নওগাঁও থানায় রহস্যময় বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন কাশ্মীরের দর্জি মোহাম্মদ শফি। মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁর ছোট মেয়ের কান্নাভেজা অনুরোধ—“বাবা, যেও না”—আজ আরও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। তদন্তে ঘটনার নতুন দিক উঠে আসছে।
শ্রীনগরের নউগাম এলাকা সবসময়ই ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত, ব্যস্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রায় ভরপুর একটি সাধারণ উপশহর। দোকান, বাজার, ছোট অফিস, কর্মব্যস্ত মানুষ এবং মোড়ের পাশে দাঁড়ানো চায়ের দোকানের কোলাহলে এখানে জীবন প্রতিদিন নিত্যদিনের মতোই এগিয়ে চলত। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার ভিতরেই ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বরের রাত যেন পুরো নউগামকে এক দুঃস্বপ্নের অন্ধকারে ঢেকে দেয়। রাত নামার কিছু সময় পর যে বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ ভেঙে নেমে এল, তা কেবল একটি পুলিশ স্টেশনের দেওয়ালই ছিঁড়ে ফেলেনি, বরং বহু পরিবারের ভবিষ্যৎকে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। ঠিক সেই দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান মোহাম্মদ শফি পারি—একজন সাধারণ মুচি, একজন সৎ শ্রমজীবী, একজন পরিবারের একমাত্র ভরসা।
নউগাম পুলিশ স্টেশনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল তখন, যখন সেদিন উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক বিস্ফোরক ও রাসায়নিক যৌগ পরীক্ষা করে প্যাকেজিং করা হচ্ছিল। ফরেনসিক টিম, পুলিশ কর্মী এবং কিছু বিশেষজ্ঞ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই রাতটি ছিল ঠান্ডায় ভরা, নভেম্বরের কাশ্মীরী হাওয়ায় শীত যেন হাড়ে হাড়ে বিঁধে যাচ্ছিল। স্টেশনের ভেতরে ফরেনসিক প্যাকেজিংয়ের কাজ এগোচ্ছিল টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে। এই বিস্ফোরকগুলির সঠিক বিশ্লেষণ ও সিলিংয়ের কাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। কারণ এগুলি একটি বড় জঙ্গি চক্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন ধরনের অস্থিতিশীল বিস্ফোরক মিশ্রণ ছিল। এই ধরনের পদার্থ সামান্য ভুল ব্যবহারে বা ঘর্ষণে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবু, নিয়ম মেনে, সতর্কতা অবলম্বন করে কাজ করা হচ্ছিল।
সেই স্টেশনের ভেতরে সেদিন ছিলেন মোহাম্মদ শফি পারি—পেশায় একজন মুচি। তিনি পুলিশের ডাকে এসেছিলেন একটি সাধারণ কাজের জন্য। ফরেনসিক টিমের কাজে ব্যবহৃত সিলিং ব্যাগগুলোর সেলাই করার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। প্রতিদিনের মতোই তিনি সেদিন সকালে দোকান খুলেছিলেন, অর্ডার নেওয়া, কাপড় মাপ নেওয়া, পুরনো কাপড় মেরামত ইত্যাদি নিয়মিত কাজ করেছিলেন। নউগামের অনেকেই তাঁকে চিনতেন একজন মাটির মানুষ হিসেবে—কম কথা বলা, নিজের কাজেই মন দেওয়া, পরিবারকেন্দ্রিক একজন শ্রমজীবী পুরুষ। তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে এবং একটি ছোট মেয়ে—এই পরিবারটাই ছিল তাঁর সবকিছু। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারঘাট করতে করতে তিনি পুলিশ স্টেশন থেকে ফোন পান। কাজটি কিছুটা জরুরি, তাই তিনি সময় নষ্ট না করে সেখানে পৌঁছে যান।
দিনভর সেলাইয়ের কাজ করে, সিলিং ব্যাগগুলো তৈরি করে শফি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছিলেন। সময় ছিল প্রায় আটটা, ঠান্ডা বাড়ছিল, রাতের খাবারের গন্ধ রান্নাঘরভর্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। ছোট মেয়ে বাবাকে দেখে প্রথমেই ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে। সারা দিন কাজের পরে বাড়ি ফিরে পরিবারের মুখ দেখার আনন্দই ছিল শফির সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। কিন্তু বেশিক্ষণ বিশ্রাম করার সুযোগ ছিল না। পুলিশ তাঁকে আবার ডেকেছিল কিছু ব্যাগের ফিনিশিং করার জন্য। তিনি খাবার খেয়ে আবার বেরোতেই মেয়েটি কেঁদে ফেলল। শিশুর কান্নায় যে অসহায় আবেদন থাকে, শফিও তা খুব ভালো জানতেন। ছোট্ট মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলল—“পাপা, আজ আর যেও না, খুব ঠান্ডা, তুমি ক্লান্ত, প্লিজ থেকো।” শফি মেয়েকে কোলে তুলে নেন, মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন—“বাবা, আর একটু কাজ আছে, শেষ করেই ফিরে আসব। বেশি দেরি হবে না।” কিন্তু সে আর কখনও ফিরে আসেননি।
