ধোনির মতো শান্ত থাকতে পারবেন?"
কিন্তু বিরাট প্রমাণ করে দেন, নেতৃত্ব মানে শুধু শান্ত থাকা নয়, বরং অনুপ্রেরণা জাগানোও।
তাঁর নেতৃত্বে ভারত জিতেছে অগণিত ম্যাচ — বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন মাটিতে ঐতিহাসিক জয়।
টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাফল্যের মূল স্থপতি হিসেবে কোহলির ভূমিকা অপরিসীম। তাঁর অধিনায়কত্বে ভারত টানা বহু বছর ধরে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল।
তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি করেছিলেন এক “Never Give Up” মানসিকতা — যা আজও ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচয়।
বিরাটের নামের পাশে আজ অসংখ্য রেকর্ড —
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫,০০০-এর বেশি রান
ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮০টিরও বেশি শতরান
রান-চেজের সময় তাঁর গড় রান ৭০-এর ওপরে
২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক
এবং ২০২৫ সালেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আগ্রহীদের মুগ্ধ করে চলেছেন
তাঁকে বলা হয় “Run Machine Kohli” — কারণ, চাপে খেলতে, জিততে, আর দেশকে এগিয়ে নিতে বিরাটের মতো মনোবল খুব কম ক্রিকেটারেরই আছে।
বিরাটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তাঁর আত্মবিশ্বাস। তিনি সবসময় বলেন —
“যদি তুমি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, তাহলে পুরো বিশ্ব তোমার পক্ষে কাজ করবে।”
তাঁর ফিটনেস, ডায়েট, ওয়ার্কআউট রুটিন আজ শুধু ক্রিকেটারদের নয়, কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা।
তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দলে তৈরি হয়েছে এক নতুন সংস্কৃতি — যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড় ফিটনেস, মনোভাব এবং জয়ের তৃষ্ণাকে সমান গুরুত্ব দেয়।
বিরাট কোহলি শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটার নন — তিনি এক আবেগ। মাঠে তাঁর প্রতিটি রান, প্রতিটি হাসি, প্রতিটি চিৎকার ভক্তদের কাছে এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত।
Instagram থেকে স্টেডিয়াম — সর্বত্রই তাঁর জনপ্রিয়তা সীমাহীন। তিনি আজ বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক ফলো করা খেলোয়াড়।
বিরাট কোহলি আজ শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, বরং এক ব্র্যান্ড।
তিনি সমাজে ফিটনেস, নৈতিকতা, পরিশ্রম ও আত্মনিবেদনের বার্তা ছড়াচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয়।
বিরাটের “Virat Kohli Foundation” বহু তরুণ ক্রীড়াবিদকে সহায়তা করছে, যাতে তারা নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।