Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পোষ্যদের থেকেই জীবনের সহজপাঠ শিখেছেন আলিয়া নায়িকাকে কী কী শিখিয়েছে এডওয়ার্ড জুনিপাররা

পোষ্য বিড়ালদের প্রতি তাঁর ভালবাসা বারংবার প্রকাশ পেয়েছে আলিয়া ভট্টের কথায়। বিভিন্ন সময় অভিনেত্রী সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন এডওয়ার্ড আর জুনিপারদের সঙ্গে আদুরে মুহূর্তের নানা ছবি।

পোষ্যদের প্রতি ভালোবাসা অনেকেরই থাকে, কিন্তু সেই ভালোবাসাকে জীবনের দর্শনে পরিণত করতে পারেন খুব কম মানুষ। সেই দিক থেকে আলিয়া ভট্ট যেন একটু আলাদা। ব্যস্ত শুটিং, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দায়িত্ব—সব কিছুর মাঝেও তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর প্রিয় পোষ্য বিড়ালরা, বিশেষ করে এডওয়ার্ড ও জুনিপার। তাঁদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো কেবল আদুরে ছবির ফ্রেমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেই সম্পর্কের ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে জীবনের গভীর কিছু শিক্ষা।

সমাজমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়, আলিয়া তাঁর পোষ্যদের সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটাচ্ছেন—কখনও সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে, কখনও রোদে বসে আলস্যে ভরা দুপুর উপভোগ করছেন। গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলকানি থেকে অনেক দূরে, এই মুহূর্তগুলো যেন তাঁকে একেবারে সাধারণ, ঘরোয়া মানুষ করে তোলে। তাঁর কথায়, পোষ্যরা তাঁকে শিখিয়েছে জীবনকে একটু হালকা ভাবে নিতে। মানুষের জীবনে প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটে—কখনও সাফল্য, কখনও ব্যর্থতা, কখনও প্রশংসা, কখনও সমালোচনা। কিন্তু প্রতিটি ঘটনাকে সমান গুরুত্ব দিলে মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পোষ্যরা যেমন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না, তেমনই মানুষকেও শেখা উচিত অপ্রয়োজনীয় বোঝা নামিয়ে রাখা।

আলিয়ার মতে, প্রত্যাশাই অনেক সময় মানুষের দুঃখের মূল। আমরা অন্যের কাছ থেকে কিছু আশা করি—ভালোবাসা, স্বীকৃতি, সময়, সম্মান। প্রত্যাশা পূরণ না হলে জন্ম নেয় হতাশা। কিন্তু পোষ্যরা ভালোবাসে নিঃশর্ত ভাবে। তারা বিনিময়ে কিছু চায় না—না খ্যাতি, না অর্থ, না প্রশংসা। এই নিঃস্বার্থ সান্নিধ্যই আলিয়াকে শিখিয়েছে, যত কম প্রত্যাশা রাখা যায়, তত কম কষ্ট পেতে হয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যও এই শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কম প্রত্যাশা মানেই কম ভালোবাসা নয়; বরং সেই ভালোবাসা আরও স্বচ্ছ, আরও মুক্ত।

এডওয়ার্ডের সঙ্গে আলিয়ার সম্পর্ক বিশেষভাবে আলোচিত। ব্যক্তিগত জীবনে বহু পরিবর্তন এলেও এডওয়ার্ড তাঁর জীবনে স্থায়ী সঙ্গী হয়ে থেকেছে। জানা যায়, প্রাক্তন প্রেমিক সিদ্ধার্থ মলহোত্র এক সময় এডওয়ার্ডকে উপহার দিয়েছিলেন। সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটলেও পোষ্যের প্রতি ভালোবাসা অটুট থেকেছে। এমনকি আলিয়ার বিয়ের দিনেও এডওয়ার্ডকে তাঁর পাশে দেখা গিয়েছে—যেন জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই নীরব সঙ্গী উপস্থিত। অন্যদিকে, সিদ্ধার্থও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, এডওয়ার্ডের কথা তাঁর এখনও মনে পড়ে। সম্পর্ক ভেঙে গেলেও পোষ্যের স্মৃতি যে থেকে যায়, সেটাই প্রমাণ করে মানুষ আর প্রাণীর বন্ধন কতটা গভীর হতে পারে।

