অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা করেছে, এবং প্রত্যাশার বিপরীতে আবারও নেই দলের নিয়মিত অধিনায়ক ও তারকা পেসার প্যাট কামিন্স। প্রথম টেস্টে অনুপস্থিত থাকার পর দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর ফেরা নিয়ে ভক্তদের আশা ছিল প্রবল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, কামিন্স এখনও পুরোপুরি ফিট নন এবং তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে নারাজ কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ও সাপোর্ট স্টাফ। ফলে প্রথম টেস্টের মতোই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে নামছে অস্ট্রেলিয়া। এই সিদ্ধান্তের ফলে অধিনায়কত্ব সামলাবেন আবারও স্টিভ স্মিথ। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা ভালো পারফরম্যান্স দেখালেও কামিন্সের নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট ছিল। তাই দ্বিতীয় টেস্টেও তাঁর অনুপস্থিতি দলকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলে কয়েকটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সংযত রেখেছে স্থির কৌশলেই। নির্বাচিত একাদশে জোশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ডই পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলাবেন। কামিন্সের অনুপস্থিতি অ্যাশেজ সিরিজের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ তিনি ফিরলে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিতে পারতেন।
লন্ডন, ডিসেম্বর ২ (বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন):
অ্যাশেজ সিরিজ, ক্রিকেট ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠতম দ্বৈরথ, শুরু থেকেই এক ভিন্ন মেজাজে। এজবাস্টনে প্রথম টেস্টের রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তি এবং অস্ট্রেলিয়ার ২ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পর ক্রিকেটবিশ্বের মনোযোগ এখন লর্ডসের বাইবেলের দিকে—যেখানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বিতীয় টেস্ট। তবে এই সিরিজের উত্তাপের মাঝে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের (CA) একটি ঘোষণায় ক্রিকেটমহলে বড় ধরনের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে: দ্বিতীয় অ্যাশেজ টেস্টেও থাকছেন না অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক এবং বিশ্বসেরা পেসার প্যাট কামিন্স (Pat Cummins)।
প্রথম টেস্টে কামিন্স ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর লর্ডসে ফেরা প্রায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া এবং সমর্থকরা। কিন্তু, নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে স্পষ্ট জানিয়েছে—কামিন্স এখনও পুরোপুরি ফিট নন এবং তাঁকে নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্ত কেবল একাদশে একটি পরিবর্তন নয়, এটি অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত স্থিরতা, নেতৃত্বের চাপ এবং ইংল্যান্ডের 'বাজবল' (Bazball) কৌশলের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের গতিপথকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে চলেছে।
ফলস্বরূপ, প্রথম টেস্টে জয়ী এবং কার্যকরী প্রমাণিত হওয়া অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। এই স্থিরতার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটীয় পণ্ডিতদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যেখানে কেউ দেখছেন এটি দলের আত্মবিশ্বাস ও স্থিতিশীলতার প্রতীক, আবার কেউ দেখছেন—নেতৃত্ব এবং পেস আক্রমণের গভীরতায় এক বড়সড় ফাঁক।
