অভিনেত্রী সৌমিতৃষা গুরুতর অসুস্থতার পর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে বাড়িতে বিশ্রামে আছেন।কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব মিস করতে হয়েছে সৌমিতৃষাকে, কিন্তু কালরাত্রি ২ এর শুটিং শেষ হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে।সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত কাজ থেকে বিরতি নিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।মিঠাই, বড়পর্দা ও ওটিটিতে সফলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক মঞ্চেও সক্রিয় সৌমিতৃষা।ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁর ফেরা, এবং তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন পুরোপুরি সুস্থ হলে
১. পরিচিতি
অভিনেত্রী সৌমিতৃষা বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ। ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে তাঁর হাত ধরে জনপ্রিয়তা অর্জিত হলেও, তার পথচলা শুধুই টেলিভিশনেই সীমাবদ্ধ নয়। বড়পর্দায় দেবের সঙ্গে অভিষেক, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ—এগুলি প্রমাণ করে, তিনি প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে এগিয়ে চলেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মঞ্চেও সক্রিয় উপস্থিতি তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে হঠাৎই অভিনেত্রী স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হন। এই আর্টিকেলে আমরা তাঁর অসুস্থতার প্রেক্ষাপট, হাসপাতালের অভিজ্ঞতা, বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
নভেম্বরের শুরুর দিকে সৌমিতৃষা হঠাৎ অস্বস্তিতে পড়েন। ৬ নভেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান যে তীব্র জ্বর এবং শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এই খবর ভক্ত এবং বিনোদন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রতি বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত থাকতেন তিনি। তবে ২০২৫ সালে এই উৎসবের মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারলেন না। সেই খবরটি শেয়ার করে তিনি জানান, দুঃখের সঙ্গে এটিও মেনে নিতে হচ্ছে যে, নিজের স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
এই সময়টি শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবে তার জন্য কঠিন ছিল। ভক্তরা এবং সহকর্মীরা তার দ্রুত সুস্থতার কামনা জানিয়ে অনলাইন ও অফলাইন উভয়ভাবেই সমর্থন প্রকাশ করেন।
নভেম্বরের ১৩ তারিখে KIFF (কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব) শেষ হয়। এর আগে পুরো সময়টাই অভিনেত্রী হাসপাতাল এবং বাড়িতে বিশ্রামে কাটিয়েছেন। হাসপাতালে থাকার সময় চিকিৎসকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করেছিলেন।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও সৌমিতৃষার সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া কিছুটা সময় নেয়। তিনি TV9 বাংলাকে জানিয়েছেন যে, “সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে, তবে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে।” চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখা।
এই সময়ে, ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির মাধ্যমে তার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। সৌমিতৃষা নিজেও ভক্তদের সেই ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
‘কালরাত্রি ২’–এর শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এই বিরতিটি সৌমিতৃষার জন্য কিছুটা স্বস্তির। দীর্ঘ সময় শুটিং ও ক্রমাগত চাপের পর, বিশ্রাম তার জন্য অপরিহার্য ছিল।
শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও এ সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গ, পছন্দের কাজ থেকে বিরতি এবং ব্যক্তিগত সময় তাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
এমন সময়ে ভক্তদের সমর্থন তার মানসিক শক্তি বাড়িয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হলে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন। এই ইতিবাচক মনোভাব তার কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
সৌমিতৃষার পরিচিতি শুরু হয় ছোটপর্দা থেকে। ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে তার চরিত্র জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দর্শকরা তার অভিনয় দক্ষতা এবং চরিত্রের বাস্তবসম্মত উপস্থাপনায় মুগ্ধ হন।
ছোটপর্দার সফলতা তাকে বড়পর্দায় পথ দেখিয়েছে। দেবের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক করেন। বড়পর্দায় অভিনয় তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এবং অভিজ্ঞতা এনেছে।
সৌমিতৃষা ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে তার অভিনয় দক্ষতা দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই বহুমুখী ক্যারিয়ার তাকে বিনোদন জগতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সৌমিতৃষা শুধু বিনোদন জগতে নয়, রাজনৈতিক মঞ্চেও সক্রিয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তার সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতি তাকে সাধারণ জনসাধারণের কাছে পরিচিতি বাড়িয়েছে।
ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সৌমিতৃষার ফেরা। সামাজিক মাধ্যমে তার উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যের খবর নিয়মিত আপডেট পেয়ে তারা শান্তি পাচ্ছেন।
