একাধিক প্রথম সারির শিল্পী ‘লাইভ’ অনুষ্ঠান করে ১০ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। কিন্তু, লাইভ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রেয়ার পারিশ্রমিক দেখে ক্ষোভপ্রকাশ অনুরাগীদের। কেন?হিন্দি গানের জগতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। শুধু হিন্দি বা বাংলা নয়, মরাঠি, পঞ্জাবি, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মলয়ালি-সহ একাধিক ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। শুধু কণ্ঠশিল্পী নন, শ্রেয়া একাধিক লাইভ অনুষ্ঠানও করেন। একাধিক প্রথম সারির শিল্পী এই ধরনের অনুষ্ঠান করে ১০ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। কিন্তু, লাইভ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রেয়ার পারিশ্রমিক দেখে ক্ষোভপ্রকাশ অনুরাগীদের। কেন?
সম্প্রতি, তেলঙ্গানার ‘গদ্দর ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’-এর অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন শ্রেয়া। এর পরেই সমাজমাধ্যমে একটি বিলের ‘স্ক্রিনশট’ ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই দেখা যাচ্ছে যে, শ্রেয়া ওই অনুষ্ঠানের জন্য পারিশ্রমিক নিয়েছেন ১.৬ কোটি। যদিও ওই স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। তবে শ্রেয়ার অনুরাগীদের মতে, তাঁর মতো প্রতিভাবান একজন শিল্পীর পারিশ্রমিকের পরিমাণ আরও বেশি হওয়া উচিত।
যে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে, তা দেখে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে সেটা শুধুই শ্রেয়ার পারিশ্রমিক। মঞ্চে উপস্থিত নৃত্যশিল্পী বা শ্রেয়ার ব্যান্ডের সদস্যদের পারিশ্রমিক নাকি এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এ কথা শুনে অনুরাগীদের একটা বড় অংশ বলেছে, ‘‘যদি সেটাও হয়, তা হলেও শ্রেয়া নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না।’’ আবার কারও কথায়, ‘‘আমি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। কর্মজীবনের শুরুতে গাওয়া প্রতিটি তেলুগু গান হিট করিয়েছেন। এর থেকে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত ওঁর।’’
শোনা যায়, সিনেমার গানের ক্ষেত্রে গানপিছু ২৫ লক্ষ টাকা করে নেন তিনি। যদিও পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে শ্রেয়া নিজে কখনও কোনও মন্তব্য করেননি।
ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র Shreya Ghoshal। তাঁর কণ্ঠের জাদু শুধু হিন্দি নয়, বাংলা, তেলুগু, তামিল, মালয়ালম—প্রায় সব ভাষার শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সম্প্রতি তেলঙ্গানার ‘গদ্দর ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তাঁর পারফরম্যান্সকে ঘিরে একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা মূলত তাঁর পারিশ্রমিককে কেন্দ্র করে। একটি তথাকথিত ‘স্ক্রিনশট’ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা তীব্রতর হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং শিল্পের মূল্যায়ন, পারিশ্রমিকের ন্যায্যতা এবং বিনোদন শিল্পের অর্থনীতি—এই সমস্ত বিষয় সামনে এসেছে। চলুন বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যাক।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে দাবি করা হয়েছে যে শ্রেয়া ঘোষাল ওই অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য ১.৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন। যদিও এই তথ্যের কোনও সরকারি বা নিশ্চিত সূত্র নেই, তবুও এটি মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি বড় সমস্যা হল যাচাই না করা তথ্যের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া। মানুষ প্রায়ই তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই মতামত তৈরি করে ফেলে। এই ঘটনাতেও ঠিক সেটাই হয়েছে। কেউ বলছেন এই পারিশ্রমিক অত্যন্ত বেশি, আবার কেউ বলছেন—এটা তাঁর মতো শিল্পীর জন্য কম।
