Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জয় কি শুধুই তারকাদের জন্য? ফাঁকা গ্যালারিতে স্বর্ণজয়ের প্রশ্ন

আমরা প্রায়ই ক্রিকেটার ও ফিল্মস্টারদের জন্য স্টেডিয়াম ভরিয়ে দিই, অথচ যাঁরা নীরবে দেশের সম্মান বাড়ান, তাঁদের সাফল্য অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জয়ী জ্যোতি ইয়ারাজির কৃতিত্ব তারই এক উদাহরণ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পতাকা উঁচু করলেও তাঁর জয়ের সাক্ষী হতে স্টেডিয়ামে ছিল না সেই প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস বা ভিড়। এই দৃশ্য আমাদের ক্রীড়া সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে— আমরা কি কেবল তারকাখ্যাতির দিকেই তাকিয়ে থাকি? জয় শুধু জনপ্রিয় মুখের জন্য নয়, বরং সেই সব ক্রীড়াবিদদের জন্যও, যাঁরা নিরলস পরিশ্রমে, নিঃশব্দ আত্মত্যাগে দেশের নাম উজ্জ্বল করেন। তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়াই একটি পরিণত ক্রীড়া সংস্কৃতির আসল পরিচয়।

আমাদের দেশে ক্রীড়া এবং বিনোদনের প্রতি যে ভালোবাসা, তা নিঃসন্দেহে অসাধারণ। ক্রিকেট ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে লাখো মানুষের ঢল নামে, সিনেমা হলে প্রিয় তারকার ছবি মুক্তির দিন ভিড় সামলানো দায় হয়ে পড়ে। এই উৎসাহ, এই আবেগ, এই প্রাণচাঞ্চল্য আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই একই উৎসাহ যখন আমরা অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হই, তখন একটি গভীর প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। জ্যোতি ইয়ারাজির মতো একজন অসাধারণ অ্যাথলিটের এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জয়ের মুহূর্তে যখন স্টেডিয়াম প্রায় শূন্য থাকে, তখন আমাদের থামতে হয়, ভাবতে হয় আমাদের ক্রীড়া সংস্কৃতির আসল স্বরূপ কী।

জ্যোতি ইয়ারাজি শুধু একটি নাম নয়, একটি অনুপ্রেরণা। তিনি ভারতের হয়ে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরেছেন। প্রতিটি প্রশিক্ষণ সেশনে ঘাম ঝরিয়েছেন, প্রতিটি প্রতিযোগিতায় নিজের সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি লাফ দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিবেদিত। কিন্তু যখন তিনি এশিয়া মহাদেশের সেরা হন, যখন তিনি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত শোনেন, তখন সেই মহান মুহূর্তে তাঁকে উৎসাহিত করার জন্য স্টেডিয়ামে মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষ ছাড়া আর কেউ ছিল না। এই দৃশ্য শুধু হৃদয়বিদারক নয়, এটি আমাদের সমাজের একটি তিক্ত বাস্তবতাও তুলে ধরে।

আমরা একটি দেশ যেখানে ক্রিকেট ধর্মের মতো পূজিত। একটি ক্রিকেট ম্যাচ যখন চলে, পুরো দেশ থেমে যায়। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়, অফিস-আদালতে কাজের গতি মন্থর হয়ে পড়ে। প্রতিটি ছক্কা, প্রতিটি উইকেটে দেশজুড়ে উল্লাস ধ্বনি ওঠে। ক্রিকেটাররা আমাদের কাছে দেবতুল্য, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ মিডিয়ায় আলোচিত হয়, তাঁদের প্রতিটি সাফল্য জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। একইভাবে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকারাও আমাদের কাছে অসাধারণ জনপ্রিয়। তাঁদের নতুন ছবির ট্রেলার প্রকাশ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

এই জনপ্রিয়তা এবং স্বীকৃতিতে কোনো সমস্যা নেই। ক্রিকেটাররা এবং ফিল্ম স্টাররা তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেন, তাঁদের প্রতিভা এবং নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। কিন্তু সমস্যা সেখানে যেখানে এই স্বীকৃতি এবং সম্মান শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি, বক্সিং, হকি, ফুটবল এবং অন্যান্য খেলাধুলায় যেসব ক্রীড়াবিদ দেশের জন্য পদক জিতে আনেন, তাঁদের কৃতিত্ব প্রায়ই একটি সংবাদ শিরোনামের বেশি গুরুত্ব পায় না। তাঁদের সংগ্রাম, তাঁদের ত্যাগ, তাঁদের অর্জন আমাদের সামষ্টিক চেতনায় সেভাবে জায়গা করে নিতে পারে না।

