সোমবার সন্ধ্যায় ২৮ বছর বয়সী এক মহিলা যাত্রীকে অটোরিকশার ভেতর যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহিলা স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। আতঙ্কিত হয়ে তিনি চিৎকার করে সাহায্য চান এবং পথচারীদের সহায়তায় চালককে আটক করা হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ও ৫০৯ ধারায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি গণপরিবহনে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক মহিলা যাত্রীকে অটোরিকশা চালক যৌন হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং শহরে গণপরিবহনে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহিলা স্থানীয় বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার জন্য প্রাইভেট অটোরিকশায় উঠেছিলেন। যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চালক অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করতে শুরু করে। যাত্রাপথের মাঝেই সে মহিলার প্রতি অশালীনভাবে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, যা গাড়ির ভেতরেই ঘটে। চালকের এই আচরণে আতঙ্কিত হয়ে মহিলা সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন এবং চালককে গাড়ি থামাতে বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, অটোটি যখন একটি ব্যস্ত মোড়ের কাছে গতি কমায়, তখন মহিলা কোনোভাবে লাফিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যান। তাঁর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের পথচারী ও দোকানদাররা ছুটে আসেন এবং তাঁকে সাহায্য করেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে পালানোর চেষ্টা করা চালককে ধরে ফেলে এবং পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয় থানার পুলিশ কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, ধৃত চালকের বয়স ৩২ বছর এবং সে কাছাকাছি এলাকারই বাসিন্দা। পুলিশের পক্ষ থেকে অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারা এবং ৫০৯ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩৫৪ ধারা মহিলার শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত, আর ৫০৯ ধারা অশালীন শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা কাজের মাধ্যমে মহিলার মানহানি সংক্রান্ত। মঙ্গলবার ওই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয় এবং আদালত তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। তদন্তকারীরা ঘটনার পূর্ণ চিত্র পুনর্গঠনের জন্য নিকটবর্তী দোকান ও ট্রাফিক সার্ভিল্যান্স ক্যামেরার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, এই ফুটেজ মহিলার বিবৃতি যাচাই করতে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও এমন কোনো অভিযোগ ছিল কি না তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মহিলাকে পুলিশ চিকিৎসা ও মানসিক পরামর্শের সহায়তা দিয়েছে। পুলিশের মহিলা সেলও তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যাতে তার নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। ওই পুলিশ অফিসার বলেন, মহিলা ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন, তবে এমন ঘটনা মানসিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী আঘাত ফেলে যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে গণপরিবহনে মহিলাদের নিরাপত্তা একটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন শহরে একাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে, যদিও সরকার ও প্রশাসনের তরফে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা প্রচার অভিযান চালানো হয়েছে। নারী অধিকার কর্মী ও স্থানীয় সংগঠনগুলো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি তুলেছেন যে অটোরিকশা চালকদের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু করতে হবে। সমাজকর্মী সুশমিতা দে বলেন, প্রতিটি বাণিজ্যিক গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং ও জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং সময় বা স্থান নির্বিশেষে মহিলাদের যাত্রা নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটির তীব্র বিরোধিতা করে দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন। অনেকেই প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন অটোরিকশা চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার আগে সম্পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়। এক দোকানদার জানান, অনেক অটো রাস্তায় চলছে যাদের সঠিক নিবন্ধনই নেই এবং সরকারের উচিত এই বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি করা। পুলিশ জানিয়েছে যে তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা হবে এবং অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এক সিনিয়র অফিসার বলেন, এই ঘটনাটি একটি দৃষ্টান্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো চালক এমন কাজ করার সাহস না পায়। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রতিদিনের যাত্রায় মহিলারা কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েন। সচেতনতা ও পুলিশের নজরদারি যতই বাড়ুক না কেন, বিশেষজ্ঞদের মতে প্রকৃত নিরাপত্তা তখনই সম্ভব, যখন সমাজ সম্মিলিতভাবে এমন অপরাধকে প্রতিরোধ করবে। শিক্ষা, দায়িত্ববোধ ও গণপরিবহনের ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যেখানে মহিলারা নির্ভয়ে চলাচল করতে পারবেন।