প্যাট কামিন্স কেবল একজন বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার নন; তিনি আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের প্রতিচ্ছবি, নেতৃত্ব এবং পেস আক্রমণের মূল স্তম্ভ। তাঁর অনুপস্থিতি কেবলমাত্র একটি বোলিং অপশনের অভাব নয়, বরং এটি অজি ড্রেসিংরুম এবং মাঠের কৌশলে একাধিক স্তরে প্রভাব ফেলে।
কামিন্সের অনুপস্থিতির তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব:
নেতৃত্বের শূন্যতা: কামিন্সের অধিনায়কত্বে মাঠে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অসাধারণ। বোলারদের সঠিক রোটেশন, চাপের মুখে ফিল্ড সেটিংয়ে পরিবর্তন আনা এবং রিভিউ নেওয়ার সময় তাঁর যুক্তিগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত দলের উপর বড় প্রভাব ফেলে। তাঁর অনুপস্থিতিতে সহ-অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে (Steve Smith) এই দায়িত্ব নিতে হবে, যার নেতৃত্বে শেষ অ্যাশেজে কিছু বিতর্ক ছিল।
ধারাবাহিক পেস ও আগ্রাসন: কামিন্স এমন একজন বোলার যিনি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগ্রাসী বোলিং করতে পারেন। তাঁর লাইন-লেন্থের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং স্পেলের পর স্পেলে একই তীব্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের প্রধান অস্ত্র।
ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে নিখুঁত পরিকল্পনা: কামিন্স প্রায়শই প্রতিপক্ষের মূল ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে 'সেট-আপ' বোলিং করার পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা তাঁর নেতৃত্বেই কার্যকর হয়। তাঁর সেই মাস্টারমাইন্ডিংয়ের অভাব অনুভব করবে দল।
কেন খেলছেন না কামিন্স? দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রতিফলন
দলের ফিজিও এবং হাই-পারফরম্যান্স বিভাগের মতে, কামিন্সের না খেলার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেসের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।
পুরনো সাইড স্ট্রেইনের পুরোপুরি নিরাময়: কামিন্সের পুরনো সাইড স্ট্রেইন (Side Strain) পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। উচ্চ চাপের অ্যাশেজের মতো সিরিজে দীর্ঘ স্পেল বা টানা ম্যাচ খেললে ইনজুরি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অ্যাশেজের গুরুত্ব ও ঝুঁকি: অ্যাশেজ অত্যন্ত উচ্চ চাপের সিরিজ, যেখানে বোলারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অস্ট্রেলিয়ান ম্যানেজমেন্ট এই মুহূর্তে তাঁকে ফিরিয়ে এনে সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখার লক্ষ্য: অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড কামিন্সকে কেবলমাত্র এই সিরিজের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের জন্য প্রস্তুত রাখতে চায়। তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে অস্ট্রেলিয়া জয়কে অগ্রাধিকার দিলেও, তাদের মূল খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে তারা কোনো আপস করতে প্রস্তুত নয়।
কামিন্সের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচকরা দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অপরিবর্তিত একাদশ ঘোষণা করে ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। এই স্থিরতা ছিল প্রত্যাশার বাইরে, কারণ অনেকেই ভেবেছিলেন প্রথম টেস্টের পেস আক্রমণের ক্লান্তি কমাতে নতুন কোনো বোলারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
অপরিবর্তিত একাদশ (প্রথম টেস্টের বিজয়ী দল):
| ব্যাটসম্যান | অলরাউন্ডার | উইকেটরক্ষক | বোলার |
| ডেভিড ওয়ার্নার | মিচেল মার্শ | অ্যালেক্স ক্যারি | মিচেল স্টার্ক |
| উসমান খাজা | জোশ হ্যাজেলউড | ||
| মার্নাস লাবুশেন | স্কট বোল্যান্ড | ||
| স্টিভ স্মিথ (অধিনায়ক) | ন্যাথান লায়ন | ||
| ট্রাভিস হেড |
একই দল ধরে রাখার নেপথ্যে নির্বাচকদের যুক্তি:
নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে স্পষ্ট কৌশলগত যুক্তি রয়েছে, যা মূলত 'বিজয়ী কম্বিনেশন না ভাঙার' ক্রিকেটীয় প্রথার উপর নির্ভর করে:
প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি: প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা যেমন কার্যকর ছিলেন, তেমনি ব্যাটসম্যানরা পর্যাপ্ত রান করেছেন (উসমান খাজার মহাকাব্যিক ইনিংস এবং অ্যালেক্স ক্যারির ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং)। এই পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
দলগত কম্বিনেশন বজায় রাখা: অ্যাশেজের মতো বড় সিরিজে দলগত রসায়ন এবং কম্বিনেশন বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচকরা বিজয়ী দলের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতেই কম্বিনেশন ভাঙতে চাননি।
শক্তিশালী বিকল্পের উপস্থিতি: কামিন্সের বিকল্প হিসেবে জোশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক এবং স্কট বোল্যান্ড—এই তিনজনের পেস কম্বিনেশন বিশ্বসেরা। প্রত্যেকেই প্রথম টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
স্থিরতার ওপর জোর: অস্ট্রেলিয়া তাদের কৌশলে স্থিরতা বজায় রাখতে বেশি আগ্রহী, যাতে ইংল্যান্ডের 'বাজবল' কৌশলের বিপরীতে তারা একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
কামিন্সের অনুপস্থিতিতে সহ-অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের ওপর দ্বিগুণ দায়িত্ব বর্তাল। তাঁকে কেবল দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ড হিসেবে রান করতেই হবে না, একইসঙ্গে তাঁকে অধিনায়কের ভূমিকাও পালন করতে হবে।
স্মিথের কাঁধে এখন দ্বিগুণ চাপ:
ব্যাটিং মেরুদণ্ড: প্রথম টেস্টে স্মিথ বড় রান পাননি। লর্ডসে অ্যাশেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে ব্যাটিংয়ে বড় ইনিংস খেলতে হবে, যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
কৌশলগত নেতৃত্ব: কামিন্স না থাকায় স্মিথকে ফিল্ড সেটিং, বোলারদের রোটেশন, এবং টেস্টের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব নিতে হবে।
স্মিথ নিজেও স্বীকার করেছেন, "কামিন্স না থাকলে ফাঁকটা স্পষ্ট বোঝা যায়।" তাঁর নেতৃত্বকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি চাপের মুখেও বোলারদের মনোবল ধরে রেখে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে সক্ষম। এই সিরিজে তাঁর নেতৃত্ব বড় পরীক্ষার মুখে।
ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক 'বাজবল' কৌশলের বিরুদ্ধে প্যাট কামিন্সের অভিজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং অত্যন্ত মূল্যবান হতো। তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ভরসা রাখতে হচ্ছে তার ত্রয়ী পেস অ্যাটাকের ওপর।
| বোলার | ভূমিকা | লর্ডসে কার্যকারিতা |
| মিচেল স্টার্ক | দ্রুতগতি ও সুইং-এর মাস্টার। উইকেট নেওয়ার প্রধান অস্ত্র। | আর্দ্র আবহাওয়ায় তাঁর সুইং ভয়ঙ্কর হতে পারে। |
| জোশ হ্যাজেলউড | লাইন-লেন্থের মাস্টার এবং ইকোনমি বোলার। ইংলিশ কন্ডিশনে ভীষণ কার্যকরী। | লর্ডসের পিচে অতিরিক্ত বাউন্স ও সিম-মুভমেন্ট কাজে লাগাতে পারবেন। |
| স্কট বোল্যান্ড | স্টাম্পে বল রেখে চাপ সৃষ্টিতে পারদর্শী। ইংল্যান্ডে তাঁর রেকর্ড দারুণ। | পিচে সামান্য সাহায্য পেলেই তিনি উইকেট নিতে পারেন। |
এই তিনজন বোলারই বিশ্বমানের হলেও, তাঁদের মধ্যে কামিন্সের মতো অলরাউন্ড নেতৃত্ব এবং চাপের মুখে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অভিজ্ঞতা নেই। কামিন্সের অভাব পূরণ করতে হলে এই ত্রয়ীকে সম্মিলিতভাবে তাঁদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে হবে।
ইংল্যান্ড কি এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে?
