বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক জাহানারা আলম অভিযোগ তুলেছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে, জুনিয়র খেলোয়াড়দের উপর মারধর ও মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগে।
বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলে এক সময় তারকা ছিলেন জাহানারা আলম। তবে বর্তমানে তিনি জাতীয় দলে আর নেই। সম্প্রতি জাহানারা বাংলাদেশের মহিলা দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অধিনায়ক জ্যোতি দীর্ঘদিন ধরে জুনিয়র খেলোয়াড়দের উপর শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। জাহানারা সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, জ্যোতি বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং এর আগেও জুনিয়র খেলোয়াড়দের মারধর, থাপ্পড় মারা, মাথা টেপানো এবং কিটব্যাগ বহন করানোর মতো কাজ করিয়েছেন।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সিলেটে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ৩০–৪০ মিনিটের ফিটনেস সেশনের পর কিছু জুনিয়র খেলোয়াড় ঠিক মতো হাঁটতেও পারছিল না। তখন দেখেছেন, এক জুনিয়র জ্যোতির কিটব্যাগ বহন করছে, যা জ্যোতির নিয়মিত নির্দেশ ছিল। এছাড়া, দুবাই সফরে একজন জুনিয়রকে রুমে ডেকে চড় মেরেছেন। জাহানারা আরও অভিযোগ করেছেন, জ্যোতি ফিটনেস পরীক্ষা করতেও নিজেকে অংশ নেন না এবং সহকারী কোচকে নিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন করেন।
জাহানারা এও জানান, অধিনায়ক জ্যোতির প্যানেলে কিছু নির্দিষ্ট খেলোয়াড় রয়েছেন যারা তার পরিকল্পনায় অংশ নেন। তার কথায়, এই গ্রুপ পুরো দলের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খারাপ উদাহরণ স্থাপন করছে। জাহানারা মনে করেন, জাতীয় দলে তার বাদ পড়ার পেছনেও জ্যোতির হাত রয়েছে এবং কিছু সিনিয়র খেলোয়াড়ের সঙ্গে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহানারার আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অসত্য। তারা মনে করেন, এই ধরনের অভিযোগ দলের উন্নতি বাধাগ্রস্ত করতে এবং বোর্ডকে কালিমালিপ্ত করতে চাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার ফলে বাংলাদেশের মহিলা দল এখন বিতর্কের মুখে এবং ভবিষ্যতে দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও খেলোয়াড়দের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।