Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মুম্বইয়ে মেয়ের সামনেই আক্রান্ত অভিনেত্রী শামিম আকবর, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

জিম থেকে মেয়েকে আনতে গিয়েই অটোচালকের হামলার শিকার হন শামিম আকবর। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন তার ৫ বছর বয়সী কন্যা।মুম্বইয়ের মীরা রোডে প্রকাশ্যে হামলা, নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠল নতুন প্রশ্ন।দুপুরে শহরের রাস্তায় ঘটা এই ঘটনা শোক এবং উদ্বেগ উভয়ই ছড়িয়ে দিয়েছে।অভিনেত্রী শামিম আকবর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন, মেয়ের সামনে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি শেয়ার করলেন।

২০২১ সালে ‘ইন দ্য মান্থ অফ জুলাই’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নজর কেড়েছিলেন অভিনেত্রী শামিম আকবর। বয়স মাত্র ৩২ হলেও, তিনি ইতোমধ্যেই ফিল্ম ও টেলিভিশন জগতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কারণে তিনি যেন এক মুহূর্তে সমাজের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়ে গেলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের মীরা রোডে। শামিম সকালে জিম থেকে ফিরে দুপুরের দিকে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে বের হন। সময় তখন দুপুর ২:৪৫। রাস্তায় চলাফেরার ভিড়ে তিনি একটি অটো থামান। অটোয় উঠার পর শুরু হয় তাড়াহুড়ো, এবং স্কুলের সামনে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে অটোচালকের আচরণ ক্রমশ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

শামিমের অভিযোগ, অটোচালক প্রথমে চিৎকার করতে শুরু করেন। শারীরিক ভঙ্গিতে ও কথাবার্তায় তিনি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। তাড়াহুড়োর কারণে শামিম ভাড়া দিতে বাধ্য হন, তারপর দ্রুত মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ওঠেন। কিন্তু অটোচালকের আচরণ তার দম নিতে দেয় না।

ঘটনাটি চরমে পৌঁছায়, যখন তারা সোসাইটির গেটে পৌঁছান। অটোচালক আচমকা শারীরিক হস্তক্ষেপ শুরু করেন এবং শামিমের হাত মুচড়ে ধরেন। তার পাঁচ বছরের কন্যা এ সব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। শিশু আতঙ্কিত হয়ে কেঁপে ওঠে, আর শামিম নিজেও ভয় এবং শোকের মধ্যে পড়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন শামিম।

মুম্বই, ভারতের এক ব্যস্ততম শহর। সাধারণত শহরের রাস্তা, গেট এবং বাজার এলাকায় যে কোনো সময় মানুষের চলাচল থাকে। এরকম একটি শহরে দুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘটেছে এমন ঘটনা, তা নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শামিমের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এক নারীর জন্য তার সন্তানসহ নিরাপদ থাকা এখনো কোনো নিশ্চয়তা নয়।

শামিম আকবর নিজেও এই ঘটনার প্রভাব থেকে মুক্ত নন। তিনি বলেন, “যদি একটি নারী দুপুরে নিজের সন্তানের সঙ্গে নিরাপদ না থাকতে পারে, তবে আমরা কখন নিরাপদ হব?” এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং শহরে নারীর জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বড় সামাজিক বার্তাও বহন করে।

এই ঘটনা সামাজিক ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকে শামিমের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং সঠিক আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এই ঘটনা শুধুই এক ব্যক্তির সমস্যা নয়। মুম্বইয়ের মতো শহরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের যানজট, জনসমাগম এবং নিরাপত্তার অভাব মিলিতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে। নারীরা যখন দিনের বেলাতেও নিরাপদ নয়, তখন তাদের জন্য মানসিক চাপ এবং আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়া, শিশুরা এই ধরনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলে তাদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

news image
আরও খবর

এমন পরিস্থিতিতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি, সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টলেশন, জনসচেতনতা এবং জরুরি কল সেবা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। সামাজিকভাবে আমাদের সবাইকেই সচেতন হতে হবে যে, একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা শুধুই সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

শামিম আকবরের ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শুধুমাত্র রাত বা অন্ধকারে নয়, দিনের বেলায়ও নারীরা নিরাপদ নয়। এটি শিশুদের সামনে ঘটে গেলে আরও উদ্বেগজনক। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জরুরি প্রয়োজন।

অভিনেত্রী হিসেবে শামিম তার প্রতিভা দিয়ে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবনেও এই ধরনের অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি নিজেও চান, এই ঘটনার মাধ্যমে সমাজ সচেতন হোক এবং নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

মুম্বইয়ের মতো শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। নারীরা যদি এমন পরিবেশে ভয় নিয়ে চলতে বাধ্য হন, তবে আমাদের সমাজ কবে নারীর জন্য সত্যিই নিরাপদ হবে? শামিমের ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির নয়, বরং সমাজের জন্য একটি জাগরণের বার্তা।

নিষ্পত্তির জন্য আদালত এবং পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে, সিটি অথরিটি ও সোশ্যাল সংস্থা যেন সক্রিয়ভাবে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এটি শুধুমাত্র আইনগত নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।

শামিমের কন্যা এই ঘটনার সাক্ষী। শিশুর মানসিক প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা যদি এমন ভয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তবে তাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিকাশে বাধা পড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা নারীর নিরাপত্তা, শিশুর সুরক্ষা, আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা—সবকিছুরই সমন্বয় প্রয়োজন। শামিম আকবরের সাহসী পদক্ষেপ এবং পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা একটি উদাহরণ তৈরি করেছে, যা অন্য নারীদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, শহরের রাস্তায় নিরাপত্তা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। শামিম আকবরের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন।

Preview image