শ্রেয়া ঘোষালের সাফল্যের গল্পটি সহজ নয়। তিনি ছোটবেলা থেকেই সংগীত চর্চা শুরু করেন এবং পরে ‘সা রে গা মা’ রিয়েলিটি শো-তে জিতে জাতীয় পরিচিতি পান। তারপর Sanjay Leela Bhansali-এর ‘দেবদাস’ ছবিতে গান গেয়ে বলিউডে তাঁর অভিষেক হয়।
এরপর থেকে তিনি অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন—
তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য, শুদ্ধতা এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
একজন গায়কের পারিশ্রমিক নির্ভর করে অনেক বিষয়ের উপর—
শ্রেয়া ঘোষাল দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থানে রয়েছেন। তাঁর নামই একটি ব্র্যান্ড।
২০ বছরেরও বেশি ক্যারিয়ার—এটা নিজেই একটি বড় বিষয়।
তিনি বহু ভাষায় গান গেয়েছেন, যা তাঁকে pan-India appeal দিয়েছে।
লাইভ শো-তে তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শক টানার গ্যারান্টি।
এই সমস্ত কারণে তাঁর পারিশ্রমিক বেশি হওয়া স্বাভাবিক।
এখানে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে—
অনেক অনুরাগী বলেছেন—“এটা যদি শুধু তাঁর পারিশ্রমিক হয়, তাহলে সেটাও কম।”
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই তথ্যের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।
আজকাল ডিজিটাল যুগে স্ক্রিনশট তৈরি করা খুব সহজ। ফলে অনেক সময় ভুয়ো তথ্যও সত্যি বলে মনে হয়।
তাই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আমাদের উচিত—
শোনা যায়, শ্রেয়া ঘোষাল একটি সিনেমার গানের জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নেন। যদিও এই তথ্যও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবে ইন্ডাস্ট্রির হিসেব অনুযায়ী এটি খুব অস্বাভাবিক নয়।
কারণ—
ভাইরাল স্ক্রিনশটে বলা হয়েছে যে ১.৬ কোটি টাকার মধ্যে নাকি ব্যান্ড বা নৃত্যশিল্পীদের পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত নয়।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
লাইভ পারফরম্যান্স মানে শুধু একজন গায়ক নয়, বরং—
এই সমস্ত খরচ আলাদা হতে পারে।
একজন শিল্পীর মূল্যায়ন শুধু টাকায় করা যায় না।
শ্রেয়া ঘোষালের গান—
তবুও বাস্তবতা হল—বিনোদন শিল্প একটি ব্যবসাও।
এখানে—
এই সব কিছুর ভিত্তিতে পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়।
আগে—
এখন—
এই পরিবর্তনের ফলে পারিশ্রমিক বেড়েছে।
এই প্রসঙ্গে একটি বড় বিষয় হল—নারী শিল্পীদের পারিশ্রমিক।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়—
তাই অনেকেই মনে করেন—
শ্রেয়া ঘোষালের মতো শিল্পীরা বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত।
দর্শকদের একটি বড় অংশ মনে করেন—
আবার অন্য অংশ মনে করেন—
মিডিয়া এই ধরনের বিষয়কে অনেক সময় বাড়িয়ে তোলে।
কারণ—
ফলে একটি ছোট বিষয়ও বড় বিতর্কে পরিণত হয়।
আমরা অনেক সময় যা দেখি, সেটাই সত্যি মনে করি।
কিন্তু বাস্তবে—
তাই বাইরের দৃষ্টিতে বিচার করা সবসময় সঠিক নয়।
এই পুরো বিষয় নিয়ে শ্রেয়া ঘোষাল নিজে কোনও মন্তব্য করেননি।
এটা তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি দিক—
এটাই একজন বড় শিল্পীর লক্ষণ।
শ্রেয়া ঘোষালের পারিশ্রমিক নিয়ে এই বিতর্ক আমাদের একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—
শিল্পের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা উচিত?
১.৬ কোটি টাকা বেশি না কম—এই প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর নেই।
এটা নির্ভর করে—
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—
শ্রেয়া ঘোষাল ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম সেরা কণ্ঠ, এবং তাঁর অবদান অমূল্য।
তাই পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল—
তাঁর শিল্পকে সম্মান করা।