চব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ নদিয়া জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কল্যাণী আজ এক বিশাল গণআন্দোলনের সাক্ষী হয়ে রইল কল্যাণী রেলওয়ে স্টেশনে রেল প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে চলা হকার উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে আজ এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এই প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ কমরেড অলকেশ দাস তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় রেল প্রশাসনের এই অমানবিক উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন এবং হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে এক বিশাল আন্দোলনের ডাক দেন
কল্যাণী চব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং অন্যতম প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র কল্যাণী আজ এক অভূতপূর্ব এবং বিশাল গণআন্দোলনের সাক্ষী হয়ে রইল কল্যাণী রেলওয়ে স্টেশন এবং তার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে রেল প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে যে ভয়াবহ হকার উচ্ছেদ অভিযান চলছে আজ তার বিরুদ্ধে এক প্রলয়ঙ্করী প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় আধুনিকীকরণ এবং সৌন্দর্যায়নের নামে কোনো রকম বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়াই হাজার হাজার গরিব হকারকে তাদের রুটিরুজি থেকে উচ্ছেদ করার এই অমানবিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ একজোট হয়েছেন সাধারণ মানুষ এই বিশাল প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার সাধারণ হকার খেটে খাওয়া মানুষ ছাত্র যুবক এবং বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এই বিশাল জনসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী বা সিপিআইএম এর বর্ষীয়ান নেতা এবং প্রাক্তন সাংসদ কমরেড অলকেশ দাস তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় রেল প্রশাসন এবং সরকারের এই নিষ্ঠুর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং হকারদের ন্যায়ের দাবিতে এক বিশাল আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন
কল্যাণী কেবল একটি সাধারণ শহর নয় এটি একটি পরিকল্পিত শহর যা বিধানচন্দ্র রায়ের স্বপ্নের শহর হিসেবে পরিচিত এই শহরের প্রাণকেন্দ্র হলো কল্যাণী রেলওয়ে স্টেশন প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের কাজের জন্য শিক্ষার জন্য এবং চিকিৎসার জন্য এই স্টেশন ব্যবহার করেন এই বিশাল সংখ্যক যাত্রীদের প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য কল্যাণী স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এবং স্টেশনের বাইরের চত্বরে গত কয়েক দশক ধরে অসংখ্য ছোট বড় হকার নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে খবরের কাগজ ফল মিষ্টি এবং রোজকার প্রয়োজনীয় জিনিসের পসরা সাজিয়ে এই হকাররা অত্যন্ত সস্তায় সাধারণ যাত্রীদের পরিষেবা প্রদান করতেন এই হকাররা কোনো দিন সরকারের কাছে ভিক্ষা চাননি বা কোনো সরকারি চাকরি দাবি করেননি তারা কেবল নিজেদের হাড়ভাঙা খাটুনি এবং সামান্য পুঁজির ওপর নির্ভর করে অত্যন্ত সম্মানের সাথে নিজেদের জীবন ধারণ করতেন কিন্তু প্রশাসনের আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান এই হাজার হাজার খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে এক ভয়ানক অন্ধকার নামিয়ে এনেছে
গত কয়েক দিন আগে কোনো রকম সুনির্দিষ্ট আগাম নোটিশ ছাড়াই রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা আরপিএফ এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী বুলডোজার নিয়ে কল্যাণী স্টেশনে হাজির হয় এবং হকারদের অস্থায়ী দোকানগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে চোখের সামনে নিজেদের তিল তিল করে গড়ে তোলা উপার্জনের জায়গা ভেঙে যেতে দেখে অনেক হকার রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের সেই হাহাকার এবং আর্তনাদ প্রশাসনের কর্তাদের বিবেককে বিন্দুমাত্র নাড়া দিতে পারেনি এই নির্মম উচ্ছেদের পর আজ কল্যাণী স্টেশন চত্বর যেন এক যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে চারদিকে কেবল ভাঙা বাঁশ টিন এবং হকারদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মালপত্র এই ভয়ানক পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই আজ হকার সংগ্রাম কমিটি এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের ডাকে এই বিশাল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় সকাল থেকেই লাল পতাকা হাতে হাজার হাজার মানুষ কল্যাণী স্টেশনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন তাদের স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে ওঠে গোটা স্টেশন চত্বর
এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন সাংসদ কমরেড অলকেশ দাস অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় প্রশাসনের এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন তিনি বলেন আমাদের দেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং এই দেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার এবং জীবিকা অর্জনের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সরকার সেই সংবিধানকে পদদলিত করে গরিব মানুষের পেটে লাথি মারছে সরকার এই তরুণদের চাকরি দিতে পারেনি রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক আজ বেকারত্বের জ্বালায় ধুঁকছে কারখানার পর কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কৃষিতে কোনো লাভ নেই এই অবস্থায় মানুষ যখন নিজেদের চেষ্টায় ফুটপাতে বসে বা স্টেশনে বসে দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করার চেষ্টা করছে তখন সরকার তাদের সেই শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিচ্ছে কমরেড অলকেশ দাস প্রশ্ন তোলেন যে এই উন্নয়নের আসল সুবিধাভোগী কারা গরিব মানুষকে ভিখারি বানিয়ে রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে যে স্মার্ট স্টেশন বা আধুনিক শহর গড়ার কথা বলা হচ্ছে তা আসলে কাদের স্বার্থে তৈরি হচ্ছে
কমরেড অলকেশ দাস তার বক্তব্যে ২০১৪ সালের স্ট্রিট ভেন্ডরস অ্যাক্ট বা হকার সুরক্ষা আইনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি বলেন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা পার্লামেন্টে এই আইন পাস করা হয়েছে যেখানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে শহরের হকারদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোন বা হকার্স মার্কেট তৈরি করে পুনর্বাসন দিতে হবে এই আইনে পরিষ্কার বলা আছে যে যতক্ষণ না পর্যন্ত হকারদের একটি সঠিক সার্ভে বা সমীক্ষা হচ্ছে এবং তাদের বিকল্প জায়গা দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো হকারকে তার জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা সম্পূর্ণ বেআইনি কিন্তু রেল প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার এই আইনকে সম্পূর্ণভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গায়ের জোরে বুলডোজার চালাচ্ছে তিনি প্রশাসনের কর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন আপনারা যদি মনে করেন যে পুলিশের লাঠি এবং বুলডোজার দিয়ে গরিব মানুষের আওয়াজ চিরকাল স্তব্ধ করে রাখবেন তবে আপনারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন বাংলার খেটে খাওয়া মানুষ যখন একবার নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য পথে নামে তখন কোনো স্বৈরাচারী শাসকই তাদের আটকাতে পারে না
এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে কল্যাণী এবং সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র অর্থনীতি বা মাইক্রো ইকোনমি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে এই স্টেশনের হকারদের ওপর নির্ভর করে অনেক ভ্যান চালক রিকশাওয়ালা এবং দিনমজুর নিজেদের সংসার চালাতেন আজ স্টেশনের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সমস্ত প্রান্তিক মানুষগুলোও সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক হকার আছেন যারা বিভিন্ন সমবায় ব্যাংক বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে নিজেদের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন যে এই ব্যবসার আয় থেকে তারা নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াবেন এবং তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেবেন কিন্তু আজ সেই সমস্ত স্বপ্ন এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেছে মহাজনের ঋণের কিস্তি কীভাবে মেটাবেন সেই চিন্তায় অনেক হকার আজ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য যখন কর্মহীন হয়ে পড়েন তখন সেই পরিবারের শিশু সন্তানদের পড়াশোনা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার অভাবে পরিবারের সদস্যদের অকাল মৃত্যু ঘটে
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত অনেক সাধারণ হকার তাদের নিজেদের জীবনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এক প্রবীণ চা বিক্রেতা যিনি গত পঁচিশ বছর ধরে কল্যাণী স্টেশনে চা বিক্রি করে আসছেন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন বাবু আমরা তো চুরি ডাকাতি করি না আমরা তো মানুষের সেবা করি আজ আমার দোকানটা ভেঙে দিল এখন আমি এই বয়সে কোথায় যাব আমার বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী আছে তার ওষুধের টাকা আমি কোথা থেকে জোগাড় করব আরেকজন মহিলা হকার যিনি ফল বিক্রি করতেন তিনি বলেন সরকার আমাদের জন্য কিছু করেনি উল্টে আমাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিল আমরা ভিখারি নই আমরা আমাদের সম্মানজনক জীবন ফেরত চাই এই হকারদের চোখের জল এবং তাদের এই বুকফাটা আর্তনাদ প্রমাণ করে যে আধুনিক উন্নয়নের এক চরম নিষ্ঠুর এবং অমানবিক দিক রয়েছে যা কেবল গরিব মানুষের ওপরই তার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে
কমরেড অলকেশ দাস সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভকে সংগঠিত করার ডাক দেন তিনি বলেন এই লড়াই কেবল কল্যাণী স্টেশনের হকারদের লড়াই নয় এই লড়াই হলো সমগ্র দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই আজ যদি আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই তবে আগামীকাল প্রশাসনের বুলডোজার আমাদের সবার বাড়ির দরজায় এসে কড়া নাড়বে তিনি সরকারের দ্বিচারিতার কথা তুলে ধরে বলেন বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলো যখন হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ না করে বিদেশে পালিয়ে যায় তখন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করে না তাদের ঋণ মকুব করে দেওয়া হয় কিন্তু গরিব মানুষ যে প্রতিদিনের পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে তাদের বেলায় সরকারের সমস্ত আইন এবং কঠোরতা প্রয়োগ করা হয় এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে একজোট হতে হবে
