ইতালি এখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত করতে একটি কঠিন পথ পাড়ি দিতে চলেছে। তাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে হারানো, এবং এরপর তাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে ওয়েলস বা বসনিয়ার সঙ্গে। এই দুই দলই কঠিন প্রতিপক্ষ, এবং ইতালি তাদের বিশ্বকাপে ফিরতে হলে, দুটি ম্যাচেই জয়লাভ করতে হবে। ইতালির বিশ্বকাপে ফেরার আশা এখন নির্ভর করছে এই দুটি ম্যাচের উপর। ইতালি তাদের শক্তিশালী দলের সাথে বহুবার বিশ্বকাপের ইতিহাস তৈরি করেছে, কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তাদের পারফরম্যান্স কিছুটা অনিশ্চিত হয়েছে। তবে, দলটির সমর্থকরা এখন তাদের প্রতিশ্রুতি এবং দক্ষতা দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছে। ওয়েলস বা বসনিয়া যেকোনো দল হতে পারে, কিন্তু ইতালির সামনে এখন দুটো ম্যাচ। বিশ্বকাপে তাদের ফিরে আসার জন্য এই দুটি ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তারা হারলে ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের যোগ্যতা অর্জন কঠিন হয়ে যাবে।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এবং সফল দল ইতালি আবারও একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আজুরি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে এখন প্লে-অফের কঠিন পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। ইউরোপীয় যোগ্যতার গ্রুপ পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করার পর, ইতালিকে এখন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে এবং তারপর ওয়েলস অথবা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে। এই পরিস্থিতি ইতালীয় ফুটবলের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়, কারণ তারা ইতিমধ্যে ২০১৮ বিশ্বকাপ মিস করার তিক্ত অভিজ্ঞতা পেয়েছে।
ইতালি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তারা ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের অমর করে রেখেছে। ব্রাজিলের পরেই ইতালি চারটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। তাদের ক্যাটেনাচিও (রক্ষণাত্মক কৌশল) খেলার ধরন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কৌশলী খেলোয়াড়দের জন্য তারা বিশ্বজুড়ে সম্মানিত।
তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইতালীয় ফুটবল কিছুটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্যায়েই বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০১৮ সালে, যখন তারা সুইডেনের কাছে প্লে-অফে পরাজিত হয়ে ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ মিস করে। এই ব্যর্থতা ইতালীয় ফুটবলে একটি গভীর আত্মবিশ্লেষণের সূচনা করেছিল।
২০২১ সালে ইউরো কাপ জয়ের মাধ্যমে ইতালি তাদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করেছিল। রবের্তো মানচিনির নেতৃত্বে তরুণ এবং উদ্যমী দল ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছিল যে ইতালীয় ফুটবল এখনও শক্তিশালী। কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপের যোগ্যতা পর্যায়ে আবারও তারা প্লে-অফে উত্তীর্ণ হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে গিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ মিস করে। এই ব্যর্থতা ইতালীয় ফুটবলে এক গভীর সংকট তৈরি করেছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইউরোপীয় যোগ্যতা পর্যায়ে ইতালি একটি চ্যালেঞ্জিং গ্রুপে পড়েছিল। তাদের গ্রুপে ছিল জার্মানি, বেলজিয়াম এবং আরও কিছু প্রতিযোগী দল। গ্রুপ পর্যায়ে ইতালি কিছু ভালো ফলাফল অর্জন করলেও সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট হারানো এবং কিছু অপ্রত্যাশিত ড্র ইতালিকে গ্রুপের শীর্ষস্থান থেকে পিছিয়ে দেয়। বিশেষ করে, দূর্বল প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানো তাদের জন্য ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, ইতালি গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, যা তাদের প্লে-অফের দিকে ঠেলে দেয়।