জুনিপারও আলিয়ার জীবনে সমান আদরের। একটি পোষ্য কেবল ঘরের কোণে বসে থাকা প্রাণী নয়; তারা হয়ে ওঠে পরিবারের সদস্য। আলিয়ার ব্যস্ত সময়সূচির মাঝেও পোষ্যদের জন্য আলাদা সময় রাখার চেষ্টা থাকে। কারণ তাঁর বিশ্বাস, মানসিক সুস্থতার জন্য এই সময়টুকু অপরিহার্য। তিনি বলেন, পোষ্যরা তাঁকে ঘুমোতে শিখিয়েছে। শুনতে অবাক লাগলেও বিষয়টি গভীর। পোষ্যরা যখন ক্লান্ত হয়, তখন বিনা দ্বিধায় ঘুমিয়ে পড়ে। তারা ভবিষ্যতের চিন্তায় রাত জাগে না, অতীতের ভুল নিয়ে অনুশোচনা করে না। মানুষও যদি প্রয়োজন মতো বিশ্রাম নিতে শেখে, তবে শরীর ও মন—দু’টিই সুস্থ থাকবে।

আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা প্রায়ই বিশ্রামকে অবহেলা করি। কাজের চাপ, প্রতিযোগিতা, সামাজিক মাধ্যমের তুলনা—সব মিলিয়ে মানসিক ক্লান্তি বাড়ে। কিন্তু পোষ্যদের জীবনযাপন যেন এক সরল দর্শন শেখায়: খাও, খেলো, ভালোবাসো, আর প্রয়োজন হলে ঘুমিয়ে নাও। এই সহজ সূত্রেই লুকিয়ে আছে সুস্থতার রহস্য। আলিয়ার কথায়, যখনই তিনি মানসিক চাপ অনুভব করেন, তখন পোষ্যদের পাশে কিছু সময় কাটালেই মন হালকা হয়ে যায়। তাদের নির্ভেজাল উপস্থিতি যেন সমস্ত উদ্বেগ গলিয়ে দেয়।

পোষ্যদের সঙ্গে সম্পর্ক মানুষকে দায়িত্বশীলও করে তোলে। নিয়মিত খাওয়ানো, পরিচর্যা, চিকিৎসা—সব কিছুর দায়িত্ব নিতে হয়। ব্যস্ত পেশাজীবী হয়েও আলিয়া এই দায়িত্ব এড়িয়ে যান না। বরং তিনি মনে করেন, এই যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়াই মানুষকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। প্রাণীদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করলে মানুষের প্রতিও সহানুভূতি বাড়ে। একটি পোষ্যের অসুস্থতা যেমন মন খারাপ করায়, তেমনই তার সুস্থতা আনন্দ এনে দেয়। এই আবেগের ওঠানামাই জীবনের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করে।

আলিয়ার ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়—কেউ যদি তাঁকে উপহার দিতে চান, তবে একটি পোষ্য দিলেই তিনি সবচেয়ে খুশি হন। এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বস্তুগত উপহারের চেয়ে তাঁর কাছে সম্পর্কের মূল্য অনেক বেশি। পোষ্য মানে কেবল আনন্দ নয়, আজীবনের বন্ধন। সেই বন্ধন একবার তৈরি হলে তা সহজে ভাঙে না।

তারকা জীবনের উজ্জ্বল আলোয় থেকেও আলিয়া যেন নিজের ভেতরের কোমল অংশটুকু বাঁচিয়ে রেখেছেন এই পোষ্যদের মাধ্যমে। অভিনয়জীবনে তিনি যতই ব্যস্ত থাকুন, ঘরে ফিরলে অপেক্ষা করে থাকে কিছু উজ্জ্বল চোখ, কিছু নির্ভেজাল ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান স্থিরতা। জীবনের উত্থান-পতনের মাঝে এই স্থিরতাই তাঁকে ভারসাম্য দেয়।

