Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

স্টেম কোষ ‘পঙ্গু’ হলেই পাকে চুল? চুল পাকার চমকপ্রদ কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা

অকালপক্ব চুলের রহস্য ভেদ করতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা খুঁজে পেলেন চুল পাকার একেবারে মূল কারণ— যা ভবিষ্যতের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারে।

চুল পাকা— এই একটি বিষয় নিয়েই মানুষের চিন্তার শেষ নেই। কেউ বলেন ভিটামিনের অভাব, কেউ বলেন হরমোনের সমস্যা, কেউ আবার একে পুরোপুরি জিনগত ব্যাপার বলে ধরে নেন। মা বা ঠাকুরমার যদি কম বয়সেই চুল পেকে যায়, তা হলে পরবর্তী প্রজন্মেরও সেই সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি— এই ধারণা বহুদিন ধরেই সমাজে চালু। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টা এতটা সরল নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পাকা স্বাভাবিক হলেও, কম বয়সে হঠাৎ চুল সাদা হয়ে যাওয়া মোটেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। তাই বহু বছর ধরেই গবেষকেরা খুঁজছিলেন— চুল কেন পাকে? আর যদি সত্যিই চুল পাকার কারণ ধরা যায়, তা হলে কি কোনও ভাবে সেই প্রক্রিয়াকে থামানো বা উল্টে দেওয়া সম্ভব?

এই প্রশ্নেরই এক গুরুত্বপূর্ণ উত্তর সম্প্রতি সামনে এনেছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকেরা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত তাঁদের গবেষণা চুল পাকার কারণ সম্পর্কে আমাদের এতদিনের ধারণাকে কার্যত উল্টে দিয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, চুল পাকার মূল কারণ নাকি কোনও ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি নয়, এমনকি সরাসরি বয়সও নয়— বরং দায়ী এক বিশেষ ধরনের স্টেম কোষের “পঙ্গু” হয়ে যাওয়া।

এই আবিষ্কার শুধু চুল পাকার কারণ বুঝতেই সাহায্য করছে না, বরং ভবিষ্যতে পাকা চুল আবার কালো করে তোলার সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলছে। কী ভাবে স্টেম কোষের গতিশীলতা হারানো চুলের রং বদলে দেয়, আর বিজ্ঞানীরা কী ভাবে সেই প্রক্রিয়া উল্টে দিতে চাইছেন— চলুন ধাপে ধাপে সবটা বুঝে নেওয়া যাক।

চুলের রং আসলে কী ভাবে তৈরি হয়?

আমাদের চুলের রং নির্ধারণ করে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ, যার নাম মেলানিন (melanin)। এই মেলানিনের পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী চুল কালো, বাদামি, সোনালি কিংবা লালচে হয়ে থাকে। চুলের গোড়ায় অবস্থিত বিশেষ কোষ, যাদের বলা হয় মেলানোসাইট (melanocyte)— তারাই এই মেলানিন তৈরি করে।

এই মেলানোসাইট কোষগুলো আবার জন্ম নেয় আরও এক ধাপ আগে থাকা কোষ থেকে, যাদের বলা হয় মেলানোসাইট স্টেম কোষ (melanocyte stem cells)। স্টেম কোষ মানেই এমন কোষ, যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কোষে রূপ নিতে পারে। মানবদেহে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের স্টেম কোষ রয়েছে— ত্বক, রক্ত, অন্ত্র, চুলের গোড়া— সর্বত্রই তাদের উপস্থিতি।

চুলের ক্ষেত্রেও এই মেলানোসাইট স্টেম কোষগুলি চুলের ফলিকলের (hair follicle) বিশেষ অংশে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে মেলানোসাইটে রূপান্তরিত হয়ে চুলে রং যোগ করে। যত দিন এই প্রক্রিয়া ঠিকঠাক চলে, তত দিন আমাদের চুলের রং অটুট থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হল— এই প্রক্রিয়ায় কোথায় গোলমাল বাঁধে যে হঠাৎ চুল সাদা হয়ে যেতে শুরু করে?

এত দিন কী মনে করা হত?