প্রতিবাদ সভা থেকে হকার সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে একাধিক সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয় তাদের প্রথম এবং প্রধান দাবি হলো অবিলম্বে এই বেআইনি উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে যে সমস্ত হকারদের দোকান ইতিমধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাদের উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং স্ট্রিট ভেন্ডরস আইন অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ টাউন ভেন্ডিং কমিটি গঠন করে হকারদের সঠিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে তারা জানিয়েছেন যে রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বা তার আশেপাশে আধুনিক হকার্স কিয়স্ক তৈরি করে হকারদের ব্যবসার আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসন এই দাবিগুলো মেনে নিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত হকারদের এই আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রয়োজনে আগামী দিনে সমগ্র কল্যাণী শহর অচল করে দেওয়া হবে এবং রেল রোকো কর্মসূচির মতো বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে তারা বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন
কল্যাণীর এই হকার আন্দোলন কেবল স্থানীয় হকারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এই আন্দোলন আজ সমগ্র নাগরিক সমাজের সমর্থন লাভ করেছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রী এবং তরুণ সমাজ আজ এই প্রতিবাদ সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তরুণ প্রজন্ম যারা আধুনিক এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাঁচতে অভ্যস্ত তারাও বুঝতে পারছেন যে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে গরিব মানুষের পেটে লাথি মারা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না তারা বলছেন যে একটি প্রকৃত সুন্দর শহর হলো সেই শহর যেখানে ধনী এবং গরিব সকলের সমান অধিকার থাকে একটি শহরের অর্থনীতি কেবল বড় বড় শপিং মল দিয়ে চলে না ফুটপাতের এই ছোট ছোট দোকানগুলো শহরের অর্থনীতির প্রাণভোমরা এই তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র নিন্দা করছেন এবং হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং আইনজীবীদের মঞ্চ এই গরিব হকারদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তারা বলছেন যে বিনা নোটিশে এবং বিনা পুনর্বাসনে এই উচ্ছেদ অভিযান সংবিধানের একুশ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী তারা ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার চিন্তাভাবনা করছেন যাতে আইনি হস্তক্ষেপে এই গরিব মানুষগুলো ন্যায়বিচার পান প্রশাসনকে বুঝতে হবে যে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এবং গায়ের জোরে বুলডোজার চালিয়ে কোনো সভ্য সমাজ পরিচালনা করা যায় না
কমরেড অলকেশ দাসের আজকের এই জ্বালাময়ী ভাষণ এবং কল্যাণীর সাধারণ মানুষের এই বিশাল জমায়েত প্রমাণ করে যে বাংলার রাজনীতিতে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়ে যায়নি বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলো আবারও প্রমাণ করল যে তারা সবসময় খেটে খাওয়া এবং শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত এই আন্দোলন প্রশাসনের ওপর এক বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকার যদি এই জনরোষকে গুরুত্ব না দেয় তবে আগামী দিনে এই ক্ষোভের আগুন সমগ্র রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এক ভয়াবহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে
পরিশেষে এটা বলাই বাহুল্য যে কল্যাণী স্টেশনের আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আমাদের সমাজের এক চরম বৈষম্য এবং অমানবিকতার চিত্র তুলে ধরেছে উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন রেলওয়ে স্টেশনগুলোর আধুনিকীকরণ সময়ের দাবি কিন্তু সেই উন্নয়নের চাকা যদি গরিব মানুষের বুকের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয় তবে সেই উন্নয়ন কখনোই প্রকৃত উন্নয়ন হতে পারে না একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো তার দেশের সবচেয়ে দুর্বল এবং অসহায় নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করা রেলওয়ে প্রশাসনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে হকারদের উচ্ছেদ করার আগে তাদের পুনর্বাসনের সম্পূর্ণ রূপরেখা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি কল্যাণী স্টেশনের এই আন্দোলন প্রমাণ করে দিল যে পেটের দায় বড় দায় এবং রুটিরুজি বাঁচানোর জন্য সাধারণ মানুষ যেকোনো বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত আমরা আশা করব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং হকার ইউনিয়নের মধ্যে দ্রুত একটি গঠনমূলক আলোচনা শুরু হবে এবং এমন একটি সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে যেখানে স্টেশনের সৌন্দর্যও বজায় থাকবে এবং গরিব হকারদের ব্যবসাও সুরক্ষিত থাকবে বিস্তারিত খবরের জন্য এবং কল্যাণী স্টেশনের এই বিশাল আন্দোলনের লেটেস্ট আপডেট ও প্রতিবাদ সভার সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায় সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আমাদের এই সংবাদ পরিবেশনা অবিরাম চলতে থাকবে