এই সময়ে ভক্তদের সমর্থন, শুভেচ্ছা এবং অনুরাগ তার পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সৌমিতৃষা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন।
সৌমিতৃষার সুস্থতার প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশ্রামের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক প্রশান্তিও তার পুনরুদ্ধারের অংশ।
পরিবার এবং বন্ধুদের সমর্থন তাকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করেছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চলার কারণে, ধীরে ধীরে তিনি আগের কর্মক্ষম অবস্থায় ফিরে আসছেন।
সৌমিতৃষার কাজের বিস্তৃতি ছোটপর্দা, বড়পর্দা এবং ওটিটি পর্যন্ত বিস্তৃত। ‘মিঠাই’-এর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, বড়পর্দায় অভিষেক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন।
তার অভিনয় দক্ষতা, চরিত্রের প্রতি আন্তরিকতা এবং দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করেছে। শিল্প মহলে এবং ভক্তদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে বাংলা বিনোদন জগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সৌমিতৃষা পুরোপুরি সুস্থ হলে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন। তার লক্ষ্য শুধুই অভিনয় নয়, বরং ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনকে সমন্বিত করে এগিয়ে যাওয়া।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি আরও বহুমুখীভাবে সক্রিয় থাকবেন। তার ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, এবং শিল্প মহলও তার পুনরায় সক্রিয়তার অপেক্ষায়।
২. নভেম্বরের শুরুতে অসুস্থতা
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সৌমিতৃষা হঠাৎ অস্বস্থিতে পড়েন। ৬ নভেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে তীব্র জ্বর ও শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এই সংবাদ ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রতি বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত থাকতেন তিনি। কিন্তু এইবার সেখানেও তার অনুপস্থিতি অনুভূত হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং বিশ্রামে থাকার খবর জানিয়ে তিনি নিজের দুঃখ প্রকাশ করেন, যা তাঁর ভক্তদের মধ্যে সমবেদনা সৃষ্টি করে।
৩. হাসপাতালের দিনগুলি
নভেম্বরের ১৩ তারিখে KIFF (কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব) শেষ হয়। এর আগে সমস্ত সময়ই সৌমিতৃষার দিনগুলি হাসপাতাল ও বাড়িতে বিশ্রামে কাটে। চিকিৎসক এবং পরিবারের সহায়তায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে অগ্রসর হন।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে—এমনটাই তিনি TV9 বাংলাকে জানিয়েছেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
৪. কাজ থেকে বিরতি এবং মানসিক প্রভাব
‘কালরাত্রি ২’–এর শুটিং সম্পন্ন হওয়ায় এই বিরতিটি সৌমিতৃষার জন্য কিছুটা স্বস্তির। তিনি আপাতত কাজ থেকে বিরতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পরিশ্রম এবং ক্রমাগত শিডিউল চাপের পর, এই বিশ্রাম তাঁর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
সৌমিতৃষার জীবনের এই পর্যায়ে তার ভক্তরা উদ্বিগ্ন হলেও, অভিনেত্রী ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হলে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন।
৫. কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
সৌমিতৃষার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ছোটপর্দা থেকে। ‘মিঠাই’-এর মাধ্যমে তিনি বড় পরিচিতি পান। এরপর বড়পর্দায় দেবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন প্রকল্প—এগুলি প্রমাণ করে, তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে চ্যালেঞ্জ করছেন।
রাজনৈতিক মঞ্চেও সক্রিয়তার কারণে তার পরিচিতি শুধুই বিনোদন জগতেই সীমাবদ্ধ নয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে কিনা—এমন জল্পনা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
৬. ভক্তদের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সৌমিতৃষার ফেরা। স্বাস্থ্যগত কারণে কাজ থেকে বিরতি নিয়েও, তিনি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন। ভক্তদের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে সংযোগ বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসা তার মূল লক্ষ্য।
সৌমিতৃষা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হলে তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন। এটি তার ভক্ত এবং শিল্প মহলে নতুন উত্তেজনা ও আশা জাগাচ্ছে।
৭. উপসংহার
নভেম্বর ২০২৫–এর অসুস্থতা এবং হাসপাতালের দিনগুলি সৌমিতৃষার জীবনের একটি চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়। তবে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা এবং পরিবারের সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়া তাকে নতুন শক্তি দিচ্ছে। কর্মজীবনে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অপেক্ষায় তার ভক্তরা এখন আরও বেশি উদ্বিগ্ন এবং উৎসাহিত।
সৌমিতৃষার উদ্যম, প্রতিভা এবং ইতিবাচক মনোভাব এই সময়টাকে কেবল চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং পুনর্জীবনের অধ্যায় হিসেবে দেখাচ্ছে।