লুসিয়ানো স্পালেত্তি, যিনি সম্প্রতি ইতালীয় জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন, তার সামনে এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ। একজন অভিজ্ঞ কৌশলবিদ হিসেবে স্পালেত্তি জানেন যে তার দলকে প্লে-অফে নিখুঁত পারফরম্যান্স দিতে হবে।
ইউরোপীয় যোগ্যতার প্লে-অফ ব্যবস্থা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায়ে সেমি-ফাইনাল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি করে ম্যাচ খেলা হবে এবং জয়ী দল পরবর্তী পর্যায়ে উন্নীত হবে বা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করবে।
ইতালির প্লে-অফ পথটি নিম্নরূপ:
এই ফরম্যাটে কোন দ্বিতীয় সুযোগ নেই। প্রতিটি ম্যাচ নক-আউট ভিত্তিতে হবে, যেখানে একটি ম্যাচেই সবকিছু নির্ধারিত হবে। এই উচ্চ চাপের পরিস্থিতিতে দলের মানসিক শক্তি এবং অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যদিও ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দল নয়, কিন্তু তারা অত্যন্ত সংগঠিত এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। তাদের খেলার ধরন রক্ষণাত্মক এবং পাল্টা আক্রমণভিত্তিক। তারা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সংগঠিত করে এবং প্রতিপক্ষের ভুলের জন্য অপেক্ষা করে।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের দলে রয়েছে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যারা প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত খেলছে। তাদের দলীয় সংহতি এবং লড়াকু মনোভাব তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিগত বছরগুলিতে, তারা ইংল্যান্ড এবং জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধেও প্রতিযোগিতামূলক খেলা দেখিয়েছে।
ইতালিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রক্ষণাত্মক সংগঠন ভাঙতে ধৈর্যশীল এবং সৃজনশীল হতে হবে। তাদের মধ্যমাঠে দখল বজায় রাখতে হবে এবং ব্যাকলাইনের পেছন থেকে বিল্ড-আপ করতে হবে। ডি লরেঞ্জো, বাস্তোনি এবং দিমার্কোর মতো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের আক্রমণে অবদান রাখতে হবে।
আক্রমণভাগে, ইতালিকে চওড়া এলাকা ব্যবহার করতে হবে এবং দ্রুত পার্শ্ব পরিবর্তন করে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষায় ফাঁক সৃষ্টি করতে হবে। কিসা, রাসপাদোরি এবং রেতেগুইর মতো আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হবে গোল করার সুযোগ খুঁজে বের করা এবং তা কাজে লাগানো।
যদি ম্যাচটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে হোম সুবিধা তাদের জন্য একটি বিশাল প্লাস হবে। রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়াম বা মিলানের সান সিরোতে হাজার হাজার ইতালীয় সমর্থক তাদের দলকে উৎসাহিত করবে, যা খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা দেবে।
তবে, নক-আউট ম্যাচের চাপ উভয় দলের উপরই থাকবে। ইতালিকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা অতিরিক্ত চাপে ভুগছে না এবং তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারছে।
ওয়েলস সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। ২০১৬ ইউরো কাপে সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো এবং ২০২২ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ তাদের ক্ষমতার প্রমাণ। যদিও গ্যারেথ বেল অবসর নিয়েছেন, তবুও ওয়েলসের দলে রয়েছে কিছু মেধাবী খেলোয়াড়।
ড্যানিয়েল জেমস, ব্রেনান জনসন এবং হ্যারি উইলসনের মতো আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়রা তাদের গতি এবং দক্ষতার জন্য পরিচিত। মধ্যমাঠে জো অ্যালেন এবং আরন রামসে (যদি ফিট থাকেন) অভিজ্ঞতা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রদান করেন। ওয়েলসের খেলার ধরন সরাসরি এবং শক্তিশালী, যেখানে তারা দীর্ঘ বল এবং দ্রুত আক্রমণে বিশ্বাসী।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা পূর্ব ইউরোপের একটি প্রতিভাবান কিন্তু অসংগতিপূর্ণ দল। তাদের দলে রয়েছে কিছু বিশ্বমানের খেলোয়াড়, কিন্তু দলীয় পারফরম্যান্স সবসময় ধারাবাহিক থাকে না।
