স্টার জলসার নতুন মেগায় ফেরার ঠিক আগে আইনি বিয়ে সেরে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন অভিনেত্রী দীপান্বিতা রক্ষিত। পশুচিকিৎসক গৌরব দত্তের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্কেই পড়ল আইনি সিলমোহর।
স্টার জলসার পর্দায় নতুন মেগা শুরু করার ঠিক আগেই জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু করলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপান্বিতা রক্ষিত। দীর্ঘদিন ধরে যিনি দর্শকের কাছে পরিচিত ‘খুকুমণি’ নামেই, সেই অভিনেত্রী এবার ব্যক্তিগত জীবনে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নিলেন। আইনি বিয়ে সেরে নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন তিনি। খুব ঘনিষ্ঠ পরিসরে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়ের খবর এতদিন গোপনই রেখেছিলেন দীপান্বিতা। অবশেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন সুখবর।
দীপান্বিতা রক্ষিত বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ সংযত। কাজের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রেমের কথা কখনও প্রকাশ্যে আনতে পছন্দ করেননি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি মূলত নিজের কাজ, শুটিংয়ের মুহূর্ত বা প্রিয় পোষ্যদের ছবি-ভিডিও ভাগ করে নেন। সেই কারণে তাঁর বিয়ের খবরে অনেক অনুরাগীই রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। তবে চমকের সঙ্গে সঙ্গে এসেছে অজস্র শুভেচ্ছা, ভালোবাসা আর আশীর্বাদ।
দীপান্বিতার জীবনসঙ্গী গৌরব দত্ত বিনোদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত নন। পেশায় তিনি একজন পশুচিকিৎসক। প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসাই তাঁদের আলাপের মূল সূত্র। জানা যায়, চার বছর আগে পোষ্যদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়েই প্রথম পরিচয় হয় দীপান্বিতা ও গৌরবের। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দু’জনেই বুঝতে পারেন, একে অপরের সঙ্গে তাঁদের ভাবনা, মূল্যবোধ এবং জীবনদর্শনের অনেক মিল রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। তবে সেই সম্পর্ককেও তাঁরা রেখেছিলেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসরে।
ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দীপান্বিতা ও গৌরব দু’জনেই খুব সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী। তাই বিয়েও জাঁকজমক নয়, বরং আইনি পদ্ধতিতেই সেরে ফেলেছেন তাঁরা। পরিবারের কাছের কয়েকজন সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছে এই আইনি বিয়ে। পরে সুবিধাজনক সময়ে সামাজিক অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনাও নাকি রয়েছে, যদিও সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
আইনি বিয়ের দিন দীপান্বিতার সাজ ছিল অত্যন্ত ছিমছাম ও রুচিশীল। সোনালি রঙের পোশাকে, হালকা গয়না ও স্বাভাবিক মেকআপে তাঁকে দেখা যায়। চোখেমুখে ছিল প্রশান্তি আর নতুন জীবনের উচ্ছ্বাস। সেই বিশেষ দিনের কয়েকটি ছবি তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন। ছবির ক্যাপশনে খুব বেশি কথা না লিখলেও, হাসিমুখই যেন সব অনুভূতি প্রকাশ করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিগুলি ভাইরাল হয়ে যায়।
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির বহু সহকর্মী ও বন্ধুরা দীপান্বিতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর অনস্ক্রিন স্বামী, অভিনেতা রাহুল মজুমদার শুভেচ্ছাবার্তায় আবেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও সহ-অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজকদের তরফ থেকেও শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায়। অনুরাগীরাও মন্তব্যে ভরিয়ে দেন অভিনেত্রীর পোস্ট—“খুকুমণি”-র নতুন জীবনের জন্য শুভকামনায় ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়া।
কাজের দিক থেকে এই সময়টা দীপান্বিতার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টার জলসার পর্দায় নতুন একটি মেগা নিয়ে ফিরছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর আবার একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে সুখের শুরু এবং পেশাগত জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ—দু’টোই যেন একসঙ্গে ধরা দিল তাঁর জীবনে।
ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত জীবনের স্থিরতা একজন অভিনেতার কাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীপান্বিতার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মত তাঁদের। নিজের জীবনের এই নতুন অধ্যায় তাঁকে আরও পরিণত, আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে তাঁর অভিনয়ে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দীপান্বিতা রক্ষিত বরাবরই পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় তিনি রাস্তার অসুস্থ বা আহত প্রাণীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। পোষ্যদের জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। সেই জায়গা থেকেই গৌরব দত্তের সঙ্গে তাঁর মানসিক সংযোগ তৈরি হয়। দু’জনেই বিশ্বাস করেন, প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ মানুষের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে।
বিয়ের পর আপাতত কাজে কোনও বিরতি নিচ্ছেন না দীপান্বিতা। বরং নতুন মেগার শুটিং নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। খুব ঘনিষ্ঠ মহল ছাড়া নতুন সংসার নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “কিছু সম্পর্ক আলোচনার নয়, অনুভবের।” এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই যেন তাঁর ব্যক্তিত্বের ছাপ স্পষ্ট।
দীপান্বিতা রক্ষিত বাংলা টেলিভিশনের এমন এক নাম, যিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা, সাবলীল উপস্থিতি এবং চরিত্রের গভীরতা দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন। বহু বছর ধরে টেলিভিশনে কাজ করলেও কখনও বিতর্ক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের খবরের শিরোনামে থাকতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং তিনি সবসময়ই নিজের কাজের মাধ্যমেই পরিচিত হতে চেয়েছেন। সেই কারণেই তাঁর বিয়ের খবর অনেকের কাছেই ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, দীপান্বিতার জীবনসঙ্গী গৌরব দত্ত পেশায় একজন পশুচিকিৎসক। তিনি বিনোদুনিয়ার কেউ নন এবং ক্যামেরার ঝলকানির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসাই দু’জনের আলাপের মূল সূত্র। প্রায় চার বছর আগে একটি পোষ্যের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রথম দেখা হয় তাঁদের। সেই আলাপ থেকেই শুরু বন্ধুত্ব, আর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ায় গভীর সম্পর্কে। গত এক বছর ধরে তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন, যদিও তা বাইরে কাউকে বুঝতে দেননি।