অনেকেই মনে করেন, তারকাদের জীবন নিখুঁত। কিন্তু বাস্তবে তাদের জীবনেও থাকে বিচ্ছেদ, চাপ, সমালোচনা, একাকীত্ব। এই সব কিছুর মাঝেও পোষ্যরা হয়ে ওঠে নীরব সহচর। তারা বিচার করে না, প্রশ্ন করে না, অতীত টেনে আনে না। শুধু পাশে থাকে। আলিয়ার জীবনের অভিজ্ঞতাও যেন সেই কথাই প্রমাণ করে।

news image
আরও খবর

সব মিলিয়ে, পোষ্য বিড়ালদের থেকে আলিয়া যে শিক্ষাগুলো পেয়েছেন—কম প্রত্যাশা রাখা, ছোটখাটো বিষয়কে গুরুত্ব না দেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, নিঃশর্ত ভালোবাসা দেওয়া—তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, আমাদের প্রত্যেকের জীবনেও প্রাসঙ্গিক। হয়তো আমরা সবাই তারকা নই, কিন্তু আমাদের জীবনেও চাপ আছে, সম্পর্কের টানাপোড়েন আছে। সেই সব কিছুর মাঝে যদি আমরা একটু থামতে শিখি, একটু কম প্রত্যাশা করি, আর নিজের যত্ন নিই—তবে জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠতে পারে।

এডওয়ার্ড ও জুনিপারের মতো নীরব সঙ্গীরাই যেন আলিয়ার জীবনে এই সহজ কিন্তু গভীর দর্শনের উৎস। তাদের ছোট্ট পায়ের শব্দ, মৃদু গরগর শব্দ, আর নিশ্চিন্ত ঘুম—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক শান্তির জগৎ। সেই জগৎই তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, জীবনের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে সরলতায়, ভালোবাসায় আর নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যে।
 

সব শেষে বলা যায়, পোষ্যদের প্রতি আলিয়ার এই গভীর টান কেবল আদরের গল্প নয়, এটি এক অন্তর্লোকের যাত্রা। ঝলমলে আলোর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা একজন সফল অভিনেত্রীর জীবনে যেমন সাফল্য আছে, তেমনই আছে চাপ, অনিশ্চয়তা, সমালোচনা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েন। কিন্তু সেই সমস্ত কিছুর মাঝেও আলিয়া ভট্ট বারবার ফিরে যান তাঁর ছোট্ট, নির্ভেজাল জগতে—যেখানে আছে এডওয়ার্ড ও জুনিপারের মতো নীরব সঙ্গী। এই ফিরে যাওয়াই যেন তাঁকে ভেতর থেকে শক্ত করে।

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে মানুষ কিছু না কিছু শেখে। কেউ শেখে বই থেকে, কেউ অভিজ্ঞতা থেকে, কেউ সম্পর্কের ভাঙাগড়া থেকে। আলিয়া শিখেছেন তাঁর পোষ্যদের কাছ থেকে। শিখেছেন, সব অনুভূতিকে একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলতে হয় না। কিছু অনুভূতি ছেড়ে দিতে হয়, কিছু দুঃখ সময়ের হাতে তুলে দিতে হয়। পোষ্যরা যেমন মুহূর্তে বাঁচে, তেমনই মানুষও যদি বর্তমানকে একটু বেশি গুরুত্ব দেয়, তবে হয়তো উদ্বেগের ভার অনেকটাই কমে।