এত দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা কোনও কারণে মেলানোসাইট কোষের সংখ্যা কমে যায়। অর্থাৎ, চুলের গোড়ায় রং তৈরি করার মতো কোষই আর পর্যাপ্ত থাকে না। ফলে নতুন চুল যখন গজায়, তখন তাতে আর রং যোগ হয় না— চুল হয়ে ওঠে ধূসর বা সাদা।

এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই নানা ধরনের চিকিৎসা ও প্রসাধনী গবেষণা চলেছে— কেউ চেষ্টা করেছেন মেলানিন উৎপাদন বাড়ানোর, কেউ আবার চেষ্টা করেছেন নতুন মেলানোসাইট কোষ তৈরি করার। কিন্তু তাতে খুব স্থায়ী বা কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এই পুরনো ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে— মেলানোসাইট কোষের সংখ্যা আসলে কমে যায় না, বরং মেলানোসাইট স্টেম কোষগুলি চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অর্থাৎ, তারা জীবিত থাকে ঠিকই, কিন্তু কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। এক কথায়, তারা হয়ে পড়ে “পঙ্গু”।

নতুন গবেষণা কী বলছে?

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষক দল— যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন ডার্মাটোলজি ও সেল বায়োলজি বিভাগের বিজ্ঞানী রোনাল্ড ও. পেরেলম্যান— ইঁদুরের উপর দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা চালান। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বুঝে নেওয়া, ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে চুলের রং হারিয়ে যেতে শুরু করে।

গবেষণায় তাঁরা লক্ষ্য করেন, মেলানোসাইট স্টেম কোষ খুব স্থির প্রকৃতির নয়। বরং তারা এক চুলের গোড়া থেকে অন্য চুলের গোড়ায় অনবরত চলাচল করে। এই চলাচলের সময় তারা বিভিন্ন প্রোটিন ও সংকেত অণুর (signaling molecules) সংস্পর্শে আসে, যা তাদের সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেলানোসাইটে রূপান্তরিত হতে উৎসাহ দেয়।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা কিছু পরিবেশগত ও জৈবিক কারণে এই স্টেম কোষগুলির গতিশীলতা কমে যেতে থাকে। এক সময় তারা চুলের গোড়ার একটি নির্দিষ্ট অংশে আটকে পড়ে। তখন তারা আর প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা সংকেত অণুর কাছাকাছি যেতে পারে না। ফলাফল— তারা আর মেলানোসাইটে রূপান্তরিত হতে পারে না, আর মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এই অবস্থায় নতুন চুল গজালেও তাতে আর কোনও রং থাকে না। ধীরে ধীরে মাথার চুল ধূসর থেকে পুরোপুরি সাদা হয়ে যায়।

‘পঙ্গু’ স্টেম কোষ— কথাটার অর্থ কী?

এখানে ‘পঙ্গু’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই স্টেম কোষগুলি আসলে মরে যায় না, বা সংখ্যায় কমে যায় না। বরং তারা জীবিত থাকে, কিন্তু কার্যকরী ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

রোনাল্ড ও. পেরেলম্যান ব্যাখ্যা করেছেন, মেলানোসাইট স্টেম কোষের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল— তারা প্রয়োজনে নিজেদের রূপ বদলাতে পারে। কখনও তারা স্টেম কোষ হিসেবেই থাকে, কখনও আবার মেলানোসাইটে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু যখন তারা চুলের ফলিকলের একটি নির্দিষ্ট স্থানে আটকে পড়ে যায়, তখন এই রূপান্তর করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।

অর্থাৎ, কোষগুলি সেখানে থাকলেও তারা আর চুলের রং তৈরি করার কাজে অংশ নিতে পারে না। এই কারণেই চুল পাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বয়স, পুষ্টি ও পরিবেশের ভূমিকা

তাহলে প্রশ্ন ওঠে— কেন এই স্টেম কোষগুলি চলাচলের ক্ষমতা হারায়?