ইংল্যান্ডের দল এবং তাদের কোচিং স্টাফ জানে যে কামিন্সের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় একটি দুর্বলতা তৈরি করেছে। তারা সম্ভবত এই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য আরও বেশি আগ্রাসী কৌশল নেবে।
আক্রমণাত্মক শুরু: ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হতে পারে, বিশেষ করে স্টার্ক ও বোল্যান্ডের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
নেতৃত্বের ওপর চাপ: কামিন্স না থাকায় স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বকে বারবার চ্যালেঞ্জ জানানো হবে ফিল্ড সেটিং ও বোলার পরিবর্তনের মাধ্যমে।
বাজবলের পূর্ণ প্রয়োগ: রুট, স্টোকস, ব্রুক এবং বাটলারের মতো শক্ত ব্যাটিং লাইনআপ অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয়-স্তরের পেস আক্রমণকে লক্ষ্য করে 'বাজবল' কৌশলের পূর্ণ প্রয়োগ করতে চাইবে।
বিশ্লেষকদের মত: বিশেষজ্ঞ মহলে এই নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। মাইকেল ভন মনে করেন, "অ্যাশেজ কামিন্সের মতো বোলারকে ছাড়া অসম্পূর্ণ লাগে।" রিকি পন্টিংয়ের মতে, "কামিন্স না থাকলে ইংল্যান্ড অনেকটাই স্বস্তিতে থাকবে।"
লর্ডসের পিচ এবং আবহাওয়া এই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
যদি ইংল্যান্ড শুরুতেই আক্রমণাত্মক হয়: স্টার্কের দ্রুতগতি ও বোল্যান্ডের নির্ভুল লাইন-লেন্থকে পরীক্ষা করার জন্য ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা যদি শুরুতেই আক্রমণাত্মক হন, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরিকল্পনায় দ্রুত পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
যদি উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হয়: লর্ডসের উইকেটে মাঝে মাঝে ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে প্রথম দুই দিনে অজি বোলারদের ধৈর্য এবং দীর্ঘ স্পেল করার ক্ষমতা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
যদি আবহাওয়া আর্দ্র থাকে: আর্দ্র বা মেঘলা আবহাওয়ায় হ্যাজেলউড হবেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র, কারণ তাঁর সিম-মুভমেন্ট ও নিয়ন্ত্রণ আর্দ্র পরিবেশে আরও কার্যকরী হয়ে ওঠে। ন্যাথান লায়নের অফ-স্পিনও গুরুত্বপূর্ণ হবে, বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে।
টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও ১০০% নিশ্চিত নয় যে কামিন্স তৃতীয় টেস্টের আগে পুরোপুরি ফিট হবেন। তাঁদের বক্তব্য অত্যন্ত সতর্ক: "আমরা কামিন্সকে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য চাই, তাড়াহুড়ো করে নয়।"
এর অর্থ হলো, কামিন্সের তৃতীয় টেস্টে ফেরা নির্ভর করবে তাঁর ফিটনেস টেস্ট, নেট বোলিং সেশন এবং চিকিৎসকদের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের ওপর। যদি তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়, তবে সেটা সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির একটি হবে।
অস্ট্রেলিয়ার অপরিবর্তিত দল ঘোষণার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটবিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও, এর পেছনে তাদের কৌশলগত স্থিরতার উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা প্রথম টেস্টের বিজয়ী দলের আত্মবিশ্বাস ও কম্বিনেশনকে কাজে লাগাতে চাইছে।
সমর্থকদের একাংশের যুক্তি: স্থিরতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে; প্রথম টেস্টের একাদশেই ভালো ভারসাম্য ছিল; কামিন্স না থাকলেও স্টার্ক-বোল্যান্ড-হ্যাজেলউড যথেষ্ট।
অন্যদের উদ্বেগ: কামিন্সের অভাব দলের জন্য বড় ধাক্কা; নেতৃত্বে স্মিথ চাপের মুখে পড়বেন; ইংল্যান্ড এই সুযোগ নিতে পারে।
একথা বলাই যায়—কামিন্স ছাড়া অ্যাশেজের এই দ্বিতীয় টেস্ট আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে। অস্ট্রেলিয়া কি স্থিরতা বজায় রেখে লড়াই জিততে পারবে, নাকি কামিন্সের অভাবই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের 'বাজবল' এর বিরুদ্ধে কাল হবে—লর্ডসের এই ঐতিহাসিক টেস্টে এখন সেটাই দেখার। এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পেস ত্রয়ীর পারফরম্যান্স এবং স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বই নির্ধারণ করবে সিরিজের গতিপথ।