প্রত্যাশাহীন ভালোবাসা—এই একটি শব্দবন্ধেই যেন লুকিয়ে আছে তাঁর শেখা সবচেয়ে বড় পাঠ। মানুষে মানুষে সম্পর্কের ভিতরে যত হিসেব-নিকেশ, তত ভুল বোঝাবুঝি। কিন্তু একটি পোষ্য কখনও ভালোবাসার বদলে ভালোবাসা চায় না। সে শুধু উপস্থিত থাকে। এই উপস্থিতির শক্তিই আলিয়ার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, সময় বদলে যেতে পারে, মানুষ দূরে সরে যেতে পারে—কিন্তু পোষ্যের ভালোবাসা সেই একই থাকে। এমনকি তাঁর প্রাক্তন সম্পর্কের স্মৃতিতেও এডওয়ার্ডের মতো এক নীরব সেতু রয়ে গিয়েছে, যা প্রমাণ করে ভালোবাসার কিছু রূপ কখনও তিক্ত হয় না।

এ ছাড়াও, বিশ্রামের পাঠও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ব্যস্ত জীবনে মানুষ প্রায়ই নিজেকে ভুলে যায়। কাজের চাপ, সাফল্যের দৌড়, সামাজিক প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে ক্লান্তি জমতে থাকে। কিন্তু পোষ্যরা জানে কখন থামতে হয়। তারা জানে, শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া জরুরি। আলিয়া যখন বলেন, “সময় পেলেই ঘুমোও,” তখন সেটি নিছক রসিকতা নয়; এটি এক গভীর উপলব্ধি। সুস্থতা মানে কেবল শরীরের শক্তি নয়, মানসিক প্রশান্তিও। আর সেই প্রশান্তির পথ দেখিয়েছে তাঁর পোষ্যরাই।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দায়িত্ববোধ। পোষ্য পালন মানে প্রতিদিনের যত্ন, নিয়মিত সময় দেওয়া, ভালোবাসা দেওয়া। এটি একপ্রকার প্রতিশ্রুতি। আলিয়া সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেন নিঃশব্দে। ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও তিনি জানেন, ঘরে ফিরে কেউ তাঁর অপেক্ষায় থাকে। এই অপেক্ষাই তাঁকে ঘরের টানে বেঁধে রাখে। তারকা জীবনের কোলাহলের মাঝেও এই অপেক্ষা তাঁকে বাস্তবের মাটিতে দাঁড় করিয়ে রাখে।

সব মিলিয়ে, পোষ্যদের থেকে পাওয়া শিক্ষা আলিয়ার জীবনে এক নীরব বিপ্লবের মতো। এটি তাঁকে আরও সংবেদনশীল, আরও স্থির, আরও মানবিক করে তুলেছে। তিনি বুঝেছেন, জীবনের আসল সাফল্য কেবল পুরস্কার বা জনপ্রিয়তায় মাপা যায় না; বরং মাপা যায় হৃদয়ের শান্তিতে, সম্পর্কের উষ্ণতায়, আর নিজের সঙ্গে সৎ থাকার ক্ষমতায়।

অতএব উপসংহারে বলা যায়, আলিয়ার পোষ্যপ্রেম কোনও সাময়িক আবেগ নয়—এটি তাঁর জীবনদর্শনের অংশ। এডওয়ার্ড ও জুনিপারের মতো ছোট্ট প্রাণীরা তাঁকে শিখিয়েছে বড় বড় সত্য: কম প্রত্যাশা করো, বেশি ভালোবাসো; অপ্রয়োজনীয় বোঝা নামিয়ে রাখো; ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নাও; আর বর্তমান মুহূর্তটুকু উপভোগ করো। এই সহজ অথচ গভীর শিক্ষাই হয়তো তাঁকে জীবনের উত্থান-পতনের মাঝে দৃঢ় ও প্রশান্ত থাকতে সাহায্য করে।

হয়তো আমাদের সবার জীবনেই এমন কোনও নীরব সঙ্গী নেই। তবু আলিয়ার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনকে সহজ করে দেখা যায়, যদি আমরা একটু থামি, একটু কম প্রত্যাশা করি, আর ভালোবাসার জায়গাটুকু খোলা রাখি। কারণ শেষ পর্যন্ত, সাফল্যের আলো নিভে গেলে, করতালির শব্দ থেমে গেলে, পাশে থেকে যায় সেই নিঃশর্ত ভালোবাসাই। আর সেই ভালোবাসাই মানুষকে সত্যিকারের পূর্ণতা দেয়।

Preview image