গবেষকেরা বলছেন, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে—

বয়স বৃদ্ধি

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষের ভেতরের গঠন ও পরিবেশ বদলাতে থাকে। স্টেম কোষের আশপাশের মাইক্রোএনভায়রনমেন্ট (microenvironment) বা “নিশ” (niche) পরিবর্তিত হয়, যা তাদের চলাচল ও রূপান্তরের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস

দূষণ, ধূমপান, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস— এগুলির ফলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ে। এই স্ট্রেস স্টেম কোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি

যদিও নতুন গবেষণা বলছে চুল পাকার একমাত্র কারণ পুষ্টির অভাব নয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন বি১২, আয়রন, কপার বা প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে কোষের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়তে পারে।

জিনগত প্রবণতা

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জিনগত কারণেই মেলানোসাইট স্টেম কোষ তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিশীলতা হারায়। তাই পরিবারে কম বয়সে চুল পাকার ইতিহাস থাকলে পরবর্তী প্রজন্মেও সেই প্রবণতা দেখা যায়।

এই সব কারণ মিলিয়েই স্টেম কোষগুলি ধীরে ধীরে ‘পঙ্গু’ হয়ে পড়ে।

ইঁদুরে পরীক্ষার ফলাফল কী দেখিয়েছে?

গবেষকেরা ইঁদুরের চুলের ফলিকল পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, অল্প বয়সে মেলানোসাইট স্টেম কোষগুলি খুব সক্রিয় থাকে। তারা এক ফলিকল থেকে অন্য ফলিকলে অবাধে যাতায়াত করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেলানোসাইটে রূপান্তরিত হয়।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কোষগুলির চলাচল ধীর হয়ে যায়। এক সময় তারা ফলিকলের একটি নির্দিষ্ট অংশে আটকে পড়ে। তখনই চুলের রং ফিকে হতে শুরু করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— গবেষকেরা দেখেছেন, এই কোষগুলি তখনও জীবিত থাকে। অর্থাৎ, যদি কোনও ভাবে তাদের আবার চলাচল করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে তারা ফের মেলানোসাইটে রূপান্তরিত হতে পারে এবং আবার মেলানিন উৎপাদন শুরু করতে পারে।

এই পর্যবেক্ষণ থেকেই বিজ্ঞানীদের মনে আশা জাগছে— ভবিষ্যতে হয়তো পাকা চুলকে আবার কালো করে তোলার বাস্তবসম্মত চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।

news image
আরও খবর

পুরনো ধারণার সঙ্গে নতুন তত্ত্বের পার্থক্য

চলুন সহজভাবে দেখি— আগে ও এখনকার তত্ত্বের মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায়:

পুরনো ধারণা নতুন গবেষণার ফল
মেলানোসাইট কোষের সংখ্যা কমে যায় কোষের সংখ্যা কমে না, তারা কার্যক্ষমতা হারায়
কোষ মারা যায় কোষ জীবিত থাকে, কিন্তু চলাচল করতে পারে না
প্রক্রিয়াটি অপরিবর্তনীয় তাত্ত্বিকভাবে উল্টে দেওয়া সম্ভব

এই পার্থক্যটাই ভবিষ্যতের চিকিৎসার পথ খুলে দিয়েছে।

তাহলে কি শিগগিরই পাকা চুলের ওষুধ আসছে?

গবেষকেরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না যে খুব দ্রুত কোনও ওষুধ বাজারে চলে আসবে। কারণ ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের উপর পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। তার আগে প্রয়োজন বহু স্তরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।

তবে বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই ভাবছেন—

✔️ কী ধরনের ওষুধ দিয়ে মেলানোসাইট স্টেম কোষের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়
✔️ কোনও হেয়ার সিরাম বা টপিক্যাল থেরাপি দিয়ে চুলের গোড়ায় থাকা স্টেম কোষকে আবার সক্রিয় করা সম্ভব কি না
✔️ ভবিষ্যতে কি কোনও ইনজেকশন বা জিন থেরাপি দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যাবে

রোনাল্ড ও. পেরেলম্যান জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য এখন এই স্টেম কোষগুলিকে আবার “চলতে শেখানো”। যদি তা সম্ভব হয়, তা হলে পাকা চুলের সমস্যা শুধু ঢেকে রাখার নয়, বরং ভেতর থেকে সারিয়ে তোলার পথ খুলে যাবে।

