Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জয় ও মাহীর সম্পর্কে নতুন মোড়: বিচ্ছেদের পরদিনই একসঙ্গে!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় জুটি জয় এবং মাহিয়া মাহি সম্প্রতি তাঁদের বিচ্ছেদের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া এই দম্পতি তাঁদের সন্তানের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কিন্তু বিচ্ছেদ ঘোষণার মাত্র পরের দিনই যখন তাঁদের একসঙ্গে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল, তখন আবার নতুন করে জল্পনা শুরু হয়ে গেল। ভক্তরা এখন ভাবছেন তাঁরা কি সত্যিই আলাদা হতে চাইছেন নাকি সম্পর্কে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিনোদন জগতে তৈরি হয়েছে নানা তত্ত্ব ও আলোচনা। তাঁদের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ সবাইকে বিস্মিত এবং কৌতূহলী করে তুলেছে।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি জয় এবং মাহিয়া মাহি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলছিল বিনোদন মহলে। কখনও একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাঁদের, কখনও আবার দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। তবে সম্প্রতি যখন তাঁরা নিজেরাই বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করলেন, তখন ভক্তরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরের দিনই যখন দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেল, তখন আবারও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। আসলে কী ঘটছে জয় এবং মাহীর জীবনে? তাঁরা কি সত্যিই আলাদা হতে চাইছেন, নাকি এটা কোনো ভুল বোঝাবুঝির ফল? এই প্রশ্নগুলো এখন সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।জয় এবং মাহীর প্রেমের গল্প যেন এক সিনেমাটিক উপাখ্যান। দুজনেই বাংলা ছবির জগতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। তাঁদের অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বহুবার। কিন্তু যখন তাঁদের অফ-স্ক্রিন সম্পর্কের খবর সামনে এল, তখন ভক্তরা আরও বেশি উৎসাহিত হয়েছিলেন। দুজনের বিয়ে হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে, এবং তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সম্পর্কে চিড় ধরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে কম দেখা যাচ্ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তাঁরা একে অপরের সম্পর্কে তেমন কিছু পোস্ট করছিলেন না। এই সব কিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে তাঁদের সম্পর্কে সব ঠিক নেই।যখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা এল, তখন সেটা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। তবে ঘোষণার ভাষা এবং উপস্থাপনা বেশ পরিণত এবং সম্মানজনক ছিল। তাঁরা দুজনেই জানিয়েছিলেন যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং কল্যাণই তাঁদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। এই ধরনের পরিপক্ক বক্তব্য অনেকেই প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু বিনোদন জগতে যেমনটা হয়, কিছু একটা ঘটলেই তা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে যায়। ভক্তরা দুঃখিত হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁদের প্রিয় শিল্পীদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর চেষ্টা করছিলেন।তবে যা ঘটল তার পরের দিন, তা সবাইকে আবারও হতবাক করে দিল। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে জয় এবং মাহীকে একসঙ্গে দেখা গেল। শুধু তাই নয়, তাঁরা একসঙ্গে ছবিও তুলেছেন। সেই ছবিগুলো যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করল, তখন মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন। কেউ কেউ ভাবতে শুরু করলেন যে হয়তো বিচ্ছেদের ঘোষণাটা কোনো ভুল বোঝাবুঝি ছিল, অথবা তাঁরা ইতিমধ্যেই আবার একসঙ্গে ফিরে এসেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন যে এটা হয়তো তাঁদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ, কারণ তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা প্রজেক্ট থাকতেই পারে। তবে ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছিল না যে তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক কাজের জন্য একসঙ্গে ছিলেন। বরং তাঁদের মধ্যে একটা স্বাচ্ছন্দ্য এবং ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।বিচ্ছেদের পরেও একসঙ্গে থাকা বা দেখা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়, বিশেষ করে যখন একটি সন্তান জড়িত থাকে। অনেক দম্পতিই তাঁদের সন্তানের স্বার্থে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন। হয়তো জয় এবং মাহীও সেই পথেই হাঁটছেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন যে তাঁদের ব্যক্তিগত মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, তাঁদের সন্তানের কাছে তাঁরা দুজনেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধি থেকেই হয়তো তাঁরা একসঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করছেন, যাতে তাঁদের সন্তান কোনো মানসিক আঘাত না পায়। এই ধরনের পরিপক্বতা সত্যিই প্রশংসনীয়, কারণ অনেক সময় বিচ্ছেদের পর দম্পতিরা একে অপরের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই রাখতে চান না, যা তাঁদের সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।