জ্যোতি ইয়ারাজির মতো অ্যাথলিটদের যাত্রা অসাধারণ কঠিন। তাঁরা প্রায়ই সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে প্রশিক্ষণ নেন। তাঁদের প্রশিক্ষকের অভাব হয়, উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব হয়, আর্থিক সহায়তার অভাব হয়। তবুও তাঁরা নিজেদের স্বপ্ন এবং দেশের জন্য এগিয়ে যান। প্রতিদিন ভোরে উঠে ট্র্যাকে নামেন, ঘন্টার পর ঘন্টা কঠোর পরিশ্রম করেন, নিজেদের শরীর এবং মনকে চূড়ান্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যান। যখন তাঁরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, তখন তাঁরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য লড়াই করেন। প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি লাফ, প্রতিটি থ্রো-তে তাঁরা ভারতের গৌরব বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু যখন তাঁরা সেই স্বর্ণপদক জিতে দেশে ফিরে আসেন, তখন কোনো বিশাল সংবর্ধনা থাকে না, বিমানবন্দরে ভিড় থাকে না, মিডিয়ায় বিশেষ কভারেজ থাকে না। তাঁদের নাম হয়তো একদিনের জন্য সংবাদপত্রে আসে, কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উল্লেখ হয়, তারপর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই অবহেলা শুধু ব্যক্তিগত স্তরে আঘাত করে না, এটি পুরো ক্রীড়া ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। যখন প্রতিভাবান তরুণরা দেখে যে অন্যান্য খেলায় সাফল্য এলেও সেভাবে স্বীকৃতি মেলে না, তখন তারা হতোৎসাহিত হয়। অনেকে তাদের স্বপ্ন ছেড়ে দেয়, অনেকে অন্য পেশা বেছে নেয়।

এই সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, মিডিয়া কভারেজের বিশাল পার্থক্য। ক্রিকেটের প্রতিটি ম্যাচ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়, খবরের কাগজের পাতা ভরে যায় ক্রিকেট সংবাদে। কিন্তু অন্যান্য খেলার প্রতিযোগিতা প্রায়ই সরাসরি দেখানো হয় না, সেগুলোর খবর সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় ছোট্ট একটি কলামে সীমাবদ্ধ থাকে। এই মিডিয়া কভারেজের অভাব জনসাধারণকে এই খেলাগুলো এবং ক্রীড়াবিদদের থেকে দূরে রাখে। মানুষ যা দেখে না, তার প্রতি আবেগ তৈরি হয় না।

দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট স্পন্সরশিপ এবং বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও বিশাল বৈষম্য। ক্রিকেটাররা কোটি কোটি টাকার স্পন্সরশিপ চুক্তি পান, তাঁরা প্রতিটি প্রধান ব্র্যান্ডের মুখ হয়ে ওঠেন। কিন্তু অন্যান্য খেলার ক্রীড়াবিদদের জন্য এই সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এর ফলে ক্রিকেটে বিশাল অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকে, যা আরও প্রতিভাকে আকর্ষণ করে, আরও উন্নত সুবিধা তৈরি করে, একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলে। অন্যদিকে, অন্যান্য খেলাগুলো আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সংগ্রাম করতে থাকে।

তৃতীয়ত, আমাদের সাংস্কৃতিক মানসিকতাও একটি বড় ভূমিকা পালন করে। আমরা সাফল্যকে সেলিব্রিটি এবং গ্ল্যামারের সাথে যুক্ত করে ফেলেছি। আমরা চাই আমাদের নায়ক-নায়িকারা বিখ্যাত হোক, তাঁরা টেলিভিশনে আসুক, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখো ফলোয়ার থাকুক। যে সাফল্য শান্ত এবং নীরব, যা ট্র্যাকে বা ম্যাটে ঘটে, যা শুধু পরিসংখ্যান এবং পদকে প্রকাশিত হয়, সেই সাফল্যের প্রতি আমাদের আকর্ষণ কম। আমরা গল্প চাই, ড্রামা চাই, বিনোদন চাই। এবং দুর্ভাগ্যবশত, ক্রীড়াজগতের অনেক প্রকৃত নায়কদের গল্প সেভাবে বলা হয় না, যা জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে পারে।

news image
আরও খবর

কিন্তু এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব, এবং এটি আমাদের সকলের দায়িত্ব। প্রথমত, মিডিয়াকে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্রীড়া কভারেজ প্রদান করতে হবে। টেলিভিশন চ্যানেল এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে অ্যাথলেটিক্স, কুস্তি, বক্সিং, এবং অন্যান্য খেলার প্রতিযোগিতা সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে। সংবাদপত্র এবং অনলাইন পোর্টালগুলোকে এই ক্রীড়াবিদদের গল্প তুলে ধরতে হবে, তাঁদের সংগ্রাম এবং সাফল্যকে হাইলাইট করতে হবে। যখন মানুষ এই ক্রীড়াবিদদের চিনবে, তাঁদের যাত্রা জানবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই একটি সংযোগ এবং সমর্থন তৈরি হবে।

দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট সেক্টরকে তাদের স্পন্সরশিপ পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করতে হবে। শুধু ক্রিকেট নয়, অন্যান্য খেলাধুলা এবং ক্রীড়াবিদদের সমর্থন করার মাধ্যমে তারা দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। যখন বড় ব্র্যান্ডগুলো এই ক্রীড়াবিদদের সাথে যুক্ত হবে, তখন তাঁদের দৃশ্যমানতা বাড়বে, যা আরও জনপ্রিয়তা এবং সমর্থন নিয়ে আসবে। এটি একটি ইতিবাচক চক্র তৈরি করবে যেখানে সফল ক্রীড়াবিদরা আরও স্বীকৃতি পাবেন, যা নতুন প্রতিভাকে অনুপ্রাণিত করবে এই ক্ষেত্রে আসতে।

