প্রথম ছবিকে ঘিরে বিতর্কের পর ধুরন্ধর ২ মুক্তির আগে প্রতিবেশী দেশের দর্শকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা পরিচালকের প্রথম ছবিকে ঘিরে বিতর্কের পর ধুরন্ধর ২ মুক্তির আগে প্রতিবেশী দেশের দর্শকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা পরিচালকের।
গত বছরের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া বলিউডের অ্যাকশনধর্মী ছবি ‘ধুরন্ধর’ বক্সঅফিসে কার্যত ঝড় তুলেছিল। মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিটি এক হাজার কোটি টাকার ক্লাবে জায়গা করে নেয়। এই সাফল্যের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ছবির দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে প্রবল আগ্রহ। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাত্র তিন মাসের মাথায় মুক্তি পেতে চলেছে ছবির সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’।
তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি প্রথম ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্কও। প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের একাংশের দাবি ছিল, ছবিটি নাকি পাকিস্তান-বিরোধী। সেই অভিযোগ নিয়েই আবারও আলোচনায় এসেছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। দ্বিতীয় পর্ব মুক্তির আগে তাই পাকিস্তানি দর্শকদের উদ্দেশে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ছবির পরিচালক আদিত্য ধর।
মুক্তির পর থেকেই দর্শকপ্রিয়তার শিখরে উঠেছিল ‘ধুরন্ধর’। অ্যাকশন, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং গ্যাংস্টার জগতের কাহিনি—এই তিন উপাদানের মিশেলে তৈরি হয়েছিল ছবির গল্প। দর্শকের বিপুল সাড়া পাওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিটি এক হাজার কোটির ব্যবসা করে ফেলে। বলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে এত দ্রুত এই মাইলফলক ছোঁয়া ছবির সংখ্যা খুবই কম।
এই সাফল্যই নির্মাতাদের উৎসাহ দেয় দ্বিতীয় পর্ব তৈরি করার জন্য। ফলে খুব দ্রুত শুরু হয়ে যায় সিক্যুয়েলের কাজ।
‘ধুরন্ধর’ ছবির একটি বড় অংশে দেখানো হয়েছিল পাকিস্তানের করাচির লিয়ারি অঞ্চলের গ্যাংস্টারদের সংঘাত। লিয়ারি শহর বহু বছর ধরেই অপরাধ জগতের জন্য পরিচিত। ছবিতে সেই বাস্তব প্রেক্ষাপটকেই তুলে ধরা হয়েছিল। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এই কারণেই মুক্তির পরে পাকিস্তানের একাংশের অভিযোগ ছিল, ছবিটি নাকি পাকিস্তানকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে। সেই বিতর্কের জেরে পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশে ছবিটি নিষিদ্ধও করা হয়। পাকিস্তানেও আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তি পায়নি ‘ধুরন্ধর’।
তবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ছবিটি পাকিস্তানি দর্শকের কাছে পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগেনি। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং অননুমোদিত মাধ্যমে ছবিটি সেখানে দেখা হয়েছে বলে খবর। ফলে সরকারি ভাবে মুক্তি না পেলেও অনেকেই ইতিমধ্যেই ‘ধুরন্ধর’ দেখে ফেলেছেন।
এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় পর্বের মুক্তি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—ছবিটি আদৌ পাকিস্তানে মুক্তি পাবে কি না।
এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুলেছেন পরিচালক আদিত্য ধর। তাঁর বক্তব্য, ছবির মূল উদ্দেশ্য কোনও দেশের নাগরিকদের আক্রমণ করা নয়।
আদিত্য বলেন,
“আমার মনে হয় পাকিস্তানি দর্শকেরা যদি আমাদের উপর আস্থা রাখেন, তা হলে তাঁদের ছবিটি দেখা উচিত। আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আমরা পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না।”
পরিচালকের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি ছবির রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বদলে গল্পের মূল বার্তাটিকেই গুরুত্ব দিতে চাইছেন।
প্রথম ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছিল রহমান বালোচ নামের এক চরিত্রকে ঘিরে। সেই চরিত্রের মৃত্যু দিয়েই শেষ হয়েছিল ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম পর্ব। ফলে দ্বিতীয় ছবিতে গল্পে আসছে নতুন মোড়।
সিক্যুয়েলে মূল চরিত্রে দেখা যাবে বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংহকে। তিনি অভিনয় করছেন হামজা নামের এক রহস্যময় চরিত্রে। ছবির কাহিনি মূলত এই চরিত্রকে কেন্দ্র করেই এগোবে।
নির্মাতাদের দাবি, দ্বিতীয় ছবিতে অ্যাকশন, সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা আরও অনেক বেশি থাকবে।
‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম পর্বেই ছিল বিস্ফোরক অ্যাকশন দৃশ্য, বন্দুকযুদ্ধ এবং গ্যাংস্টারদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। তবে নির্মাতারা জানিয়েছেন, সিক্যুয়েলে সেই মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এ নাকি আগের চেয়েও বেশি হিংসাত্মক দৃশ্য দেখা যাবে। ফলে রক্তারক্তি, প্রতিশোধ এবং রাজনৈতিক সংঘাত—এই তিনের মিশেলে ছবিটি আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই দাবি নির্মাতাদের।
ছবিটি মুক্তির আগেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। অগ্রিম বুকিং নিয়েও ইতিমধ্যেই নানা রেকর্ডের কথা শোনা যাচ্ছে। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, প্রথম ছবির সাফল্য যদি দ্বিতীয় পর্বেও বজায় থাকে, তা হলে ‘ধুরন্ধর’ সিরিজ বলিউডের অন্যতম বড় অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হতে পারে।
সিনেমার জগতে একটি পুরোনো প্রবাদ প্রায়ই শোনা যায়—“যত বিতর্ক, তত প্রচার।” বহু ছবির ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, মুক্তির আগে বা পরে তৈরি হওয়া বিতর্ক কখনও কখনও সেই ছবির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। দর্শকের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়, আলোচনা বাড়ে, সামাজিক মাধ্যমে মতামতের ঝড় ওঠে। ফলস্বরূপ ছবিটি নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়, তা অনেক সময় নির্মাতাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়ায়।
‘ধুরন্ধর’ ছবির ক্ষেত্রেও অনেকে ঠিক এই ঘটনাই ঘটতে দেখেছেন। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা শুধু সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পাকিস্তানকে ঘিরে ছবির কাহিনি এবং কয়েকটি রাজনৈতিক ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে কিছু মহলে আপত্তি ওঠে। সেই আপত্তিই ধীরে ধীরে বিতর্কের আকার নেয়।
অনেক সমালোচকের মতে, ছবিতে দেখানো ঘটনাপ্রবাহ এবং চরিত্রগুলির উপস্থাপনা পাকিস্তানকে নেতিবাচক ভাবে তুলে ধরেছে। যদিও নির্মাতারা বারবার জানিয়েছেন, ছবির উদ্দেশ্য কোনও রাষ্ট্র বা জাতিকে আক্রমণ করা নয়; বরং গল্পের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কিছু বাস্তব রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবু বিতর্ক থামেনি। বরং সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গিও উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা সীমান্তবর্তী উত্তেজনার বিষয়গুলি যখন সিনেমার গল্পে ব্যবহার করা হয়, তখন তা নিয়ে বিতর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বরং এই ধরনের বিতর্ক অনেক সময় ছবির প্রচারকেই আরও তীব্র করে তোলে।
‘ধুরন্ধর’-এর ক্ষেত্রেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। পাকিস্তান-বিরোধী অভিযোগ যত সামনে এসেছে, ততই দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে। কেউ জানতে চেয়েছেন, সত্যিই কি ছবিটি এতটা বিতর্কিত? আবার কেউ দেখার পর নিজস্ব মতামত তৈরি করতে চেয়েছেন।
ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, ছবিটি বক্সঅফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায়। অনেকেই মনে করেন, ছবির অ্যাকশন, গল্প এবং তারকাদের অভিনয়ের পাশাপাশি এই বিতর্কও দর্শকদের আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করেছিল।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনও ভারতীয় ছবিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিক ছবি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কখনও তা প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে, কখনও আবার নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
‘ধুরন্ধর’-এর ক্ষেত্রেও সেই ধরনের পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিছু পশ্চিম এশীয় দেশে ছবিটি প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল বলে খবর সামনে আসে। পাকিস্তানেও ছবিটি আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তি পায়নি।
তবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান ডিজিটাল যুগে কোনও ছবিকে পুরোপুরি আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম বা অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছবিটি বহু দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে সরকারি ভাবে মুক্তি না পেলেও অনেক পাকিস্তানি দর্শক ইতিমধ্যেই ‘ধুরন্ধর’ দেখে ফেলেছেন বলে জানা যায়।
এই পরিস্থিতি আবার একটি নতুন আলোচনার জন্ম দেয়—যখন কোনও ছবিকে নিষিদ্ধ করা হয়, তখন কি সত্যিই সেই ছবির প্রভাব কমে যায়? নাকি উল্টোভাবে মানুষের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়?
