Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চুলের হাল ফিরবে চায়ের শক্তিতে গ্রিন চা না কালো চা কোনটিতে পাবেন বেশি উপকার? কীভাবে ব্যবহার করবেন

চুলের জন্য চা অত্যন্ত উপকারী। তবে প্রশ্ন হল, গ্রিন টি না কালো চা, কোনটি আপনার চুলের জন্য বেশি উপকারী? জানুন কিভাবে চায়ের এই দুই ধরনের মধ্যে বেছে নেবেন এবং সঠিক পদ্ধতিতে কীভাবে ব্যবহার করবেন চুলের যত্নে।

শীতের দিনে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা যেমন শরীর ও মনকে তরতাজা করে তেমনি চুলেরও হাল ফিরিয়ে দিতে পারে। তবে ধোঁয়া ওঠা গরম চা নয়, ঠান্ডা চা ব্যবহার করতে হবে চুলের জন্য। চা শুধু মৃদু উত্তেজক পানীয় নয়, এর নানা গুণাগুণ রয়েছে যা চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশ উপকারি। চায়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ক্যাফিন, পলিফেনলসের মতো উপাদানগুলি চুলের গঠন এবং বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী। চা-পাতার ব্যবহারের ঐতিহ্যও বহু পুরনো। বহু বছর ধরে চায়ের পাতা চুলের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসছে, এবং বিজ্ঞানীরা এখন এই উপকারিতা আরও বেশি করে খুঁজে পেয়েছেন।

তবে, চায়েরও বেশ কিছু ধরনের ভিন্নতা রয়েছে, আর তাই প্রশ্ন উঠতে পারে, গ্রিন টি নাকি কালো চা, কোনটি চুলের জন্য বেশি উপকারী? আসুন, বিস্তারিতভাবে জানি কীভাবে এই দুটি চা চুলের জন্য উপকারী এবং কোনটি আপনার চুলের সমস্যা অনুযায়ী সঠিক হবে।

গ্রিন টি:

গ্রিন টি বা সবুজ চা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। এতে কালো চায়ের তুলনায় অনেক বেশি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং পুষ্টিগুণ রয়েছে। গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনলস চুলকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি এবং দূষণের প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এর মধ্যে থাকা প্রদাহনাশক উপাদানগুলো মাথার ত্বকের সমস্যা যেমন খুশকি, অতিরিক্ত তেল এবং জ্বালা কমাতে সাহায্য করে।

গ্রিন টির উপকারিতা:

  1. চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক: গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন চুলের ক্ষতি আটকাতে সাহায্য করে এবং ফলিকলগুলিতে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে, ফলে চুল দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

  2. প্রদাহনাশক গুণাবলী: গ্রিন টি মাথার ত্বকে থাকা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও খুশকির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

  3. চুলের গোড়া শক্ত করে: এতে থাকা ভিটামিন বি২ এবং ভিটামিন ই চুলের গোড়া মজবুত করে, যা চুলের ডগা ফাটা এবং রুক্ষতার সমস্যা কমায়।

  4. চুল সাদা হওয়ার প্রবণতা কমায়: গ্রিন টির অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট চুলের কোষগুলিকে রক্ষা করে, যার ফলে চুল অকালে সাদা হওয়ার প্রবণতা কমে।

  5. প্রাকৃতিক গ্লস ও জেল্লা ফেরায়: এটি রুক্ষ এবং নির্জীব চুলে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরিয়ে আনে, ফলে চুল আরও স্বাস্থ্যবান ও ঝকঝকে হয়ে ওঠে।

কালো চা:

গ্রিন চায়ের পরিপূরক হিসেবে কালো চা আসে, যা মূলত চায়ের পাতার প্রক্রিয়া পরিবর্তনের ফলে কালো হয়ে যায়। কালো চা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হয়, যার ফলে এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিছুটা কমে যায়, তবে তাতে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে যা চুলের জন্য উপকারী। কালো চা চুলের জন্য খুবই কার্যকরী হতে পারে বিশেষত যারা চুলের রং বজায় রাখতে চান বা চুলের রঙ ধূসর হয়ে গেছে। এটি চুলের প্রাকৃতিক রং ফিরিয়ে আনার জন্য অন্যতম একটি উপকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে।

কালো চায়ের উপকারিতা:

  1. চুলের রং বজায় রাখে: কালো চা চুলের সাদা বা ধূসর অংশে প্রাকৃতিকভাবে রং এনে দেয়। কালো চায়ের লিকার চুলের রঙে লালচে ভাব আনে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এটি রং বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। তাই, যাদের চুল সাদা হতে শুরু করেছে, তারা কালো চা ব্যবহার করে তাদের চুলে উজ্জ্বলতা ও প্রাকৃতিক রং ফিরিয়ে আনতে পারেন।

  2. চুল পড়া রোধ করে: কালো চায়ের ক্যাফিন চুলের ফলিকলগুলোকে উদ্দীপ্ত করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এতে থাকা ক্যাফিন চুলের হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে, যার ফলে চুল ঝরা কমাতে সহায়তা করে। এটি ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (DHT) হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা চুল পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত।

