Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মার্কিন ফেড কমাল মূল সুদের হার | জেরোম পাওয়েল জানালেন ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত | নতুন হার ৩.৭৫%–৪.০০% | বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত

মার্কিন ফেড কমাল মূল সুদের হার, অর্থনীতিতে স্বস্তির হাওয়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve (US Fed) বুধবার তাদের নতুন নীতি ঘোষণা করে মূল সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট (bps) কমিয়ে ৩.৭৫% থেকে ৪.০০% রেঞ্জে নিয়ে এসেছে। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (FOMC) প্রধান জেরোম পাওয়েল-এর নেতৃত্বে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণগ্রহণের খরচ কিছুটা কমে গেল। এই বৈঠকে মোট ১২ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জন সুদ কমানোর পক্ষে ভোট দেন, একজন বড় কাট (৫০bps) চান, এবং আরেকজন হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ছিলেন। জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, “এই সিদ্ধান্ত ডেটা-নির্ভর। আমরা অর্থনৈতিক সূচকগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ডিসেম্বরে আবার হার কমানো হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ্রাস যুক্তরাষ্ট্রের ‘সফট ল্যান্ডিং’ কৌশল বাস্তবায়নের অংশ, যেখানে ফেড অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বৃদ্ধি বজায় রাখতে চায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব সামান্য বেড়েছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি মন্থর হয়েছে, আর মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৪%-এর নিচে স্থিতিশীল। এই প্রেক্ষাপটে ফেডের পদক্ষেপকে অর্থনীতিকে ‘প্রাণবন্ত’ করার দিকেই একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ফেডের চেয়ারম্যান পাওয়েল স্পষ্ট করে দিয়েছেন — এটি ধারাবাহিক সুদহ্রাসের সূচনা নয়, বরং এককালীন পরিস্থিতি-ভিত্তিক পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে মার্কিন শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় — ডাও জোন্স ০.৫% বৃদ্ধি পায়, নাসডাক প্রায় অপরিবর্তিত, আর S&P 500 সামান্য উত্থানে বন্ধ হয়। ভারতের বাজারে এর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। ফেডের সুদ কমানো মানে বিদেশি পুঁজির প্রবাহ (FII inflow) বাড়তে পারে, যা শেয়ারবাজার ও রুপিকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন ডিসেম্বরের বৈঠকের দিকে নজর রাখবেন, কারণ পরবর্তী সিদ্ধান্তই বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি নির্ধারণ করবে।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ কমাল মূল সুদের হার: জেরোম পাওয়েল জানালেন, ‘ডিসেম্বরে আর কাট হবে কি না তা নিশ্চিত নয়’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve বুধবার (অক্টোবর ২৯, ২০২৫) তাদের নতুন নীতি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (FOMC) প্রধান জেরোম পাওয়েল-এর নেতৃত্বে মূল সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট (bps) কমানো হয়েছে, যার ফলে নতুন হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫% থেকে ৪.০০% রেঞ্জে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভ স্পষ্ট করেছে যে তারা এখন “অর্থনৈতিক বৃদ্ধি উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা” — এই দুই উদ্দেশ্যের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে।


সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ ও ভোটিং ফলাফল

এই সিদ্ধান্তে FOMC সদস্যদের মধ্যে ভোটাভুটির ফলাফল ছিল ১০–২

  • ১০ জন সদস্য ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর পক্ষে ভোট দেন,

  • একজন সদস্য ৫০ বেসিস পয়েন্টের বড় কাট চেয়েছিলেন,

  • অপর একজন সদস্য হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ছিলেন।

এই বৈঠকের শেষে জেরোম পাওয়েল বলেন, “আমরা অর্থনীতির সাম্প্রতিক দুর্বল সূচকগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তবে আমরা নিশ্চিত নই যে ডিসেম্বরে আবার সুদ কমানো প্রয়োজন হবে কি না — সবকিছু নির্ভর করবে আসন্ন ডেটা ও পরিস্থিতির ওপর।”


কেন ফেডারেল রিজার্ভ সুদ কমাল

ফেড এই পদক্ষেপ নিয়েছে মূলত অর্থনীতিতে ‘সফট ল্যান্ডিং’ (soft landing) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।

  • গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার মন্থর হয়েছে।

  • বেকারত্ব সামান্য বেড়েছে, যদিও তা এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও তা ৪%-এর নিচে স্থিতিশীল রয়েছে, যা ফেডের অনুমোদিত সীমার মধ্যে।

ফেডের মতে, “অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী হলেও, বিনিয়োগ ও শিল্পোৎপাদনে মন্থরতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সামান্য সুদ হ্রাস বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।”


জেরোম পাওয়েলের বক্তব্য

পাওয়েল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন,

“আমরা চাই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অব্যাহত থাকুক, কিন্তু অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি যেন না বাড়ে। সুদের হার কমানো মানে এই নয় যে, আমরা ধারাবাহিকভাবে একই পথে চলব। এটি তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও জানান, “ডিসেম্বরের বৈঠকে আবার সুদ কমানো হবে কি না তা নিশ্চিত নয়।” অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত বাজার পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নির্ভর করবে।


অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি জিডিপি প্রবৃদ্ধি (GDP growth) কমেছে ২.৬% থেকে ২.২%-এ। পাশাপাশি, শ্রমবাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে এবং ভোক্তা ব্যয়ও কিছুটা মন্থর।

news image
আরও খবর

ফেডের সিদ্ধান্ত এই প্রেক্ষাপটে বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেয় — বিশেষ করে ঋণগ্রহীতা ও শিল্প খাতে। সুদের হার কমলে ব্যবসায়ীরা সহজে ঋণ পেতে পারেন, যা উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করবে।

তবে, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

  • ডাও জোন্স সূচক ০.৫% বেড়েছে,

  • ন্যাসডাক প্রায় অপরিবর্তিত থেকেছে,

  • এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক সামান্য লাভে বন্ধ হয়েছে।


ভারতীয় বাজার ও বৈশ্বিক প্রভাব

ভারতের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের ওপর এই সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব পড়তে পারে।

  • ফেডের সুদ কমানো মানে বিদেশি পুঁজির প্রবাহ (FII inflow) ভারতে বাড়তে পারে, যা শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করবে।

  • ডলারের মান কিছুটা দুর্বল হলে রুপির মান শক্তিশালী হতে পারে, যা আমদানি খাতের জন্য সুবিধাজনক।

  • তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, “এই হ্রাস ইতিমধ্যে অনেকটাই বাজারে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তাই বড় উত্থান আশা করা ঠিক হবে না।”

বিশেষজ্ঞ মনীষ শাহ বলেন,

“ফেডের সিদ্ধান্ত ভারতীয় বন্ড মার্কেট ও রূপি স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। তবে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ — যদি ডিসেম্বরেও কাট হয়, তাহলে এটি এশিয়ান বাজারের জন্য গেমচেঞ্জার হতে পারে।”


⚠️ ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ

যদিও সুদ হ্রাস অর্থনীতিকে স্বস্তি দিতে পারে, তবে ফেডের এই পদক্ষেপের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে —

  • অতিরিক্ত তারল্য বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

  • দীর্ঘমেয়াদে ডলারের মান দুর্বল হলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

  • এছাড়া, রাজনৈতিক চাপ ও মার্কিন নির্বাচন-পূর্ব বাজার গতিশীলতাও ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

Preview image