এডিন জেকো, যদিও বয়স্ক, এখনও একজন মারাত্মক স্ট্রাইকার। মিরালেম পিয়ানিচ এবং সেয়াদ কোলাসিনাচের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দলে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন। বসনিয়ার খেলার ধরন প্রযুক্তিগত এবং দখলভিত্তিক, যেখানে তারা ধীরে ধীরে খেলা তৈরি করতে পছন্দ করে।
যে দলের বিরুদ্ধেই খেলুক না কেন, ইতালিকে ফাইনালে তাদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে হবে। উভয় প্রতিপক্ষই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করবে। ওয়েলসের বিরুদ্ধে, ইতালিকে তাদের শারীরিক খেলা এবং দীর্ঘ বল সামলাতে হবে। বসনিয়ার বিরুদ্ধে, তাদের ধৈর্যশীল বিল্ড-আপ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা মোকাবিলা করতে হবে।
ইতালির অভিজ্ঞতা এবং মানসিক শক্তি এখানে সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে। চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে, তাদের উচ্চ চাপের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলি তাদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতালির বর্তমান স্কোয়াড প্রতিভা এবং অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। গোলরক্ষক পজিশনে জিয়ানলুইগি দোন্নারুম্মা বিশ্বের অন্যতম সেরা। প্রতিরক্ষায় জিওভান্নি দি লরেঞ্জো, আলেসান্দ্রো বাস্তোনি এবং ফেদেরিকো দিমার্কো শক্তিশালী লাইন তৈরি করেছে।
মধ্যমাঠে নিকোলো বারেলা, সান্দ্রো তোনালি এবং জোর্জিঞ্হো অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার মিশ্রণ প্রদান করেন। আক্রমণভাগে ফেদেরিকো কিসা, জিয়াকোমো রাসপাদোরি এবং মাতেও রেতেগুই তরুণ এবং উদ্যমী।
ইতালির সবচেয়ে বড় শক্তি হল তাদের কৌশলগত নমনীয়তা। তারা বিভিন্ন ফর্মেশন এবং খেলার ধরন ব্যবহার করতে সক্ষম। তাদের প্রতিরক্ষা সংগঠন ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী এবং মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণে তারা পারদর্শী।
দলের অভিজ্ঞতা আরেকটি বড় সম্পদ। অনেক খেলোয়াড় ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো উচ্চ চাপের টুর্নামেন্ট খেলেছে। এই অভিজ্ঞতা প্লে-অফের মতো নক-আউট ম্যাচে অমূল্য প্রমাণিত হবে।
ইতালির প্রধান দুর্বলতা হল তাদের আক্রমণভাগের অসংগতি। গোল করার ক্ষেত্রে তারা কখনও কখনও সংগ্রাম করে। একজন নিয়মিত এবং নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও, সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলি দলের মানসিক অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করার স্মৃতি এখনও তাজা, এবং এই চাপ খেলোয়াড়দের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
লুসিয়ানো স্পালেত্তি ইতালীয় ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত কৌশলবিদ। রোমা, ইন্টার মিলান এবং নাপোলিতে তার সফলতা তার দক্ষতার প্রমাণ। নাপোলির সাথে সেরি আ শিরোপা জয় তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন।
স্পালেত্তির খেলার ধরন আক্রমণাত্মক কিন্তু সংগঠিত। তিনি উচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং দ্রুত পরিবর্তনে বিশ্বাসী। তার দলগুলি সাধারণত উচ্চ দখল বজায় রাখে এবং প্রতিপক্ষের অর্ধেকে খেলতে পছন্দ করে।
জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর, স্পালেত্তি তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিচ্ছেন এবং দলে একটি নতুন শক্তি নিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে, ইতালি আবার আত্মবিশ্বাসী এবং সংগঠিত দেখাচ্ছে।
ইতালীয় ফুটবল সমর্থকরা সবসময়ই আবেগপ্রবণ এবং দাবিদার। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ব্যর্থতাগুলি তাদের গভীরভাবে ক্ষুব্ধ এবং হতাশ করেছে। তবে, তারা এখনও তাদের দলের প্রতি বিশ্বস্ত এবং বিশ্বকাপে ফিরে আসার জন্য আশাবাদী।