রাত ন’টার কিছু পরে যখন তিনি স্টেশনে পৌঁছন, তখন ভেতরের ব্যস্ততা আগের মতোই ছিল। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সিল করা ব্যাগগুলোর পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন। কিছু ব্যাগে শেষ সেলাইয়ের কাজ ছিল যেটা তিনি দ্রুত শেষ করতে নেমে পড়েন। বাইরে পুলিশ পাহারায় ছিল, কিন্তু ভেতরের পরিবেশ ছিল তীব্র সতর্কতার। কেউই ভাবতে পারেননি যে অতিসতর্কতার মধ্যেও এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এত বড় বিস্ফোরণের আকার নিতে পারে।
ঘড়িতে তখন সাড়ে ন’টা বা তারও খানিক পর। ঠিক সেই সময় আচমকাই একটি প্রবল বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশেপাশের ঘরবাড়ির কাঁচের জানালা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। পুলিশ স্টেশনের দেয়াল ধসে পড়ে, ভেতরে থাকা কাগজপত্র, কম্পিউটার, ক্যাবিনেট, ফাইল সব ছিটকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে স্টেশনের বিভিন্ন অংশে। বাইরে থাকা গাড়িগুলোর বেশ কয়েকটি আগুনে পুড়ে যায়। বিস্ফোরণের সজোর ঝাঁকুনি নউগামের অন্তত দুই কিলোমিটারের ভিতর অনুভূত হয়েছিল।
ভেতরে ছিলেন শফি পারি। বিস্ফোরণের তীব্রতা এমন ছিল যে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কেউই সম্পূর্ণভাবে রক্ষা পাওয়ার সুযোগই পাননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গোটা ঘর ধুলোময় হয়ে যায়, ধোঁয়া এবং ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায় সব। উদ্ধারকাজ শুরু হয় অনেক কষ্টে। আহতদের টেনে বের করা হয়, কিছুজনকে হাত ধরে, কিছুজনকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে। বহু পুলিশ কর্মী আহত হন, কিছুজন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন। শফিকে বের করা হয়, কিন্তু তিনি তখন আর জীবিত ছিলেন না। তাঁর মৃত্যু ছিল তাত্ক্ষণিক।
বাড়িতে সেই খবর পৌঁছতে পৌঁছতে গভীর রাত। শফির স্ত্রী অসহায়ভাবে ভেঙে পড়েন। দুই ছেলেও স্তব্ধ হয়ে যায়, এবং ছোট মেয়েটি যার কণ্ঠে কিছুক্ষণ আগেই ছিল বাবাকে আটকে রাখার অনুনয়, সে তখনও বুঝতেই পারছিল না কেন সবাই কাঁদছে, কেন তার বাবা আর আসছে না। প্রতিবেশীরা ছুটে আসে, কেউ জল দেয়, কেউ সান্ত্বনা দেয়, কিন্তু কোনও সান্ত্বনাই তার স্ত্রী বা সন্তানদের হৃদয়ের শূন্যতা ভরাট করতে পারেনি।
শফির পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে এখন সম্পূর্ণরূপে অসহায়। তারা যে বাড়িতে থাকে সেটি ভাড়ার বাড়ি। দোকান থেকে যে সামান্য উপার্জন হতো তা দিয়েই সংসার চলত। তার মধ্যে দুই ছেলেকে স্কুলে পড়ানো, ছোট মেয়েটির চিকিৎসা খরচ, বাজারের জিনিসপত্র—সবকিছুই চালাতেন তিনি। এখন সেই ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। তাঁর স্ত্রী এখন জানেন না কীভাবে তিনি সন্তানদের নিয়ে আগামীর লড়াই লড়বেন। এলাকাবাসী এবং স্থানীয় পরিষদ থেকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মিলেছে, তবে এই ধাক্কা যে শুধু আর্থিক নয়, মানসিকভাবেও পরিবারকে বিধ্বস্ত করেছে।
এই বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা প্রথমে সন্দেহ করেছিলেন সন্ত্রাসী হামলার, কিন্তু পরে সরকারি ভাবে জানানো হয় যে এটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি বেশ সংবেদনশীল ছিল, আর প্যাকেজিং চলাকালেই কোনো রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া বা ঘর্ষণ ঘটেছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও প্রশ্ন উঠছে কেন এত বড় বিপজ্জনক পদার্থ আবাসিক এলাকার মধ্যে থাকা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছিল এবং কেন সেই রাতেই ফরেনসিক কাজ চালানো হচ্ছিল। নিরাপত্তা প্রটোকলে কোথায় ভুল ছিল তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। নিহত এবং আহতদের পরিবার দাবি করছেন যে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য স্টোরেজ ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন।
ঘটনার পর নউগাম জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। যেসব পরিবার তাদের আপনজনদের হারিয়েছে, তাদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ যতই দেওয়া হোক, কোনো টাকাই হারানো জীবনের সমান মূল্যবান নয়। শফি পারির মতো সাধারণ মানুষদের মৃত্যু সমাজকে আরও গভীরভাবে নাড়া দেয়। কারণ তারা কোনও রাজনৈতিক চরিত্র নয়, কোনও অফিসারও নয়, তারা সাধারণ, সাধারন জীবনযাপনের মানুষ—যাদের জীবনই একটি পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখে। তার মৃত্যু মানে একটি ঘরের সমস্ত আলো এক মুহূর্তে নিভে যাওয়া।
