Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অভিনেত্রী সৌমিতৃষা সায়াটিকার সমস্যায় দিনের পর দিন যন্ত্রণায় ভুগেছেন কী এই রোগ, কেন হয় এবং কিভাবে মোকাবিলা করা যায়?

অভিনেত্রী সৌমিতৃষা দীর্ঘদিন ধরে সায়াটিকার সমস্যায় ভুগছিলেন, যার কারণে তিনি বেশি ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে বা কাজ করতে পারতেন না। এই রোগের কারণে তার পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভূত হতো।

সায়াটিকা সৌমিতৃষা কুন্ডুর যন্ত্রণার গল্প এবং এর মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা

অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি তার সায়াটিকার সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। সায়াটিকা তার জীবনকে একেবারে বাধাগ্রস্ত করেছিল। প্রায় এক বছর ধরে এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন সৌমিতৃষা, যা তার দৈনন্দিন কাজকর্ম ও শারীরিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। সৌমিতৃষা জানালেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করতে না পারার কারণে তার কার্যক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছিল। তবে এখন তিনি সুস্থ আছেন, এবং এই চিকিৎসা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে তার অবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে।

সায়াটিকা কী?

সায়াটিকা হলো এক ধরনের স্নায়ুজনিত ব্যথা, যা মূলত মেরুদণ্ডের নীচের অংশ থেকে শুরু হয়ে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। সায়াটিকা প্রধানত সায়াটিক স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে হয়। সায়াটিক স্নায়ু শরীরের সবচেয়ে দীর্ঘতম স্নায়ু, যা মেরুদণ্ডের নিচের অংশ থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব, কোমর, ঊরু এবং পায়ের পেছনের অংশ পর্যন্ত চলে যায়। এই স্নায়ুতে চাপ পড়লে, তার প্রভাব পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা পায়ের একাংশে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে। সায়াটিকার ব্যথা সাধারণত একপাশে অনুভূত হয়, তবে কখনও কখনও এটি দুই পায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ব্যথা কখনও কখনও এত তীব্র হয় যে, চলাফেরা করা বা দৈনন্দিন কাজকর্মও কঠিন হয়ে পড়ে।

সায়াটিকা হওয়ার কারণ

সায়াটিকার ব্যথার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ কারণ হলো মেরুদণ্ডের ডিস্কের উপর চাপ পড়া। মেরুদণ্ডের ডিস্ক শরীরের শক অ্যাবজ়র্বারের মতো কাজ করে, কিন্তু যদি ডিস্কে কোনো ফাটল ধরে যায় বা বের হয়ে যায়, তাহলে সেটি স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সায়াটিকার মূল কারণগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:

  1. ডিস্ক ফেটে যাওয়া: মেরুদণ্ডের ডিস্কে ফাটল ধরে গেলে সেটি স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে সায়াটিকার ব্যথা হতে পারে।

  2. স্নায়ুজনিত রোগ: স্নায়ুর কোনো অসুখ বা ব্যথা থেকেও সায়াটিকা হতে পারে।

  3. টিউমার: মেরুদণ্ডের টিউমারও স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে সায়াটিকা সৃষ্টি করতে পারে।

  4. বাত রোগ (অর্থ্রাইটিস): বাত বা আর্থ্রাইটিস সায়াটিকার ব্যথা বৃদ্ধি করতে পারে।

  5. দুর্ঘটনার পরবর্তী আঘাত: কোমরে আঘাত বা মেরুদণ্ডে কোনো ধরনের আঘাত পেলে সায়াটিকা হতে পারে।

  6. গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় অনেক মহিলার সায়াটিকার সমস্যা হতে পারে, বিশেষত শারীরিক পরিবর্তনজনিত কারণে।

সায়াটিকার উপসর্গ

সায়াটিকার অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো পিঠের নিচের অংশ থেকে পায়ের পিছনে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া। এর পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যেমন:

  • ব্যথা: সায়াটিকার ব্যথা সাধারণত পিঠের নীচের অংশ থেকে পায়ের নিচের দিকে চলে যায়। কখনও কখনও তা পায়ের পেছনেও অনুভূত হয়। এই ব্যথার তীব্রতা মাঝে মাঝে খুবই বেশি হতে পারে।

  • অবশত্বা: সায়াটিকার আরেকটি লক্ষণ হলো পায়ের একাংশ অবশ হয়ে যাওয়া। এটি শরীরের স্নায়ুর ওপর চাপের কারণে হয়, যেখানে মাংসপেশির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়।

  • অস্বস্তি: সায়াটিকার ব্যথার কারণে দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হতে পারে, যেমন চলাফেরা করা, দাঁড়িয়ে থাকা, অথবা বসে কাজ করা।

  • ব্যথার তীব্রতা: সায়াটিকার ব্যথা অনেক সময় এত তীব্র হয়ে ওঠে যে, সঠিকভাবে চলাফেরা করা বা সাধারণ কাজ করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

সায়াটিকা থেকে মুক্তি পেতে করণীয়

সায়াটিকার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে, যেহেতু সায়াটিকা একটি স্নায়ুজনিত সমস্যা, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। যেসব পদক্ষেপগুলি সায়াটিকার ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে, সেগুলি হলো:

news image
আরও খবর
  1. গরম জল স্নান: গরম জল স্নান স্নায়ুর ক্লান্তি এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে সতেজ রাখে এবং পেশি শিথিল করে দেয়।

