Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মার্কিন শাটডাউনে আকাশপথ বিপর্যস্ত! একদিনে বাতিল ১৩৩০ ফ্লাইট

মার্কিন সরকারী শাটডাউনে বিপর্যস্ত আকাশপথ: একদিনে বাতিল ১৩৩০ ফ্লাইট! ওয়াশিংটন ডিসি, ৮ নভেম্বর: যুক্তরাষ্ট্রে সরকারী তহবিল বন্ধ বা “শাটডাউন”-এর ফলে বিমান চলাচলে নেমেছে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে, একদিনেই ১,৩৩০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩,৫০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন বন্ধ থাকায় FAA-এর বহু কর্মী— বিশেষ করে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, টেকনিশিয়ান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা— বেতন না পাওয়ায় কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন। এর ফলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে তৈরি হয়েছে বিশাল শূন্যতা, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে যাত্রী সুরক্ষা ও নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টিরও বেশি বড় বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা ৪% পর্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা ১০% বা তারও বেশি হারে কমানো হতে পারে। এই সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলির মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সান ফ্রান্সিসকো। বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড়, দীর্ঘ সারি ও বারংবার ফ্লাইট বাতিলের কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র বিশৃঙ্খলা। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও এখন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। FAA জানিয়েছে, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় প্রতিদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষাগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে ঝুঁকি বাড়ছে, তাই নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, American Airlines, Delta, United ও Southwest-এর মতো শীর্ষ এয়ারলাইন সংস্থাগুলি প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই শাটডাউন যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে ডিসেম্বরের ট্র্যাভেল সিজনে বড় আর্থিক ক্ষতি হবে। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক মতভেদে এই সংকটের দ্রুত অবসান এখনও অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক রুটগুলিও প্রভাবিত হয়েছে — ভারত, কানাডা ও ইউরোপের ফ্লাইটগুলিতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করছে হ্যাশট্যাগ #USShutdownFlights ও #TravelChaosUSA। যাত্রীদের ক্ষোভ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে এই শাটডাউন এখন মার্কিন ইতিহাসে এক বড় সতর্কবার্তা — কীভাবে একটি প্রশাসনিক অচলাবস্থা পুরো দেশের আকাশপথ থামিয়ে দিতে পারে।

আমেরিকায় সরকারী শাটডাউন ও বিমান চলাচলে তীব্র সংকট: একদিনে বাতিল ১৩৩০ ফ্লাইট, বিশৃঙ্খল মার্কিন আকাশপথ!

ওয়াশিংটন ডিসি, ৮ নভেম্বর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারী “শাটডাউন”-এর প্রভাবে পুরো দেশের বিমান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে, শাটডাউন চলতে থাকায় সারা দেশে প্রায় ১,৩৩০টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩,৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলা কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।


 শাটডাউনের ছায়া: কেন এমন পরিস্থিতি?

মার্কিন প্রশাসনের তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সরকারি কর্মীদের বেতন ও কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে FAA-এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে। বিমান ট্রাফিক কন্ট্রোলার, টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনেকেই এখন বেতন ছাড়াই কাজ করছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কাজে অনুপস্থিত।

ফলাফল?
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ফাঁক তৈরি হয়েছে, বিমানবন্দরে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা, যাত্রীদের ভিড় ও অভিযোগে নাজেহাল এয়ারলাইন সংস্থাগুলি। FAA বলছে, আপাতত ৪০টিরও বেশি বড় বিমানবন্দরে ফ্লাইট অপারেশন ৪% কমানো হয়েছে, এবং যদি পরিস্থিতি না বদলায়, তা ধীরে ধীরে ১০% থেকে ২০% পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।


 ক্ষতিগ্রস্ত শহর ও বিমানবন্দর

এই সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর—

  • নিউ ইয়র্ক (JFK ও লা গার্ডিয়া)

  • শিকাগো (O’Hare)

  • আটলান্টা (Hartsfield–Jackson)

  • লস অ্যাঞ্জেলেস (LAX)

  • সান ফ্রান্সিসকো (SFO)

এই শহরগুলির বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে দেখা গেছে, যাত্রীরা লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে রাত কাটাচ্ছেন, কেউ কেউ আবার বিকল্প ফ্লাইট বা ট্রেনের সন্ধানে মরিয়া।

news image
আরও খবর

এক যাত্রী CNN-কে জানিয়েছেন, “আমি নিউ ইয়র্ক থেকে হিউস্টনে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তিনবার ফ্লাইট পরিবর্তন করা সত্ত্বেও কোথাও উঠতে পারিনি। এটা এক দুঃস্বপ্ন!”


 নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি

FAA-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের কম উপস্থিতি বিমানগুলির চলাচলে সংঘর্ষ বা যোগাযোগ ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এজন্যই FAA সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চালিয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এছাড়াও, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়ী অনেক কর্মী এখন ছুটিতে আছেন, যার ফলে বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেম, লাইটিং ও ন্যাভিগেশন যন্ত্রপাতি নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা যাচ্ছে না।


 অর্থনীতি ও এয়ারলাইন শিল্পে প্রভাব

মার্কিন এয়ারলাইন সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। American Airlines, Delta, United ও Southwest Airlines— প্রত্যেকেই প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বরের ভ্রমণ মরশুমে বিশাল ক্ষতি হবে।

একজন অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন, “শাটডাউন শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত।”


 সরকারের প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে তহবিল অনুমোদন বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, “আমরা দ্রুত সমাধানে পৌঁছাতে চাই। এই অচলাবস্থা জনগণের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে, বিশেষত যাত্রী পরিবহনে।”

তবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে এই সমস্যার সমাধান এখনো দূরে।


 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরেও পড়ছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিও তাদের মার্কিন রুটে বিলম্ব ও পুনঃনির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষত ভারত থেকে নিউ ইয়র্ক ও শিকাগো যাওয়া বিমানগুলিতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে।


 যাত্রীদের দুর্ভোগ

যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। কেউ কেউ বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন, কেউ আবার টিকিট ফেরতের আশায় এয়ারলাইন্স কাউন্টারে সারি দিচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করছে হ্যাশট্যাগ — #USShutdownFlights, #TravelChaosUSA, #FAAcrisis।


 ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ

FAA সতর্ক করে বলেছে, যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরকারী তহবিল পুনরায় চালু না হয়, তবে বিমান চলাচল আরও কমানো হবে। এতে শুধু যাত্রীরা নয়, পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Preview image