FIH জুনিয়র মেনস হকি বিশ্বকাপ ২০২৫ শুরু হতে চলেছে জাঁকজমকভাবে, আর ভারতের তরুণ হকি সেনারা প্রস্তুত বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের শক্তি দেখাতে। এই টুর্নামেন্ট গাইডে থাকছে ভারতের স্কোয়াড, পূর্ণ ম্যাচ সূচি, প্রতিপক্ষ দল, টিকিট বুকিং সংক্রান্ত তথ্য, এবং কোথায় কীভাবে লাইভ দেখা যাবে সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। এ বছর ভারতের দলে রয়েছে দেশের সেরা প্রতিভারা, যাদের লক্ষ্য একটাই বিশ্বকাপ জয়। মাঠের লড়াই, স্ট্র্যাটেজি, টিম কম্বিনেশন, এবং সম্প্রচার চ্যানেলসহ সমস্ত তথ্য জানতে পড়ুন এই সম্পূর্ণ প্রতিবেদন। হকি প্রেমীদের জন্য এটি একটি অবশ্য পাঠ্য বিশেষ গাইড।
আকর্ষণীয় শিরোনাম: FIH জুনিয়র মেনস হকি বিশ্বকাপ ২০২৫: ভারতীয় হকির নতুন দিগন্ত, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২৪ দলের আসর।
টুর্নামেন্টের তাৎপর্য: কেন এই টুর্নামেন্টটি শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্ব হকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ (ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর: ২৪টি দেশ)।
তারিখ ও স্থান: ২৮ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, চেন্নাই এবং মাদুরাই।
ভারতের লক্ষ্য: ঘরের মাঠে ৯ বছর পর তৃতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগ এবং গত দুই সংস্করণে চতুর্থ স্থানের হতাশা কাটানো।
পাঠকের জন্য বার্তা: এই নিবন্ধে থাকবে ভারতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড, ম্যাচ সূচি, ভেন্যু এবং বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ।
স্কোয়াড বিশ্লেষণ: হকি ইন্ডিয়ার ঘোষিত ১৮ সদস্যের স্কোয়াড এবং স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়দের তালিকা তুলে ধরা।
গোলকিপিং শক্তি: বিক্রমজিৎ সিং ও প্রিন্সদীপ সিং-এর উপর ভরসা।
ডিফেন্সের মেরুদণ্ড: অধিনায়ক রোহিত, তালেম প্রিয়োবার্তা এবং অভিজ্ঞ শারদানন্দ তিওয়ারির ভূমিকা।
হকি ইন্ডিয়া লীগের (HIL) প্রভাব: HIL-এর তরুণ তারকাদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ।
আদ্রোহিত এক্কা (তামিলনাড়ু ড্রাগনস), অজিত যাদব (HIL গভর্নিং কাউন্সিল টিম), ও সুনীল পিবি (বেদান্ত কলিঙ্গা ল্যান্সার্স) দলের শক্তি কীভাবে বাড়াচ্ছেন।
কোচিং ফ্যাক্টর: কিংবদন্তী গোলকিপার পিআর শ্রীজেশের কোচিংয়ে দলের প্রস্তুতির কৌশল এবং মানসিকতা।
গ্রুপ পর্বের আলোচনা: পুল B-তে ভারতের প্রতিপক্ষ চিলি, ওমান ও সুইজারল্যান্ড। এই গ্রুপে ভারতের অবস্থান এবং নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা।
প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা: তুলনামূলক বিশ্লেষণ। (উদাহরণ: ওমান ও চিলির বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য থাকবে, সুইজারল্যান্ড অঘটন ঘটাতে পারে।)
ভারতের ম্যাচ সূচি (বিস্তারিত আলোচনা):
২৮ নভেম্বর, বনাম চিলি (উদ্বোধনী ম্যাচ, চাপ সামলানোর পরীক্ষা)।
২৯ নভেম্বর, বনাম ওমান (টানা দুই দিন খেলার চ্যালেঞ্জ)।
২ ডিসেম্বর, বনাম সুইজারল্যান্ড (গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ)।
সময় ও ভেন্যু: সমস্ত ম্যাচ রাত ৮:০০/৮:৩০ মিনিটে, যা ঘরের মাঠের সুবিধা দেবে।
আধুনিক স্টেডিয়াম: দুটি বিশ্বমানের ভেন্যুর ভূমিকা।
মেয়র রাধাকৃষ্ণান হকি স্টেডিয়াম, চেন্নাই।
মাদুরাই আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়াম।
অবকাঠামোগত মান: আন্তর্জাতিক স্তরের খেলার জন্য সুবিধা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট।
তামিলনাড়ুর হকিতে অবদান: রাজ্যের হকি ঐতিহ্য এবং এই আয়োজন রাজ্যের তরুণ খেলোয়াড়দের কীভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
হকি ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্ত: FIH জুনিয়র বিশ্বকাপের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশাধিকারের ঐতিহাসিক ঘোষণা। এর প্রভাব কী হতে পারে? (গ্যালারি ভরে যাওয়া, খেলোয়াড়দের উদ্দীপনা)।
টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া: দর্শকদের জন্য ভার্চুয়াল টিকিট সুরক্ষিত করার সহজ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা।
বুকিং মাধ্যম: www.ticketgenie.in এবং হকি ইন্ডিয়া অ্যাপ।
পেপারলেস এন্ট্রি: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।
ডিজিটাল ফার্স্ট অ্যাপ্রোচ: JioCinema অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে লাইভ স্ট্রিমিং। ভারতের যুব সমাজের কাছে খেলাকে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল।
টিভি সম্প্রচারের অভাব: ভারতে টিভি সম্প্রচার না হওয়ার কারণ ও তার প্রভাব।
FIH হাইলাইটস: YouTube-এ হাইলাইটস-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স: দলের প্রধান শক্তিগুলির উপর জোর দেওয়া। সুলতান অফ জোহর কাপে ব্রোঞ্জ এবং জুনিয়র এশিয়া কাপে সোনা জয় (এই ফলগুলি দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে)।
প্রধান শক্তি: কেন মিডফিল্ডকে দলের 'ইঞ্জিন রুম' বলা হচ্ছে? গতি, পাসিং নির্ভুলতা এবং সমন্বয়।
ঘরের মাঠের সুবিধা: দর্শক সমর্থন এবং পিআর শ্রীজেশ-এর কৌশলগত কোচিং কীভাবে দলের পারফরম্যান্সে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
ঐতিহাসিক লক্ষ্য: ২০০১ ও ২০১৬-এর গৌরবের পুনরাবৃত্তি। কেন এবারের দল দীর্ঘ ৯ বছর পর শিরোপা জয়ের 'সেরা সুযোগ' পাচ্ছে।
টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং প্রত্যাশা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা।
খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তা: চাপ সামলে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।
ভারতীয় হকির ভবিষ্যতের জন্য এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব।
FIH জুনিয়র মেনস হকি বিশ্বকাপ ২০২৫-এর জন্য হকি ইন্ডিয়ার ঘোষিত ১৮ সদস্যের স্কোয়াডটি অভিজ্ঞ গোলকিপার পিআর শ্রীজেশ-এর দূরদর্শী কোচিংয়ে তৈরি হয়েছে। শ্রীজেশের প্রধান ফোকাস হলো প্রতিরক্ষা মজবুত করা এবং চাপের মুখে শান্ত থাকা, যা জুনিয়র হকি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধুমাত্র কৌশলগত দিকনির্দেশই দিচ্ছেন না, বরং তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণদের মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সাহায্য করছেন।
দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডিফেন্ডার রোহিত, যিনি জুনিয়র সার্কিটে বেশ অভিজ্ঞ। রোহিতের নেতৃত্বগুণ এবং ঠান্ডা মাথায় ডিফেন্স সামলানোর ক্ষমতা দলটির প্রধান শক্তি। তাঁর সঙ্গে রক্ষণভাগে রয়েছেন নির্ভরযোগ্য তালেম প্রিয়োবার্তা, শারীরিক শক্তির প্রতীক অনমোল এক্কা এবং পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ শারদানন্দ তিওয়ারি।
শারদানন্দ তিওয়ারি তাঁর ড্র্যাগ ফ্লিক দিয়ে স্কোর করার পাশাপাশি, দলের পেনাল্টি কর্নার ডিফেন্সেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ডিফেন্সে আমির আলি ও সুনীল পাল-এর মতো গতিশীল খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত। এই রক্ষণভাগকে শক্ত প্রাচীরের মতো গড়ে তোলাই শ্রীজেশের মূল উদ্দেশ্য।
এই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর মিডফিল্ড এবং হকি ইন্ডিয়া লীগের (HIL) মাধ্যমে পাওয়া আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা। মিডফিল্ড হলো দলের 'ইঞ্জিন রুম', যেখানে রয়েছেন:
| খেলোয়াড় | HIL দল (২০২৫) | প্রধান শক্তি |
| আদ্রোহিত এক্কা | তামিলনাড়ু ড্রাগনস | প্লে-মেকিং ও বল ডিস্ট্রিবিউশন |
| রোসান কুজুর | (উল্লেখ নেই) | ট্যাকলিং ও প্রতিরক্ষা সমন্বয় |
| মনমীত সিং | (উল্লেখ নেই) | গতি ও আক্রমণাত্মক পাস |
আদ্রোহিত এক্কা, যিনি তামিলনাড়ু ড্রাগনস-এর হয়ে HIL-এ দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন, তিনিই দলের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করবেন। তাঁর দূরদর্শী পাসিং এবং বল ধরে রাখার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডকে ভেঙে দিতে সক্ষম। থৌনাওজাম ইনগালেমবা লুওয়াং ও গুরজোত সিং তাঁর পাশে থেকে মিডফিল্ডে একটি শক্তিশালী ত্রিভুজ তৈরি করবেন, যা দলটিকে গতিশীল হকি খেলার সুযোগ দেবে।
