Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

নির্মলা সীতারামন আসামের প্রথম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আসামে প্রথম প্রযুক্তি পেশাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সীতারামন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গোহপুর, আসাম-এ স্বরাজ কানকলতা বর্মা স্টেট ইউনিভার্সিটি-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এটি আসামের প্রথম প্রযুক্তি ও পেশাগত বিশ্ববিদ্যালয় হবে, যা প্রযুক্তি ও পেশাগত শিক্ষায় বিশেষজ্ঞ শিক্ষার্থী তৈরি করবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ₹৪১৫ কোটি, এবং এটি ২৪১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তি এবং একাডেমিক ব্লক, ছাত্রাবাস, কোয়ার্টার ও অতিথি ভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি, ড্রোন প্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন, স্মার্ট সিটি, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং অন্যান্য আধুনিক কোর্সের পাঠ্যক্রম থাকবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গোহপুরে স্থাপিত হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রযুক্তি খাতে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। সীতারামন জানিয়েছেন, এটি আসামের যুবকদের প্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তুলবে এবং রাজ্যকে একটি প্রযুক্তিমুখী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম Kanaklata Barua-এর নামে রাখা হয়েছে, যিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিশিষ্ট নেতা ছিলেন এবং মাত্র ১৭ বছর বয়সে শহীদ হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আসামের যুবকদের জন্য একটি বৃহৎ ভবিষ্যত প্রস্তুত হচ্ছে, যা তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।

নির্মলা সীতারামন আসামের প্রথম প্রযুক্তি ও পেশাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন

ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গোহপুর, আসাম-এ স্বরাজ কানকলতা বর্মা স্টেট ইউনিভার্সিটি-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এটি আসামের প্রথম প্রযুক্তি ও পেশাগত বিশ্ববিদ্যালয় হবে, যা প্রযুক্তি ও পেশাগত শিক্ষায় বিশেষজ্ঞ শিক্ষার্থী তৈরি করবে।

প্রকল্পের বিবরণ

এটি একটি প্রযুক্তি ও পেশাগত শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কাজ করবে, যেখানে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সঠিক দক্ষতা অর্জন করে পরবর্তী সময়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ₹৪১৫ কোটি, এবং ক্যাম্পাসটি মোট ২৪১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন হবে ৭ লাখ বর্গফুট আয়তনের। সীতারামন বলেন, “এটি আসামের যুবকদের জন্য একটি বড় সুযোগ, যারা পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি খাতে দক্ষতা অর্জন করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে থাকবে:

  • দুই হাজার (২,০০০) শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একাডেমিক ব্লক

  • এক হাজার ছয়শো বিশ (১,৬২০) শিক্ষার্থীর জন্য হোস্টেল

  • আবাসিক কোয়ার্টার, অতিথি ভবন ও স্টুডেন্ট ফেসিলিটি সেন্টার।


কোর্স ও প্রযুক্তি শিক্ষার দিক

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে AI, সাইবার সিকিউরিটি, ব্লকচেইন, ড্রোন প্রযুক্তি, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT), বিকাশমান স্মার্ট সিটিস এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর মতো আধুনিক কোর্স চালু করা হবে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই কোর্সগুলো দেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু শিক্ষা নয়, বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্য নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

এটি সরকারী উদ্যোগ হিসেবে আসাম রাজ্যের কাছে একটি বড় পদক্ষেপ, কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নতির জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। আসামের শিল্পখাত এবং ডিজিটাল অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

news image
আরও খবর

জীবনযাত্রা ও পেশাগত বিকাশের সুযোগ

এই প্রকল্পটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন জীবনের সুযোগ ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করবে, যার ফলে আসাম ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার মান উন্নত হবে।
আসামের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্পটি আসামের যুবকদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনা এবং তাদের পেশাগত জীবনকে চাঙ্গা করবে।”

আধুনিক শিক্ষা কাঠামো

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবনী গবেষণা, এবং গ্লোবাল কিউরিকুলাম একত্রিত করা হবে। এটি বিশ্বের যে কোন উন্নত দেশের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতায় অবস্থান করতে সক্ষম হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, ইনোভেশন এবং উদ্ভাবন বিভাগের মাধ্যমে গবেষণার জন্য নতুন পন্থা উদ্ভাবন হবে, যা দেশের প্রযুক্তিগত উন্নতিতে এক নতুন দিগন্ত তৈরি করবে।


ক্যানাকলাতা বর্মার নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম Kanaklata Barua-এর নামে রাখা হয়েছে, যিনি ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে তার আত্মত্যাগ দিয়ে ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে আছেন। ক্যানাকলাতা বর্মা ছিলেন একজন সাহসী বিপ্লবী, যিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শহীদ হন। তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসাম সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রেখেছে।

এটি আসামের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের অবদান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 


ভবিষ্যতের দৃষ্টি

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন আসামের শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং গবেষণা ক্ষেত্রের উন্নতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং দক্ষতার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে, এমন প্রতিষ্ঠানের কাজ এখন খুবই জরুরি।
এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল আসাম নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক উন্নতির পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

নির্মলা সীতারামন বলেছেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে আসামের যুবসমাজে প্রযুক্তি দক্ষতার বিকাশ হবে এবং রাজ্যটিকে সারা দেশের প্রযুক্তি মানচিত্রে সামনে নিয়ে আসবে।”

Preview image