  3. মাথার ত্বকের পরিচর্যা: কালো চা মাথার ত্বকে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মাথার ত্বককে পরিষ্কার রাখে, ইনফেকশন এবং অন্যান্য সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।

  4. শক্তিশালী ফলিকল: কালো চায়ের ক্যাফিন চুলের ফলিকলগুলোকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে চুলের বৃদ্ধি উন্নত হয়। এটি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, ফলে চুল আরও মজবুত এবং ঝকঝকে হয়ে ওঠে।

    news image
    আরও খবর
  5. চুলের পুষ্টি বৃদ্ধি: কালো চায়ের লিকার চুলে পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে চুলের শিকড় এবং ফলিকলগুলো শক্তিশালী হয়, যা চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং চুলকে স্বাস্থ্যবান রাখে। চুলের কাঠিন্য কমিয়ে এটি নরম এবং মসৃণ করে তোলে।

  6. অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাবলী: কালো চায়ের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ মাথার ত্বককে পরিষ্কার রাখে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এটি মাথার ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমায় এবং চুলের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে না।

কালো চা ব্যবহারের পদ্ধতি:

চুলের জন্য কালো চায়ের ব্যবহার সহজ এবং কার্যকরী। এটি চুলে স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং চুলের প্রাকৃতিক রং বজায় রাখে। ব্যবহারের জন্য, আপনি প্রথমে কালো চায়ের পাতা ৫-১০ মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে, শ্যাম্পু করার পর চুলে চা ঢেলে হালকা মাসাজ করুন। তারপর ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ দিন এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে এবং চুল আরও মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান হবে।

কালো চা ও অন্যান্য চায়ের মধ্যে পার্থক্য:

যদিও গ্রিন চা অনেক বেশি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ, কালো চায়ের কিছু উপকারিতা রয়েছে যা গ্রিন চায়ে পাওয়া যায় না, বিশেষত চুলের রঙ বজায় রাখার ক্ষেত্রে। কালো চা চুলের গা dark ় রঙ বজায় রাখে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ফলে যারা চুলের রঙ সাদা হয়ে যাওয়ার সমস্যা বা রঙ হারানোর সমস্যা মোকাবেলা করছেন, তারা কালো চা ব্যবহার করে উপকার পেতে পারেন।

কালো চা চুলের যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং রং ফিরিয়ে আনতে কালো চায়ের ভূমিকা অসীম।

  1. চুল পড়া কমায়: কালো চায়ে থাকা ক্যাফিন ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন হরমোনের (DHT) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা চুল পড়ার প্রধান কারণ।

  2. চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখে: কালো চায়ের ক্যাফিন চুলের ফলিকলগুলিকে উদ্দীপ্ত করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন:

চুলের যত্নে চায়ের ব্যবহার বেশ সহজ এবং প্রাকৃতিক। গ্রিন টি বা কালো চা যেটি আপনার চুলের জন্য উপযুক্ত মনে হয়, তা ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহারের পদ্ধতি এমন:

  1. প্রথমে একটি পাত্রে পানি গরম করুন। তারপর তাতে চা-পাতা দিন এবং কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন।

  2. 10 মিনিট ধরে চা-পাতা ভিজিয়ে রাখুন এবং পরবর্তীতে চা ছেঁকে নিন।

  3. শ্যাম্পু করার পর, ভেজা চুলে চা ঢেলে হালকা করে মাসাজ করুন।

  4. চা ব্যবহারের পর চুল ভালো করে ধুয়ে নিন।

  5. সপ্তাহে একদিন এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে চুল আরও মসৃণ এবং শাইনিং হয়ে উঠবে।

বেছে নেবেন কোনটি?

গ্রিন চায়ের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ অনেক বেশি। এটি চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত উপকারী এবং চুল পড়া রোধ করতে সহায়তা করে। গ্রিন চায়ের মধ্যে থাকা পলিফেনলস এবং ক্যাটেচিন চুলের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং চুলের কোষগুলিকে সুরক্ষা দেয়। বিশেষত যারা চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের জন্য গ্রিন চা অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান হতে পারে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে, চুলের রুক্ষতা কমায় এবং চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরিয়ে আনে। যদি আপনার চুল পড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে গ্রিন চায়ের ব্যবহার খুবই কার্যকর হতে পারে।

অন্যদিকে, কালো চা সাদা বা ধূসর চুলের রঙ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। এটি চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা যায়। কালো চা, বিশেষত তার লিকার (চায়ের রস), চুলের রং গা dark ় রাখতে সাহায্য করে। কালো চায়েও অনেক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, যদিও এর পরিমাণ গ্রিন চায়ের তুলনায় কিছুটা কম। তবে কালো চা মাথার ত্বকের সুরক্ষা এবং চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য খুবই উপকারী। এই চা চুলের পুষ্টি বৃদ্ধি করে এবং চুলের হাল ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। যদি আপনি চান যে আপনার চুলের রং সাদা বা ধূসর না হয়ে যায় বা রঙ হারিয়ে না যায়, তাহলে কালো চা খুব উপকারী হতে পারে।

Preview image