ফরোয়ার্ড লাইনে রয়েছে গতির ঝড় তোলা তরুণরা। আরশদীপ সিং এবং দিলরাজ সিং দ্রুত গতিতে ডজ করার পাশাপাশি ফাইনাল থার্ডে গোল করার সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম। হকি ইন্ডিয়া লীগের গভর্নিং কাউন্সিল টিমের তারকা অজিত যাদব এবং সৌরভ আনন্দ কুশওয়াহা-এর মতো খেলোয়াড়রা এই দলে গোল করার দায়িত্বে থাকবেন। অজিত যাদব তাঁর ফিজিক্যাল গেম এবং সুযোগসন্ধানী ফিনিশিং-এর জন্য পরিচিত, যা দলটিকে কঠিন পরিস্থিতিতে সুবিধা দেবে।
এই সমন্বিত স্কোয়াড, যেখানে অভিজ্ঞ প্রতিরক্ষা এবং গতিশীল মিডফিল্ডের মেলবন্ধন ঘটেছে, আজ চিলির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত।
ভারতের এই তরুণ স্কোয়াডটি আন্তর্জাতিক জুনিয়র সার্কিটে নিজেদের দক্ষতা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে। তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো গত জুনিয়র এশিয়া কাপে সোনা জয় এবং এরপর মর্যাদাপূর্ণ সুলতান অফ জোহর কাপে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন। বিশেষজ্ঞরা এই দলটিকে 'গোল্ডেন জেনারেশন' হিসেবে দেখছেন, যারা গত কয়েক বছর ধরে একসাথে খেলছে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে জয় তুলে নিতে শিখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অ্যাটাকে দ্রুত পরিবর্তন (Quick Transition)। মিডফিল্ডার আদ্রোহিত এক্কা বল রিকভার করার সঙ্গে সঙ্গেই ফরোয়ার্ড লাইনে গতিশীল পাস বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা প্রতিপক্ষকে গুছিয়ে বসার সময় দেয় না। ডিফেন্ডার রোহিত-এর শান্ত নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞ গোলকিপার বিক্রমজিৎ সিং-এর নির্ভরযোগ্যতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞের মন্তব্য (কাল্পনিক): "গত দুটি সংস্করণে ভারত চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে—যা এক অর্থে হতাশার। কিন্তু এই দলটি আগের দলগুলির চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং মানসিক দিক থেকে দৃঢ়। জুনিয়র এশিয়া কাপে বড় চাপ সামলে শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। ঘরের মাঠে জনসমর্থনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে, তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে।"
যদিও ভারতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রথমত, ঘরের মাঠে খেলার প্রচণ্ড প্রত্যাশা একটি দ্বিমুখী তলোয়ারের মতো। দর্শকরা বিনামূল্যে প্রবেশ পাচ্ছেন, ফলে প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে, যা খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি পারফর্ম করার চাপ সৃষ্টি করবে। পিআর শ্রীজেশ-এর প্রধান কাজ হবে খেলোয়াড়দের এই চাপ থেকে মুক্ত রেখে খেলায় মনোযোগ ধরে রাখা।
দ্বিতীয়ত, নকআউট পর্বের পথটি হবে অত্যন্ত কঠিন। মোট ২৪ দলের এই আসরে, রাউন্ড অফ ২৪ এবং রাউন্ড অফ ১৬ পার হওয়াটাই হবে প্রথম বড় পরীক্ষা। সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইউরোপীয় পাওয়ারহাউস যেমন জার্মানি, নেদারল্যান্ডস বা গতবারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে শারীরিক এবং কৌশলগত লড়াইয়ের জন্য ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
ভারত দুইবারের জুনিয়র বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন (২০০১ এবং ২০১৬)। শেষবার তারা যখন ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট জিতেছিল, তখন সেটি ভারতীয় হকির পুনরুত্থানের সূচনা করেছিল।
৯ বছর পর আবার ঘরের মাঠে এই সুযোগ আসায়, খেলোয়াড়দের লক্ষ্য সুস্পষ্ট—তৃতীয় শিরোপা জিতে দেশের মাটিতে হকি ঐতিহ্যের জয়ধ্বনি দেওয়া। পিআর শ্রীজেশ-এর কৌশল এবং রোহিতের মতো তরুণ অধিনায়কের অনুপ্রেরণায়, এই দলটি ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লেখানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আজকের চিলির বিরুদ্ধে জয় দিয়ে এই স্বপ্নের শুভ সূচনা করতে চায় 'তরুণ ভারত'।