  2. বরফ সেঁক: গরম জল স্নান করার পর সায়াটিকার যে অংশে ব্যথা হচ্ছে সেখানে বরফ সেঁক দিলে তা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

  3. যোগাসন: সায়াটিকার ব্যথা কমানোর জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগাসন রয়েছে, যেমন কপোতাসন, রাজকপোতাসন ইত্যাদি। নিয়মিত যোগাসন করলে পিঠ ও কোমরের পেশি শক্তিশালী হয় এবং স্নায়ুতে চাপ কমে।

  4. মালিশ: ফিজিওথেরাপি এবং অ্যারোমাথেরাপি সায়াটিকার ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে। স্নায়ুজনিত মাসাজ এবং পেশি মালিশ ব্যথা কমানোর কার্যকরী পদ্ধতি।

  5. ডেস্কে সঠিক বসা ভঙ্গি: দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার সময় সঠিক বসা ভঙ্গি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের উপর চাপ বাড়তে পারে, যা সায়াটিকার ব্যথা বৃদ্ধি করতে পারে।

  6. ওষুধ ও চিকিৎসা: সায়াটিকার ব্যথা কমাতে বেদনানাশক ওষুধ এবং তেল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এসব ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপসংহার: সায়াটিকা এবং তার মোকাবিলা

সায়াটিকা একটি গুরুতর শারীরিক সমস্যা হলেও, এটি সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সৌমিতৃষা কুন্ডুর মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীরও যখন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছিল, তখন এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করেন বা শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, তাদের জন্য সায়াটিকার সমস্যাটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া এবং শরীরের প্রতি সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সায়াটিকা মূলত মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ঘটে, যা পিঠের নিচের অংশ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে পিঠে তীব্র ব্যথা এবং পায়ের একাংশ অবশ হয়ে যেতে পারে, যা চলাফেরা বা কাজ করতে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি করে। অনেক সময় সায়াটিকার ব্যথা এত তীব্র হয় যে, সাধারণ কাজকর্ম করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। তবে সঠিক চিকিৎসা, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এই সমস্যা অনেকটা কমানো যায়।

এটি স্বীকার করতেই হবে যে, সায়াটিকা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যদি সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া হয়। সৌমিতৃষার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, এই ধরনের শারীরিক সমস্যাগুলো যদি অবহেলা করা হয়, তবে তা শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও জটিল হতে পারে। সৌমিতৃষার মতো সায়াটিকা থেকে মুক্তি পেতে এক বছরের বেশি সময় লাগলেও, তিনি সঠিক চিকিৎসা এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যা আমাদের সকলের জন্য একটি বড় শিক্ষা।

প্রথমে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ এবং ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্য নিয়ে সায়াটিকার ব্যথা কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম ও সঠিক পদ্ধতিতে মালিশ করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে সঠিক বসা ভঙ্গি এবং শারীরিক অবস্থান রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাদের জন্য সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং মাঝে মাঝে উঠতে গিয়ে শরীরের স্ট্রেচিং করতে হবে। এটি সায়াটিকার ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যোগাসন। বিশেষ করে কপোতাসন, রাজকপোতাসন এবং অন্যান্য যোগাসন সায়াটিকার ব্যথা কমানোর জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী। তবে এসব ব্যায়াম একজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত, যাতে কোনো ধরনের ভুল ভঙ্গি বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। যোগাসন শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং পিঠের ব্যথাকে অনেকটা কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া, গরম জল স্নান এবং বরফ সেঁকও সায়াটিকার ব্যথা কমানোর কার্যকরী পদ্ধতি। গরম জল স্নান স্নায়ুর ক্লান্তি কমায় এবং শরীরকে সতেজ রাখে। অন্যদিকে, সায়াটিকার যে অংশে ব্যথা হচ্ছে সেখানে বরফ সেঁক দিলে তা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং অস্বস্তি প্রশমিত হয়।

সায়াটিকা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু ছোট পরিবর্তন আনা খুবই জরুরি। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকলে, মাঝে মাঝে হাঁটাহাঁটি করা বা শরীরের স্ট্রেচিং করা উচিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামও শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, যা সায়াটিকার সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে।

সবশেষে, সায়াটিকা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সৌমিতৃষা কুন্ডুর মতো তারকারাও যখন সায়াটিকার সমস্যায় ভুগেছেন, তখন এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হয়ে দাঁড়ায় যে, আমাদের সকলের উচিত শরীরের প্রতি সচেতন থাকা এবং শারীরিক সমস্যার প্রথম লক্ষণেই চিকিৎসা গ্রহণ করা। দ্রুত চিকিৎসা এবং সঠিক ব্যায়াম সায়াটিকার ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং মানুষের জীবনে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

তাহলে, যারা সায়াটিকার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় পরামর্শ—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও শরীরের প্রতি সচেতনতা বজায় রাখুন। এর মাধ্যমে সায়াটিকার ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

Preview image