তৃতীয়ত, সরকারকেও একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নতি, প্রশিক্ষকদের গুণমান বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পদকবিজয়ী ক্রীড়াবিদদের উপযুক্ত পুরস্কার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার অন্যান্য খেলাধুলাকে শক্তিশালী করতে পারে। যখন ক্রীড়াবিদরা দেখবে যে তাঁদের প্রচেষ্টার মূল্যায়ন হচ্ছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত, তখন আরও মানুষ এই পেশা বেছে নেবে।

চতুর্থত, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আমাদের নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে যে জয় শুধু টেলিভিশন স্ক্রিনে বা সিনেমা হলে আসে না, জয় আসে ট্র্যাকে, রিংয়ে, ম্যাটে, এবং মাঠে। জ্যোতি ইয়ারাজির স্বর্ণপদক একটি ক্রিকেট ম্যাচে ছক্কার মতোই উল্লাসের যোগ্য। তাঁর সাফল্য আমাদের জাতীয় গর্ব বৃদ্ধি করে, তাঁর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। আমাদের সন্তানদের শেখাতে হবে যে নায়কত্ব শুধু ক্রিকেট ব্যাটে বা সিনেমার পর্দায় নয়, নায়কত্ব আছে প্রতিটি সেই মানুষের মধ্যে যারা নিজের সীমা অতিক্রম করে দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে।

আমাদের স্টেডিয়ামে যেতে হবে। যখন অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ হবে, কুস্তির প্রতিযোগিতা হবে, বক্সিং টুর্নামেন্ট হবে, তখন আমাদের সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। আমাদের উৎসাহ, আমাদের করতালি, আমাদের সমর্থন সেই ক্রীড়াবিদদের জানাতে হবে যে তাঁরা একা নন, পুরো দেশ তাঁদের পেছনে আছে। একটি পূর্ণ স্টেডিয়ামের উল্লাস একজন ক্রীড়াবিদের মনোবল হাজারগুণ বাড়িয়ে দেয়, তাঁদের অনুপ্রাণিত করে আরও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যেভাবে ক্রিকেটারদের প্রতিটি পোস্ট শেয়ার করি, সেভাবে অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের সাফল্যও শেয়ার করতে হবে। তাঁদের নাম উচ্চারণ করতে হবে, তাঁদের গল্প ছড়িয়ে দিতে হবে। যখন আমাদের বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে কথা হবে, তখন শুধু ক্রিকেট নয়, অন্যান্য খেলার কথাও বলতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

জ্যোতি ইয়ারাজির খালি স্টেডিয়ামে স্বর্ণপদক জয় একটি জাগরণের ডাক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে একটি ভারসাম্যহীনতা আছে, যা সংশোধন করা জরুরি। প্রকৃত নায়করা শুধু ক্রিকেট মাঠে বা চলচ্চিত্রের পর্দায় নেই, তাঁরা আছেন অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে, কুস্তির ম্যাটে, বক্সিং রিংয়ে, হকি মাঠে। তাঁরা প্রতিদিন নীরবে কঠোর পরিশ্রম করেন, নিজেদের শরীর এবং মনকে সীমার বাইরে ঠেলে নিয়ে যান, দেশের জন্য পদক জিতে আনেন। তাঁদের এই ত্যাগ এবং সাফল্য আমাদের স্বীকৃতি এবং সম্মান পাওয়ার যোগ্য।

এটা শুধু নৈতিক দায়িত্বের বিষয় নয়, এটা আমাদের দেশের ক্রীড়া ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য। যখন আমরা সব খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেব, যখন সব ক্রীড়াবিদ সমান স্বীকৃতি পাবেন, তখন আরও প্রতিভা এই ক্ষেত্রগুলোতে আসবে। আরও ভালো প্রশিক্ষণ, আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা, আরও ভালো ফলাফল আসবে। আমরা অলিম্পিকে, এশিয়ান গেমসে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আরও পদক জিতব, বিশ্বমঞ্চে আমাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

জ্যোতি ইয়ারাজি এবং তাঁর মতো অসংখ্য ক্রীড়াবিদ আমাদের দেশের প্রকৃত সম্পদ। তাঁরা তাঁদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং সাফল্যের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ দেখান। তাঁদের জয় আমাদের সকলের জয়, তাঁদের গর্ব আমাদের জাতীয় গর্ব। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁরা কখনো নীরবতার মধ্যে বিজয়ী না হন, তাঁদের প্রতিটি সাফল্যে যেন পূর্ণ স্টেডিয়ামের উল্লাস থাকে, পুরো দেশের উৎসব থাকে। কারণ জয় শুধু সেলিব্রিটিদের জন্য নয়, জয় তাঁদের জন্যও যাঁরা নীরবে, নিষ্ঠার সাথে দেশের নাম উজ্জ্বল করেন।

Preview image