Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আইরিশদের বিরুদ্ধে বৈভবের অভিষেক নিয়ে সংশয়, ফর্মে থাকা কাউকে বসাতে চান না ব্যাটিং কোচ

শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নজর থাকবে বৈভব সূর্যবংশীর সম্ভাব্য অভিষেকের দিকে। তরুণ তারকাকে টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। শুক্রবার মাঠে নামতে চলেছে ভারতীয় দল, আর সেই ম্যাচের আগেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর নাম। সদ্য জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এই তরুণ ব্যাটারকে টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন বহু সমর্থক। আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং, নির্ভীক মানসিকতা এবং বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষমতা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ক্রিকেটমহলের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই কি অভিষেক হবে বৈভবের?

তবে ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবির থেকে যে বার্তা পাওয়া গেল, তাতে বৈভবের অভিষেক এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, বৈভব নিঃসন্দেহে অসাধারণ প্রতিভা হলেও তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ফর্মে থাকা কোনও ব্যাটারকে বসানো হবে না। এই মন্তব্যের পরেই আরও জোরালো হয়েছে প্রথম একাদশ নিয়ে জল্পনা। কারণ বৈভবকে দলে জায়গা দিতে হলে অভিষেক শর্মা বা সঞ্জু স্যামসনের মতো ছন্দে থাকা ব্যাটারদের মধ্যে কাউকে বাইরে রাখতে হতে পারে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি মোটেও সহজ সিদ্ধান্ত নয়।

শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে ভারত। এই সিরিজে তরুণ এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মিশ্রণে দল গড়া হয়েছে। একদিকে যেমন নতুন প্রতিভাদের পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যও সামনে রাখছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই শুধু আবেগ বা প্রত্যাশার ভিত্তিতে নয়, মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি, দলের কম্বিনেশন এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করেই প্রথম একাদশ বেছে নেওয়া হবে।

বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে আগ্রহের কারণও যথেষ্ট। খুব কম বয়সেই তিনি যে ধরনের আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তা ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন আশার আলো তৈরি করেছে। তাঁর ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল আক্রমণাত্মক মানসিকতা। পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান তোলা, পেসারদের বিরুদ্ধে ভয়ডরহীন শট খেলা এবং বড় বোলারদের সামনে নার্ভ ধরে রাখা—এই গুণগুলো তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। সীতাংশু কোটাকও সাংবাদিক বৈঠকে বৈভবের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, বৈভব খুব প্রতিভাবান এবং তার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রবণতা রয়েছে। আইপিএলসহ অন্যান্য ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে বোঝা যায়, বড় মঞ্চে খেলতে তিনি ভয় পান না।

বিশেষ করে জফ্রা আর্চারের মতো দ্রুতগতির বোলারের বিরুদ্ধে বৈভব যেভাবে খেলেছেন, সেটি নির্বাচক এবং কোচিং স্টাফদের নজর এড়ায়নি। একজন তরুণ ব্যাটারের ক্ষেত্রে এমন নির্ভীক মনোভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু টেকনিক থাকলেই হয় না, প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা। বৈভব সেই দিক থেকে ইতিমধ্যেই নিজের সম্ভাবনার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সময় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব দ্রুত সুযোগ দিলে যেমন চাপ তৈরি হতে পারে, তেমনই সঠিক সময়ের অপেক্ষা করলে ক্রিকেটার আরও পরিণত হয়ে উঠতে পারেন।

ভারতীয় দলে বর্তমানে ওপেনিং এবং টপ অর্ডারে প্রতিযোগিতা বেশ কঠিন। অভিষেক শর্মা সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলকে পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত শুরু এনে দিতে পারে। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনও অভিজ্ঞ এবং ম্যাচ উইনার হিসেবে পরিচিত। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সঞ্জুর স্ট্রোক প্লে, উইকেটকিপিং দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা তাঁকে দলে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে বৈভবকে জায়গা করে দিতে হলে এমন কাউকে বাইরে রাখতে হবে, যিনি নিজেও ভালো ছন্দে রয়েছেন। এখানেই কঠিন হয়ে পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত।

সীতাংশু কোটাকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভারতীয় দল শুধু ভবিষ্যৎ ভাবনায় তরুণদের সুযোগ দেবে, এমন নয়। পারফরম্যান্সই হবে প্রধান মাপকাঠি। যে ক্রিকেটাররা বর্তমানে ভালো খেলছেন, তাঁদের বাদ দেওয়া হবে না শুধুমাত্র নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। এই নীতি দলের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখে। একই সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদেরও বুঝিয়ে দেয়, জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে শুধু প্রতিভা নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং সঠিক কম্বিনেশনের অপেক্ষাও জরুরি।

news image
আরও খবর

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজকে অনেকেই তরুণদের পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। তুলনামূলকভাবে কম চাপের সিরিজে নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও দলকেই হালকা ভাবে নেওয়া যায় না। আয়ারল্যান্ড সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে বড় দলগুলিকে চাপে ফেলেছে। তাদের দলে এমন কিছু ক্রিকেটার রয়েছেন, যারা নিজেদের দিনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাই ভারতীয় দল একদিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও, অন্যদিকে জয় নিশ্চিত করার মতো শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে চাইবে।

বৈভবের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রত্যাশার চাপ। ভারতীয় ক্রিকেটে কোনও তরুণ ক্রিকেটার আলোচনায় উঠে এলেই তাঁকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় সেই চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বৈভব এখন সেই পর্যায়ে রয়েছেন, যেখানে তাঁকে নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি ইনিংস, এমনকি প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া না পাওয়াও খবরের শিরোনাম হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো তাঁকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে চাইছে।

শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বও এই সিরিজে বিশেষ নজরে থাকবে। নতুন অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সামনে বড় দায়িত্ব। তরুণ ক্রিকেটারদের সামলানো, দলের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া—সব দিক থেকেই তাঁকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। বৈভবকে খেলানো হবে কি না, সেটিও অধিনায়ক ও কোচিং স্টাফের যৌথ সিদ্ধান্তের অংশ। যদি প্রথম ম্যাচে বৈভব সুযোগ না পান, তাতেও তাঁকে নিয়ে আশাহত হওয়ার কারণ নেই। সিরিজে পরবর্তী ম্যাচগুলিতে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁর অভিষেক হতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেটে এমন উদাহরণ বহুবার দেখা গেছে, যেখানে কোনও তরুণ প্রতিভা দলে থাকলেও প্রথম ম্যাচেই সুযোগ পাননি। কিন্তু সঠিক সময়ে সুযোগ পেয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। বৈভবের ক্ষেত্রেও হয়তো একই পথ অনুসরণ করতে চাইছে দল। তাঁকে আন্তর্জাতিক ড্রেসিংরুমের পরিবেশ বোঝার, সিনিয়রদের সঙ্গে সময় কাটানোর এবং ম্যাচ প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাঁর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে।

তবে সমর্থকদের আগ্রহ যে কমছে না, সেটিও সত্যি। বৈভবকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন প্রতিভাকে যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখা উচিত। তাঁদের যুক্তি, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভয়ডরহীন তরুণ ব্যাটারদের গুরুত্ব অনেক বেশি। অন্যদিকে অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, তাড়াহুড়ো না করে তাঁকে সঠিক পরিস্থিতিতে সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যর্থতার চাপ অনেক বেশি, বিশেষ করে যখন কোনও ক্রিকেটারকে ঘিরে আগে থেকেই প্রচুর প্রত্যাশা তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে কৌতূহলই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। তিনি খেলবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ সীতাংশু কোটাকের প্রশংসা প্রমাণ করছে, বৈভবকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা, কখন তিনি ভারতীয় দলের জার্সি পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের যাত্রা শুরু করেন।

প্রথম ম্যাচে যদি বৈভব সুযোগ পান, তবে সেটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। আর যদি তিনি না-ও খেলেন, তবুও তাঁর অপেক্ষা খুব দীর্ঘ হবে বলে মনে হয় না। কারণ প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মিশেলে বৈভব ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি বড় মঞ্চের জন্য তৈরি হচ্ছেন। এখন সিদ্ধান্ত নেবে সময়, দলীয় কম্বিনেশন এবং ম্যাচ পরিস্থিতি। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর যে বৈভব সূর্যবংশীর দিকেই থাকবে, তা বলাই যায়।

Preview image