তবে অন্য একটি সম্ভাবনাও রয়েছে। হয়তো জয় এবং মাহী তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে পুনর্বিচার করছেন। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক দম্পতিই বুঝতে পারেন যে তাঁরা একে অপরের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। দূরত্ব কখনও কখনও সম্পর্কের মূল্য বুঝতে সাহায্য করে। হয়তো জয় এবং মাহীর ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তাঁরা হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে তাঁদের মধ্যে যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো সমাধানযোগ্য। হয়তো তাঁরা একসঙ্গে বসে কথা বলেছেন, তাঁদের অনুভূতি শেয়ার করেছেন, এবং একটা নতুন শুরুর সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সহজ নয়, বিশেষ করে যখন দুজনেই পেশাগতভাবে ব্যস্ত এবং জনপ্রিয়। কিন্তু যদি দুজনেই সত্যিকার অর্থে চেষ্টা করেন, তাহলে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব।বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এমন নজির আগেও দেখা গেছে। অনেক শিল্পী দম্পতি বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেও পরে আবার একসঙ্গে ফিরে এসেছেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন যে তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত, এবং কিছু সাময়িক সমস্যার কারণে সেই ভিত্তিকে নষ্ট করা উচিত নয়। জয় এবং মাহীর ক্ষেত্রেও হয়তো একই রকম কিছু ঘটছে। তাঁরা হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে তাঁদের একসঙ্গে থাকাটাই সবার জন্য ভালো, বিশেষ করে তাঁদের সন্তানের জন্য। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য একটি সম্পূর্ণ পরিবারের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো এই উপলব্ধিই তাঁদের আবার একসঙ্গে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।তবে এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে জয় এবং মাহী দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং দায়িত্বশীল মানুষ। তাঁরা তাঁদের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেবেন। বাইরের মানুষের জল্পনা কল্পনা বা মতামত তাঁদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না। তাঁরা যদি মনে করেন যে তাঁদের আলাদা থাকাটাই ভালো, তাহলে তাঁরা সেই পথেই যাবেন। আবার যদি তাঁরা মনে করেন যে তাঁরা তাঁদের সম্পর্ক আরেকবার চেষ্টা করতে চান, তাহলে সেটাও তাঁদের পছন্দ। ভক্ত এবং দর্শক হিসেবে আমরা শুধু তাঁদের সুখ এবং কল্যাণ কামনা করতে পারি। তাঁরা যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, সেটা যেন তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে ভালো হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।একসঙ্গে ছবি তোলার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া হাউস এবং বিনোদন সাংবাদিকরা নানা রকম তত্ত্ব দিচ্ছেন। কেউ বলছেন এটা একটা পাবলিসিটি স্টান্ট, যা তাঁদের আসন্ন প্রজেক্টের জন্য করা হচ্ছে। কেউ আবার মনে করছেন এটা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ, যেখানে তাঁরা বন্ধু হিসেবে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিশ্চিত যে তাঁরা আবার একসঙ্গে ফিরে আসছেন। এই সব তত্ত্বের মধ্যে কোনটা সত্যি, তা শুধু সময়ই বলতে পারবে। তবে যেটা স্পষ্ট, তা হল জয় এবং মাহী এখনও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তাঁরা একটা সভ্য এবং পরিপক্ব উপায়ে তাঁদের পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের প্রতিক্রিয়া বেশ মিশ্র। অনেকেই আশাবাদী যে তাঁদের প্রিয় জুটি আবার একসঙ্গে ফিরে আসবে। তাঁরা বিভিন্ন হৃদয় স্পর্শী বার্তা এবং কমেন্ট লিখছেন, যেখানে তাঁরা জয় এবং মাহীকে একসঙ্গে থাকার জন্য উৎসাহিত করছেন। অনেকে তাঁদের পুরনো ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করছেন, যেখানে দুজনকে খুব খুশি এবং প্রেমময় অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের নস্টালজিক পোস্টগুলো অন্যদেরও আবেগপ্রবণ করে তুলছে। তবে কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন যে এটা একটা ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাঁদের এই বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তাঁরা বলছেন যে জয় এবং মাহী যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব এবং তাঁদের সেই স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।পেশাগত দিক থেকে জয় এবং মাহী দুজনেই বেশ সফল। জয় বাংলা চলচ্চিত্রের একজন শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা, যার অনেকগুলো হিট ছবি রয়েছে। তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং পর্দায় উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে মাহীও একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা ছবিগুলো বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করেছে। তাঁদের অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি এতটাই শক্তিশালী যে দর্শকরা তাঁদের আরও একসঙ্গে দেখতে চান। এই পেশাগত সম্পর্ক হয়তো তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেও একটা ভূমিকা রাখছে। তাঁরা একে অপরকে পেশাদার হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, এবং সেই শ্রদ্ধা হয়তো তাঁদের আবার কাছে আসতে সাহায্য করছে।

news image
আরও খবর

 

Preview image