ইতালীয় মিডিয়াও প্লে-অফ ম্যাচগুলি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছে। বিশ্লেষকরা দলের শক্তি এবং দুর্বলতা নিয়ে বিতর্ক করছেন এবং বিভিন্ন কৌশল প্রস্তাব করছেন। সামগ্রিকভাবে, একটি সতর্ক আশাবাদ বিরাজ করছে।
যদি ইতালি আবারও বিশ্বকাপ মিস করে, তাহলে তা ইতালীয় ফুটবলের জন্য একটি বিপর্যয় হবে। টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করা চারবারের চ্যাম্পিয়নের জন্য অকল্পনীয়। এটি ইতালীয় ফুটবল কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।
যুব উন্নয়ন, কৌশলগত পদ্ধতি এবং প্রতিযোগিতার কাঠামো নিয়ে গভীর আলোচনা হবে। সেরি আ এবং ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনকে নতুন করে ভাবতে হবে কীভাবে তারা বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য হবে। বিশ্বকাপ থেকে অনুপস্থিত থাকলে ইতালীয় ফুটবল বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাবে। স্পন্সরশিপ চুক্তি, সম্প্রচার অধিকার এবং পর্যটন - সবকিছুই প্রভাবিত হবে।
তবে, একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে। ইতালির কাছে প্লে-অফে সফল হওয়ার সব উপাদান রয়েছে। তাদের খেলোয়াড়রা প্রতিভাবান, কৌশলবিদ অভিজ্ঞ এবং সমর্থকরা উৎসাহী। ২০২১ ইউরো কাপ জয় প্রমাণ করেছে যে এই দল বড় টুর্নামেন্ট জিততে সক্ষম।
প্লে-অফ সিস্টেমের একটি সুবিধা হল যে এটি দলকে ফোকাস করার সুযোগ দেয়। গ্রুপ পর্যায়ের দীর্ঘ ক্যাম্পেইনের তুলনায়, প্লে-অফ দুটি ম্যাচের বিষয়। ইতালি তাদের সব শক্তি এবং ফোকাস এই দুটি ম্যাচে নিবেদিত করতে পারে।
ইতালি একমাত্র ঐতিহ্যবাহী দল নয় যারা যোগ্যতা পর্যায়ে সংগ্রাম করছে। নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল এবং এমনকি জার্মানিও বিভিন্ন সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ফুটবলের বৈশ্বিক প্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং ছোট দেশগুলিও এখন প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।
তবে, ইতালির মতো একটি দেশের জন্য, যারা ফুটবল ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, বিশ্বকাপ মিস করা অগ্রহণযোগ্য। তাদের ফুটবল সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং অবকাঠামো তাদের সর্বদা শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে রাখার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।
প্লে-অফ ম্যাচগুলির জন্য প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। স্পালেত্তি এবং তার কোচিং স্টাফ প্রতিটি প্রতিপক্ষের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছেন। ভিডিও বিশ্লেষণ, কৌশলগত সেশন এবং শারীরিক প্রশিক্ষণ সব একত্রিত করা হচ্ছে।
দলীয় সংহতি তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্লে-অফের মতো উচ্চ চাপের পরিস্থিতিতে, দল হিসেবে একসাথে লড়াই করার ক্ষমতা সিদ্ধান্তকারী হতে পারে। স্পালেত্তি নিশ্চিত করছেন যে খেলোয়াড়রা একে অপরকে বিশ্বাস করে এবং একটি সাধারণ লক্ষ্যের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মনোবিজ্ঞান প্লে-অফে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলি থেকে মানসিক বোঝা কাটিয়ে উঠতে খেলোয়াড়দের সাহায্য করা প্রয়োজন। ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীরা দলের সাথে কাজ করছেন যাতে তারা ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে পারে।
আত্মবিশ্বাস তৈরি করা কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এড়ানো একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য। ইতালিকে জানতে হবে যে তারা এই ম্যাচগুলি জিততে সক্ষম, কিন্তু একই সাথে তাদের প্রতিপক্ষদের সম্মান করতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
যদি ইতালি সফলভাবে প্লে-অফ পার করে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করে, তাহলে ২০২৬ টুর্নামেন্ট তাদের জন্য পুনর্জন্মের সুযোগ হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ ৪৮ দলের প্রথম টুর্নামেন্ট হবে, যা আরও সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করবে।