দীপান্বিতা বরাবরই পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত নিজের পোষ্যদের সময় দেন। অনেক সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্যদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ভাগ করে নেন। রাস্তার অসুস্থ বা আহত প্রাণীদের সাহায্যে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তাঁকে বহুবার দেখা গেছে। পশু কল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও তিনি যুক্ত। সেই জায়গা থেকেই গৌরব দত্তের সঙ্গে তাঁর মানসিক মিল তৈরি হয়। দু’জনেই বিশ্বাস করেন, প্রাণীদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং সহানুভূতি মানুষের মানসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
দীর্ঘ সময় একে অপরকে বোঝার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কোনও তাড়াহুড়ো নয়, বরং পরিণত ভাবনাচিন্তা করেই এই সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছেন দীপান্বিতা ও গৌরব। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই সম্পন্ন হয়েছে বিয়ের যাবতীয় প্রক্রিয়া। খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয় ও বন্ধুদের উপস্থিতিতেই আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের দিন দীপান্বিতার সাজ ছিল একেবারেই সাধারণ অথচ মার্জিত। সোনালি রঙের পোশাকে, হালকা গয়না আর স্বাভাবিক মেকআপে তাঁকে দেখা যায়। কোনও ভারী সাজ বা জাঁকজমক নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিত্বের মতোই শান্ত ও রুচিশীল। সেই বিশেষ দিনের কয়েকটি ছবি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন তিনি। ছবিগুলিতে নতুন জীবনের আনন্দ, প্রশান্তি আর আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট ধরা পড়ে।
ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায়। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী থেকে শুরু করে পরিচালক, প্রযোজক এবং অনুরাগীরা—সকলেই শুভকামনা জানান দীপান্বিতাকে। বিশেষ করে তাঁর অনস্ক্রিন স্বামী হিসেবে পরিচিত অভিনেতা রাহুল মজুমদারের শুভেচ্ছাবার্তা নজর কাড়ে। এছাড়াও বহু সহ-অভিনেত্রী আবেগঘন বার্তায় তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
অনুরাগীদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, বাস্তব জীবনের এই সুখ দীপান্বিতার অভিনয়ে আরও পরিণত ছাপ ফেলবে। অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত জীবনে স্থিরতা একজন অভিনেতার কাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীপান্বিতার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই ধারণা।
এই মুহূর্তে পেশাগত দিক থেকেও দীপান্বিতার সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টার জলসার পর্দায় নতুন একটি মেগা নিয়ে তিনি ফিরছেন। এই ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্রটি নাকি গল্পের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন পর তাঁকে আবার শক্তিশালী, দৃঢ়চেতা এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। ‘খুকুমণি’ নামের এই চরিত্রটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
বিয়ের পরেও কাজে কোনও বিরতি নিচ্ছেন না দীপান্বিতা। বরং শুটিং নিয়েই ব্যস্ত তাঁর দিন। খুব কাছের মানুষ ছাড়া নতুন সংসার বা ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে বেশি কথা বলতে নারাজ তিনি। তাঁর মতে, জীবনের কিছু সম্পর্ক প্রচারের নয়, অনুভবের। এই সংযত মনোভাবই বরাবর তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মনে করছেন, ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে থাকা একজন জীবনসঙ্গী দীপান্বিতার জীবনে ভারসাম্য এনে দেবে। গৌরব দত্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ভিত্তি যে বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া আর পারস্পরিক সম্মান—তা তাঁদের সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট। গ্ল্যামারের বাইরে এক সাধারণ জীবনের স্বাদ পেতেই হয়তো এমন জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী।
ভবিষ্যতে সামাজিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, সময় ও কাজের চাপ কমলে পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুদের নিয়ে একটি ছোট অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও দীপান্বিতা নিজে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত জীবনে নতুন শুরু এবং পেশাগত জীবনে নতুন গল্প—দু’য়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন দীপান্বিতা রক্ষিত। আইনি বিয়ের মাধ্যমে জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এখন তাঁর লক্ষ্য একটাই—নিজের কাজ দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা আরও একবার জয় করা, আর ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি ও সুখ বজায় রাখা।
দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, বাস্তব জীবনের সুখ তাঁর অনস্ক্রিন চরিত্রেও নতুন রঙ যোগ করবে। ‘খুকুমণি’ হিসেবে যে প্রাণবন্ত, দৃঢ়চেতা চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে, তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের দীপান্বিতার নতুন অধ্যায়ের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত জীবনে নতুন শুরু এবং পেশাগত জীবনে নতুন গল্প—দু’য়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন দীপান্বিতা রক্ষিত। আইনি বিয়ের মাধ্যমে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এখন তাঁর লক্ষ্য একটাই—সুখী থাকা এবং নিজের কাজ দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা আরও একবার জয় করা। অনুরাগীরাও অপেক্ষায়, নতুন জীবনের দীপান্বিতা ঠিক কতটা নতুনভাবে ধরা দেবেন স্টার জলসার পর্দায়।