অকালপক্ব চুল পাকা: শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়

চুল পাকা অনেকের কাছে শুধুই সৌন্দর্যগত সমস্যা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। কম বয়সে চুল পেকে গেলে অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারান, সামাজিক মেলামেশায় অস্বস্তি বোধ করেন, এমনকি ডিপ্রেশনেও ভুগতে পারেন।

বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই চুল পাকার কারণ বোঝা ও তার সমাধান খোঁজা শুধুই কসমেটিক বিষয় নয়— এটি সামগ্রিক মানসিক সুস্থতার সঙ্গেও জড়িত।

আপাতত কী করলে চুল পাকা ধীর করা যেতে পারে?

যদিও স্থায়ী চিকিৎসা এখনও গবেষণাধীন, তবু বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাসের কথা বলেন, যা চুল পাকার গতি কিছুটা হলেও ধীর করতে পারে—

সুষম খাদ্যাভ্যাস

ভিটামিন বি১২, আয়রন, কপার, জিঙ্ক ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি।

মানসিক চাপ কমানো

দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে স্টেম কোষের কার্যক্ষমতা কমাতে পারে। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন ও পর্যাপ্ত ঘুম উপকারী।

ধূমপান এড়ানো

ধূমপান চুল পাকার প্রক্রিয়া দ্রুততর করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।

মাথার ত্বকের যত্ন

মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার, অতিরিক্ত কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট এড়ানো ও নিয়মিত তেল মালিশ মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।

তবে এগুলো কোনও স্থায়ী সমাধান নয়— বরং প্রতিরোধমূলক বা সহায়ক ব্যবস্থা মাত্র।

ভবিষ্যতের চিকিৎসা কেমন হতে পারে?

নতুন গবেষণার আলোকে বিজ্ঞানীরা যে দিকগুলিতে কাজ করছেন, তার মধ্যে রয়েছে—

স্টেম কোষ সক্রিয়কারী ওষুধ

এমন ওষুধ তৈরি করা, যা মেলানোসাইট স্টেম কোষের চলাচল ও রূপান্তরের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে।

মাইক্রোএনভায়রনমেন্ট থেরাপি

চুলের ফলিকলের আশপাশের কোষ ও প্রোটিন পরিবেশ এমনভাবে বদলানো, যাতে স্টেম কোষ আবার সক্রিয় হতে পারে।

জিন থেরাপি

যদি নির্দিষ্ট জিনগত কারণ চিহ্নিত করা যায়, তা হলে জিন থেরাপির মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে।

বায়োমেটেরিয়াল ও স্ক্যাফোল্ড প্রযুক্তি

চুলের গোড়ায় এমন ক্ষুদ্র কাঠামো তৈরি করা, যা স্টেম কোষকে আবার চলাচল ও কাজ করতে সাহায্য করবে।

যদিও এগুলো এখনো গবেষণার স্তরে, তবু বিজ্ঞানীরা আশাবাদী— আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই পাকা চুলের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে।

কেন এই গবেষণা শুধু চুলের জন্য নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ?

মেলানোসাইট স্টেম কোষ নিয়ে এই গবেষণা শুধু চুল পাকার সমস্যার সমাধানেই সীমাবদ্ধ নয়। স্টেম কোষের চলাচল ও রূপান্তরের ক্ষমতা নিয়ে পাওয়া এই নতুন ধারণা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ও টিস্যুর পুনর্গঠন সম্পর্কেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে।

যেমন—

✔️ ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন
✔️ ক্ষত সারানোর প্রক্রিয়া
✔️ কিছু ধরনের ত্বক ক্যানসারের উৎপত্তি ও বিস্তার

এই সব ক্ষেত্রেও স্টেম কোষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চুল নিয়ে হওয়া এই গবেষণা ভবিষ্যতে মেডিক্যাল সায়েন্সের আরও বহু শাখায় প্রভাব ফেলতে পারে।

Preview image