দীর্ঘমেয়াদে, ইতালিকে তাদের ফুটবল কাঠামো উন্নত করতে হবে। যুব একাডেমিগুলিতে বিনিয়োগ, কোচিং মান উন্নত করা এবং খেলার আধুনিক ধরন গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেরি আ ক্লাবগুলিকে আরও তরুণ ইতালীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে হবে।
ইতালির প্লে-অফ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই অবাক যে চারবারের চ্যাম্পিয়ন আবার প্লে-অফে। কিন্তু একই সাথে, সবাই স্বীকার করছে যে আধুনিক ফুটবলে কোন গ্যারান্টি নেই।
ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছোট দেশগুলি আরও সংগঠিত এবং কৌশলগত হয়ে উঠছে। এটি ঐতিহ্যবাহী শক্তিধর দেশগুলির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইতালীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্লে-অফ ম্যাচগুলি নিয়ে ব্যাপক কভারেজ প্রদান করবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ সেশন, প্রতিটি সংবাদ সম্মেলন এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের মন্তব্য বিশ্লেষণ করা হবে।
এই উচ্চ মিডিয়া মনোযোগ অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে, কিন্তু এটি ইতালীয় ফুটবলের প্রতি বিশ্বব্যাপী আগ্রহেরও প্রমাণ। সবাই জানতে চায় ইতালি কি তাদের ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারবে।
ফুটবল ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে ঐতিহ্যবাহী দলগুলি কঠিন সময় পেরিয়ে শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। জার্মানি ২০০০ সালে ইউরো কাপে খারাপ পারফরম্যান্সের পর তাদের যুব ব্যবস্থা সংস্কার করে এবং পরবর্তী দশকে অত্যন্ত সফল হয়।
স্পেন দীর্ঘ সময় বড় টুর্নামেন্ট জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০০৮-২০১২ সালে একটি স্বর্ণযুগ অনুভব করে। ইতালিও তাদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ থেকে শিখতে এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে।
ইতালির ২০২৬ বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনের পথ সহজ নয়। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং তারপর ওয়েলস অথবা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে তাদের টিকিট নিশ্চিত করতে হবে। এই দুটি ম্যাচ ইতালীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
তবে, চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সুযোগ রয়েছে। এই প্লে-অফ ইতালিকে তাদের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করতে এবং শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা হতে পারে যেখানে ইতালি আবারও বিশ্ব ফুটবলে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে।
চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে, ইতালির একটি গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। তাদের সমর্থকরা, খেলোয়াড়রা এবং কৌশলবিদরা সবাই বিশ্বাস করেন যে এই ঐতিহ্য অব্যাহত থাকবে। প্লে-অফ ম্যাচগুলি শুধু যোগ্যতা অর্জনের জন্য নয়, বরং ইতালীয় ফুটবলের গর্ব এবং মর্যাদা রক্ষার জন্য।
আগামী সপ্তাহগুলি ইতালীয় ফুটবলের জন্য নির্ধারক হবে। সমগ্র জাতি তাদের দলের পেছনে দাঁড়াবে, প্রতিটি পাস, প্রতিটি ট্যাকেল এবং প্রতিটি গোলের জন্য প্রার্থনা করবে। ইতালি যখন মাঠে নামবে, তারা শুধু একটি ম্যাচ খেলবে না - তারা তাদের ইতিহাস, তাদের ঐতিহ্য এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করবে।
ফুটবল বিশ্ব দেখবে ইতালি কি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। আজুরি কি আবারও প্রমাণ করবে যে তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল জাতি? নাকি তারা আরেকটি হৃদয়বিদারক ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে? উত্তর আসবে মাঠে - যেখানে ফুটবলের সব প্রশ্নের সমাধান হয়।
ফোর্জা আজুরি! (চলো ইতালি!)