Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

নির্মলা সীতারামন বললেন: “আরও ব্যাংক মের্জার হতে পারে” — বড়, বিশ্বমানের ব্যাংক গড়ার পরিকল্পনায়

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বড় ইঙ্গিত — দেশে আসছে আরও ব্যাংক মের্জার ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, দেশে শীঘ্রই আরও এক দফা ব্যাংক একীভূতকরণ (Bank Merger) হতে পারে। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত SBI Banking & Economics Conclave-এ তিনি বলেন, সরকার ও Reserve Bank of India (RBI) একসঙ্গে কাজ করছে, যাতে ভারতে “বিশ্বমানের বড় ব্যাংক” তৈরি করা যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমাদের এমন ইকোসিস্টেম দরকার, যেখানে শুধু বিদ্যমান ব্যাংকগুলোকেই নয়, নতুন ব্যাংকগুলোকেও বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সরকার পাবলিক সেক্টর ব্যাংক (PSB)-গুলোর পরবর্তী মের্জারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সরকার ২৭টি ব্যাংককে একীভূত করে ১২টি বড় ব্যাংক গঠন করেছিল। এবার সেই ধারা আরও বিস্তৃত হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় কেবল সরকারি ব্যাংক নয়, কিছু বেসরকারি ব্যাংক বা NBFC-এর সঙ্গেও অংশীদারিত্ব বা বেসরকারিকরণ ঘটতে পারে বলে সূত্রের দাবি। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “বড় ব্যাংক গঠন মানে শুধুমাত্র মের্জার নয়, বরং এমন আর্থিক কাঠামো তৈরি করা, যা দেশের ব্যবসা, কৃষি ও সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে সক্ষম।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ফাইন্যান্সিং ও বড় ঋণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা ছোট ব্যাংক একা সামলাতে পারে না। সীতারামন আরও স্পষ্ট করেন, “ব্যাংক বেসরকারিকরণ ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। এটি দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির একটি উপায়।” তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ব্যাংকিং খাতকে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এগিয়ে নেওয়া। এই ঘোষণার পর ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, পরবর্তী ধাপে Punjab & Sind Bank, UCO Bank, Indian Overseas Bank, Bank of Maharashtra-র মতো ছোট সরকারি ব্যাংকগুলো একীভূত হতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গ্লোবাল মানে পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বড় ঘোষণা — আরও ব্যাংক একীভূতকরণের ইঙ্গিত

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ১২তম SBI Banking & Economics Conclave-এ জানালেন, সরকার ও RBI একসঙ্গে কাজ করছে যাতে দেশে “বড়, বিশ্বমানের ব্যাংক” গড়ে তোলা যায়। এর অংশ হিসেবে শীঘ্রই আরও একটি ব্যাংক মের্জার ও সম্ভাব্য বেসরকারিকরণ-এর ধাপ শুরু হতে পারে।

‘বড় ব্যাংক দরকার দেশের উন্নয়নের জন্য’

সীতারামন বলেন, ভারতের মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতিতে এখন এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন যেগুলো বিশাল জনসংখ্যা ও বৈচিত্র্যময় ব্যবসায়িক চাহিদা সামলাতে সক্ষম। “আমাদের এমন এক ইকোসিস্টেম দরকার যেখানে আরও ব্যাংক কাজ করতে পারবে ও বড় হতে পারবে,” — বলেন তিনি।
তিনি যোগ করেন, সরকার ইতিমধ্যেই RBI ও বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিক নির্ধারণে।

PSB মের্জারের পটভূমি

২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সরকার ২৭ টি পাবলিক সেক্টর ব্যাংককে একত্রিত করে ১২ টি বড় ব্যাংক গঠন করেছিল। সেই প্রক্রিয়া থেমে থাকলেও, এবার আবার নতুন রাউন্ড শুরু হতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, আগের ধরণের মের্জার ছাড়াও এইবার বেসরকারিকরণ এবং বৃহত্তর স্কেল-আপ হতে পারে। সরকার চায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে আরও পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াক।

ব্যাংক বেসরকারিকরণে ভয় নেই

দিল্লি স্কুল অব ইকনমিক্স-এ এক অন্য অনুষ্ঠানে তিনি জানান, “ব্যাংক বেসরকারিকরণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ক্ষতি করবে না।” বরং, প্রাইভেট ম্যানেজমেন্ট ও পাবলিক অ্যাকাউন্টেবিলিটি একসঙ্গে থাকলে ব্যবস্থা আরও দক্ষ হবে। সরকার চায় এই প্রক্রিয়া ‘নিরাপদ এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে’ ঘটে।

ফিউচার্স ও অপশন ট্রেডিং নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

বাজারে চলা আশঙ্কার মধ্যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “সরকার কোনোভাবেই F&O ট্রেডিং বন্ধ করতে চায় না।” তিনি বলেছেন, সরকারের কাজ হলো বাধা দূর করা, বন্ধ নয়। তবে বিনিয়োগকারীদের দায়িত্ব হলো নিজেদের ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগ করা।

গ্লোবাল প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান

সীতারামন বলেছেন, বিশ্ব এখন “ধীর গ্লোবালাইজেশন, ভঙ্গুর সাপ্লাই চেইন ও বর্ধিত ক্লাইমেট কস্ট” মোকাবিলা করছে। এই চ্যালেঞ্জ ভারতের অর্থনীতির সহনশীলতা পরীক্ষা করছে এবং দেশীয় ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে।
তিনি জানান, “ভারতকে তার নিজস্ব বাস্তবতা, প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা গড়ে তুলতে হবে।”

কেন এখন ব্যাংক মের্জার গুরুত্বপূর্ণ?

বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের দিক থেকে প্রভাব

যদি নতুন মের্জার হয়, তাহলে গ্রাহক সুবিধা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন বাড়বে। তবে কিছু ক্ষেত্রে শাখা সংযুক্তিকরণ ও স্টাফ পুনর্বিন্যাস হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ধরনের সংবাদ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ব্যাংকিং স্টকের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে।

মানবসম্পদে বিনিয়োগ

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “ভারতের ওয়ার্কফোর্সকে অবিরত আপস্কিল ও রিস্কিল করতে হবে যাতে তারা নতুন প্রযুক্তি ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।” এর জন্য সরকার বিভিন্ন খাতে — কৃষি, MSME, টেক্সটাইল, ট্যুরিজম, টেকনোলজি ও অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং — এ একযোগে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ

সীতারামনের বক্তব্যে পরিষ্কার যে, ভারতীয় অর্থনীতি এখন ‘স্কেল-আপ অ্যান্ড কনসোলিডেশন’ পর্যায়ে। ব্যাংকিং খাতের শক্তিশালীকরণ ছাড়া উচ্চ বৃদ্ধি ধারণ সম্ভব নয়। ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত হওয়া মের্জারগুলো যেমন ব্যবস্থাকে সংহত করেছে, তেমনি এবারের রাউন্ডে “বড় ও প্রফেশনাল ব্যাংক” তৈরি হতে পারে যেগুলো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে।

Preview image