অনেকের মতে, দ্বিতীয় ঘটনাটিই বেশি ঘটে। কারণ কোনও কিছুকে নিষিদ্ধ করা হলে মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতাই হয় সেটি সম্পর্কে আরও জানতে চাওয়া।
সিনেমার বাজারে দর্শকের কৌতূহল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোনও ছবির ট্রেলার, গান, পোস্টার বা গল্প যদি দর্শকের মনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, তা হলে সেই ছবি মুক্তির আগেই আলোচনায় চলে আসে।
‘ধুরন্ধর’ সিরিজের ক্ষেত্রেও ঠিক সেই ঘটনাই ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রথম ছবির সাফল্যের পর থেকেই দর্শকেরা জানতে চাইছিলেন, পরবর্তী গল্পে কী হতে চলেছে। সেই সঙ্গে বিতর্কের বিষয়টিও আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
যখন কোনও ছবিকে ঘিরে বিভিন্ন মতামত তৈরি হয়, তখন দর্শকের একটি বড় অংশ নিজে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চান। এই মনস্তত্ত্বই অনেক সময় সিনেমার ব্যবসাকে বাড়িয়ে দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। কোনও বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ সেই আলোচনা দেখতে পান এবং নিজেদের মতামত জানান। ফলে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক অনেক সময় প্রচারের কাজও করে দেয়।
এখন সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। প্রথম ছবির সাফল্যের পরে দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। দর্শকেরা জানতে চাইছেন, গল্প কোন দিকে এগোবে, নতুন চরিত্রেরা কীভাবে কাহিনিতে প্রভাব ফেলবে, এবং আগের ছবির তুলনায় অ্যাকশন কতটা তীব্র হবে।
নির্মাতাদের দাবি, দ্বিতীয় ছবিতে সংঘর্ষ এবং নাটকীয়তার মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দর্শকেরা আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা পাবেন।
এই ঘোষণার পর থেকেই ছবিটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি আগের ছবির চেয়েও বড় হিট হতে পারে। আবার কেউ মনে করছেন, এত প্রত্যাশার চাপ সামলানো সহজ হবে না।
প্রথম ছবির কাহিনিতে যে চরিত্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাদের অনেকেরই গল্প দ্বিতীয় ছবিতে নতুন মোড় নিতে চলেছে। বিশেষ করে নতুন নায়ক চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প এগোবে বলে জানা গিয়েছে।
এই নতুন চরিত্রের মাধ্যমে গল্পে প্রতিশোধ, সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ হবে। ফলে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ শুধুমাত্র একটি সিক্যুয়েল নয়, বরং গল্পের এক নতুন অধ্যায় হিসেবেই সামনে আসছে।
অনেক চলচ্চিত্র বিশ্লেষকের মতে, কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় ছবির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল—প্রথম ছবির সাফল্যকে অতিক্রম করা। দর্শকের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে, এবং গল্পে নতুনত্ব আনাও জরুরি হয়ে ওঠে।
প্রথম ছবিকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা দ্বিতীয় ছবির ক্ষেত্রেও ফিরে আসতে পারে কি না—এই প্রশ্নও এখন অনেকের মনে।
যেহেতু ছবির গল্পে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সীমান্তবর্তী উত্তেজনার বিষয় রয়েছে, তাই সেই নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে নির্মাতারা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য একটি শক্তিশালী গল্প বলা।
পরিচালক আদিত্য ধরও এই বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ছবিটি কোনও দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়; বরং সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি অবস্থান তুলে ধরে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ছবির মূল বিষয়বস্তু মানবিক এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের গল্প, যা কল্পনার জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সব বিতর্ক, আলোচনা এবং প্রত্যাশার মাঝেই এখন নজর আসন্ন মুক্তির দিকে। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তি পাওয়ার পরই বোঝা যাবে, ছবিটি দর্শকের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে।
প্রথম ছবির মতোই কি দ্বিতীয় পর্বও বক্সঅফিসে সাফল্য পাবে? নাকি দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে মুক্তির পরেই।
তবে একটি বিষয় এখনই স্পষ্ট—মুক্তির আগেই ছবিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। বিতর্ক, প্রচার এবং দর্শকের কৌতূহল—এই তিনের মিশ্রণে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
বলিউডে বর্তমানে সিক্যুয়েল এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ছবির সংখ্যা বাড়ছে। দর্শকেরা যখন কোনও গল্পের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করেন, তখন সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায় জানার আগ্রহও বাড়ে।
‘ধুরন্ধর’ সিরিজের ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ছবির সাফল্য এবং বিতর্ক—দুটিই মিলিয়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে। তবে মুক্তির আগেই ছবিটি যে আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
দর্শকেরা এখন অপেক্ষা করছেন, বড়পর্দায় এই নতুন অধ্যায় কেমন ভাবে উন্মোচিত হয়