নউগামের রাস্তাঘাটেও একধরনের অস্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। মানুষ পুলিশ স্টেশনের সামনে দিয়ে হাঁটার সময়ও ভয় পাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ভবিষ্যতে সম্ভবত এই ধরনের বিস্ফোরক তদন্ত আর আবাসিক এলাকায় করা উচিত নয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, কর্মপ্রটোকলে অতিরিক্ত দক্ষতা, প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ এবং আরও অভিজ্ঞ টিম যোগ করা উচিত। স্থানীয়দের মতে, যদি এত বিপজ্জনক পদার্থ এত কাছে রাখা হয়, তাহলে এলাকাবাসীর জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে।
মোহাম্মদ শফি পারির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জম্মু কাশ্মীরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবারটির পাশে দাঁড়াচ্ছে। অনেকে আর্থিক সাহায্যের চেষ্টা করছেন। তার ছোট মেয়ের কথা আরও বেশি আলোচিত হয়েছে—কারণ তার নিষ্পাপ কণ্ঠের কথা, “পাপা, যেও না,”—সেটি যেন এক অদ্ভুত বেদনায় ভরা প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুরা ভবিষ্যৎ, আর সেই ভবিষ্যৎ থেকে এক বাবা চিরদিনের মতো হারিয়ে গেল। সমাজে এরকম ঘটনা যখন ঘটে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে যেকোনো প্রশাসনিক ভুল, সামান্য অবহেলা, বা ত্রুটি শুধু একটি দপ্তরের নয়, মানুষের জীবনেরও প্রশ্ন।
সরকার এখন বলেছে যে নিহত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং সহায়তা দেওয়া হবে। তবে অনেকেই দাবি করছে, পরিবারগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন। যদি বিশেষ করে শফির পরিবারের মতো কোনও পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী মারা যায়, তাহলে অন্তত পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরির সুযোগ বা স্থায়ী আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া উচিত। কারণ এই পরিবারগুলির জীবন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ডুবে গেছে।
নউগাম বিস্ফোরণ শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনাই নয়, এটি নিরাপত্তার অক্ষমতা এবং অব্যবস্থার একটি দৃষ্টান্ত। পুলিশ স্টেশন, ফরেনসিক বিভাগ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়ের ঘাটতি কোথায় ছিল তা এখন ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সারা দেশে এমন ঘটনা যেন আর না হয়, তার জন্য সুদূরপ্রসারী সমাধান দরকার। বিস্ফোরণ-সংক্রান্ত কাজ কখনোই আবাসিক এলাকায় করা উচিত কিনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো কতটা আধুনিক হওয়া উচিত, ফরেনসিক পদ্ধতিতে কতটা প্রশিক্ষণ দরকার—এই সব প্রশ্ন এখন জোরালো।
শফির মতো সাধারণ মানুষের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে সমাজের নিচু স্তরের মানুষরাই সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাদের কাজ, তাদের জীবনযাপন, তাদের সংগ্রাম সবই নির্ভর করে প্রতিদিনের নিরাপত্তার ওপর। তারা যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সমাজও নিরাপদ নয়। শফির স্ত্রী এখনো প্রতিদিন দরজা খুলে আশা করেন যেন হয়তো কোনও ভুল হয়েছে, হয়তো শফি ফিরে আসবেন। কিন্তু বাস্তবতা তাঁকে বারবার ছুরির মতো বিদ্ধ করে—তার স্বামী আর কখনও ফিরবেন না।
এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে নউগাম এবং সমগ্র কাশ্মীর এক গভীর শিক্ষার মুখোমুখি। মানবজীবনের ক্ষণের মধ্যেই পরিবর্তনের ক্ষমতা আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও দায়িত্বশীল করা, নিরাপত্তা প্রটোকলগুলো আরও কঠোরভাবে আইনত প্রয়োগ করা, এবং ফরেনসিক ও বিস্ফোরক সংরক্ষণ প্রক্রিয়া আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত করা ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।
নউগামের মানুষ আজও সেই রাতের শব্দ ভুলতে পারছে না। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভুলতে পারছে না শফির ছোট মেয়ের চোখের জল, তার শেষ অনুরোধ—“পাপা, যেও না।” সেই কথা আজ কাশ্মীরের বাড়িগুলোতে মানুষের কাছে এক ব্যথার প্রতিধ্বনি হয়ে আছে। জীবন কতো অনিশ্চিত, কতো ভঙ্গুর, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে দিয়েছে। আর এই মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া শুধু সরকারের নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর।