Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফাতিমা সানা শেখের গোপন স্বাস্থ্য সংকট: কেন নিজেকে বন্দি করে রাখতেন?

বলিউডের প্রতিভাবান অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ, যিনি আমির খানের দঙ্গল সিনেমায় গীতা ফোগাটের চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তিনি একসময় এক গোপন স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন যা তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছিল। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায়ই তিনি নিজেকে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি করে রাখতেন, বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমদিকে তিনি নিজেই বুঝতে পারেননি যে তাঁর শরীরে কী ধরনের রোগ বাসা বেঁধেছে। অতিরিক্ত ক্লান্তি, হতাশা, উদ্বেগ এবং সামাজিক জীবন থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে তাঁর দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি জানতে পারেন যে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সম্ভাব্য অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর এই সাহসী স্বীকারোক্তি এবং পুনরুদ্ধারের গল্প আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে, বিশেষত যারা নীরবে একই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

ফাতিমা সানা শেখ, বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী, তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার প্রথম বড় সিনেমা 'দঙ্গল' যা ২০১৬ সালে মুক্তি পায়, তাকে পুরো বিশ্বে পরিচিতি দেয়। কিন্তু ফাতিমা সানা শেখের জীবন শুধুমাত্র তার ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তার ব্যক্তিগত জীবন এবং বিশেষ করে তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা ছিল তার জীবনের একটি বড় অজানা অধ্যায়, যা তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গোপন রেখেছিলেন। ফাতিমা সানা শেখের গোপন স্বাস্থ্য সংকট ছিল তার মৃগী রোগ এবং বুলিমিয়া নামক এক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। মৃগী রোগের কারণে ফাতিমা প্রায়শই খিঁচুনি এবং অবচেতন অবস্থায় চলে যেতেন। এটি তার জীবনের এক বিপজ্জনক অভিজ্ঞতা ছিল এবং সেই সময়েই তার জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে। মৃগী রোগের লক্ষণ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক অস্বাভাবিকতা ঘটে, যার ফলে খিঁচুনি এবং শারীরিক অস্থিরতা দেখা দেয়। কখনো কখনো, এমনকি বিমান চলাকালীন সময়েও তাকে এই রোগের প্রকোপে পড়তে হয়েছিল, যা তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। এটাই তার জীবনের একটি বড় সংকট ছিল, কারণ এতে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছিল। এছাড়া, ফাতিমা সানা শেখ আরেকটি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, যার নাম 'বুলিমিয়া'। এটি একটি খাওয়ার সমস্যা যা একজন ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। বুলিমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত খাবার খেয়ে পরে তা বমি করে দেয় বা অতিরিক্ত ব্যায়াম করে তা বের করে ফেলার চেষ্টা করেন। এই পরিস্থিতি তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে, যা তার জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে।ফাতিমা সানা শেখ নিজে জানিয়েছিলেন যে তার খাবারের প্রতি সম্পর্ক ছিল ‘টক্সিক’। তিনি অতিরিক্ত খাবার খেতে শুরু করতেন এবং পরে নিজেকে দোষী মনে করতেন। অতিরিক্ত খাওয়ার পরে, তার মন খারাপ হয়ে যেত এবং তিনি নিজেকে আরও একটানা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করতেন। এভাবে খাবারের প্রতি তার অস্বাভাবিক আগ্রহ এবং তারপর সেই খাবারকে নিষ্কাশন করতে তার অতিরিক্ত প্রচেষ্টা তার শরীর এবং মনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠেছিল। এছাড়া, তার শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে, তিনি অনেক সময় নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছিলেন। বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে তিনি এক ধরনের নিঃসঙ্গতার মধ্যে চলে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি নিজের সমস্যাগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। এই অবস্থা তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ছিল। ফাতিমা সানা শেখ তার সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি নিজে জানতেন না কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন এবং কিভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসবেন। তবে, ফাতিমা সানা শেখ কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি জানতেন যে তার স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকবে না, যদি না তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তাই, তিনি ধীরে ধীরে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে শুরু করেন এবং তাঁর মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতার দিকে মনোনিবেশ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে, ফাতিমা সানা শেখ তার মৃগী রোগের জন্য সঠিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং বুলিমিয়ার চিকিৎসার জন্যও মানসিক সহায়তা নেন। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করেন এবং তার মানসিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল হয়।ফাতিমা সানা শেখ তার এই কঠিন সময়টি অতিক্রম করার জন্য অনেক ধৈর্য এবং সাহস প্রদর্শন করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তার সুস্থতার জন্য তাকে সাহায্য গ্রহণ করতে হবে এবং নিজের স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সঠিকভাবে কথা বলতে হবে। এটি তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি আর কখনও এই সমস্যাগুলিকে নিজের মধ্যে বন্দি রাখবেন না। ফাতিমা সানা শেখ বর্তমানে একটি সাহসী নারী হিসেবে পরিগণিত হন, যিনি তার ব্যক্তিগত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এসে তার অভিজ্ঞতা সকলের সামনে শেয়ার করেছেন। তার গল্প অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং তাদের দেখিয়েছে যে কোন ধরনের শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় পড়লেও, সঠিক সাহায্য নিয়ে সেই সমস্যাগুলির মোকাবিলা করা সম্ভব। তার এই সাহসিকতা তার ক্যারিয়ারে এবং ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানতেন, শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়া নয়, মানসিকভাবে সুস্থ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাতিমা সানা শেখের এই আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় মনোবল তাকে তার ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়ক হয়েছে। তার জীবন এখন সবার কাছে একটি প্রেরণার গল্প, যা প্রমাণ করে যে কোনো ধরনের সমস্যা বা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও যদি আপনি সাহসী হয়ে উঠেন এবং সঠিক সময়ে সাহায্য নেন, তবে আপনি যে কোনো পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। ফাতিমা সানা শেখ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল যে, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং একটিরও অবহেলা করা উচিত নয়। তার জীবন আমাদের শেখায় যে, কখনো কোনো সমস্যাকে ছোট করে না দেখে, সেই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে এবং নিজের সঠিক যত্ন নিতে হবে। আজ, ফাতিমা সানা শেখ তার কর্মজীবনে সফল এবং তার স্বাস্থ্য সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পর তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। তার সাহসিকতা এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে ভারতীয় সিনেমা জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়েছে, এবং তার জীবন অনুপ্রেরণার একটি উৎস হয়ে উঠেছে। ফাতিমা সানা শেখ তাঁর স্বাস্থ্য সংকট সম্পর্কে প্রকাশ্যে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন, যা অত্যন্ত সাহসী এবং প্রশংসনীয়। বলিউডে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কথা বলা এখনও একটি ট্যাবু বিষয়, এবং অনেক তারকা এই ধরনের সমস্যা গোপন রাখেন খ্যাতি এবং ক্যারিয়ারের ভয়ে। কিন্তু ফাতিমা বুঝেছিলেন যে তাঁর গল্প শেয়ার করা অন্যদের সাহায্য করতে পারে যারা একই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। বলিউডের গ্ল্যামারাস জীবনের বাইরে ফাতিমার বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে সর্বদা শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী দেখাতে হতো, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি ভেঙে পড়ছিলেন। তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে সেই সময়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলেছিলেন। প্রতিদিন সকালে বিছানা থেকে উঠতে কষ্ট হতো, সাধারণ কাজকর্ম করতে অসম্ভব মনে হতো এবং জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিলেন।বলিউডের প্রতিভাবান অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ, যিনি আমির খানের 'দঙ্গল' সিনেমায় গীতা ফোগাটের চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তিনি একসময় এক গোপন স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন যা তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছিল। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায়ই তিনি নিজেকে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি করে রাখতেন, বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমদিকে তিনি নিজেই বুঝতে পারেননি যে তাঁর শরীরে কী ধরনের রোগ বাসা বেঁধেছে। অতিরিক্ত ক্লান্তি, হতাশা, উদ্বেগ এবং সামাজিক জীবন থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে তাঁর দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি জানতে পারেন যে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সম্ভাব্য অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর এই সাহসী স্বীকারোক্তি এবং পুনরুদ্ধারের গল্প আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে, বিশেষত যারা নীরবে একই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।দীর্ঘদিন এই উপসর্গগুলোর সাথে লড়াই করার পর অবশেষে ফাতিমা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় যে তিনি একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।

news image
আরও খবর
Preview image